তোর পরশে প্রেম পর্ব ২১

0
120

#তোর_পরশে_প্রেম
#নুসাইবা_ইভানা
#পর্ব -২১

সূর্যের তপ্ত রোদ ফুটে উঠে, জানালার সাদা পর্দা ভেদ করে পুতুলের চেহারায় খেলা করছে। পিটপিট করে চোখ খুলে আড়মোড়া ভাঙতেই নিজের দিকে তাকিয়ে নিজের শরীরে ভালো ভাবে চাদর দিয়ে ঢেকে নিয়ে এদিক সেদিক তাকালো। হঠাৎ চোখ পরলো বেড সাইট টেবিলের উপর রাখা রঙিন কাগজের উপর৷
হাত বাড়িয়ে কাগজা নিলো…. ডিয়ার পিচ্চি বৌ উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে টেবিলের উপরে রাখা মেডিসিন খেয়ে নিও। আমার কেসের তদন্ত আছে জরুরি না হলে এক সপ্তাহ বাসা থেকে বের হতাম না। তবে চিন্তা করো না বৌপাখি এরপরে ডাবল সময় দিবো তোমাকে লাভ ইউ জানবৌ। কাগজটা হাতে নিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে প্রায় এগরোটা ছুই ছুই। মনে মনে বলে,পুতুল কি বাচ্চি এতো বেলা করে কেউ ঘুমায়। ছিহহহ এখন সবার সামনে কি করে যাবো! সবাই কি ভাববে? সবাই নিশ্চয়ই বুঝে যাবে রাতে আমরা ওসব করেছি! এই মুখ পরিবারের সামনে কি করে দেখাবো? এমন সময় স্ব শব্দে ফোনটা বেজে উঠলো। মোবাইলের স্কিনে জ্বলজ্বল করছে ডিয়ার হ্যাসবেন্ড লেখাটা। পুতুল কল রিসিভ করেই বলে,আমাকে কেন উঠাওনি আমি কিভাবে সবার সামনে মুখ দেখাবো? ওরা তো সব বুঝে যাবে!
‘কি বুঝে যাবে?
‘আরেহহ রাতে যে-সব হলো।
‘কি সব হলো বৌ?
‘ঠোঁট কাটা শরম কই তোমার?
‘আমার শরম তোমার ঠোঁটে। আরে বোকা কেউ কিছু বুঝবে না ফ্রেশ হয়ে যাও নাস্তা করো।
‘এই ওয়েট ওয়েট..তুমি আমাকে প্রপোজ করলে না আর সব করে ফেললে?
‘কিসের প্রপোজ! তিন বছর আগের বিয়ে করা পুরোনো বৌকে আবার প্রপোজ? এখন শুধু মাখোমাখো ভালোবাসা হবে যাতে দ্রুত স্পর্সিয়ার আগমন ঘটে।
‘কি বললা তুমি মাখোমাখো আদর শেষে আরেকটা বিয়ে করবা!
“চুপ কর বলদী, আমাদের মেয়ের নাম রাখবো স্পর্সিয়া।
‘আমার আগে ছেলে হবে নাম হবে স্পর্শ।
‘ওলে জান যা হবে দেখা যাবে তারজন্য ভরপুর আদর দিতে হবে রাতে আসছি বৌপাখি। এখন উঠো।
‘পুতুল মোবাইল কেটে দু’হাতে মুখ ঢেকে রাখলো। কিছুাক্ষণ পর উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসলো।
পুতুলকে দেখে জুলিয়া এগিয়ে এসে বলে,কিরে সারারাত আমার দেবর বুঝি তোকে ঘুমাতে দেয়নি?
‘পুতুলের চোখ বড়, বড় হয়ে গেলো। বোকার মত বলে তুমি জানলে কি করে?
‘পরশ যাওয়ার সময় আমার কানে কানে বলে গেছে।
‘ছিহহহ এই লোকটার লজ্জা শরম বলতে কিছু নেই। মানসম্মান রাখলো না!
‘আরেহহহ তুই বোকা নাকি? এসব বলতে হয় তোকে দেখেই বুঝে গেছি।
‘পুতুল লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেললো।
জুলিয়া পুতুলের কানে কানে বলে আরেহহ কাল রাত তো আমারও বাসর রাতই ছিলো।
‘এতোদিন পর কেন? আর তুমি আমার সাথে ভালো বিহেভিয়ার করছো!
‘আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে শুধরে নিয়েছি৷

