শেষ থেকে শুরু পর্ব ২

0
722

পর্ব-২…
#শেষ_থেকে_শুরু।।
#লেখকঃইমাম
,
,
নিজের চোখ দুটোকে বিশ্বাস করতে পারছি না। কারন ও আমার কম্পানিতে আসবে তা কিভাবে হয়।আমি মনে করছিলাম হয়তো কোথাও ভুল করছি তাই কিছুক্ষন পর আমি ফোন দিয়ে একজন স্টাফকে বলি নতুন রিক্রটদের লিষ্টটা নিয়ে আসতে।

একটু পর সব গুলো নিয়ে এলে আমি দেখা শুরু করি। অনেকগুলা দেখার পর একটায় আমার চোখ আটকে যায়। হ্যা মাহির ছবি। এর পর আমি সব ডিটেলস দেখলাম, সব মিলে গেছে। নিজের মাঝেই প্রশ্ন ঘুরছে ওকি জানেই না এইটা আমার কম্পানি। নাকি জেনেও!

একটু পর বের হলাম। আমাকে দেখে প্রথমেই মাহি দাড়িয়ে গেল। মনে হলো ভুত দেখেছে । সাথে সাথে বাকি স্টাফরাও দাড়িয়ে যায় । মাহি সবার দিকে তাকাচ্ছে। ও যেনো বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে।

আমি বার বার চাইছিলাম ওর দিকে না তাকাতে কিন্তু চোখ দুটো বার বার ওর দিকেই চলে যাচ্ছিলো। মাহি আমার দিকে এক পলকে তাকিয়ে আছে।

আমি এখানে এসেছিলাম নতুনদের সাথে পরিচিত হতে। কিন্তু ওর জন্য কিছুই বলতে পারছিলাম না। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি কিছু বলবো ভেবে।
কিছুক্ষন পর নিজেকে সামলে নিলাম। এবং নিজেকে বলছি আগে সবাইকে কিছু বলি তার পর ভাববো কি হচ্ছে এখানে।

তাই আমি বলা শুরু করি- আপনারা যারা নতুন জয়েন করেছেন, তারা এই অফিসটাকে সবার মতই আপন করে নিবেন। এবং নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে এইটাকে উচুতে নিয়ে যাবেন। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করবেন। এইটাই আশা রইলো।

এর পর সবার হাত তালি দিলো। নতুন সবাই এসে আমার সাথে কিছুক্ষন কথা বলে নিজের ডেস্কে চলে গেলো।
কিন্তু মাহি আসেনি। ওত যায়গা থেকেই একপাও কোথাও যায়নি।

আমি ভেতরে গিয়ে মাহির ফাইলটা নেই। দেখেই হেসে ফেলি। কারন ৬ মাসের এগ্রিমেন্টে এসেছে। ওর কোয়ালিফিকেশন খুব ভালো।

সেদিন অনেকবার মাহির দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ওর ডেস্কটা এমন একটা যায়গায় ছিলো যা আমার রুম থেকে খুব ভালো ভাবে দেখা যায়।

আজকে কাজে মন বসছিলো না। পুরানো সব কিছু কেমন জানি নতুন লাগছে। সব কিছু মনে পরছে। তাই আমি বাসায় চলে যাই। যাওয়ার সময় মাহি আমার দিকে এক পলকে তাকিয়ে ছিলো।

বাড়িতে এসে আমি ভাবছি ওকি সত্যি জানে না। নাকি জেনেই এসেছে। কিন্তু ওদের অবস্থাতো এতটাও খারাপ নয় যে ওর কাজ করতেই হবে। কারন পাচ্ছিলাম না কোনো।

পরেরদিন অফিসে যেতেই ম্যনেজার আমার অফিস রুমে চলে আসে।

ম্যনেজারঃ স্যার একটা সমস্যা হয়েছে।
আমিঃ কি সমস্যা?
ম্যনেজারঃ স্যার আমাদের ডিজাইনার গতকাল নতুন জয়েন করেছেন। কিন্তু কেনো জানি সে এখানে কাজ করবেন না বলছিলেন। তার বায় ডাটা খুব ভালো তাই তাকে কন্টাকে রাখা হয়৷ পরবর্তিতে তাকে এখানেই এপয়েন্ট করা হবে। কিন্তু সে চলে যেতে চাইছেন। আমি অনেক কষ্টে বুঝিয়ে রেখেছি। আপনি একটু কথা বলুন। হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে৷ আপনি প্লিজ মেনেজ করুন।

