বেলা_শেষে_শুধু_তুমি পর্ব ২

0
2372

বেলা_শেষে_শুধু_তুমি পর্ব ২
#আনিশা_সাবিহা

–“আরে অভয়, এতো তাড়াতাড়ি কথা হয়ে গেল তোদের? দুজন দুজনকে ভালো করে চিনলি তো?”
অভয় সিঁড়ি থেকে নামতেই তার বাবা রাহাত খান বলে ওঠেন কথাটি। সবাইকে দেখে নিজের মুখচোখের ভঙ্গি স্বাভাবিক করে নিচে নামে অভয়। তবে মুখে নেই কোনো হাসি। যদিও অভয় সবসময় হাসি বিহীন থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই তার বোন অনিন্দিতা তাকে ‘নিরামিষ ভাই’ বলে সম্বধন করে।

–“আরে ব্যাটা! মুখটা কুমিরের মতো করে রেখেছিস কেন? বিয়ে হবে তোর। সবসময় মুখে ফার্স্ট ক্লাস হাসি ঝুলিয়ে রাখবি তা নয় সবসময় ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মৌনব্রত রাখে।”
রাহাত খানের কথায় অভয়ের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। না হেসেই এসে সোফার পাশে দাঁড়ায় সে। পকেটে গুটিয়ে নেয় তার দুটো হাত। সে জানে তার বাবাকে। রাহাত খান বেশ রসিক মানুষ। রসিকতা করতে পছন্দ করেন। তার ছেলে যে এমন গুরুগম্ভীর তা উনি মানতে পারেন না।

অভয়ের শুষ্ক চেহারা দেখে হালকা ভড়কে ওঠেন ঐশানীর মিসেস. দিশা। উনার মেয়েকে উনি ভালোমতো চিনেন। তাই শুকনো গলায় বলেন….
–“অভয় বাবা, তোমার কি ঐশানীকে অপছন্দ হয়েছে? হলে বলতে পারো।”
সেই সময় সিঁড়ি দিয়ে পিঁপড়ার গতিতে নামছিল ঐশানী। হাতে তার টিস্যু। মাঝে মাঝে টিস্যু গালে ঘষে তেল ও মেরিল ক্রিম ওঠানোর চেষ্টা করছে। মায়ের মুখে এমন কথা শুনে পা থেমে গেল তার। বাংলার পাঁচের মতো মুখে হাসি ফুটে ওঠে এই ভেবে যে অভয়ের বোধহয় তাকে অপছন্দ হয়েছে। নেচে ওঠে তার মন।

অভয় নিরবতা ভেঙে ঠোঁট প্রশস্ত করে হাসি দিয়ে নির্বিকার গলায় বলে….
–“আপনার মেয়েকে কার অপছন্দ হতে পারে বলুন আন্টি? তবে একটা জিনিস আমার খারাপ লেগেছে। ও যে প্রেগন্যান্ট সেটা আমাদের জানিয়ে দিলে কিন্তু তেমন কোনো ক্ষতি হতো না।”
ঐশানীর চোখজোড়া কপালে উঠে যায়। রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকে চুপটি করে। হাসি হাসি মুখটা নিমিষেই হারিয়ে যায়। অভয়ের দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ঐশানী। ও তো আসলে প্রেগন্যান্টই না। বিয়ে আটকানোর জন্য আবোলতাবোল বলে দিয়েছিল। এর পরিণাম এতো ভয়াবহ হবে কে জানতো?

হঠাৎ পেটে কারো স্পর্শে হকচকিয়ে ওঠে ঐশানী। তার ছোট বোন ঐশী তার পেটে হাত রেখে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।
–“আপু তুই প্রেগন্যান্ট? একবারো আমায় বলবি না? বললে তোর বফের সাথে লাইন সেটিং করে দিতাম। কি বাবু হবে রে? ছেলে না মেয়ে?”
–“আহাম্মক! হাড়গিলার গার্লফ্রেন্ড! চড়িয়ে সোজা করে দেব। তোর কি মনে হয় আমি এমন?” (পেট থেকে ঐশীর হাত সরিয়ে)
ঐশী আহাম্মকের মতো মাথা চুলকাতে শুরু করে।
–“না তা তো মনে হয় না।”
–“বিয়েটা আটকানোর জন্য এসব বলেছিলাম। সব ছিল ওই রিনির বুদ্ধি। ওরে যদি এই শ্যামলা ঘোড়ার সাথে ঝুলিয়ে দিতে পারতাম জীবনটা ধন্য হয়ে যেত।”