নিলুফা বেগম বলেন, দুই ঝা সারাদিন গল্প করতে পারবে আগে তোমার ছোট জা কে কিছু খেতে দাও৷

🌿
পলাশ সাহেব পরশকে বললো, তুমি এই কেসের তদন্ত থেকে সরে দাঁড়াও৷
‘চাচ্চু তুমি কি বলছ! আমি কত ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি এখন বলছো সরে দাঁড়াতে?
‘আমি বাবা হয়ে নিজের মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে ঝুঁকি নিতে পারবো না। তুমি ভালো করেই জানো সরকার পক্ষের লোক ওরা ওদের ক্ষমতা অনেক। তোমার কিছু হয়ে গেলে আমার মেয়েটা।
‘চাচ্চু এটাই আমাদের কাজ আমি এতো দূর এগিয়ে এখন পিছু হটবো না।
‘একজন বাবা হিসবে তোমাকে অনুরোধ করছি প্লিজ আমার মেয়ের ভবিষ্যতের ব্যপার।
‘আমি যদি নিজের দ্বায়িত্ব পালন করতে যেয়ে মারা যাই তাহলে আপনার মেয়েকে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিয়েন।
‘পলাশ সাহেব ঠাটিয়ে একটা চড় বসিয়ে দিলো পরশের গালে। তোমার কাছে কি মনে হয় সব কিছু এতো সহজ?
‘আমি আমার প্রফেশনের সাথে গাদ্দারি করতে পারবো না। আমার কাছে প্রমাণ আছে আর কিছু সংগ্রহ করেই এই কেস পুরোপুরি আমার দখলে৷
‘আমি তোমাকে এই কেসের তদন্ত থেকে এই মূহুর্তে বহিষ্কার করলাম।
‘চাচ্চু এসবের কোন মানে হয়!
‘ডোন্ট কল মি চাচ্চু। এটা অফিস আর এখানে আমি তোমার সিনিয়র অফিসার৷
‘পরশ রেগে অফিস থেকে বের হয়ে গেলো।

🌿পুতুল নিজের রুমে কতক্ষণ বসে থেকে মোবাইল নিয়ে পরশকে কল করল।
‘পরশ রিসিভ করেই বলে, সব ব্যাগপত্র গুছিয়ে নে আমরা আজ সাজেক যাবো।
‘কিন্তু কেন?
‘বিয়ের পর মানুষ সাজেক যায় কেন জানিস না?
‘নাহহহ কেন যায়।
‘ মধুচন্দ্রিমা করতে। এবার রেডি হ আমি আসছি৷
‘তাহলে কাল রাতে কি করলে?
‘কাল রাতে টেইলর ছিলো পিকচার এখনো বাকি মেরি জান। আধাঘন্টার মধ্যে রেডি হয়ে আয়৷
‘পুতুল রেডি হয়ে সুফিয়া বেগমের রুমে আসলো।
‘কিরে কিছু বলবি?
‘আম্মু পরশ ভাই বলেছে রেডি হয়ে বের হতে আমরা নাকি সাজেক যাবো।
‘নাউজুবিল্লাহ, নিজের স্বামী কে ভাই ডাকছিস কেন! আর যদি ভাই ডাকতে শুনেছি তো তোর খবর আছে।
‘সরি।
‘মনে থাকে জেনো। আর হ্যা তোর বড় আম্মুর কাছে বলে যাস কিন্তু।