আমিঃ নাম কি তার?
ম্যানেজারঃমাহিয়া ইসরাত মাহি।
আমি ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে আছি।
মেনেজার কিছুই বলছেনা আমার এমন চাউনি দেখে।

আমিঃ ঠিক আছে।

এর পর ম্যানেজার গিয়ে মাহিকে পাঠিয়ে দেয়।
মাহিঃ মে আই কাম ইন।
আমিঃ হ্যা আসুন। বসুন।
মাহি এর পর বসে পরে।
সামনে এসে আর আমার দিকে তাকাচ্ছে না।
আমিঃ ভালো আছেন?
মাহিঃ হ্যা আপনি?
আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

এর পর কিছুক্ষন নিরবতা। কেউ কিছু বলছিনা। হয়তো অফিসিয়াল ভাবে কথা বলার কথা৷ কিন্তু তা হচ্ছে না। আমরা একে অন্যকে দেখে যেনো সেই যায়গায় আবার চলে গেছি। পুরানো সব মনে পরছে হয়তো।

একটু পর মাহি নিরবতা ভেঙে বলে- আসলে আমাকে মাফ করবেন। আমি জানতাম না আপনার কম্পানি। নাম শুনে ভেবেছিলাম যে হয়তো নামটাই এক। এবং আগেও মানে ওই সময়ও আমি জিজ্ঞেস করিনি আপনি কি করেন।
বলেই মাথাটা নামিয়ে দেয়।
আমি বুঝতে পারি আমার সামনে হয়তো এইটা খুব ভালো লাগছে না ওর।

আমিঃ আপনি রিজাইন করছেন? কিন্তু আপনি নাকি খুব ভালো ডিজাইনার।
মাহিঃ দেখুন রিজাইন করতে চাইছি কারন হয়তো আপনার পছন্দ হবে না আমাকে এইখানে। আমারও না। কিন্তু আমি চাইলেই যেতে পারি না। এগ্রিমেন্টের জন্য।

আমিঃ আপনি চাইলে করতে পারেন কাজ। আমি প্রমিজ করছি আমি কখনো বাধা হবো না। যাষ্ট আমার কম্পানিটার নামটা উচুতে নিয়ে যান।

মাহি চুপ চাপ বসে আছে, আমিও। হয়তো কিছু ভাবছে৷ কিন্তু আমি জানি না।
কিছুক্ষন পর আমি উঠি বলে বেরিয়ে যায়।
একটু পর ম্যনেজার এসে বলে যে ও নাকি মেনে গেছে।

শুনে খুশি হবো নাকি না আমি জানি না।
মনে মনে ভাবছি আমি মনে হয় প্রথম বস যার কর্মচারি তার সামনেই তাকে বলেছে যে তার সামনে থাকা তার পছন্দ নয়।
কিন্তু আমি খুব সাভাবিক ভাবেই নিয়েছি।কারন সব যায়গায় অফিসিয়াল বিষয়টা কাজ করে না।

এর পর ও ওর ডেস্কে কাজ করছিলো। আমি মাঝে মাঝেই দেখছিলাম। খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। বুঝলাম নিজের কাজ নিয়ে খুব সিরিয়াস।

প্রতিদিন ওর কাজের গতি দেখছি৷খুব ভালো ও ওর নিজের কাজে৷

অফিসের কাজের মাঝে সময় কিভাবে যায় বুঝায় যায় না।
দিন শেষে বাসায় এসে একা হয়ে পরি। এতগুলা দিন খুব একা ছিলাম। কিন্তু কেনো জানি এখন ওর কথা ভেবে রাতটাও হঠাৎ কেটে যায় ঘুমের মাঝে।

মাঝে মাঝে ভাবি যে ও বিয়ে করেনি কেনো আবার।কারন ওর সিভিতেতো মেড়িড ছিলো না।
কিন্তু জিজ্ঞেস করার অধিকারটাতো নেই। কিভাবে করবো।
এখনতো চাইলে বস হিসেবে ওকে জিজ্ঞেস করতে পারি৷ কিন্তু তা হবে আমার পজিশনের ফয়দা নেয়া।আর ও এইটা পছন্দ করবেনা আমি জানি।আমি বুঝতে পারছিলাম না কখনো জিজ্ঞেস কররে পারবো কিনা। তাই জিজ্ঞেস করার চিন্তাটা বাদ দিয়ে কাজে মন দিলাম। কিন্তু চিন্তাগুলো যাওয়ার নাম নিচ্ছে না।

