Monday, June 22, 2026

এক_চিলতে_রোদ Part_16

0
2568

এক_চিলতে_রোদ Part_16
#Writer_Nondini_Nila

ঠান্ডায় কেপে কেপে উঠছি। তাই বসে না থেকে চোখ মুখ ডেকে চাদর দিয়ে গা ঢেকে শুয়ে পড়লাম। চোখ বন্ধ করতেই তখন কার কথা মনে পরলো কি হচ্ছিলো? কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না। তখন ভাইয়া আমার এতো কাছে ছিলো আর তার ঠোঁটের স্পর্শ আমি আমার কাঁধে পেয়েছিলাম। আমি তখন অন্য কোন রাজ্যে চলে গিয়েছিলাম। তখন হঠাৎ বাজ পরার শব্দে ভাইয়া আমার থেকে ছিটকে সরে দাঁড়ায় আর একদম চিলে কোঠার ঘরে থেকে বেরিয়ে যায়।
আমি নিজের কোমর থেকে ভাইয়ার হাত সরে যাচ্ছে বুঝতেই বুকে হাত রেখে চোখ বন্ধ করি। ভাইয়ার এহেন কাজে আমি হতদম্ব। কি হচ্ছিলো বুঝার চেষ্টা করছি। আমার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে তার আলোতে দেখলাম সারা ঘরে আমি একা দাঁড়িয়ে আছি। এটা দেখেই বুকটা ছ্যাত করে উঠলো।
ভাইয়াকে ডাকলাম।
মৃদু স্বরে কিন্তু কেউ নাই ভাইরে ঘুরুম ঘুরুম আওয়াজ ভয়ে এবার কেঁদেই দিলাম।
আমি এগিয়ে দরজা কাছে আসতেই নজর পরলো ঘুরুম ঘুরুম বৃষ্টির মাঝে একটা ছায়া ছাদের রেলিং এ দাড়িয়ে আছে বিদ্যুৎ এর আলোয় স্পষ্ট দেখালাম ওইটাই ভাই আমি কোন কিছু না ভেবে ফুপাতে ফুপাতে ভাইয়ার কাছে এগিয়ে গেলাম বৃষ্টির মধ্যেই।‌ আমি এগিয়ে গিয়ে ভাইয়ার শার্টের কোন ধরলাম। আকাশে ঘুরুম ঘুরুম করছে তার সাথে সাথে আমিও কেঁপে উঠছি।
আমার স্পর্শ পেয়ে ভাইয়ার আমার দিকে তাকায় আমি বিদ্যুৎ চমকানোর আলোতে দেখতে পেলাম ভাইয়ার চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে।

