টক ঝাল মিষ্টি পর্ব ৬

0
166

#টক_ঝাল_মিষ্টি
#তামান্না_আঁখি
#পর্ব -৬

আনিশা কঠিন মুখে বসে আছে।বিছানার এক পাশে ব্যাগ আর একটা লাগেজ প্যাক করে রাখা।বাপের বাড়ি যাবে বলে সারা সকাল সে সবকিছু প্যাক করেছে।পড়ে যাওয়ার জন্য রাহাতের জামাকাপড় ইস্ত্রি করে রেখেছে বিছানায়। অথচ দুপুর গড়িয়ে যচ্ছে এখনো রাহাত বাড়ি আসে নি। সেই সকালে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়েছে এখনো তার আসার নামগন্ধ নেই।এমনকি লাঞ্চটা পর্যন্ত এসে করেনি। কল দিলেও ধরছে না।আনিশার শ্বাশুড়ি সাহারা বেগম দরজায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন –

“রাহাত আসে নি এখনো?”

শ্বাশুড়ির ডাকে আনিশার মুখভঙ্গি চেঞ্জ হলো। মৃদু কন্ঠে বললো-
“না,মা। কখন থেকে কল দিচ্ছি ধরছে না।”

সাহারা বেগম হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন। আনিশার দিকে তাকিয়ে বললেন-
“ওর আশায় বসে না থেকে খেয়ে নে।ও আর আসবে না আজ। বাপের বাড়ি যাওয়ার আশা বাদ দে। মিথ্যে বলে তোকে বসিয়ে রেখেছে। ওর বাপও এমন করতো।ছেলেটাও হয়েছে তেমন।”

আনিশার মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো। রাহাতের প্রতি তীব্র অভিমানে মন ভরে উঠলো। দুই চোখে পানি টলমল করে উঠলো যেন একটু ছুয়ে দিলেই গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়বে। সাহারা বেগম আনিশার মনের অবস্থা বুঝলেন। তিনি আর তাকে ঘাটালেন না।

“কুলাঙ্গার টা বাড়ি আসুক। আজ ওর এক দিন কি আমার এক দিন।ঘরের বউটাকে কান্না করিয়েছে।”

তিনি বিরবির করতে কর‍তে চলে গেলেন।আনিশা চোখের পানি পড়তে দিলো না। অভিমানের শক্ত আস্তরন পড়লো মনে। একটা তপ্ত শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো। লাগেজ খুলে নিজের জামা কাপড় আর শাড়ি গুলো খুব সুন্দর করে আলমারিতে তুলে রাখলো। তারপর লাগেজে অবশিষ্ট থাকা রাহাতের কাপড় গুলো একটা একটা করে ঢিল মেরে বিছানায় ফেললো। কিছু কাপড় ফ্লোরেও পড়লো। লাগেজ আর ব্যাগ টা একপাশে রেখে আলমারিতে থাকা রাহাতের সব কাপড় জুতা একটা একটা করে ফ্লোরে ছুড়ে ফেলতে লাগলো।

———–

কুহু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটা একটা করে জামা ধরে দেখছে আর বিছানায় ছুড়ে ফেলছে। কোনটা পড়ে যাবে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। শিরিনা বেগম মেয়ের ঘরে উঁকি দিলেন। ঘরের অবস্থা দেখে তার চোখ কপালে উঠে গেলো। ব্যতিব্যস্ত হয়ে ঘরে ঢুকে মৃদু চিৎকার করলেন-

“একি!! ঘরের এ কি অবস্থা করেছিস?”

কুহু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটা জামা গায়ে ধরে দেখছিলো,মায়ের ডাকে চমকে তাকালো। শিরিনা বেগম চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে আছেন। কুহু একবার বিছানার দিকে তাকালো। আলমারির সব সে বিছানায় নামিয়ে এনেছে। এগুলো আবার ঠিক করে রাখতে ঘাম ছুটে যাবে৷ শিরিনা বেগম রাগী কন্ঠে বললেন-

“একটা কিছু গুছিয়ে রাখিস না। এখন পুরো আলমারি নামিয়ে এনেছিস।কে গুছাবে এসব?”