কিছুদিন পর একটা বড় প্রজেক্ট পরেছে হাতে৷ অফিসে খুব কাজ। কয়েকটা দিন আমার উপর দিয়ে কি যাবে তা নিজেও জানি না।
কাজের চাপের জন্য অনেকটা লেট হয়ে গেছে৷ কিন্তু আমার চিন্তা নেই। বাড়িতেতো আর কেউ আমার অপেক্ষা করছেনা। বাবা মাই মনে করেনা হয়তো।

যেই আমার অফিস রুমটা থেকে বের হয়েছি দেখি যে মাহি বের হচ্ছে। আমরা সামনা সামনি হয়ে যাই।

মাহি আমাকে দেখে প্রথমে থেমে যায়। পরে আবার বাইরে চলে যায়। আমি ভাবছিলাম কাজটা কয়েকজনের একটু বেশি করতে হয় হয়তো। তার মাঝে মাহিও আছে।আবার ওর জন্য এই যায়গাটা নতুন। এখনি এতটা প্রেসার। এইসব ভাবা বাদ দিয়ে বাহিড়ে চলে এলাম।

কিন্তু বাহিড়ে গিয়ে দেখি যে কোনো গাড়ি নেই।একদম নির্জন প্রায়। মাহি কিভাবে যাবে মাথায় ঘুরছিলো। আমি আমার গাড়ি নিয়ে একটু এগিয়ে দেখি মাহি দাড়িয়ে আছে৷ কোনো দিকে কোনো গাড়ি নেই।এখন একটা মেয়েকে কিভাবে একা ছেরে যাই৷ কিন্তু অন্য কেউ হলে খুব সহযে কথা বলা হতো। কিন্তু ওর সাথে কিভাবে বলবো তাই বুঝতেছিলাম না।

কিন্তু যাই হোক একা রেখে কিভাবে যাবো।এইটা করা একে বারেই ঠিক হবে না। তাই সাহস করে ওকে ডাক দিলাম।
আমিঃ শুনুন।
মাহি আমার দিকে তাকালো।হয়তো আমাকে আশা করেনি একানে।
আমিঃ দেখুন অনেক রাত হয়েছে। এখন গাড়ি পাওয়া যাবে না। আমি ড্রপ করে দিচ্ছি।

মাহিঃ না না আপনার কষ্ট কররে হবে না। আমি মেনেজ করতে পারবো।
আমিঃ দেখুন আপনি না হয়ে অন্য যে কেউ হলে আমি একি কাজ করতাম। প্লিজ মানা করবেন না। এই সময় আপনাকে একা রেখে যাওয়া ঠিক হবে না।

মাহি কিছুক্ষন কি যেনো চিন্তা করে উঠে পরলো। আমি ভাবলাম যাক ভালো হলো। নাহলে আমি চিন্তায় পরে যেতাম। হয়তো অন্য কেউ হলেও সেম অবস্থা হতো আমার।
আমি ওর বাড়ির ঠিকানা জানতাম। তাই আমি দিয়ে আসি৷ কিন্তু রাস্তায় কেউ কারো সাথে একটা কথাও বলা হয়নি। শেষে মাহি যাওয়ার সময় শুধু ধন্যবার বলেছে।

আমি বাসায় চলে আসি। পরেরদিন আমার থেকে মাহির কাজ বেশি ছিলো। আমি নিচে গিয়ে দাড়িয়ে ছিলাম। জানতাম ও মাইন্ড করবে। কিন্তু কেনো জানি মনে হচ্ছিলো ওকে রেখে যাওয়া ঠিক হবে না। প্রায় ৩০ মিনিট পর বেরিয়ে আসে।

আমাকে দেখে একটু থমকে যায়। আবার নিজের যায়গায় যায়।
আজকেও গাড়ি নেই। আজকে আরো বেশি বলে উঠাই।
আবার সেই রাস্তা। আবারও সেই নিরবতা। কিছুক্ষন পর আমরা জেমে আটকে যাই৷ আমার অনেক প্রশ্ন ছিলো। কিন্তু কিভাবে করি জিজ্ঞেস। নিজেকে বুঝালাম জিজ্ঞেস করে ফেল কি আর হবে৷।

