Story:- #Different_Love
Writer:- গল্পছোঁয়া
Part:- 24
আমান আয়মানের দিকে তাকিয়ে আছে অবাক দৃষ্টিতে,
— বাবাই,থুমি এসেছো।
আন্তেল আমাকে নামাও,আমি বাবাইয়ের কোলে যাব।
আয়মান এবার রোজের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আমানের দিকে তাকালো,গতকালের সেই পিচ্চি ছেলেটাই,একদম আয়মানেরই কার্বনকপি।
— আন্তেল নামাও আমাকে
আমান রোজের কোলে থাকাকালীনই আয়মানের দিকে দু-হাত বাড়িয়ে দিলো..
— বাবাই আমাকে কোলে নিবানা,আমাকে কি থুমি চিনোনা।
ওও চিনবে কি কলে,আমাকেতো থুমি দেকোইনি।তিন্তু আমি দেকিচি,মাম্মাম দেকাইতে।
আমি পতিদিন তোমার বিডিও দেকি আর তোমার মতো বেয়াম করি,দ্রেস পরি জানো।
আয়মান আমানকে কোলে নিলেই আমান আয়মানের গালে,কপালে চুমু দিলো।
— ইয়ে,আমার বাবাই পিরে এসেচে।
আমি আমার বাবাইকে কিসি দিয়েচি,কি মজা।আই লাভু বাবাই।
জানো বাবাই আমি তোমাকে এই এতোগুলো মিচ করচি,পতিদিন অপেককা করচি কবে তুমি এসে আমাকে কোলে নিবে (গালে আরেকটা কিসি দিয়ে)
আয়মান অবাক আর প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে রোজের দিকে তাকালে রোজ মাথা ঝাকিয়ে বুঝিয়ে দিলো আয়মান যা ভাবছে তা-ই, এটা তারই সন্তান।
আয়মান আমানের গালে,কপালে,চোখ-মুখে অনেকগুলো চুমু দিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো তার সন্তানকে।
— কে বলেচে আমার বাবাই পিরবেনা হুম,আন্তেল দেকো আমার বাবাই পিরে এসেচে।আমি এবার বিল্দিংয়ের সব বন্দুদের বলবো দেকো আমারও বাবাই আচে,আমার বাবাইও আমাকে নিজে হাতে কাইয়ে দেবে,গুরতে নিয়ে যাবে,সপিং করে দিবে।কি বাবাই দিবেনা??
— হ্যাঁ সোনা দিব (নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে)
— বাবাই,থুমি আবার আমাকে ছেলে চলে যাবেনাতো?? জানো বাবাই মাম্মাম পতিদিন তোমার ছবি দেকে কান্না করে,আমি কতোবার বলচি কেদোনা,বাবাই আসবে কিন্তু তবুও কালি কান্না করে।বলোনা বাবাই,আবাল ছেলে যাবেনাতো??
— না সোনা,কোথাও যাবোনা।
আমি আমার ছোট্ট সোনা আর তার মাম্মাকে কি ছেড়ে যেতে পারি হুম।
— পমিচ করো,আমাকে চুয়ে
— এইতো,আমি তোমাকে ছুঁয়ে প্রমিস করলাম,তোমাদের ছেড়ে যাবোনা।
— ইয়ে,আন্তেল দেকেতো বাবাই পমিস করেছে আর ছেলে যাবেনা।
কি মজা,আই লাভু বাবাই, উম্মাহ।
— স্যার,চলুন কোথাও বসে কথা বলা যাক। (রোজ)
আয়মান আর রোজ আমানকে নিয়ে রিসোর্টের বাইরে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলো,আমান তো আয়মানের কোল থেকে নামছেইনা।
— আমান সোনা,বাবাইয়ের পাশের চেয়ারে বসো। (রোজ)
— না,আমি আমার বাবাইয়ের কাতেই তাকবো (আয়মানের গলা জড়িয়ে ধরে)
— আমান,দুষ্টামী করতে নেই।
— কে বলতে আমি দুষ্তু,আকাস আন্তেল,লাহুল আন্তেল,আলি আন্তেল,কবিল আন্তেল থবাইতো বলে আমি আমার বাবাইয়ের মতো ইন্তিলিদেন্ত।
— আহ্ রোজ,আমার কোনো প্রবলেম হচ্ছে না।আমিও আমার সন্তানকে নিজের কাছেই রাখতে চাই।
তো আমান সোনা বুঝি ইন্টেলিজেন্ট?
