অপরিচিত পর্বঃ০২

0
1630

অপরিচিত পর্বঃ০২
লেখিকাঃ তাহমিনা তমা

সিনথিয়া কিছু না বলে মেহরাবের পাশে বসলো মেহরাব আগের মতোই বসে আছে। সিনথিয়া মেহরাবের দিকে তাকালো মুখটা ভার করে বসে আছে মেহরাব।

সিনথিয়া বললো, ক্লাস এটেন্ড না করে এখানে বসে কী করছো ?

মেহরাব বললো, ক্লাস করতে ভালো লাগছে না আজ।

সিনথিয়া মেহরাবের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থাকলো। ছেলেটাকে সে ভালোবাসে তবে মুখ ফোটে কখনো বলা হয়ে উঠেনি। মেহরাবের নানা আর মামা এখনকার নামকরা বিজনেসম্যান আর মা সার্জেন। ভার্সিটি থেকে একটু দূরেই বেশ বড় একটা প্যালেস মেহরাবদের। আর সেখানে সিনথিয়া স্কলারশিপ পেয়ে পড়তে আসা সাধারণ পরিবারের মেয়ে। স্কলারশিপ পেয়ে আসলেও অনেক খরচ আছে যা নিজেই বহন করতে হয় আর তার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয় তার বাবাকে সে নিজেও এখানে একটা পার্টটাইম জব করে। যদিও জবটা মেহরাবই ঠিক করে দিয়েছে। তাই নিজের মনের কথা কখনো মুখে আনার সাহয় হয়নি সিনথিয়ার। বামুন হয়ে চাঁদ ধরার সাহস করতে সে চায় না। তাই নিজের মনের কথা বরাবর মনেই দমিয়ে রাখে।

সিনথিয়া মেহরাবের হাত ধরে বললো, চলো আজ আর ক্লাস করবো না।

মেহরাব সিনথিয়ার দিকে তাকালো। মেয়েটা পড়াশোনার ব্যাপারে খুব সিনসিয়ার তাই তার মুখে ক্লাস না করার কথা শুনে মেহরাব একটু অবাকই হলো তাই বললো, তুমি ক্লাস মিস করবে ?

সিনথিয়া বিড়বিড় করে বললো, তুমি একবার আমার জীবনটা চেয়ে দেখো তাও হাঁসতে হাঁসতে দিয়ে দিবো।

মেহরাব ভ্রু কুঁচকে বললো, কিছু বললে ?

সিনথিয়া একটু হাসার চেষ্টা করে বললো, বলেছি আজ আমারও ক্লাস করতে ইচ্ছে করছে না। আজ তুমি আমাকে তোমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গায় নিয়ে যাবে দুজনে ঘুরবো আজ।

মেহরাব সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো, আমার প্রিয় জায়গায় তো তোমাকে নিয়ে যেতে পারবো না।

সিনথিয়া মুখটা মলিন করে বললো, কেনো ?

মেহরাব মুচকি হেঁসে বললো, আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা এখান থেকে ঠিক ১০৯৯৪ কি.মি দূরে। এখন তোমাকে সেখানে কীভাবে নিয়ে যাবো ?

সিনথিয়া কিছু বুঝতে পারলো না তাই বললো, মানে কী ?

মেহরাব আগের মতো মুচকি হাসি বজায় রেখে বললো, এখান থেকে ঠিক ১০৯৯৪ কি.মি. দূরে বাংলাদেশ নামক ছোট একটা দেশ আছে। যেখানে আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর সময়টুকু কেটেছে। না তো সেটা আমার মাতৃভূমি আর না আমার জন্মভূমি কিন্তু আমার সবচেয়ে ভালোবাসার জায়গা সেটা। আমার ভালোবাসার মানুষ দুটো যে সেখানেই আছে।

মেহরাব যেনো চোখের সামনে আবার নিজের সেই সুখের অতীত দেখতে পাচ্ছে। হঠাৎ চোখের সামনে আবার ভেসে উঠলো সেই এম্বুলেন্স আর চোখ থেকে একবিন্দু নোনাজল গড়িয়ে পড়লো। সেই এম্বুলেন্সের আগমন তার জীবন পুরো উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। এম্বুলেন্সে ছিলো মেহরাবের বাবা মাহতাব খানের লাশ। ক্যাম্পিং করে ফেরার পথে এক্সিডেন্টে মারা যায় মাহতাব খান। মুহাজির খান মেহেককে তার বাড়িতে রাখতে অস্বীকার করে বসেন। ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন মেহেককে আর চলে যেতে বলে বাড়ি ছেড়ে। পরবর্তীতে ঝামেলা হয় মেহরাবকে নিয়ে। মেহরাবকে মুজাহিদ খান রেখে দেন জোর করে। উপায় না পেয়ে মেহেকে আইনের আশ্রয় নিয়ে মেহরাবকে ফিরিয়ে আনে আর চিরদিনের জন্য বাংলাদেশ থেকে চলে আসে এখানে আর কোনদিন বাংলাদেশে যায়নি মেহরাব। আজ তার বাবার মৃত্যু বার্ষিকী তাই সব স্মৃতিগুলো বড্ড কষ্ট দিচ্ছে মেহরাবকে।