ঐশী ফিক করে হেসে নিচে তাকায়। খুঁজতে থাকে পাত্রকে। এতোক্ষণ বয়ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলার কারণে আসতে পারেনি নিচে। এখন এসে এসব কাহিনী দেখে হু হা করে হাসতে মন চাচ্ছে তার।
–“আপু অভয় ভাইয়ের নাম তো অনেক শুনেছি। আজ দেখে চোখ সার্থক হলো। বাবার কাছে কত শুনেছি অভয় ভাইয়ের প্রশংসা। আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি অভয় ভাই আসলেই জিনিয়াস! নয়ত তোকে এভাবে সোজা কে করতে পারে বল তো?”
ঐশানী তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই চুপ হয়ে যায় ঐশী। তারা দুজন নিচে তাকিয়ে থাকে সবার কথা শোনার উদ্দেশ্যে।

–“এটা তুমি কি বলছো অভয়? আমার মেয়ে তো এমন নয়। ও কি তোমায় এসব কথা বলেছে?”
হতভম্ব হয়ে বলে ওঠেন ইমতিয়াজ রাহমান। অভয় বেশ কনফিডেন্সের সাথে বলে….
–“জ্বি ঐশানী নিজের মুখে এই কথা স্বীকার করেছে। এখন সত্যি না মিথ্যা সে ভালো বলতে পারবে। তবে টেনশন করবেন না আংকেল। যা হয়ে যাক ঐশানীর দায়িত্ব নিতে আমি রাজি।”
–“ঐশানী মেয়ে আমার বড্ড বেশি চঞ্চল অভয়। আমি জানি ও তোমায় কনফিউজড করতে এসব বলেছে।”
অভয় কিছু বলে না চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।

অভয়ের পরিবর্তে তার মা মিসেস. তনয়া শব্দ করে হেসে বলে ওঠেন….
–“সবটা এতো সিরিয়াসলি নেওয়ার কোনো দরকার নেই ইমতিয়াজ ভাই আর দিশা। সব শেষে এটাই সিদ্ধান্ত হলো যে আমরা বেয়াই আর বেয়াইন হবো। কতকালের স্বপ্ন বলো তো?”
সবাই হু হা করে হেঁসে উঠে মিষ্টিমুখ করতে শুরু করে। আরো কথাবার্তা বলতে বিদায় নেয় অভয় এবং তার পরিবার। ঐশানী এবং ঐশী দুজনেই সিঁড়ির বেশ ওপরে সবটা দেখতে থাকে। যাবার আগে অভয় দরজার কাছাকাছি গিয়ে সিঁড়ির দিকে তাকায়। ঐশানীকে দেখে এক ভ্রু উঁচিয়ে বেরিয়ে যায় সে।

মিসেস. দিশা সবাইকে বিদায় দিয়েই এসে ডাকতে শুরু করেন ঐশানীকে। ঐশানী ঢক গিলে নিচে নেমে আসে। সে তার মায়ের গলা শুনে বুঝতে পারছে তার মা অসম্ভব রেগে আছে। সে এসে দাঁড়ায় মিসেস. দিশার সামনে। মিসেস. দিশা চোখমুখ শক্ত করে বলে ওঠে…..
–“অভয়কে কি বলেছিস তুই?”
–“ক…কি বলব মা? আমার অভয় ভাইয়াকে ভা…ভালো লাগেনি তাই….”
পুরো কথা বলবার আগেই মিসেস. দিশা থাপ্পড় মেরে বসেন ঐশানীর গালে। সিঁড়ির কিছু ওপরে লুকিয়ে থাকা ঐশীর মুখ হা হয়ে যায়।

ঐশানী গাল-মুখ লাল করে অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকে তার মায়ের দিকে। ছলছল নয়নে চেয়ে ভাঙা ভাঙা গলায় বলে ওঠে….
–“মা, আজকে কি থাপ্পড় দিবস?”
মেয়ের মুখে এমন উদ্ভট কথা শুনে রাগ আর মেজাজ নিয়ে থাকা মিসেস. দিশাও বোকা বোনে যান।
–“থাপ্পর দিবস মানে?”
–“যে পারছে থাপ্পড় লাগিয়ে যাচ্ছে আমাকে। তাই জিজ্ঞেস করলাম।”
কাঁদো কাঁদো গলায় বলে ঐশানী।