— জানিনা,কিন্তু থবাইতো বলে আমি নাকি তোমার মতো ইন্তেলিদেন্ত,চালাক,চতুল আলও কতো কি।
— জানেন স্যার,আমানের জন্মের পর আমরা সবাই একপ্রকার অবাক হয়ে গেছিলাম।একদম আপনার কার্বন কপি,কিন্তু এটা বুঝিনি ও বড় হলে ওর বিহেভিয়ার গুলাও আপনার মতো হবে। (রোজ সব খুলে বললো,আমানের জন্মের আগে পরের কাহিনী)
আয়মানের নিজেকে এবার অপরাধী লাগছে,দেশের কথা ভাবতে গিয়ে,দেশের প্রতি দ্বায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সে তার বড় দ্বায়িত্ব নিজের স্ত্রী-সন্তানের কথা ভুলে গিয়েছিল।এতগুলো বছর আরিয়া কতো কষ্ট পেয়েছে,কতকিছু ফেইচ করেছে।সবকিছুর জন্য দায়ী আয়মান নিজেই।
— বাবাই,তোমাকেইতো কালকে থকালে দেকচিলাম তাইনা।ওইদে দাক্কা কাইচিলাম
— ওরে বাবা,আমার কলিজাটার দেখছি অনেক বুদ্ধি,এখনও মনে আছে বুঝি।
— হ্যাঁ,তকোনই মনে হয়েচিলো তুমি আমার বাবাই।কিন্তু মাচ্ক পরে চিলে তাই কিচু বলিনি,মাম্মাম বলচে অপলিচিত কালোর সাতে কতা না বলতে।আমার মনে হচ্চিলো ওটা থুমি,কিন্তু যদি না হতে তকন কি হতো।লিস্ক নিতে চাইনি।
— বুদ্ধিমান ছেলে।
তো আমার আমান সোনার কি পছন্দ শুনি,কি খাবে বলো।
— স্যার,আপনার যা-কিছু পছন্দ আমানেরও তা-ই।ধরে নিব ২য় আপনি
আমানের বিষয়ে কিছুই শুনতে হবে না,আপনি নিজে যেমন আমানও তা-ই।
— কিন্তু আমিতো বয়েল ফুড…
— আমানও সেটাই খায়,আরিয়া ছোটো থেকেই ওকে সেভাবেই বড় করছে।
আয়মান জুস,ডিম আর সালাদ অর্ডার করলো।ওয়েটার এসে দিয়ে গেলে ৩জন মিলে খেতে শুরু করলো।রোজ এবার প্রশ্ন করলো??
— এতবছর কোথায় ছিলেন স্যার??
দেশে তো খবর এসেছিলো পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণে সবাই মারা গেছে,কেউ জীবিত নেই।আমরা আপনার সাথে এর আগেও কন্টাক্ট করার ট্রাই করেছি কিন্তু পারিনি।যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
—আমি মেইন স্পটে ছিলাম না,ক্যাম্পে ছিলাম আমি।রেডি হয়ে মেইন স্পটের দিকে রওনা দিয়েছি,কিছুদূর যেতেই এই বিস্ফোরণ।
আর আমরা এমন এক জায়গায় অবস্থান করছিলাম,সেখানে থেকে কারোর সাথে কন্টাক্ট করা পসিবল ছিলোনা।নেটওয়ার্ক সীমানার বাইরে ছিলাম।
—আপনি যখন কিছুই হয়নি তাহলে এতগুলো বছর ব্যাক করেনি কেন আর ওই মেয়েটা রুহি।ওটা কে স্যার
—বিস্ফোরণের জন্য কয়েকশত গ্রাম ধ্বংস হয়েছিল,আমি যেখানে ছিলাম সেখানেও এই বিস্ফোরণের ইফেক্ট পরেছে,আমি প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর ভাবে আহত হই,২বছরের মতো কুমায় ছিলাম।
২বছর পট যখন আমি জাগ্রত হই,সেন্স আসতে আমি নিজেকে একটা বিলাসবহুল রুমে আবিষ্কার করি।
বুঝতে পারছিলাম না আমি ওখানে কি করে গেলাম,আর ২বছর পেরিয়ে গেছে সেটাও অজানা ছিল।
পরে ধীরে ধীরে সব জানতে পারি,রুহি একজন লেডি মাফিয়া।
ও-ই আমাকে বাঁচিয়েছে,ও-ই আমাকে বললো সেদিন গুরুতর আহত অবস্থায় ও আমাকে নিয়ে হসপিটালে গিয়েছিল। আমি নাকি ২বছর ধরে কুমায় ছিলাম,হসপিটালে রাখা ঠিক মনে হয়নি তাই ও আমাকে ওর আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাম্পে এনে রেখেছে।
