তোর পরশে প্রেম পর্ব ৩

0
68

#তোর_পরশে_প্রেম
#নুসাইবা_ইভানা
#পর্ব-৩

জুলিয়া পরাণকে দেখে কনফিউজড আসলে তার কাকে পছন্দ করা উচিৎ?
একভাই বোম,তো আরেক ভাই আগুন!পরাণ ছোট বেলা থেকেই তার ছোট মামার সাথে আমেরিকা থাকে। ক্লাস ফাইভ অব্দি বাংলাদেশে ছিলো তারপর চলে গেছে। জুলিয়া বোকার মত একবার পরাণের দিকে তাকায় তো একবার পরশের দিকে তাকায়।
পরাণ বিষয়টি খেয়াল করে বলে,আপনি আগে ডিসাইড করুন, বার্গার নিবেন নাকি পিৎজা।
‘জুলিয়া বলে,মানে?
‘এসব কেমন কথা পরাণ! ও তোমার ছোট খালামনির মেয়ে জুলিয়া।
‘নীলা খালামনির ওই আলুর মত মেয়েটা?
‘পরাণ।
‘সরি আম্মু একটু দুষ্টুমি করলাম। আচ্ছা পরশ চল আমি ফ্রেশ হব।
‘পরাণ উঠে এসে বলে,হায় পটেটো কেমন আছো বলেই হাত বাড়ায়।
‘আমি কোন পটলের সাথে হাত মেলাই না। যত্তসব বিলেতি পটল। বলেই চলে আসলো।
‘সবাই হেসে দিয়ে বলে,পটল আলুর তরকারি কিন্তু বেশ টেস্টি।
‘পরশ নিজের রুম সব সময় গোছানো পছন্দ করে, এলোমেলো কিছুই তার পছন্দ না।

পরাণ বেডে শুয়ে বলে,আচ্ছা পরশ বাবাকে আমেরিকায় নিয়ে চিকিৎসা করালে কেমন হয়?
‘সিঙ্গাপুর নেয়া হয়েছিল পলাশ চাচ্চু বাবার চিকিৎসায় কোন ত্রুটি রাখেনি। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে বাবার সাথে দেখা করে আসো।
‘এই তুই লুঙ্গী পরিস?
‘নাহহহ। কারণ ঘুমানের পর আমি আকাশে লুঙ্গী উড়ে বাতাসে তাই থ্রি কোয়াটার পরি।
‘পরাণ বলে,আগামীকাল দু’ভাই লুঙ্গী কিনে আনবো।বাঙালি নারীরা শাড়ীতে আর পুরুষ লুঙ্গীতে ড্যাসিং।
‘আচ্ছা ব্রো আগামীকাল লুঙ্গী নাইট। তবে সকালে যে আগে উঠুক কেউ কারো দিকে তাকাবে না।
‘ছোট বেলায় একবার মনে আছে,তুই আমি সকালে উঠে লুঙ্গী খুঁজে না পেয়ে একি চাদর দু’জনে টানাটানি করে একপাশ তুই আরেক পাশ আমি।
‘ওটাই শেষ লুঙ্গী পরা ছিলো এরপর আর লুঙ্গী পরার সাহস করিনি।
‘ফ্রেশ হয়ে আসি চল একসাথে খাবার খাবো আর তোদের জন্য কি কি এনেছি দেখাবো।