আমি কিছু বলার আগেই আমার হাত শরীর থেকে সরিয়ে বলে,
তুই এখানে কি করছিস?
আমি কাঁপছি বৃষ্টির ঠান্ডা পানির স্পর্শে ওইভাবে ঠোঁট কামড়ে ধরে তারপর বললাম,
আমার একা ভয় করছে। আপনি আমাকে রেখে এখানে চলে এসেছেন কেন ভিজে।
ভাইয়ার কপাট রাগ নিয়ে বলল,
ভয় পাস একা থাকতে। আমাকে ভয় পাস না?
আমি চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছি কি বলছে ভাইয়া তাকে কেন ভয় পাব।
আমি বিস্মিত হয়ে বললাম,
আপনাকে কেন ভয় পাব?
ভাইয়া আমার কথা শুনে বলল,
এই অন্ধকার, ঝড়ের থেকেও আমি তোর জন্য বিপদজনক বুঝেছিস?
আমি কিছু বুঝতে পারলাম না বোকা হয়ে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছি।
মানে?
ভাইয়া আমার থেকে চোখ সরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বলল,
আমার সামনে আসিস না তোর ক্ষতি হবে।আর বৃষ্টির মধ্যে এখানে এসেছিস কেন?
আমি ভাইয়ার কথা শুনে হতদম্ব হয়ে গেলাম।
কি সব বলছে ভাইয়া? তার কাছে এলে আমার ক্ষতি কেন হবে?
নিজের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার সাদা ওরনা গলায় সাথে লাগানো নিচে নাই আমি ওরনা ঠিক করলাম কিন্তু হচ্ছে না জর্জেট ওরনা বৃষ্টিতে ভিজে আছে। জামা ও শরীর এর সাথে একদম মিশে আছে ভিজে হালকা লজ্জা পেলাম এজন্য ভাইয়া আমার দিকে তাকাচ্ছে না‌।
আচমকা ভাইয়া আমার হাত ধরলো আমি তার স্পর্শ এ কেঁপে উঠলাম।
ভিজেই যেহেতু গেলি এখানে থেকে আর কি হবে নিচে চল।
বলেই ভাইয়া আমার হাত ধরে সিঁড়ির কাছে এলো। দুজনে ভিজে চুপচুপে হয়ে গেছি। ছপছপ শব্দ হচ্ছে পানির উপর দিয়ে যে হাঁটছি আমার পা পিছলে যাচ্ছে কারন আমার পায়ে তো জুতা নাই। পরে পরে যেতে চাইছি তাই আরেক হাত বারিয়ে আমি ভাইয়ার বাহু খামচে ধরলো।
সাথে সাথে ভাইয়া হাঁটা থামিয়ে ফেলল। আমি হকচকিয়ে দাঁড়িয়ে ভাইয়ার দিকে তাকালাম ভাইয়া আমার ধরা হাতের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি কাচুমাচু মুখ করে বললাম,
আমার পা পিছলে যাচ্ছে তাই।
ভাইয়া আমার পায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
তোর জুতা ক‌ই?
আমি বললাম, নিচে কেন?
জুতা ছাড়া এসেছিস কেন?
আমি ভাবছি ময়লা হবে তাই।
ইডিয়েট একটা।
বলে হাঁটতে লাগলো সিঁড়ির কাছে এসে হাত ছেড়ে দিলো আমি কাঁপতে কাঁপতে নিচে আসলাম সবাই আমাদের চিন্তায় সোফায় বসে আছে। উপরে থেকে দেখলাম। ভাইয়া আমাকে রুমে গিয়ে চেঞ্জ করতে বলে নিজে নিজের রুমে চলে গেলো।
রুমে এসেই দিয়া আপুর মুখোমুখি হলাম, আপু আমার দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে আছে তারপর বলল,
তুমি কোথায় গিয়েছিলে? আর এতো ভিজলে কি করে?
আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না।
তোমাকে আর ওদিকে ইহানকে দুজনকে খাওয়া যাচ্ছিলো না। বলেই আপু কিছু একটা চিন্তা করে বললো, বাই এনি চান্স তোমরা একসাথে ছিলে না তো।
বলেই সন্দেহ চোখে তাকালো। কিছু বলবো তার আগেই ইমা আপু এলো আর আমাকে এমন ভেজা অবস্থায় দেখে চমকে উঠলো,
একি এমন ভিজলি কি করে? কোথায় ছিলি? কখন থেকে খুঁজছি তোকে। বাইরে কতো ঝড় হচ্ছে দেখছিস।
হুম আমি ছাদে ছিলাম।
হোয়াট কেন? তুই তো ঝড় ভয় পাচ্ছ একা কি করে ছিলি সব সময় তো আমার হাত ধরে কাপিস?এদিকে ইহানকেও পাওয়া যাচ্ছে না ফোন ও রুমে রেখে গেছে‌‌।
আমি কি বলবো ভাইয়া আমার সাথে ছিলো।
বলতে গিয়ে ও বললাম না।
আপু আমাকে ফ্রেশ হয়ে চেঞ্জ করে আসতে বলল।আমি দাঁড়ালাম না এমনিতেই আমার শীত এ জান যাচ্ছে।
কাঁপতে কাঁপতে বাথরুমে ঢুকে পরলাম। এসে দেখি কেউ রুমে নাই বাইরে উঁকি দিয়ে দেখি সবাই ভাইকে নিয়ে জেরা শুরু করেছে। আমি আর গেলাম না কাঁপুনি কমে নি কি ঠান্ডা পানি উফ শরীর কাঁটা দিয়ে উঠছে। কাঁপতে বিছানায় শুয়ে পরলাম।
বর্তমান এ।
আমি এখন ঘুমে এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরেছি ঘুম ভেঙ্গেছে আপুর ডাকে খাওয়ার জন্য ডেকেছে।
আমি শুয়ে থেকে বললাম তোমরা যাও আমি খাব না।
সেকি কেন?
আপুর কথায় বললাম।
আমার গা ব্যথা করছে উঠতে ইচ্ছে করছে না শীত করছে তোমরা খেয়ে নাও।
আপু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আমার মাথা হাত রাখলো তোর তো জ্বর এসেছে ঊষা।
আমি বললাম ওহ।
ইহানের থেকে শুনলাম তোরা নাকি আটকা পরে গেছিলি বৃষ্টিতে তাই চিলেকোঠার ঘরে গিয়েছিলি।
আমি মাথা নেড়ে হ্যা বললাম।
এখন বৃষ্টি কমে গেছে তাহলে আর একটু সময় থেকে আসতি ভিজে তো জ্বর বাধালি। তুই নাকি ভিজেই আসার জন্য জেদ করছিলি।
আমি আপু কথা হা করে গিলছি কি বলছে এসব। ভাইয়া এসব বলেছে।