পুরোপুরি ফিট হতে আমার আরও ৭মাস সময় লাগে,এরমধ্যে রুহি আমার ওপর দূর্বল হয়ে পরেছিলো।আমি চেষ্টা করেছিলাম তোদের সাথে কন্টাক্ট করার কিন্তু পরে পুরোনো নিউজ থেকে জানলাম সবার কাছে আমি এখন মৃত।আর ভেবেছিলাম হয়তো আরিয়াও বিয়ে করে নিয়েছে,আড়াই বছর পেরিয়ে গেছে,ও কেব বিধবা হয়ে থাকবে।
সবার কাছে যখন আয়মান আহির চৌধুরী মৃত, তাহলে তা-ই থাকুক।এইজন্যই ফিরিনি
আমি চেষ্টা করছিলাম আফ্রিকাতেই থেকে যাব,রুহিকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনার দ্বায়িত্ব আমার।ও আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে, আমারও কিছু দ্বায়িত্ব আছে।ভেবেছিলাম রুহিকে ভালো পথে ফিরিয়ে এনে ওর থেকে দূরে চলে যাব,নিজের মতো করে নিজেকে গুছিয়ে নিব।একাই থাকবো আমৃত্যু
কিন্তু রুহি এমন এক চক্রে ফেসে আছে যে সেখানে থেকে বের হওয়া প্রায় ইম্পসিবল,বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক এসিড আর অ্যালকোহল পাচারের সাথে জড়িত সে।আর বাংলাদেশেরও কিছু টিম আছে এই চক্রে,আমার প্ল্যান এই চক্রকে খুঁজে বের করে যাথাপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা।
আমি সেভাবেই প্ল্যান সাজাতে থাকি রুহির আড়ালে,এরজন্য রুহির বিশ্বাস অর্জন আর ওর সাথে ফ্রী হওয়া জরুরি ছিল।
তাই রুহি যেদিন আমাকে বিয়ের জন্য প্রপোজ করে ওইদিনই ওকে এক্সেপ্ট করে নিই,রুহি এখনও জানেনা আমি একজন সিক্রেট পুলিশ অফিসার।ওর জানা মতে আমি একজন সাধারণ কর্মী ছিলাম।
রুহির বিভিন্ন ধরনের বিজনেস আছে,সেগুলোর মধ্যেই একটাতে জইন করি আমি।এরপর সানজিদের সাথে পরিচয়। ইচ্ছে করেই ওর সাথে বেস্টফ্রেন্ডের সম্পর্ক গড়ে তুলি,যাতে কিছু একটা অজুহাতে দেশে ব্যাক করতে পারি।
প্ল্যান সাকসেস হতে এতদিন লেগে গেলো,সানজিদের বিয়ে উপলক্ষে রুহিকে নিয়ে দেশে আসলাম।এবার নেক্সট প্ল্যান গুলো সাকসেস করবো
— স্যার,আপনি ডিপার্টমেন্টে জইন করুন।
— বাট..
— আপনার পজিশন এখনো ফাঁকা আছে,সবাই বিশ্বাস করলেও আরিয়া কখনো এটা বিশ্বাস করেনি যে আপনি মৃত।
সে এতগুলো বছর ধরে আপনার অপেক্ষায় ছিল,আমানকে আপনার স্টাইলেই বড় করছে ও।আরিয়া যেভাবে যুক্তি দিয়েছিল,সেই যুক্তি সবাই বিশ্বাস করেছে,আমাদের ডিপার্টমেন্টের আমরা সবাই এতদিন আপনার অপেক্ষাতেই ছিলাম।ফিরে আসুন স্যার, আমরা সাদরে আপনাকে গ্রহণ করতে চাই।
— ডান (মুচকি হেসে)
— আমানতো ঘুমিয়ে গেছে,আ… (রোজের ফোন বেজে উঠলো)
রোজ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখে আরিয়ার কল,রোজ কল রিসিভ করলো…
— হ্যা আরিয়া বলো??
~~~~~~~
— হুম,আমান ঘুমিয়ে গেছে।
আরে চিন্তা করোনা,খাবার খেয়েছে ও।
~~~~~~~~
— ৫মিনিটে আসছি,নিচেই আছি আমরা।
কিছুক্ষণ আগেই আমান ঘুমিয়ে পরেছে।
~~~~~~
— ওকে ওকে,আসছি। (টুটটুটটুট)
স্যার,পার্টি শুরু হয়ে গেছে।চলুন যাওয়া যাক,আমানকে আমার কাছে দিন।
— না থাক,আমার বুকে ঘুমোচ্ছে ঘুমাক।
— ওকে স্যার,চলুন।
আয়মান আমানকে নিয়ে রোজের সাথে রিসোর্টে ফিরে গেলো,আমান শান্তিতে নিজের বাবার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে।
বাবা-ছেলে কার্বনকপি,মনে হচ্ছে সিনিয়র আর জুনিয়র আয়মান একসঙ্গে আছে,আমান যেন আয়মানেরই ছোট রুপ….
To be continue….
(