অবশেষে তোমায় হলো পাওয়া পর্ব ২

0
58

#অবশেষে_তোমায়_হলো_পাওয়া
#পর্ব:২
#তামান্না_ইসলাম_কথা

কনা আর মীমের থেকে চলে আসার পথে সম্পূর্ণ রাস্তা দুমনা হয়ে ভেবে এসেছে যে, মোয়াজ সব কিছু জানিয়ে দিয়েছে? না-কি দেয়নি? যদি দিয়ে থাকে তাহলে এতো সময়ে মামীর ফোন করে ফেলার। কিন্তু এখনও যখন ফোন করেনি তার মানে বলেনি। কিন্তু তখন মোয়াজের বাঁকা চাহনি আর বলা সেই কথা গুলো? উফ্ কিছুই বুঝতে পারছি না।

” আপামনি নামবেন না? চলে আসছি তো।”

রিকশাওয়ালার কথায় নিজ ভাবনা থেকে বের হয়ে দেখে সত্যি বাড়ির সামনে চলে এসেছে। রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে সবার আগে সময় দেখে নিলো কথা। এখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজে। মামী এখন ছাদে থাকবে তার প্রিয় গাছ গুলোতে পানি দিতে। আর ছাদে যাওয়া মানে পাশের বাড়ির রুমা আন্টির সাথে আড্ডা দেওয়া।

” যাক ভালো হয়েছে। এই সুযোগে রুমে চলে যেতে পারবো।”

কথাটা বলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই সব কিছু সত্যি প্রমাণ হলো।
কোনো কিছু আর না ভেবেই কথা নিজ রুমে চলে গেলো।

” বাবা তোমার এই কালো পোশাকের জন্য মৃত্যু হয়েছিল না? আমিও তোমার এই কালো পোশাকেই তোমার অপরাধীদের শাস্তি দিবো বাবা। তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আমাকে যা করতে হবে আমি তাই করতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি তোমার অপরাধীদের শাস্তি ঠিক দিবো‌।”

নিজের বাবার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কথা গুলো বলে নিজ রুম থেকে বের হয়ে গেলো কথা। এখন কিছু খাওয়া দরকার। নিজ ভাবনা মতোই রুম থেকে বের হয়ে কিচেন গিয়ে দেখে মামী আগে থেকেই সিঙাড়া, পুড়িসহ আরো কিছু স্নাক বানিয়ে রেখেছে। কিন্তু শুধু সিঙাড়া বা পুড়ি ভালো লাগে না বলে এক কাপ গরম দুধ চা নিয়ে বের হয়ে যায় কিচেন থেকে।

” কি রে মাথা ব্যথা করছে?”

চা খাওয়ার মাঝে পিছনে থেকে কেউ কথাটা বলতেই পিছনে তাকিয়ে দেখে রুমান সাহেব বাহিরে থেকে ফিরছেন। এই সময় প্রতিদিন রুমান সাহেব হাঁটতে বের হয়। তাই এখন তাকে দেখে বেশি কিছু ভাবলো না কথা।

” হ্যাঁ মামু! একটু মাথাটা ধরেছে।”

” মাথাটা কেন ধরেছে জানতে পারি? তা শুনলাম তুমি না-কি কাউকে ভালোবাসো? তার জন্য কি মাথা ব্যথা?”

রুমান সাহেবকে কথাটা বলে চায়ের কাপে চুমুক দিয়েছে মাত্রই মিসেস আমেনা বেগম কথা বলতে চা নাকে মুখে হয়ে কাশি উঠে যায় কথার। রুমান সাহেবের পিছনে যে মিসেস আমেনা বেগম ও ছিলেন সেটা লক্ষ্য করেনি কথা। তাই তো কথাটা শুনেই কাশি উঠে গেলো।

” তুমিও না! দেখছো মেয়েটা খাচ্ছে। আর তুমিও এখন এই কথা গুলো বলছো?”