সিনথিয়া মেহরাবকে আবার অন্যমনস্ক হয়ে যেতে দেখে বললো, তোমার এখানে কোনো প্রিয় জায়গা নেই ?

মেহরাব বললো, হ্যাঁ আছে এতো এখান থেকে এক ঘন্টার রাস্তা খুব সুন্দর আর নিরিবিলি একটা লেক আছে। মন খারাপ হলে সেখানে গিয়ে বসে থাকি আর পানিতে ঢিল ছুঁড়ি।

সিনথিয়া হঠাৎ বলে উঠলো, মন খারাপ করলে কখনো মায়ের কাছে গেছো ?

মায়ের কথা শুনে মেহরাবের মুখের রং চেঞ্জ হয়ে গেলো। এখানে আসার পর তার মা ধীরে ধীরে চেঞ্জ হয়ে গেলো। তাকে সময় দেওয়া একদম ছেড়ে দেয় সারাদিন এমন কী মাঝে মাঝেই রাতেও হসপিটাল থাকে ? এরপর মায়ের সাথে তার দুরত্বের আলাদা একটা দেয়াল তৈরি হয়ে যায়।

উত্তর না পেয়ে সিনথিয়া আবার বললো, কী হলো বললে না যে ?

মেহরাব ভাবলেশহীন ভাবে বললো, না যায়নি কখনো তার কাছে। তার সময়ের অনেক মূল্য আমার জন্য ব্যয় করার মতো সময় কখনোই ছিলো না তার।

সিনথিয়া কিছু একটা ভেবে বললো, চলো।

মেহরাব প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, কোথায় ?

সিনথিয়া মেহরাবের হাত ধরে টেনে তুলে বললো, চলো না গেলেই দেখতে পাবে।

মেহরাব কথা না বাড়িয়ে সিনথিয়ার সাথে যেতে লাগলো। মাঝে মাঝে সিনথিয়াকে দেখে অবাক হয় মেহরাব। প্রথম যেদিন সিনথিয়া এখানে আসে প্রচন্ড ভয়ে জড়সড় হয়ে ছিলো। কিছু বাজে ছেলে তাকে টিস করে তাতে ভয়ে কান্না করে দেয় সে। মেহরাব সেটা দেখে ছেলেগুলোকে কিছু কথা শুনিয়ে দেয় আর তারা চলে যায়। পরে সিনথিয়ার সামনে এসে বলে আপনি ঠিক আছেন ? এখানে কারো মুখে বাংলা শুনে অবাক হয়ে সামনে তাকায় সিনথিয়া। মেহরাবকে দেখে প্রথমে সে বুঝতে পারছিলো না সে বাঙালি নাকি কানাডিয়ান। সেদিন থেকে তাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়। আস্তে আস্তে একে অপরের বিষয়ে জানতে শুরু করে। মেহরাব পরে বুঝতে পারে সিনথিয়া অনেক চঞ্চল একটা মেয়ে। মেহরাবের দিক থেকে বন্ধুত্ব পর্যন্ত থাকলেও সিনথিয়া ভালোবেসে ফেলেছে মেহরাবকে। সিনথিয়া গাড়িতে উঠে মেহরাবের দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে।

মেহরাব ড্রাইভ করতে করতে বললো, কোনদিকে যাবো ?

সিনথিয়ার কোনো উত্তর নেই দেখে মেহরাব সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখে সে তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা যে তাকে ভালোবাসে সেটা মেহরাব বুঝতে পারে কিন্তু ভালোবাসতে মেহরাব ভয় পায়। বাবাকে ভালোবেসেছে সে হারিয়ে গেছে, দাদাজানকে ভালোবেসেছে তাকে ছেড়ে আসতে হয়েছে আর মাকে ভালোবাসে বিনিময়ে পায় অবহেলা। ছোটবেলা থেকে ভালোবাসা পায়নি তাই ভয় পায় ভালোবাসতে। সিনথিয়ার উত্তর না পেয়ে মেহরাব এবার গাড়ির হর্ন দিলো তাতে একটু চমকে উঠলো সিনথিয়া আর বললো, কী হয়েছে ?

