শেষ থেকে শুরু পর্ব ৩

0
527

পর্ব-৩….
#শেষ_থেকে_শুরু।।
#লেখকঃইমাম
,
,
আজকে অফিসে কাজ কিছুটা কম। সবাই যার যার মত কাজ করছে। আমি অনেক্ষন ধরে কিছু ফাইল দেখছিলাম আর তাদের মাঝে কি ঠিক করতে হবে বা আরো কি নতুন যোগ দেয়া যায় তা দেখছিলাম এবং নোট করছিলাম। সকাল থেকেই এই ফাইলের দিকে তাকিয়ে ঘার একদম ব্যথা হয়ে গেছে।

তাই একটু দাড়ালাম কাজ গুলো রেখে। অফিসের সবার দিকে তাকালাম।
ম্যানেজারের কেবিনে মেনেজার নেই। স্টাফ প্রায় সবাই নেই।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ১ টা বাজে।বুঝলাম সবাই লাঞ্চ করতে কেন্টিনে গেছেন। খাবারের কথা ভাবতেই মনে হলো কতদিন হয়ে গেলো বাড়ির খাবার খাই না।

মাঝে মাঝে আমাদের ম্যনেজার সাহেবের স্ত্রী আমার জন্য রান্না করে পাঠান। কিন্তু অনেকদিন হলো সে নাকি অসুস্থ৷ তাই আর কপালে অনেকদিন ধরেই বাড়ির খাবার নেই।

আমার ৩ বেলার খাবার অফিসের কেন্টিনেই হয়। কিন্তু এখন খাবার মুড একদম নেই। কিন্তু ভাবলাম একটু ঘুরে আসি এবং হালকা কিছু খেয়ে নেই।নাহলে পরবর্তিতে ক্লান্তি বেশি লাগবে

তাই কেন্টিনের দিকে গেলাম। গিয়ে দেখি হ্যা সবাই এইখানেই।
আমাকে দেখেই ছোটু দৌড়ে আছে।ছোটু আমাদের কেন্টিন চালকের ছেলে।সবাই ওকে মজা করেই ছোটু ডাকে। এমনিতে কাজ করে না। স্কুল ছুটির দিন আসবে আর বাবাকে সাহায্য করবে। খুব দুষ্টু তাই সবাই পছন্দ করে৷ আর আদর করে।

আমিঃ কিরে ছোটু স্কুল যাসনি?
ছোটুঃ না স্কুল আজ বন্ধ। আচ্ছা তুমি কি খাবে?
আমিঃ এক কাপ কফি আর একটা সেন্ডুইচ।
ছোটু দৌড়ে যায়। আর আমি বসবো যায়গা খুজছিলাম। কিন্তু একদম শেষের দিকে আছে। সামনে নেই।
যেই দেখছে দাড়িয়ে যাচ্ছে। আমি সবাই বসিয়ে যাচ্ছি৷

একটু পর একটা টেবিলের সামনে আমি দাড়িয়ে যাই৷ মাহি লাঞ্চবক্স পাশে রেখে লেপ্টপে কাজ করছে।

প্রথমে খেয়াল করেনি। যখন দেখে তখন তাড়াতাড়ি দাড়িয়ে যায়।
আমিঃ আরে দাড়াতে হবে না৷ এইখানে বস হিসেবে না দেখলেও হবে।
মাহিঃ আসলে কিছুটা কাজ নিয়ে একটু সমস্যায় আছি তাই কাজের ওইদিকেই খেয়াল ছিলো।

আমিঃ দেখুন কাজের সময় কাজ। এখন লাঞ্চের সময় তাই কাজটা রেখে খেয়ে নিন।

মাহিঃজ্বী। আপনি দাড়িয়ে আছেন কেনো বসুন।
আমিঃ না না আমি অন্য কোথাও বসে পরবো।
মাহিঃ বসতে পারেন সনস্যা নেই। আমি একাই বসি প্রতিদিন।

তাই আরকি বসে পরলাম। এমনিত কেন্টিনে আসি না। নিজের খাবারটা কেবিনেই নিয়ে খাই। মাঝে মাঝে আসি।
বসতেই ছোটু আমার কফি এবং সেন্ডুইছ নিয়ে আসে৷

আমিঃ ধন্যবার ছোটু।
এর পর ছোটু দৌড়ে চলে যায়।

মাহি আমার দিকে আবার কফির দিকে তাকাচ্ছে।
কিছু বলছে না। আমিও ফোনে নিউজ পড়ছি আর কফির কাপে চুমুক দিচ্ছিলাম।

মাহি কিছুক্ষন পর জিজ্ঞেস করে- এই সময় এইগুলা। বাড়ি থেকে খাবার আনলেই পারতেন।
আমি কথাটা শুনে হাসি দেই। মাহি উত্তরের অপেক্ষায়।
আমিঃ আসলে আমি বাড়িতে থাকি না। ৫ মাস হলো। তাই খাবার গুলো এইখানেই খাওয়া হয় প্রতিদিন।
মাহিঃ বাড়িতে থাকেননা মানে?