কুহু মিনমিন করে বলল-
“কোনটা পড়ে যাব বুঝতে পারছি না মা।”

শিরিনা বেগম কিছুটা নরম হলেন। বিয়ে ঠিক হয়ার পর এই প্রথম হবু বরের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে কুহু, একটু তো পরিপাটি হয়ে যাওয়া উচিত। এই কথা চিন্তা করে তিনি মেয়েকে ছাড় দিলেন। বিছানায় থাকা কাপড়ের দলার কাছে গিয়ে কয়েকটা জামা নেড়েচেড়ে দেখলেন। এক দুটো জামা বের করে মেয়ের দিকে ধরলেন তারপর যুতসই না হওয়ায় এক পাশে রেখে দিলেন। এক্টা গোলাপি থ্রিপিছ বের করলেন। গোলাপি জমিনে সোনালি সুতার কাজ। কুহুর গায়ে ধরে দেখলেন। সন্তুষ্টি ছড়িয়ে পড়লো চোখে মুখে।কুহুর হাতে জামাটা দিয়ে বললেন-

“এটা পড়ে যা।”

কুহু আয়নায় গিয়ে জামাটা নিজের গায়ে ধরে দেখলো। খুব পছন্দ হলো তার। মনে মনে মায়ের পছন্দের তারিফ করলো। শিরিনা বেগম ওড়না আর সালোয়ারটা গুছিয়ে রাখলেন যাতে কুহু হাতের কাছে পায়।কুহু এসে জড়িয়ে ধরলো তাকে। খুশি গলায় বলল-
“ইউ আর বেস্ট মা,ইউ আর বেস্ট।”
“হয়েছে। এবার রেডি হ তাড়াতাড়ি। ওরা এসে পড়বে।”

শিরিনা বেগম চলে গেলেন। কুহু চেঞ্জ করে আয়নার সামনে বসে পড়লো সাজতে।অনেক সময় নিয়ে সাজলো। পাক্কা এক ঘন্টা লাগলো তার সব ঠিকঠাক করতে। নিচ থেকে গাড়ির হর্ন শোনা গেলো। খানিক পরেই শিরিনা বেগমের গলা শোনা গেলো ড্রয়িং রুম থেকে –
“কুহু নিচে আয়,ওরা চলে এসেছে।”

রাফা আর রিদি সোফায় বসে আছে। শিরিনা বেগম তাদের সামনে নাস্তা দিয়ে পাশের সোফায় বসলেন।বাড়ির সবার কথা জিজ্ঞেস করলেন।এক ফাঁকে আড়চোখে তাকালেন সিড়ির দিকে, দেখলেন কুহু আসছে কিনা।কুহু এলো আরো দশ মিনিট দেরি করে। এক প্রকার হাপাতে হাপাতে সিড়ি দিয়ে নামলো সে৷ এক দৌড়ে রাফা রিদির সামনে দাঁড়িয়ে বললো –
“চলো,চলো।”

রাফা রিদি দুজনেই হা করে কুহুর দিকে তাকালো। গোলাপি ড্রেসে কুহুকে দেখতে একদম বার্বি ডলের মতো লাগছে। রিদি বাচ্চা কন্ঠে বলে উঠলো-

“ভাবিমনি, তোমাকে কি সুন্দর লাগছে!!”

রিদির মুখে “ভাবি” ডাক শুনে কুহুর গাল দুটো গরম হয়ে গেলো। চোখে মুখে লাজুক ভাব ছড়িয়ে গেলো। শিরিনা বেগম মেয়েকে ভালো করে দেখলেন। ওড়না এক পাশে ছেড়ে দিয়েছে,খোলা চুল,কানে দুটো বড় বড় ঝুমকো পড়েছে৷ এক হাতে গোলাপি ভেলভেটের চুড়ি পড়েছে অন্য হাতে ঘড়ি, এক হাতে ম্যাচিং ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়ের সাজ দেখে তিনি সন্তষ্ট হলেন। এতক্ষন দেরি করার রাগ টা চলে গেলো মেয়েকে দেখে। রাফা রিদি দুজনেই উঠে এসে লাজুক হাসি দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকা কুহুর পাশে দাঁড়ালো। শিরিনা বেগমের টনক নড়লো।তিনি তাড়া দিয়ে বললেন-

“এখনি বের হও তোমরা। এখন না বের হলে ফিরতে সন্ধ্যা হবে।”

তিনজনই বেরিয়ে পড়লো।শিরিনা বেগম গাড়ি পর্যন্ত ওদের তিনজনকে তুলে দিলেন। তিনজনই গাড়ির পিছনের সিটে উঠে বসলো।কুহু গাড়িতে উঠে লাজুক লাজুক চোখে সামনের প্যাসেঞ্জার সিটে তাকালো। প্যাসেঞ্জার সিট খালি দেখে তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো। ড্রাইভার সিটে তাকিয়ে দেখলো ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে। শাহাদ আসে নি? তবে শাহাদ কি তাদের সাথে যাবে না? রাফা কুহুর মনোভাব বুঝতে পেরে মুখ টিপে হাসলো। কুহুর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল-