মেহরাব বললো, কোথায় হারিয়ে যাও ? কোনদিকে যাবো সেটা বলো।

সিনথিয়া একটু লজ্জা পেয়ে রাস্তা বলে দিতে লাগলো আর মেহরাব যেতে লাগলো। পৌঁছানোর পর মেহরাবের কপাল কুঁচকে গেলো।

মেহরাব বললো, এখানে কেনো এসেছো ? এটা তো মমের হসপিটাল। মম এখানেই জব করে।

সিনথিয়া সিট বেল খুলতে খুলতে বললো, একটা জিনিস দেখাতে নিয়ে এসেছি চলো।

মেহরাব বললো, আমি যাবো না এখানে।

সিনথিয়ার অনেক রিকোয়েস্টের পর মেহরাব সেখানে গেলো। মেহরাব কখনো মায়ের কাছে আসেনি তাই তার কেবিনও চিনে না। তাই রিসেপশনিস্টের কাছে জানতে চাইলে বলে সে আজ আসেনি। এটা শুনে মেহরাবের কপাল কুঁচকে গেলো তার মা তো হসপিটাল ছাড়া কিছু বুঝেই না তাহলে। আবার জিজ্ঞেস করলে বলে সে প্রতিবছর শুধু এইদিনে ছুটি নেন। সিনথিয়ার কথায় মেহরাব তার মমের ফোনের লোকেশন দেখে সেখানে যেতে লাগলো। তার ভেতরে অনেক কৌতুহল কাজ করছে কোথায় যেতে পারে তার মম। সেখানে পৌঁছে মেহরাব একটু না অনেকটা অবাক হলো। এটা একটা এতিমখানা আর সেখানে তার মা বাচ্চাদের খাবার দিচ্ছে।

মেহরাব তার মমের পেছনে দাঁড়িয়ে বিষ্ময়কর কণ্ঠে বললো, মম তুমি এখানে ?

মেহেক মেহরাবের কন্ঠে অবাক হয়ে পেছনে ঘুরে তাকালো তারপর বললো, তুমি এখানে কী করছো তোমার ক্লাস নেই ?

মেহরাব বললো, তোমারও তো হসপিটাল আছে তুমি এখানে কী করছো ?

মেহেক বললো, আজ তোমার বাবার মৃত্যু বার্ষিকী তার আত্মার শান্তির জন্য এতিমখানার বাচ্চাদের মুখে হাঁসি ফোটানোর চেষ্টা করছি।

মেহরাব অবাক হয়ে তার মাকে দেখছে। তার মায়ের আরেক রুপ সে আবিষ্কার করেছে। মেহরাবও আর কিছু না বলে মমকে হেল্প করতে লাগলো সাথে সিনথিয়াও। কাজ শেষে সিনথিয়া বাচ্চাদের সাথে খেলতে লাগলো আর মেহেক ক্লান্ত হয়ে একটা গাছের নিচে গিয়ে বসলো। মেহরাব এই বাচ্চাদের প্রতি তার মমের ভালেবাসা থেকে আজ অবাক হয়েছে। মেহরাব কী ভেবে মমের কোলে মাথা দিয়ে মাটিতে বসে পড়লো। মেহেক প্রথমে একটু অবাক হলেও পরে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।

মেহরাব মায়ের কোলে মাথা রেখেই বললো, তুমি এই বাচ্চাদের এতো ভালোবাসো তাহলে আমার কী দোষ ছিলো মম ? আমাকে কেনো ভালোবাসো না ?

মেহেকের হাত থেমে গেলো মেহরাবের কথা শুনে। মেহরাব এবার মাথা তোলে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো, বলো না আমার দোষ কী ছিলো ?