” উফ্ মামু! তুমি চুপ করো তো। আমার মাথা ব্যথা করছে। আমি রুমে চলে গেলাম।”

রুমান সাহেব আর কথা নিজেরা নিজেদের কথা শেষ করে যে যার মতো চলে গেলো। আর আমেনা বেগম সেখানেই বোকার মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের কান্ড দেখে গেলো।

——-

” হেই মোয়াজ বেবী! কোথায় ছিলে তুমি আজকে? আমি তো তোমার অফিসে গিয়ে ফিরে এসেছি।”

ড্রয়িংরুমে পা রাখতে না রাখতেই কারো ন্যাকা স্বরে কানে আসে। ড্রয়িংরুমে ভালো করে চোখ বুলাতেই দেখতে পাই, মিসেস আরাফাতের পাশে বসে আছে লিজা। মূলত সেই মোয়াজকে দেখে কথা গুলো বলেছে।

“মিসেস আরাফাত! আপনার বোনের মেয়েকে বলে দিবেন আমার সাথে কথা বলতে হলে ঠিক ভাবে কথা বলতে। আমি ছয়-সাত মাসের কোনো বাচ্চা নয় যে আমাকে বেবি বলবে। আর তাকে খুশির খবর দিয়ে দিবেন। থাক আপনার দিতে হবে না আমি দিয়ে দিচ্ছি।”

” মনি! মোয়াজ কিসের কথা বলছে? কিসের খুশির খবর?”

মোয়াজের মুখে খুশির খবর শুনে মিসেস আরাফাতকে প্রশ্ন করে লিজা।

” আরে লিজা তুমি জানো না? তোমার মনি তোমাকে কিছু বলেনি? একটু অপেক্ষা করো। এই চুমকি ফ্রিজে সন্দেশ আছে না? সেগুলো নিয়ে আসো। আর আমার জন্য এক গ্লাস ঠান্ডা পানিও নিয়ে আসবে।”

প্রথম কথা গুলো লিজাকে উদ্দেশ্য করে বললেও, শেষ কথা গুলো বাড়ির সহকর্মী চুমকিকে হাঁক ছেড়ে ডেকে কথা গুলো বললে লিজা আর মিসেস আরাফাতের মুখোমুখি সোফায় বসলো।

” আমার বিয়ে লিজা।”

“বিয়ে? তোমার বিয়ে?”

“হুম!”

“ওয়াও মনি! তুমি আমাকে সারপ্রাইজ দিবে বলে আমাকে কিছু জানাওনি তাই না? মনি এইটা সত্যি অনেক বড় সারপ্রাইজ ছিলো। লাভ ইউ মনি।”

বিয়ের কথা বলতেই অতিমাত্রায় এক্সসাইডেট হয়ে মিসেস আরাফাতকে কথা গুলো বলে পাশ থেকে জড়িয়ে ধরলো লিজা।

” আরে লিজা আমার সম্পূর্ণ কথা শুনবে তো।”

“হ্যাঁ বলো!”

হাসি মুখে মোয়াজকে বলতে বললো লিজা। তার এক্সসাইডমেন্ট দেখে মোয়াজ মুচকি হেসে একবার মিসেস আরাফাতের দিকে তাকাতেই তার রাগি ফেস দেখে হাসির পরিমাণ বেড়ে গেলো।

” আমি কি বলেছি তোমার আর আমার বিয়ের কথা? তোমার মত উগ্ৰ, অহংকারী, লোভী আর ন্যাকা মেয়েকে বিয়ে করতে যাবে এই সাদ ইবনে মোয়াজ? আমি যাকে বিয়ে করছি সে আমার মতোই।”

” মোয়াজ কি ভাবে কথা বলছো তুমি? ঠিক করে কথা বলো। তুমি লিজাকে অপমান করছো কেন?”