“ভাইয়া আজ ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে গেছে,ওখানে কাজ শেষ করে সরাসরি পার্কে চলে যাবে।”

রাফার কথা শুনে কুহু আশ্বস্ত হলো। কিন্তু রাফাকে বুঝানোর জন্য বললো-
“আমি তোমার ভাইয়াকে খুজছি না তো।”

“আমি কখন বললাম যে তুমি ভাইয়াকে খুঁজছো।”

রাফার চোখে মুখে দুষ্টু হাসি।কুহু এক ঠোঁট দিয়ে অন্য ঠোঁট চেপে ধরলো। তার ননদিনীরা যে তার মতো হাবলা না বরং বেশ বুদ্ধিমতী তা ঢের বুঝতে পারলো।

শাহাদ পার্কের গেটের সামনে তার গাড়িতে বসে আছে। সে এখানে এসেছে প্রায় ১৫ মিনিট হয়ে গেছে কিন্তু এখনো কুহুদের আসার নাম নেই। আজ পার্কে তেমন মানুষ নেই তারপরও শাহাদ নিজের সেফটির জন্য একটা মাস্ক এনেছে সাথে।রিপোর্টার কেউ দেখে ফেললে পেপারের ফ্রন্ট পেজে খবর ছাপিয়ে দিবে। একটা মাইক্রো গাড়ি এসে হর্ন বাজিয়ে শাহাদের গাড়িটার সামনে দাঁড়ালো। গাড়িটাকে দেখেই শাহাদ চিনতে পারলো।এটা খান বাড়ির গাড়ি। শাহাদ নিজের গাড়ি থেকে নেমে এলো। হেটে এগিয়ে গেলো কুহুদের গাড়িটার দিকে।ততক্ষনে ওরা তিনজন নেমে পড়েছে। কুহু গাড়ি থেকে নেমে শাহাদকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো। তার কেমন জানি লজ্জা লজ্জা লাগছে।এই সামনের লোকটা তার হবু বর, আর কদিন পরেই তার সাথে বিয়ে।

শাহাদ এক পলক কুহুর দিকে তাকিয়ে ওদেরকে ইশারা দিয়ে আসতে বলে গেটের দিকে এগিয়ে গেলো।কুহু হাটতে হাটতে পিছন থেকে শাহাদকে লক্ষ করলো। সাদা রঙের শার্ট পড়েছে ইন করে,কনুই অব্দি হাতা গুটানো সাথে কালো প্যান্ট। দেখতে ভালোই লাগছে কিন্তু এই লোকের জীবনে কি আর কোনো রঙ নেই? সবসময় এমন সাদাকালো পড়ে ঘুরে বেড়ায়, যেন আস্ত একটা ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট টিভি।

শাহাদ সবাইকে নিয়ে গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলো।সাথে ছেলেপেলের আরেকটা দল ঢুকলো।ভিতরে ওদের আরো অনেক লোক আছে। খান বাড়ির মানুষের সেফটির জন্যই এই ব্যবস্থা। শাহাদ পিছন ফিরে ছেলেগুলোকে ইশারা করলো। ওরা ইশারা বুঝে এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়লো। তারপর শাহাদ রাফা রিদিকে উদ্দেশ্য করে বলল-

“কোথায় যেতে চাস তোরা?”

রিদি উত্তর দিলো-
“রাইডে উঠব ভাইয়া।”

“ঠিক আছে,চল।”

রাফা তাড়াতাড়ি ব্যস্ত হয়ে বললো-
“তোমার যেতে হবে না।তুমি আর ভাবি তোমাদের মতো ঘুরাঘুরি করো।তোমাদের কি আর বাচ্চাদের রাইড ভাল লাগবে? আমরা বরং তমাল ভাইকে সাথে নিয়ে যাই।”

শাহাদ একবার কুহুর দিকে তাকালো। কুহু নিচের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়াচ্ছে। গালের দুপাশ রক্তিম হয়ে আছে। শাহাদের সাথে একা থাকতে হবে ভেবে বোধহয় লজ্জা পাচ্ছে। শাহাদ খুব মজা পেলো কুহুর এমন স্বভাবে।সে দূরে দাঁড়ানো তমালকে ইশারা করে ডাকলো।কাছে এলে বললো-

“ওদেরকে নিয়ে সবকটা রাইডে ঘুরিয়ে আন।”

তমাল “আচ্ছা ভাই” বলে রাফা রিদিকে নিয়ে গেলো।এখন শুধু দাঁড়িয়ে আছে শাহাদ আর কুহু।কুহু হালকা চোখ তুলে শাহাদের দিকে একটু তাকালো। শাহাদ দুহাত পকেটে দিয়ে শান্ত চোখে কুহুর দিকে তাকিয়ে আছে।নড়ছেও না। কুহু বেশ অপ্রস্তুত অনুভব করলো।শেষে থাকতে না পেরে নিজেই বললো-

“কোথায় যাব আমরা?”