মেহেকের চোখ টলমল করছে পানিতে। হাত দিয়ে চোখ মুছে বললো, আজ কিছু কথা বলি তোমাকে তাহলে হয়তো বুঝতে পারবে। তুমি এতোদিনে হয়তো জেনে গেলো এই দেশের কালচার। এমন বলবো না আমার দেশের মানুষ ভালোবাসতে পারে না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের জীবন থেকে চলে যায় তাহলে মুভ অন করতে পারে আমাদের দেশের মানুষ। আমি জন্ম থেকে এই দেশে আছি কিন্তু তোমার বাবার সাথে পরিচয় আর বাংলাদেশে কাটানো সাত বছরে আমাকে শরীরের প্রতিটা কণায় কণায় সেই দেশের কালচার মিশে গেছে। তোমার বাবা চলে যাওয়ার পর আমি মুভ অন করতে পারিনি। ভুলতে পারিনি তোমার বাবার সাথে কাটানো এক একটা মুহুর্ত। বাঙালি ভালোবাসতে পারে উজার করে সেটা তোমার বাবার কাছ থেকে আমিও শিখে গিয়েছি। তাই তো তার স্মৃতি নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি সারাজীবন। আর তুমি বললে না তোমার দোষ কোথায় ছিলো ? তোমার দোষ ছিলো না, ছিলো আমার দুর্বলতা। তোমার থেকে নিজেকে দূরে কেনো রেখেছি জানো। তুমি দেখতে একদম তোমার বাবার মতো হয়েছো। তোমার দিকে তাকালে মাহতাবের শূন্যতা আমাকে গ্রাস করে নেয়। ইচ্ছে করে ওর কাছে চলে যাই। সুইসাইড করা মহাপাপ কখনো জান্নাতে যেতে পারবো না আর সেটা না পারলে তোমার বাবাকেও পাবো না। তাই এসব বাজে চিন্তা থেকে দূরে থাকতে নিজেকে যতটা সম্ভব ব্যস্ত রাখতে শুরু করি। কিন্তু নিজের কথা ভাবতে ভাবতে বুঝতেই পারিনি তোমার সাথে অন্যায় করছি। যখন বুঝতে পারি তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে তুমিও নিজকে গুটিয়ে নিয়েছো আমার থেকে।

মেহরাব তাকিয়ে দেখলো তার মমের চোখ থেকে টপ টপ পানি গড়িয়ে পড়ছে। মেহরাব পানি মুছে দিয়ে বললো, Love you Mom❤️

মেহেক ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বললো, Love you too my little Prince ❤️

আজ এতোবছর পর মায়ের মুখে সেই পুরনো কথা শুনে কেঁদেই ফেললো মেহরাব। মা ছেলে একে অপরকে জড়িয়ে কাঁদছে আর দূরে দাঁড়িয়ে তৃপ্তি নিয়ে তা দেখছে সিনথিয়া। বাকিদিনটা মা ছেলে অনেক সময় কাটালো একসাথে তাদের সাথে সিনথিয়াও জোগ দিয়েছিলো। সন্ধ্যার আগে মেহরাব চলে যায় সিনথিয়াকে ড্রপ করে দিতে আর মেহেক নিজের গাড়ি নিয়ে চলে যায় বাসার দিকে। পড়ন্ত বিকেলে নিরিবিলি রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে আর অল্প সাউন্ডে একটা ইংলিশ গান বাজছে,

♪♪♪♪
Spent 24 hours
I need more hours with you
You spent the weekend
Getting even ohh ohh
We spent the late nights
Making things right, between us
But now it’s all good baby
Roll the backwood baby
And play me close

এতটুকু বাজতেই সিনথিয়া বললো, এই ঘোড়ার মাথা গান বন্ধ করো তো। এতো সুন্দর মুহূর্তে এমন ভ্যা ভ্যা মার্কা গান ভালো লাগছে না।

মেহরাব গান বন্ধ করে বললো, কেনো গানটা তো অনেক সুন্দর ?

সিনথিয়া বললো, কী বলছে সেটা বুঝতে পারছো তাই ভালো লাগছে আমার কাছে তো ছাগলের ভ্যা ভ্যা সরি ম্যা ম্যা মনে হচ্ছে।

সিনথিয়ার কথা শুনে মেহরাব শব্দ করে হেঁসে ফেললো তারপর বললো, তাহলে কী গান শুনবে ?

সিনথিয়া বললো, হিন্দি গান দাও প্লিজ।

মেহরাব বললো, সেটাও তো আমার কাছে কী যেনো বললে ভ্যা না ম্যা মনে হবে।

সিনথিয়া বললো, ঠিক আছে তাহলে বাংলা গান দাও।

মেহরাব কিছু না বলে বাংলা গান দিতে লাগলো আর বললো, By the way তুমি আমার কাছে একটা থ্যাংকস পাও। আজ তোমার জন্য এতো বছর পর মমের সাথে এতোটা সময় কাটাতে পারলাম Many many thanks.