আমিঃ আপনি বিয়ে করেননি আর?
মাহি হয়তো প্রশ্নটার জন্য প্রস্তুত ছিলো না।
একটু পর বলা শুরু করে।

মাহিঃ না। আমার ইচ্ছা এখন নিজে কিছু হবো।
আমিঃ হুম।

এর পর প্রায় ১৫ মিনিট দুইজন চুপ।
এইবার মাহি প্রশ্ন করলো- আপনি করেননি? মিসেসের নাম কি?
আমিঃ না আর করিনি। ইচ্ছা নেই এখন আর৷
মাহি কেমন ভাবে যেনো তাকিয়ে ছিলো।আমার বুঝার বাহিরে।

এর পর আর কথা হয়নি।
পরেরদিন থেকে ও নিজেই গাড়ি নিয়ে এসেছিলো। তাই আর কথা বা এক সাথে যাওয়া হয়নি। কিন্তু আমি কেনো জানি ওইটা মিস করছি এক সাথে যাওয়া।

প্রায় ১ মাস পর আমাদের প্রজেক্ট শেষ হয়৷ বড় একটা সফলটা।
আর যে সব থেকে বেশি কাজ করেছে সে হলো মাহি।
সবাই মাহিকে কংগ্রেস দিচ্ছিলো। এখম বস হিসেবে আমি যদি না দেই তাহলে খারাপ দেখায়৷

আমিও সবার সামনে ওকে থেংক বলি৷
এইভাবে প্রায় আরো কিছু সময় চলে যায়। কিন্তু আমাদের মাঝে কথা হয়নি বললেই চলে।মাহিও খুব ভালোভাবে কাজ করছে। ওর নামের সুনাম গুলো সব ঠিক ছিলো বলা যায়।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ওর প্রতি একটা অন্যরমক ভালো লাগা কাজ করছিলো।
যেমন কাজের ফাকে ওকে দেখতাম নিজের অফিসে বসে। মাঝে মাঝে এমনি ঘুরে আসরাম সবার থেকে। ওকে দেখতে।

এইগুলোর কারন নেই। শুধু করতাম।
বাড়িতে আমি একা মানুষ। সব সৃতি গুলো নিয়েই আমার বেচে থাকা। কিন্তু এখন যেনো ওকে নিয়ে ভাবনা গুলো। এর কোনো নাম আমি দিচ্ছি না। শুধু অনুভব করে যাচ্ছি।

কিন্তু মাহির সাথে কোনো ভাবেই কথার সুযোগ হচ্ছিলো না।
কিন্তু মাহি আমার উপর রাগ কিনা তা আমি জানি না। কারন রাগ হলে হয়তো যাই বলতাম আর থাকতোনা। আর আমিতো কোনো ভুল করিনি। তখন আমি ভালো মানুষ হওয়ার পরিচয় দিয়েছিলাম।

কিন্তু তার পরেও যা হয়েছে তা ওর মনে কাটা দিতেই পারে৷
এর জন্য আমি ওকে একটুও দোষ দিবো না।

কিন্তু কিছুদিন পর কথার সুযোগ চলে আসে। ভাগ্যের কি লীলা-খেলা যে একটা প্রজেক্টে মাহির কাজ ছিলো অনেকটা৷ কিন্তু তার জন্য ওকে আমার কাছে অনেকবার আসতে হবে।
আমি খুশি ছিলাম কিনা জানি না। তবে ছিলাম কিছু একটা। যা প্রকাশ করা যাবে না কখনোই।

কিছুদিন পর কাজ শুরু হলে মাহি প্রথম যখন আমার কেবিনে আসে তখন খুব একটা সাচ্ছন্দ বোধ করছিলো না। আমিও করছিলাম না।
মাহি কথা শেষ করে বা কাজের ফাইল দেখিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যেতো।

প্রায় কয়েকদিন এভাবে চলার পর আমি ওকে বলে দেই যেনো ও আর ক্নক না করে। চলে আসে। কারন দেখা যেতো ঘন্টায় একবার হলেও মাঝে মাঝে আসা হতো।
কিন্তু মাহি সব সময় ক্নক করে আসতো। অন্য কেউ হলে হয়তো এইটা মেনে নিতো। কিন্তু মাহির জন্য কষ্টকর।