–“আর কে থাপ্পড় মেরেছে তোকে?”
ঐশানী কিছু বলতে গিয়েও চুপ করে যায়। অভয়ের কথা বললে আদোও তার মা বিশ্বাস করবে কি না সন্দেহ আছে। অভয় আসার পর থেকে তার থেকে অভয়ের প্রতি সবার বিশ্বাস বেড়ে গেছে সেটা খেয়াল করেছে ঐশানী। তাই বলতে গিয়েও বলল না সে। সেই সময় ইমতিয়াজ সাহেব এসে দাঁড়ায়। মেয়েকে দেখে ভার গলায় বলেন…..
–“এতো বড় মেয়ের গায়ে হাত তুললে কেন দিশা? আমি আছি তো বোঝানোর জন্য।”
–“তাছাড়া কি করব? কত বড় সাহস ওর দেখেছেন আপনি একবারো? মানসম্মান না ডুবিয়ে ওর শান্তি হচ্ছে না। তা ঐশানী! তুই তো যথেষ্ট বড় হয়েছিস। ভালো-মন্দের ব্যাপারে জ্ঞান তো তোর হয়েছে!”

ইমতিয়াজ সাহেব থামিয়ে দেন স্ত্রীকে।
–“আহ…আমি কথা বলছি আমার মেয়ের সাথে। খুব লেগেছে ঐশানী তোর?”
ঐশানী মাথা নাড়ায়। ইমতিয়াজ সাহেব আবারও বলতে শুরু করেন….
–“রাহাতের সাথে হয়ত এতোদিন সেভাবে যোগাযোগ না থাকলেও ও আমার প্রিয় বন্ধু। সেই হিসেবে বিয়ের আগে আমরা মজার ছলে ঠিক করে রেখেছিলাম আমরা নিজেদের ছেলেমেয়ের সাথে বিয়ে দেব। বিয়ের পরেও ইচ্ছেটা রয়েই গেল। তোরা জন্ম নিলি। নিজেদের উন্নতি করতে রাহাত বিদেশে গেলেও ভোলেনি আমায়। সেই হিসেবে আমি এক্সপেক্ট করতে পারি আমার মেয়ে আমার বন্ধুর কাছে আমার মান সম্মান রাখবে।”
ঐশানী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। সে কিছু বলতে চেয়েও পারছে না। তার বলা ঠিক হবে না। মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে। ইমতিয়াজ সাহেব চলে যাবার পর থেকে ঐশানীও উঠে আসে ওপরে।

ছাঁদে দাঁড়িয়ে আছে অভয়। বিকেলের আকাশটা বড্ড সুন্দর। সে আজ যেন প্রথমবার এতো সুন্দর বিকেলের আকাশ দেখছে। আমেরিকাতে কতশত বড় বড় দশ থেকে বিশ তালা বড় বড় বিল্ডিংয়ের ভিড়ে এতো সুন্দর আকাশ দেখা হয়েই ওঠেনি কখনো। তবে এতো সুন্দর আকাশ দেখেও মনটাকে শান্ত করতে পারছে না সে। আকাশ থেকে চোখ সরিয়ে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকায় সে। ফোনের ওয়ালপেপারে ফুটে উঠেছে সায়রার হাসিমাখা একটি ছবি। কাল থেকে সায়রা একটি বারের জন্যও তার ফোন তোলেনি। দিনে দুই বার সায়রার সাথে কথা না হলে দম বন্ধ লাগে তার। সে আবারও ফোনের লক করে সায়রার নম্বরে কল করে। আগের মতোই নম্বর বন্ধ দেখানোয় কান থেকে ফোন সরায় অভয়।

–“আমাকে একবার বোঝানোর সুযোগ তো দাও সায়রা প্লিজ! একবার ফোন তোলো।”
আফসোস! তার কথাগুলো সায়রার কান পর্যন্ত পৌঁছাবার নয়। হঠাৎ করেই জোরে চিৎকার ভেসে আসে পেছন থেকে।
–“ভাউউউউ…..!!”
ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে তার ছোট বোন অনিন্দিতাকে দেখতে পায় অভয়। আবারও ঘাড় সোজা করে ভর গলায় বলে….
–“ওহ তুই? কিছু বলবি?”

–“কি ভাইয়া? ঐশানী ভাবিকে দেখতে গেলে। চলেও এলে। আমি কলেজের রেজিষ্ট্রেশনের জন্য যেতে পারলাম না। ভাবি দেখতে কেমন বলবে ভালো কি মন্দ তা না! ফোন নিয়ে পড়ে আছো।”
–“তো এক কাজ কর না দেখে আয় ফাজিলের মহারানীকে। এমন মহারানী দেখলে জীবন ধন্য হয়ে যাবে।”
অনন্দিতা অভয়ের পাশে দাঁড়িয়ে চোখ সরু করে তাকায়। চিকন সুরে বলে….
–“ফাজিলের মহারানী?”
–“হুমম….এর থেকে ওর জন্য আর পারফেক্ট নাম ওর জন্য আমার মাথায় আসেনি।”
–“যদি তাই হয় আমার সাথে বেশ জমবে। আচ্ছা ঐশানী ভাবিকে আমি একবার ছবিতে দেখেছি। সে তো ছবির থেকেও সুন্দর দেখতে না? কেমন দেখতে বলো না, বলো না ভাইয়া প্লিজ।”