আমিঃ না ও কিছু না৷
মাহি আর কিছুই বলেনি।মাহি মনে হয় এই প্রথম আমার সাথে এতগুলো কথা নিজ থেকে বললো। হয়তো প্রতিদিন এক সাথে কথা বলে এবং কাজ করে সেই বিষাক্ত যাওয়াটা থেকে দূরেই এসেছি।

কিছুক্ষন পর ও ওর লাঞ্চবক্সটা আমার দিকে এগিয়ে দিলো। বললো আপনি প্লিজ আমার নাঞ্চবক্স থেকে নিয়ে নিন।
আমি একটু পর খাবু।

দেখলাম বিরিয়ানি। এমনিতেই আমার খুব প্রিয়।আবার বাড়িতে বানানো। খুব ইচ্ছার সত্যেও আমি না করি।
কিন্তু ও বলে ওর সমস্যা হবে না সেয়ার করতে।

আমি তাই আর না করিনি। ও একটা চামচ দিলো।
আমি এর পর প্রথম বাইট নিতেই দেখি ওয়াও সেই হয়েছে।
আমিঃআন্টি খুব ভালো রান্না করেন।
কিন্তু মাহি দেখলাম কিছু বলছে না।
আমিঃ আন্টির রান্না আসলেই ভালো।ওয়াও

মাহিঃ আসলে রান্নাটা আমি করেছি।
আমি খাওয়া রেখে মাহির দিকে তাকালাম।
আমি কিছুক্ষন চুপ থেকে বলি- ধন্যবাদ।

এর পর আবার নিউজ এর দিকে তাকিয়ে খাচ্ছি।
কিছুক্ষন পর মনেই নেই আমার এর অর্ধেক সাইড রেখে দিতে হবে। প্রতম চামছ খাওয়ার পর পেটে যেনো খুদা বেরেই গেছিলো।
একটু পর চামক বক্সে রেখে দেখি কিছুই নেই।
আমি তাকিয়ে দেখি সম্পূর্ণটা শেষ ক্রে দিয়েছি।

আমি মাহির দিকে তাকিয়ে দেখি ও আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।
আমিতো লজ্জায় শেষ। কারন খেতে দিলো সে আর আমি শেষ করে দিলাম।
আমি কি বলবো।কিছুই বের হচ্ছেনা মুখ দিয়ে।

অনেক্ষন পর নিজেকে সামলে নিয়ে
আমিঃ সরি। আসলে খুব খুদা লেগেছিলো। তাই কখন শেষ করে দিয়েছি খেয়াল করিনি।

মাহি এর পরও আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ হেসে দিলো।
এই প্রথম আমি মাহিকে এভাবে হাসতে দেখলাম।ওর হাসিটা আসলেই খুব সুন্দর।

আমি ওর হাসির দিকে তাকিয়েই আছি। ও হাসি থাকিমে-
মাহিঃ এ নিয়ে সরি বলতে হয়৷ খেয়েছেন ভালো কথা। নষ্টতো আর করেননি। আর এমনিতেও আজকে বেশি একটা খুদা ছিলো না।

আমিঃ হুম।( কি বলবো লজ্জায় আমি শেষ)
মাহিঃ একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
আমিঃ হ্যা করুন।
মাহিঃ আপনি নিজের বাড়িতে না থাকলে কোথায় থাকেন? এবং খাবারের কি হয়?
আমিঃ একটা ছোট বাড়ি নিয়েছি। আর দেখা যায় অফিসেই সব খাবার খাওয়া হয়। রাতে এইখান থেকেই পেক করে নেই।বা গিয়ে হালকা কিছু নিজেই রান্না করে খাই। বেশিরভাগ সময় না খেয়েই থাকি।

মাহি আমার দিকে এমন ভাবে থাকিয়ে আছে যেনো আমি খুব অসহায়।
মাহিঃ একটা কাজের বুয়া রাখতে পারেন।
আমিঃ কাজের বুয়া আছেন। সে ঘর পরিস্কারের জন্য। খাবারের জন্য রাখিনি। কারন সবার খাবার আমার ভালো লাগে না।
মাহিঃ হুম।

মাহিরর দিকে দেখে লাগছিলো আরো কিছু বলবে। কিন্তু বলছেনা।
এর পর সবাই সবার কাজে চলে যাই। ওর সাথে এতটা কথা বলে নিজের মাঝে অনেকটা হালকা লাগছে যে ওর মনের ভারটা হয়তো কমেছে।