আপু নিজের মত কথা বলল তারপর জোর করে নিচে নিয়ে এলো খাবার টেবিলে আমি বসতেই সবাই আমার দিকে তাকালো।
ভাইয়াও তাকালো তারপর খেতে লাগলো।
আমি খেতে পারছি না আমার শরীর কাঁটা দিয়ে উঠছে।
আমি ভাত মুঠোয় নিয়ে বসে আছি।
খাচ্ছ না কেন?
রিহানের কথা শুনে চমকে তাকালাম আমার মতো সবাই রিহানের দিকে তাকিয়ে আমার দিকে তাকালো।
আমি সবার তাকানোতে লজ্জা পেলাম খুব।
রিহান বলল, তোমার চোখ মুখ লাল লাগছে ঊষা তুমি কি অসুস্থ?
রিহানের কথা শুনে ভাইয়া আমার দিকে তাকালো,
তখন ইমা আপু বলল।
হুম ওর জ্বর এসেছে খুব।
সবাই দুঃখ প্রকাশ করলো খালি ইলা আপু বাদে।
ইহান ভাই কিছু বলল না চুপচাপ খাওয়া শেষ করে সবার আগেই চলে গেল। আমি ভাইয়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে র‌ইলাম কেন জানি কষ্ট হলো খুব ভাইয়ার কিছু না বলাতে।
দুই লোকমা খেয়ে রুমে এসে শুয়ে পরলাম। তেতু হয়ে আছে মুখ। ভাইয়ার ব্যবহার ভালো লাগলো না।
খুব খারাপ লাগা কাজ করলো আমার মধ্যে কেন জানি না আমি চাইছিলাম ভাইয়া কিছু বলুক কিন্তু কেন?
অজান্তে আমার চোখ জলে ভরে উঠলো।রাতে জ্বর বারলো আপুর আছে ওষুধ ছিলো খাইয়ে দিয়েছে কিন্তু তবুও কমলো না পরদিন আমাকে নিয়ে বসে আছে বেরাতে যাওয়া হচ্ছে না। আমি যেতে বলেছি কিন্তু আপু যাবে না এভাবে রেখে তখন ইলা আপু এলো,
এই জন্য ওকে আনতে চাইছিলাম না। এসেই আকাম করে বসলো ওর জন্য আমাদের আনন্দ টাই মাটি হবে।
রেগে বলল। আমি মাথা নিচু করে বসে আছি।
ইমা আপু বলল, ইলা এসব কি ও অসুস্থ।
তো কি? ওকে রেখে চল।ও অসুস্থ বাসায় থাকুক। ওর জন্য আমরা কেন সাফার করবো।
দিয়া বলল, সত্যি তো ইলা ঠিক বলেছে ইমা আমরা চল যাই ঊষা বাসায় থাকুক। সব তো আছে ।
কিন্তু ওকে একা রেখে অসম্ভব আমি যাব না।
প্লিজ চল।
না অসুস্থ অবস্থায় ফেলে আমি যাব না তোদের এতো ইচ্ছে তোরা যা।
ইমা আপুকে কেউ রাজি করাতে পারছে না তাই আমি আপুকে ডেকে বললাম ,
আপু প্লিজ তুমি যাও‌।
না ঊষা আমাকে জোর করিস না।
প্লিজ আপু তুমি না গেলে সবার যাওয়া মাটি হবে।আর এতে সবাই আমাকে রেসপনসিবিলিটি করবে তার থেকে তুই যাও‌। আমার কিছু হবে না আমি ঠিক থাকবো দেখো।
আমি,,
আপু তুমি কি চাও আমাকে সবাই দোষা রোপ করূক।
আচ্ছা যাব। নিজের খেয়াল রাখবি তারাতাড়ি চলে আসবো।
আপুরা সবাই চলে যায় আমি বাসায় একা বসে আমি।
শুয়ে পরলাম সাথে সাথে ঘুম তখন মনে হলো কেউ আমার কপালে কোমল স্পর্শ দিচ্ছে একটা হাত আমার গালে আমার ঘুম ছুটে গেল।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here