অভয় এবার বিরক্ত হয়। ঐশানীর নাম শুনতেই সে বিরক্ত হচ্ছে। বার বার মনে এক কথায় ভাসছে, মেয়েটা একমাত্র কারণ তার আর সায়রার সম্পর্কে চির ধরানোর।
অনন্দিতার চোখ যায় অভয়ের ফোনের স্ক্রিনের দিকে। কললিস্টে সবার ওপরে সায়রার নাম। ভ্রু কুঁচকে যায় তার। তার ভাইয়া এখনো এই মেয়েটার সাথে কথা বলে? অনন্দিতা অজানা কারণে একদমই পছন্দ করে না সায়রাকে। যখন থেকে ঐশানীর ছবি আর কথা শুনেছে তার তীব্র ইচ্ছে ঐশানীর এবং ঐশানীই হবে তার ভাইয়ের পারফেক্ট বউ। সায়রাকে তার মোটেই পছন্দ না। তার ভাই মেয়েটার মাঝে কি পেয়েছে কে জানে?
–“লিসেন, ঐশানীকে তোর দেখা হলে তুই দেখে নিস। আমি বাইরে যাচ্ছি। বাড়িতে ভালো লাগছে না। লং ড্রাইভ নিয়ে বাড়ি ফিরব।”
অনন্দিতাকে কিছু না বলার সুযোগ দিয়ে বেরিয়ে যায় অভয়।

মিরপুরের ফুটপাত ধরে হাঁটছে ঐশানী এবং তার বান্ধবীর দল। রিনি দুই গালে হাত দিয়ে হাঁটছে। বলা যায় না কখন ঐশানী তার গালে থাপ্পড় কষিয়ে দেয়। ঐশানীর আরেক বান্ধবী মেঘনা বলে ওঠে…..
–“আরে ইয়ার, কাল দেখলাম ছেলেটার মাঝে কোনো খুঁত নেই। দেখতে তো চাঁদের টুকরা। বিয়ে তো একদিন না একদিন করতেই হবে বল। তো করে নে না।”
–“আমি বিয়ে করব না। কোনোদিনই না। বিয়ে মনের মানুষকে করতে হয়। তার সঙ্গে সুখী থাকা যায়। অভয় ভাইয়া সে নয়।”

ঐশানীর অবান্তর কথা! সবাই বিরক্তির শ্বাস ফেলে। রিনি গালে হাত দিয়ে মিনমিন করে বলে ওঠে….
–“তাহলে তোর কি পছন্দ?”
ঐশানী ডান হাতে চুটকি দিয়ে চোখ মেরে বলে….
–“শাহরুখ খান!”
সবাই কপালে হাত দিয়ে চাপড়াতে শুরু করে। একটু আগেই যেই মেয়ে বড্ড সিরিয়াস হয়ে কথা বলছিল সেই মেয়ে শাহরুখ খান নিয়ে নেচে উঠবে কেউ ভাবেনি।

কয়েকসেকেন্ড বাদে ঐশানী রাগে ফুসে বলে….
–“এমনি রিনির জন্য মায়ের হাতে চড় খেয়েছি। তবে এর অর্ধেক ক্রেডিট ওই শ্যামলা ঘোড়া অভয়ের। তোরা এতোগুলা আছিস। এতো মস্তিষ্ক দিয়ে একটা উপায় বের কর না বিয়ে ভাঙার। যাতে অসম্মানও হবে না আর বিয়েও ভাঙবে আর শ্যামলা ঘোড়া থেকে…..”
পাশের রাস্তায় অভয়কে গাড়ির মাঝে দেখে কথা বন্ধ হয়ে যায় ঐশানীর। তবে তার পা চলতে থাকে। পেছনে সবাই তাকে চলতে মানা করছে তাতে খেয়াল নেই। রাগটা চড়চড় করে ওঠে ঐশানীর। হঠাৎ করে ম্যানহোলের মধ্যে ঢুকে যায় ঐশানী।

চলবে……..

[বি.দ্র. দুঃখিত দেরিতে দেওয়ার জন্য। আজকে ব্যস্ত ছিলাম। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। রিচেক দেওয়া হয়নি।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here