“পুতুল পণ করেছে সে আজ রুম থেকে বের হবে না মানে হবেই না। খাতায় হাবিজাবি আঁকাআকি করছে, আর ভাবছে দূর একটা মোবাইল থাকলে ভালো হতো। বড় আব্বুর বাচ্চা পরশ তোর জন্য আমি ফোন পাইনি৷ ছোট আম্মু তোমার মেয়ের হাতে এখন ফোন দিলে পড়ালেখা রসাতলে যাবে।তা তুই টপার হলি কি করে? নিজে দামী ফোন ব্যাবহার করেও টপার আর আমাকে দিলো না। আচ্ছা এটা কোন চক্রান্ত নয়-তো!হতে পারে আমার ফোন থাকলে আমিও টপার হয়ে যাবো। একে বিয়ে করবো আমি কিছুতেই না। ভাবনার মধ্যেই দরজায় টোকা পরলো,পুতুল দরজা খোল।
‘আমি আজ রুম থেকে বের হবে না পরশ ভাই। তোমরাই থাকো তোমরাই আনন্দ করো।
‘তোকে বলেছি দরজা খুলতে। খুলবি কি না বল?
‘এভাবে চিৎকার করে খুলবি, খুলবি বললে, সবাই কি ভাববে? তুমি চলে যাও।
‘আমি কি দরজা ভাঙবো?
‘পুতুল দরজা খুলে দিয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে পরলো।
‘এসব কি পরেছিস?
‘টিশার্ট আর স্কার্ট।
‘এসব চেঞ্জ করে থ্রিপিস পর।আর ওড়না সুন্দর করে পরবি। তোর লজ্জা করে না এভাবে বাসায় ঘুরে বেড়াতে?
‘পুতুল নিজের দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে একটা তোয়ালে হাতের সামনে পেয়ে সেটা গায়ে জড়িয়ে নিলো।
‘তোমার লজ্জা করে না পারমিশন ছাড়া বোনের রুমে চলে আসতে!
‘তা আমার বোনটা কে?
‘তুমি জানো না। এই যে তোমার চোখের সামনে জলজ্যান্ত রূপসী মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে তোমার কে হয়?
‘সে আমার হবু ওয়াইফ যদিও পার্মানেন্ট না তবে যতদিন আমার নামের সাথে আছিস ততদিন।
‘তোমার পার্মানেন্ট বউ হতে আমার বয়ে-ই গেছে।
‘এখন কথা কম, তাড়াতাড়ি ড্রেস চেঞ্জ করে ভদ্র মেয়ের মত খাবার টেবিলে আয়। এক কথা কিন্তু আমি বারবার বলা পছন্দ করি না।
‘আমি কি বলেছি আসবো না! যাও তুমি আসছি আমি।
‘পুতুল সুন্দর একটা থ্রীপিস পরলো। ওড়না সুন্দর করে গায়ে জড়িয়ে খাবার টেবিলে গেলো।