কিন্তু এখন বুঝতে পারি মাহি আমার জন্য ওর কাজ থেকে একটু ডিস্ট্রেক্ট হচ্ছে। যা আমি একদম চাইছিলাম না। যাই হোক ওর লাইফের এত বড় একটা ধাক্কার কারন আমি ছিলাম। আমি যদি এখন তা না বুঝি তাহলে হবে না।
তাই যখন এইবার মাহি আসে আমি ওকে বলি – আপনাকে কিছু কথা বলি যদি মাইন্ড না করেন।

মাহিঃ হ্যা বলেন?
আমিঃ দেখুন কথাটা কিভাবে নিবেন জানি না। বাট আমি জানি আপনি আমার জন্য ডিস্ট্রেক্ট হচ্ছেন। আপনি চাইলে আমি আমার যায়গাটায় অন্য কাউকে দিয়ে করাতে পারি।যদিও এইটা আমার কাজ। কিন্তু সত্যি বলতে এভাবে থাকায়া জানি আপনার জন্য বিরক্তিকর।
মাহি মাথা নিচু করে আছে।

আমিঃ দেখুন যা হয়েছিলো তা এখন পালটানো যাবে না। আর আমি ক্ষমা চেয়েছিলাম।যদিও ক্ষমার অযোগ্য যা করেছিলাম।
কিন্তু সেটা কাজের মাঝে এসে পরুক তা আমি চাইনা।

মাহি কিছুক্ষন চুপ থেকে- বসতে পারি?
আমিঃ হ্যা বসুন।
মাহিঃ দেখুন আসলে আপনাকে নিয়ে আমার সমস্যা নেই। কিন্তু,,,,,,,
মাহি কিন্তু বলেই অনেক্ষন চুপ।
একটু পর আবার বলে- কিন্তু সব কিছু একটা ক্ষতের মত আছে। যেটার কারন আপনি নন। আমি জানি,কারন আপনি যা করেছিলেন তা কোনো ছেলেই হয়তো করতে পারে না এবং এত বড় একটা ঘটনার পর আমার অনিচ্ছায়ই এমন হয়। কিন্তু আরেকটা কারন হলো আপনার সামনে নিজেকে অপরাধি লাগে। কারন,,,,,
এইবার আর কারনটা বলেনি।কথা ঘুরিয়ে দেয়

– দেখুন আমি কাজের কোনো সমস্যা হতে দেবো না। আমি প্রমিস করছি৷ আমি আমার কাজটাকে খুব ভালোবাসি।কোনো কিছুই এইটাকে নষ্ট হতে দিতে পারবেনা।

আমি আর কথা বারাইনি। কারন এখন সময় দিতে হবে মানাতে সব কিছু নিয়ে।আমার সামনে হয়তো ওর ক্ষত গুলো বার বার বেথা দেয়৷কিন্তু আমি চাইলেই কিছু করতে পারবো না৷

তাই আমি সময়ের উপর ছেরে দিয়েছি। এর পর থেকে মাহি কিছুদিন আগের মত হলেও আস্তে আস্তে ঠিক হচ্ছিলো বুঝা যাচ্ছিলো। । কারন আগের মত ওর বিরক্ত বোধ বা যাই ছিলো তা কমে গেছে।

আর ওর কথা শুনে বুঝলাম। আসলেই ও আমাকে সেই ঘটনার দোষ দিচ্ছে না হয়তো। কিন্তু ঘটনাটা এতটাই বড় ছিল যা ওর মনে এতটাই বড় ক্ষত করেছে যে এখন আমাকে হয়তো দোষ না দিলেও, আমি কিছুটা দোষি
কিন্তু নিজেকে অপরাধী মনে করার কারন আমি জানি না। এইটার উত্তর আমার কাছে নেই। তখন হয়তো জিজ্ঞেস করিনি। কিন্তু ও কেনো নিজেকে আমার সামনে দোষি মনে এই প্রশ্নটা নিজের মাঝেই রয়ে গেলো। কখনো জানবো কিনা তাও আমার জানা নেই।
,
,
To be continue….
,

#লেখকঃইমাম।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here