কাজ করার সময় এক গ্রাস পানি হাতে নিয়ে যেই পান করতে যাবো। মাথায় একটা কথা হঠাৎ আসলো।
–ইস যদি বিয়েটা হতো তাহলে কত ভালো খাবার খাওয়া যেতো।
তখনি আমি সব পানি কাসতে কাসতে ফেলে দেই। কি সব ভাবছি, নিজেকেই প্রশ্ন করছি।

এর পর আবার নিজের কাজের দিকে মন দেই। কিন্তু মাথা থেকে কথাটা যাচ্ছিলোই না।
প্রায় ১ ঘন্টা পর মাহি আসে। ওকে দেখে আবার মাথায় আবার চিন্তা আসছে – বিয়ে হলে কতই না ভালো হতো। হাতে ফাইল না থেকে খাবারের বক্স থাকতো। আর ভিতরে ঢুকেই বলতো,,,,,,,আমি নিজেকেই বলি থাম। কি শুরু করলি।

আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসছি বেকুবের মত। ও হাসি দেখে দাড়িয়ে যায়৷ কি বলবে নিজেও জানে না।
আমি নিজেকে ধমক দিয়ে থামাই।
আর মাহির ফাইলটা দেখি।

এখন প্রায় প্রতিটা সময় এইভাবেই মাথায় ভাবনা গুলো দৌড়ায়৷ কিন্তু আমি থামাতে পারি না। এইতো কিছুদিন আগেও ওর কথা মনে হলে ভাবতাম আমাদের জন্য কত বড় কষ্ট পেয়েছে।
এখন ওকে নিয়েই সব ভাবনা আমার।কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া হয় না প্রশ্নগুলার।

কিন্তু যতই নিজেকে সামলাই মাহি সামনে আসলেই আমার ভেতরে কিযে শুরু হয়। নিজেও জানি না।

কিন্তু হঠাৎ রাতে খুব জর শুরু হয়।
যা সকালে কিছুটা কমলেও অফিসে যাই না।
ম্যানেজার ফোন দিলে বলে দেই আমার অবস্থা৷ ম্যানেজার জিজ্ঞেস করে কিছু লাগবে না। আমি না করে দেই।

সকাল থেকেই ভালো লাগছে না। নিজেকে বলছি যাক আজকে অন্তত আমি আর মাহি বেশি ভালো থাকবো।দেখা হবে না।ওর খারাপ লাগবেও না। আমার আর ওইসব মাথায় আসবে না।

কিন্তু মনকি আমার কথা মানে। মাথায় ঘুরছে এখন ও থাকলে আমার মাথায় পট্টি দিয়ে দিতো।যা ভালো লাগতো রান্না করতো।
আবার হাসছি। মনটা কি শুরু করলো। কতবার বুঝিয়েছি যে এইসব আর কখনোই সম্ভব না। কেনো ভাসিস। কিন্তু ভাবনা গুলো যেনো থামবেই না।

দুপুরের দিকে অনেক বেশি খুদা লাগছিলো। বিছানায় শুয়ে ভাবছিলাম পাশের হোটেল থেকে কিছু আনবো৷ কিন্তু যাওয়ার মত শক্তি পাচ্ছি না। ইচ্ছেই হচ্ছিলো না।

বাড়িতে কিছু নেই যা নিজে রান্না করে খাবো। কিন্তু আবার ভাবছি কি রান্না করবো। করলেইতো আবার শরীর খারাপ হবে। যা রান্না করি-অর্ধেক পুরে যায় বাকি অর্ধেক দেখলে মনেই হয়না খাবার।

এইসব ভাবছি এমন সময় শুনতে পাই যে দরজায় কে যেনো টোকা দিচ্ছে। ভাবলাম ম্যানেজার এসেছে। যাচ্ছি আর ভাবছি। এই লোকটা কথাই শোনে৷ যাক ভালোই হলো খাওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে৷

যেই দরজা খুললাম। আর বলতে যাবো আপনাকে না করেছি,,,
সেই আমার চোখ আটকে যায়। আমি পুরো থ হয়ে দাড়িয়ে আছি।
এ কাকে আমি দেখছি সামনে। মনে মনে ভাবছি জ্বর মাথায় উঠে গেছে, ভুল দেখছি।

দরজা খুলতেই দেখি মাহি সামনে দাড়িয়ে আছে৷ হাতে একটা বক্স।
ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷ মাথায় ঘাম ওর। ওকে দেখে আমিও ঘামছি।
নিজেকে বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি কিছু বলবো নাকি কি করবো জানি না। মুখ দিয়ে কিছুই বের হচ্ছে না।

মাহিও চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। কিছুই বলছে না।
মাহি নিরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করলো – আপনার জ্বর কমেছে?
আমি উত্তর না দিয়ে বোকার মত দাড়িয়ে আছি।
আমার যেনো সব গুলিয়ে যাচ্ছে।
,
,
To be continue….
,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here