” আমার সাথে উঁচু গলায় কথা বলবেন না মিসেস আরাফাত। আপনার বোনের মেয়েকে আমার আশেপাশে আসার জন্য বারণ করে দিবেন। আর হ্যাঁ লিজা সন্দেশ গুলো খেয়ে উঠবে। আমার অপচয় করা পছন্দ নয়।”

লিজা এবং মিসেস আরাফাতকে কথা গুলো বলেই ড্রয়িংরুম থেকে উপরে চলে গেলো মোয়াজ।

মনি তুমি আমার সাথে এইটা করতে পারলে? তুমি বলেছিলে মোয়াজের সাথে আমার বিয়ে দিবে। মনি আমি মোয়াজকে ভালোবাসি। আমি মোয়াজকে ছাড়া বাঁচব না মনি।”

“আহ্ লিজা! আমাকে সব কিছু ভাবতে দাও। আমি যখন বলেছি তুমি এই বাড়ির বউ হবে তাহলে তুমিই হবে। ওই থার্ড ক্লাস মেয়েকে এই বাড়ির বউ আমি কিছুতেই হতে দিবো না।”

মিসেস আরাফাত লিজাকে কথা গুলো বলে কাউকে ফোন করতে করতে সেখান থেকে চলে গেলো।

——-

” কথা তুই আমার কথা কেন শুনিস না বলতো? মোয়াজ কত ভালো ছেলে। নাম করা ব্যবসায়ী। তোকে অনেক সুখে রাখবে।”

কথার মাথায় তেল দিয়ে দিতে দিতে কথা গুলো বলছিলো আমেনা বেগম।

” মামিমা! তুমি তো জানো আমি নিজের পরিচিতি গড়তে চায়। বাবার মতো একজন সত এডভোকেট হতে চাই। আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না মামিমা।”

“তোকে কতবার বলেছি এই উকালতির ভুত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে? ওরা যদি তোকেও আপা আর দুলাভাইয়ের মতো….”

আমেনা বেগম নিজ কথা সম্পূর্ণ শেষ না করেই কথাকে জড়িয়ে ধরলো।

” আমার কিছু হবে না মামিমা। তুমি আর মামু আছো তো আমার সাথে। মামিমা তুমি এই মাঝে মাঝে রিনা খান থেকে শাবানা হয়ে যাবে না তো। তোমাকে রিনা খানেই ভালো লাগে।”

কথাটা বলেই দুইজনেই হেসে উঠলো। দু’জনে আরো কিছু সময় গল্প করে নিজ নিজ রুমে চলে গেলো।

——

” কি রে মোয়াজ সাহেব কি কি বলছে বললি না তো?”

” মিষ্টির মোয়া সব কিছু বলেছে। উনাকে বিশ্বাস করা উচিত হয়নি। যাই হোক আমি সব ডিটেলস্ বের করেছি। তুই বাসার নিচে ওয়েট কর আমি আধঘন্টার মাঝে আসছি। আর শোন রিয়াদকে আসতে বলিস।”

ফোনের ওপাশে মীমকে সব কিছু বলে দিয়ে চুপচুপ বাসা থেকে বের হয়ে যায় কথা।

” কথাকে তুমি একটু বোঝাবে? এই মেয়েটা আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। যদি ওর কিছু হয়ে যায়?”

রুমের রাখা জগের পানি শেষ হয়ে যাওয়া পানি নিতে রুম থেকে বের হয়ে ছিলো আমেনা বেগম। তখনই কথাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখে নেন তিনি। রুমে এসে স্বামীকে কথা গুলো বললেই আঁচলে চোখ মুছে নিলেন।

” কথা কি আর আমাদের কথা শুনবে? সে তো তার বাবার খুনিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ খুঁজতে আছে।”

রুমান সাহেবের কথার প্রেক্ষিতে আর কিছু বললেন না আমেনা বেগম। চুপচাপ পাশ ফিরে শুয়ে রইলেন।

—–

” আপনি এখানে?”

#চলবে

( ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here