‘জুলিয়া বলে,কিরে এমন নতুন বউদের মত সেজে এসেছিস কেন?
‘জুলি চুপ কর আমার মা’কে তো দারুণ ভদ্র লাগছে দেখতে। আয় এখানে বস।
‘পুতুল বসলো নিলুফা বেগমের পাশে। সুফিয়া বেগম সবাইকে খাবার পরিবেশন করবে৷
‘ছেলে দু’টো এখনো আসছে না কেন?
‘ছেলে দু’টো মানে? পরাণ ভাইয়া চলে এসেছে?
‘হুম তোর সাথে দেখা হয়নি?
‘নাহহহ। দেখছো আমাকে একটুও ভালোবাসে না। এতো বছর পরে আসলো আমার খোঁজও নিলো না আবার কিছু গিফটও করলো না৷ অন্যকারো ভাই বিদেশ থেকে আসলে, ডাব সাবান আনে, লোশন আনে, ট্যাং আনে চকলেট আনে আর আমার ভাই আমার জন্য কিছুই আনলো না।
‘তা তোর ভাই কি এতো সাধারণ নাকি যে এসব জিনিস আনবে? সে তোর জন্য বড় কিছু এনেছে।
‘পুতুল চেয়ার ছেড়ে উঠে বলে তাই!
‘পরাণরে পিছনে পরশ চোখ বড় বড় করে পুতুলের দিকে তাকিয়ে আছে৷
‘পুতুল নম্র কন্ঠে বলে, কেমন আছো?
‘কেমন থাকব আসার সাথে সাথে চোর বলে তাড়িয়ে দিচ্ছিলি
‘ওই কালো মাস্ক আর কালো জ্যাকেট পরা ডাকাত সাজে তুমি ছিলে?
তোমাকে দেখতে চোর লেগেছে চোর বলেছি এতে আর এমন কি!
‘এখন কি তোর বকবক খাবো নাকি খাবার খেতে দিবি?
‘বকবক মাখিয়ে খাবার খাও সেই টেস্ট।
‘কি বললি, কই কি বললাম।
সবাই খেতে বসেছে, পুতুল নিজের মত খাচ্ছে।
জুলিয়া একবার আড় চোখে পরাণের দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার পরশের দিকে। মনে মনে বলে,দূর চোখের সামনে ক্রাশ খাওয়ার মত দু’জন কাজিন বসে আছে, কিন্তু বুঝতে পারছি না কোনটাকে ইমপ্রেস করবো। একটা রসগোল্লা তো আরেকটা গোলাপ জামুন।
‘পুতুল সবার আগে খাবার শেষ করে বলে,বড় আম্মু বড় আব্বুর খাবার দাও আমি নিয়ে যাই।
‘তুই বিয়ের আগেই বউ হওয়ার কেন চেষ্টা করছিস! এখনো তো যথেষ্ট বাচ্চা তুই। বড় হ তোকে খালামনির ছেলের বউ বানানো,হবেই। আমার খাবার শেষ হোক আমি দিয়ে আসবো।
‘তুমি কেন দিবে!আমার হবু শ্বশুরকে আমি খাবার দিবো। জুলিয়ার মনটা খারাপ হয়ে গেলো৷ ও বড় আম্মু আমি নিয়ে যাই?
‘আচ্ছা যা তবে সাবধানে।
‘পুতুল খাবার নিয়ে পিয়াস সাহেবর রুমে আসলো। খাবার টেবিলে রেখে আস্তে করে পিয়াস সাহেবের পাশে বসে বলে,বড় আব্বু তুমি আমাকে ডেকেছো?
‘আমার মা’তুই এসেছিস। সারাদিন কি করিস বলতো? মাঝে মাঝে অসুস্থ ছেলেটার সাথে গল্পও তো করতে পারিস।
‘আচ্ছা বড় আব্বু, দাদার নাম, পিয়াল, তোমার নাম পিয়াস, বাবার নাম পলাশ, তোমার এক ছেলের নাম পরাণ আরেকজন পরশ। তাহলে ভবিষ্যৎতে আমার ছেলে হলে তার নাম কি রাখবো পেয়ারা।
‘পিয়াস সাহেব হেসে বলে,আর প দিয়ে নাম রাখতে হবে না। এসব তো আমার মায়ের কারসাজি। তার কথা হলো,ছেলেদের নাম বাপাের নামের সাথে মিলিয়ে রাখতে হবে এরজন্য সবার নাম এমন। তোর ছেলের নাম রাখবি লাবিব, রেহান।
‘দারুন নাম কিন্তু।

‘তবে তোমাদের সবার নাম একসাথে কিন্তু অনেক ফানি, পিয়াল,পিয়াস পলাস,পরাণ, পরশ, পুতুল।
সো ফানি বড় আব্বু।
‘ঠিক বলেছিস পুতুল,ছোট বেলায় আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে খ্যাপাতো এটা বলে,পিয়াসের পুত্র পরাণ তাহার ভাই পরশ। আমি না খ্যেঁপলেও পরশ খুব রেগে যেতো।
‘পুতুল জোড়ে জোড়ে হেসে বলে সো ফানি।
‘বাবা তুমি কেমন আছো?
‘পুতুল ওকে বলো আমার রুম থেকে বের হয়ে যেতে।আমার একটাই ছেলে পরশ। তাড়াতাড়ি বের হয়ে যেতে বলো।
‘কিন্তু বড় আব্বু……
‘কোন কিন্তু নেই আমি যা বলেছি তাই করো। বলেই পিয়াস সাহেব জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে লাগলেন।
‘পুতুল চিৎকার করে সবাইকে ডাকছে, পুতুলের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here