“কোথায় যেতে চান?”

খুবই সহজ প্রশ্ন। কিন্তু কুহুর কাছে এই অবস্থায় প্রশ্নটা খুব ই জটিল লাগলো।কোথায় যাওয়ার কথা বলবে সে? এদিক ওদিক তাকিয়ে এক দিকে দেখিয়ে বলল-
“ওইদিকে।”

শাহাদ এক হাত মেলে সেদিকে যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দিলো।কুহু আস্তে আস্তে হাটতে লাগলো সেদিকে।পাশে পাশে শাহাদও হাটছে। দুজনেই পাশাপাশি হাটছে কিন্তু কেউই কথা বলছে না শুধু হাটার শব্দ হচ্ছে। কুহু বাসা থেকেই তীব্র প্রতিজ্ঞা করে এসেছে যে আজ সে কোনোমতেই কোনো অঘটন ঘটাবে না।এর আগে যতবারই দেখা হয়েছে ততবারই অঘটন ঘটিয়েছে সে।কিন্তু আজ সে কিছুতেই কিছু ঘটাবে না। কিন্তু কুহু নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে পারলো না। পার্কের এক পাশে কয়েকটা দোলনাসহ বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলার জিনিস আছে।সেখানে অনেক বাচ্চা তাদের মা সহ খেলছে। দু একটা দোলনা খালি।দোলনা দেখেই কুহুর আসল রূপ বের হয়ে আসলো। অস্থির হয়ে তর্জনি উচিয়ে দোলনার দিকে দেখিয়ে বলল-

“চলুন আমরা দোলনায় চড়ি।”

শাহাদকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কুহু বড় বড় পা ফেলে একটা খালি দোলনার কাছে এগিয়ে গেলো। কুহুর এরকম কাজ দেখে শাহাদ কি বলবে ভেবে পেলো না। আসলে সে কিছু বলার সুযোগ পায় নি তার আগেই কুহু দৌড় দিয়েছে। না পেরে শাহাদও সেদিকে এগিয়ে গেলো। একটু দোলনায়ই তো চড়তে চেয়েছে, চড়ুক। কুহু হাতের হ্যান্ডব্যাগটা ঘাসের উপর রেখে দোলনার দুদিকের শিকল ধরে দোলনায় উঠে সটান দাঁড়িয়ে গেলো। তারপর দুলতে লাগলো।এরকম দৃশ্য দেখে হেটে আসা শাহাদ দাঁড়িয়ে পড়লো।তার অবাক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে গেলো। এরকম দৃশ্য সে কুহুর ছবিতে দেখেছিলো এখন জলজ্যান্ত চোখের সামনে দেখছে। কুহু দুলতে দুলতে গলা উচিয়ে ডাকলো-

“ওখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?এদিকে আসুন,পাশের দোলনাটায় উঠে পড়ুন।”

শাহাদ কি বলবে ভেবে পেলো না । এরকম সিচুয়েশনে এর আগে সে কখনো পড়ে নি। ডান পাশে তাকিয়ে দেখলো বাচ্চাদের সাথে আসা কয়েকজন মা কুহুর দিকে বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে আছে।তারা বোধ হয় থ্রিপিছ পড়া একটা ধিঙ্গি মেয়েকে এইভাবে কল্পনা করেনি জীবনেও। শাহাদ বড় বড় পা ফেলে কুহুর দোলনার সামনে দাঁড়ালো। কুহু দুলছে তাই বেশি কাছে যেতে পারলো না সে। চাপা গলায় বলল-

“কুহু, নেমে আসুন।”

“ওমা,কেন?”