সিনথিয়া মনে মনে চিন্তা করলো, সিনথিয়া আজ মেহরাবের মন অনেক ভালো তাই মনের কথা বলে দে। আজ না বলতে পারলে আর কোনদিন বলতে পারবি না। আর যদি কোনদিন বলতে না পারিস তাহলে একটা আফসোস থেকে যাবে বললে হয়তো ফিরিয়ে দিতো না এমন মনে হবে সারা জীবন। সিনথিয়া চোখ বন্ধ করে বলে দিলো,
মে তুমসে বহত পেয়ার কারতি হো মেহরাব আব খুদছে ভী জিয়াদা তুমসে পোয়ার কারনে লাগি গো।

সিনথিয়ার কথা শুনে মেহরাব গাড়ি ব্রেক কষলো আর অবাক চোখে তাকালো সিনথিয়ার দিকে। সিনথিয়া মনে করেছিলো মেহরাব বুঝতে পারবে না কিন্তু মেহরাবকে দেখে বেশ ভালোই বুঝতে পারছে মেহরাব সিনথিয়ার বলা সবটুকু কথাই বুজেছে। এবার কী হবে সেটা ভেবে ভয়ে কাঁপছে সিনথিয়া। মেহরাব যদি তার সাথে বন্ধুত্বও শেষ করে দেয়।

আরফা স্কুল থেকে যাওয়ার সময়ও রুমান দাঁড়িয়ে ছিলো কিন্তু আরফা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়। পরদিন সকালে রুমানের কল কেটে না দিয়ে রিসিভ করে আরফা।

যাক মহারানীর রাগ তাহলে কমেছে।

আরফা ফোনের এপাশ থেকে মুচকি হেঁসে চলেছে রুমানের কথা শুনে। মুখে গম্ভীর ভাব এনে বললো, এবারের মতো মাফ করে দিলাম। আবার যদি কখনো কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখেছি না ঐ মেয়েকে মেরে তোমাকেও মেরে দিবো।

রুমান শব্দ করে হেঁসে বললো, আমি মরে গেলে তোমাকে ভালো কে বাসবে শুনি ?

আরফা ভাব নিয়ে বললো, কেনো নতুন একটা খোঁজে নিবো।

আরফা,,,,,,,,

রুমানের ধমক শুনে ফোনের এপাশ থেকে ভয়ে কেঁপে উঠলো আরফা। রুমান সবসময় আরু বলে ডাকে আরফাকে। যখন খুব বেশি রেগে যায় তখনই বলে আরফা।

রাগে ফুসফুস করতে করতে রুমান বললো, এই রুমান যদি মরেও যায় আরফা তবু রুমানেরই থাকবে কথাটা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নাও।

আরফা কাঁপা গলায় বললো, সরি,,, আমি সরি। আর কখনো বলবো না তুমি রাগ করো না প্লিজ তুমি রাগলে আমার খুব ভয় করে।

রুমান চোখ বন্ধ করে নিজের রাগ কন্ট্রোল করে বললো, আর কখনো এমন বলবে না।

আরফা বললো, ঠিক আছে।

দুজনেই বেশ কিছুসময় চুপচাপ থাকলো তারপর কথা ঘুরানোর জন্য আরফা বললো, আজ আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে ?

রুমান বললো, ঠিক আছে কিন্তু কাবাবের হাড্ডি তোমার এই বান্ধবীকে নিতে পারবো না কিন্তু।

এভাবে কেনো বলছো ও আমার বেস্টু ওকে ছাড়া আমি কীভাবে যাবো ?

বাসররাতেও কী ওকে সাথে করে নিয়ে আসবে নাকি ?

রুমানের মুখে এমন কথা শুনে আরফা লজ্জায় চুপ করে গেলো। কোনো উত্তর না পেয়ে রুমান আবার বললো, ওরে আমার লজ্জাবতী লজ্জা পেয়েছে। তোমার লজ্জা রাঙা মুখটা খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। আমি আসি তোমাদের ওদিকে ?

আরফা ব্যস্ত হয়ে বললো, এই না না একটু পর তো স্কুলে যাবো তখন দেখা হবে।

আরফা স্কুলে যাবি না নাকি তাড়াতাড়ি উঠে রেডি হয়ে নে।

মায়ের ডাক শুনে আরফা ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো আর রুমানকে বললো, এই মা ডাকছে এখনি রুমে চলে আসবে ডাকতে। স্কুলে যাওয়ার সময় দেখা হচ্ছে আল্লাহ হাফেজ।

আরফা রুমানের উত্তরের অপেক্ষা না করেই ফোন কেটে ওয়াশরুমে চলে গেলো। তাইয়েবা রুমে এসে দেখে আরফা বেডে নেই তা দেখে বললো, বাহ মেয়ের দেখি সুবুদ্ধি হয়েছে।

মুচকি হেঁসে চলে গেলো আরফার জন্য খাবার রেডি করতে।

চলবে,,,,,,,,,,
খুব তাড়াতাড়ি নতুন মোড় নিতে চলেছে সবার জীবন। কারো ভালো আর কারো খারাপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here