সবার থেকে বিদায় নিয়ে নিচে আসতেই দেখে পরশ দাঁড়িয়ে আছে৷
‘ভেতরে আসলে কি হতো?
‘তোর রেডি হতে মিনিমাম আরো দুই ঘন্টা সময় বেশি লাগতো।
‘আমার এতো সময় লাগে না, জানোই তো আমি ন্যাচারাল বিউটি।
‘কথা কম বল আর গাড়ীতে বস।
পরশ নিজেই ড্রাইভার করছে। যদিও তারা সায়দাবাদ থেকে বাসে যাবে।
‘তুমি না বললা তোমার জরুরি কাজ আছে?
‘শ্বশুর আমাকে ছুটি দিয়ে দিয়েছে। হিটলার শ্বশুড় জুটেছে কপালে।
‘লজ্জা করে না নিজের চাচ্চুকে হিটলার বলতে?
‘একটুও করে না। আচ্ছা সেসব কথা ছাড়। ঠোঁটে এতো লিপস্টিক যে দিয়েছিস এটা স্বাস্থ্য সম্মত তো?
‘মানে কি এটা কি খাবার জিনিস নাকি? বলেই ঠোঁট হাত দিয়ে ঢেকে রাখলো।
‘পৃথিবীর সবচেয়ে টেস্টি খাবার তোর ঠোঁটের লিপস্টিক। বাকি সব স্বাদ পানসে। তবে লিপস্টিক ছাড়াও তোর ঠোঁট সেই লেভেলের টেস্টি।
‘পুতুল অন্য দিকে ঘুরে ঠোঁটে হাত দিয়ে ঢেকে রাখলো।
‘পরশ বলে,বৌজান এদিকে তাকাও এখন তো এই স্বাদ নেবো না। বাসে ওঠার পর। এখন তোমার ঠোঁট নিরাপদ সুইটি।
‘পুতুল মুখ থেকে হাত সরিয়ে বলে,সুইটি আবার কে? তুমি কি পরকীয়ায় আসক্ত?সেই মেয়ের নাম নিশ্চয়ই সুইটি হায়রে আমার কপাল পুড়লো রে একি সর্বনাশ হলো আমার।
‘চুপ কি বাজে বকছিস! সুইটি তো ভালোবেসে তোকেই বললাম। নিব্বি বউ বিয়ে করে এই জ্বালা ক’ কইলে ঁ চন্দ্রবিন্দু বুঝে।

🌿জুলিয়া কাভার্ডে কাপড় রাখছিলো আর রাতের মোমেন্টগুলো মনে করে লজ্জা পাচ্ছিলো,একা একা মুচকি মুচকি হাসছিলো৷
পরাণ ধীর পায়ে এসে জুলিয়াকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে,আমার বিউটিফুল ওয়াইফের জন্য বিউটিফুল বেলীফুলের গাজরা।অনুমতি দিলে তার খোঁপায় পরিয়ে দিতাম।
‘নিজের বৌকে গাজরা পরাতে অনুমতি লাগে!আপনার বৌ আপনার ব্যক্তিগত সম্পদ । আপনার যা ইচ্ছে করতে পারেন।
পরাণ জুলিয়ার চুলে গাজরা পরিয়ে দিয়ে বলে,হায় তোমার সৌন্দর্যের কাছে এই ফুলও ফিকে পরে গেছে৷
‘আচ্ছা আপনার কি আমাকে পছন্দ হয়েছে?
‘না হওয়ার কোন কারণ আছে?
‘আপনি তো পুতুলকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।
‘পরাণ জুলিয়াকে কোলে তুলে নিয়ে বেডে বসলো।তারপর বললো, তাতো তুমিও পরশকে বিয়ে করতে চাইতে।
‘কিন্তু পরে আমি বুঝেছি সেটা আমার জেদ আর লোভ সেখানে কোন ভালোবাসা নেই।
‘ঠিক সেভাবেই আমারও কোন ভালোবাসা ছিলো না।শুধু ছিলো রাগ আর ঘৃণা। আমরা আমাদের অতীতকে আর স্বরণ করবো না,বরং ভবিষ্যতকে রঙিন করে সাজাবো।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here