এটা বলে কুহু দোলনার গতি বাড়িয়ে দিলো।শাহাদের বুকে শ্বাস আটকে গেলো। তার ভয় হলো কুহু ছিটকে পড়ে গিয়ে হাত পা না ভেঙে ফেলে। মহিলাদের দিকে তাকিয়ে দেখলো উনারা তাদের দিকে তাকিয়ে কিসব বলছে। শাহাদকে চিনে ফেলেনি তো আবার?শাহাদ আবারো কুহুকে বললো-
“প্লিজ নামুন,পড়ে যাবেন।”

পাশের দোলনায় বসা বাচ্চাগুলো কুহুকে এতক্ষন দেখছিলো এখন তারাও কুহুর মতো দোল খাওয়ার জন্য দোলনায় উঠে দাঁড়াতে চাইলো। তাদের মায়েরা বাধা দিতে চাইলে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো।একটা মহিলা কুহুকে উদ্দেশ্য করে চেচিয়ে বললো-

“এই মেয়ে,তুমি দোলনা থেকে নামো। এত বড় মেয়ে দোলনায় উঠে দাঁড়িয়েছো।তোমাকে দেখে বাচ্চারাও দাঁড়াতে চাচ্ছে।”

কুহু দুলতে দুলতে বললো-
“তাহলে উঠে দাঁড়াতে দিন আন্টি, সাহস হবে।এই তোমরা উঠে দাঁড়াও, অনেক মজা লাগে।”

মহিলা গুলো আরো কি বলাবলি শুরু করলো। শাহাদ এইবার উত্তপ্ত কন্ঠে বললো-

“কুহু নেমে আসুন,এক্ষনি।যাস্ট নাউ।”

শাহাদের কন্ঠের উত্তাপ কুহু টের পেলো।শাহাদের দিকে তাকিয়ে দেখলো তার মুখ শান্ত কিন্তু চোখের দৃষ্টি কঠিন। কুহুর টনক নড়লো। হবু বরের সামনে সে দোলনায় দাঁড়িয়ে দোল খাচ্ছে? হায় আল্লাহ!ওর ব্রেইন কি অন্য গ্রহে চলে গেছে! সে দোলনার গতি কমিয়ে দিলো। লাফ দিয়ে নেমে আসলো। আচমকা দোলনা থেকে নামার কারনে তাল সামলাতে না পেরে সে এক পা সামনে এগিয়ে শাহাদের পায়ের কাছে উপুড় হয়ে পড়ে গেলো। শাহাদ নিচে পড়া কুহুর দিকে অবাক চোখে তাকালো। কি হচ্ছে এসব?

কুহু পড়ে গিয়ে উঠতে চাইলো। সামনে পেলো শাহাদের দুটো পা। হুঁশজ্ঞান হারিয়ে সে শাহাদের হাঁটুর কাছের প্যান্ট খামছে ধরলো উঠার জন্য। শাহাদ আরো কোনো কিছু ঘটে যাওয়ার আগেই নিচু হয়ে কুহুর বাহু ধরে টেনে দাঁড় করালো। কুহু উঠে দাঁড়িয়ে অপ্রস্তুত চোখে তাকালো। শাহাদ কিছুক্ষন থম মেরে তাকিয়ে রইলো কুহুর দিকে। এরকম অবস্থায় কি বলা উচিত তার জানা নেই। কুহুর পায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“কোথাও লেগেছে?”

কুহু দুপাশে মাথা নাড়িয়ে বুঝালো লাগে নি কোথাও।শাহাদ কুহুকে ভালো করে দেখে অধৈর্য কন্ঠে প্রশ্ন করলো-

“এত অস্থির কেন আপনি? একটু শান্ত হয়ে থাকতে পারেন না?”

কুহু নিজের সাফাই গেয়ে বললো –
“ভুল করে একটু এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে আরকি।কিন্তু এমনিতে আমি অনেক শান্তশিষ্ট। ”

শাহাদ তর্জনি দিয়ে কপাল চুলকালো। শান্তশিষ্ট যে কেমন তার প্রমান তো হাতে কলমেই দিচ্ছে।সে একটা হতাশ শ্বাস ফেলে বলল-

“আমার সাথে আসুন।”
“কোথায়?”

শাহাদ উত্তর দিলো না, পরিবর্তে সে কুহুর হাত চেপে ধরে হাঁটতে লাগলো।অপ্রত্যাশিত ছোয়া পেয়ে কুহুর ঠোঁট দুটো আপনা-আপনি ফাঁক হয়ে গেলো। শাহাদের হাতের মুঠোয় নিজের হাত থাকা অবস্থায় শাহাদের পিছু পিছু হাটতে লাগলো সে। কান দিয়ে গরম ধোয়া বের হওয়ার অনুভূতি হলো।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here