টক ঝাল মিষ্টি পর্ব ২

0
128

#টক_ঝাল_মিষ্টি
#তামান্না_আঁখি
#পর্ব-২

“হোয়াট দ্য হেল ইজ ইট?”

টেবিলের উপর আধ খাওয়া রুটি-ডিম ভাজির রোল দেখে কুহুও অবাক হয়ে গেলো। সে এটা আশা করে নি। শাহাদ কৌতুহলবশত জিনিসটা কি সেটা দেখার জন্য হাত বাড়ালো ধরতে। ধরার আগেই কুহু ছো মেরে নিয়ে গেলো রোলটা।নিয়ে একদম ব্যাগে ভরে ফেললো। শাহাদ এই কান্ডে বিস্মিত হলো।কুহুকে প্রশ্ন করলো-
“কি এটা?”

কুহুর ঝটপট উত্তর-
“কই, কিছু না তো।”

“রুটি মনে হলো। টিস্যুতে মোড়ানো।”

কুহুর বেশ রাগ হলো। আরে ভাই রুটি থাকুক আর পরোটা থাকুক,তাতে তোর কি। মেয়ে দেখতে এসেছিস মেয়ে দেখ। চতুর্দিকে এত কিসের নজর?কুহু কিছুটা কঠিন স্বরে বলল-

“রুটিই।”

“আপনি ব্যাগের ভেতর অর্ধেক খাওয়া রুটি নিয়ে ঘুরছেন কেন?”

“এম্নিই।মাই লাইফ মাই রুলস।”

কুহুর উত্তর শুনে শাহাদ স্থির চোখে কুহুর দিকে তাকালো। অর্ধেক খাওয়া রুটি ব্যাগে নিয়ে ঘুরাফিরা করা যে কোনো মেয়ের লাইফের রুলস হতে পারে এটা তার জানা ছিলো না।ওয়েটার এসে টিস্যু বক্স দিয়ে গেলো। কয়েকটা টিস্যু নিয়ে কুহুকে দিলো শাহাদ। আর কয়েকটা টিস্যু বের করে কুহুর কফির কাপটা তুলে নিচে পড়া কফিটা ভাল করে মুছল।

হাত মুছতে মুছতে কুহু শাহাদের কাজ কর্ম লক্ষ্য করলো। কি সুন্দর করে টেবিলে থাকা কফিটা মুছলো। কারো কফি মুছার দৃশ্যও যে এত সুন্দর হতে পারে তা কুহুর আগে জানা ছিলো না।কুহু শাহাদের হাত লক্ষ্য করলো।শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গুটানো, হাতে সিলভার কালারের একটা বেশ দামি ঘড়ি। খুব সুন্দর করে টিস্যু দিয়ে চেপে চেপে টেবিল পরিষ্কার করছে।দেখতে বেশ লাগছে।

শাহাদ টেবিলটা মুছে কুহুর দিকে হাত বাড়ালো।কিন্তু কুহু ভাবুক হয়ে টিস্যু হাতে নিয়ে কচলাচ্ছে।শাহাদ টেবিলে টোকা দিলো। কুহু ধ্যান ভেঙে তাকালো। শাহাদ কুহুর দিকে হাত মেলে দিয়ে বললো-

“কাজ শেষ হলে টিস্যু দিন,ফেলে দেই।”

কুহু হাতের টিস্যুর দিকে একবার তাকালো।তারপর শাহাদের হাতের তালুতে রাখলো। শাহাদ পাশে থাকা ময়লার বিনে টিস্যু গুলো ছুড়ে ফেললো। কুহু এই ছোট ব্যাপারটাতেও অভিভূত হয়ে গেলো। কি ডিসেন্ট!!কি দায়িত্বশীল!! আহা,খালি যদি রাজনীতিটা না করতো তাহলেই ষোলো কলা পূর্ন হতো।

শাহাদ কুহুর দিকে তাকিয়ে কফি খেতে ইশারা করলো। তারপর নিজের কাপে চুমুক দিয়ে বলল-

“আমি অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছি।এখন আমার বয়স ২৮ চলছে। পারিবারিক ব্যাবসা আছে আমাদের।সেখানে আমি জয়েন করেছি। আর এর বাইরে রাজনীতিতে আমি অনেক এক্টিভ। ভবিষ্যতে এটাকেই পেশা হিসেবে নিব।”

কুহু মনে মনে হিসাব কষলো। ওর বয়স ২১ আর এই ছেলের বয়স ২৮। ৭ বছরের গ্যাপ।ইশশ! এজ গ্যাপটাও তো বেশি৷ ওর তো ৪-৫ বছরের গ্যাপ পছন্দ। আবার বলছে রাজনীতি মেইন পেশা হিসেবে নিবে। এই রসগোল্লার মতো ছেলেটা এভাবে হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে কেন? কুহু মনে মনে দুঃখ অনুভব করলো।

শাহাদ একটু থেমে আবার বললো –
“আমরা জয়েন ফ্যামিলি। আমি সবসময় জয়েন ফ্যামিলিতেই থাকার ইচ্ছা পোষণ করি,এমনকি বিয়ের পরও। ”

কুহু সব বুঝতে পেরেছে এমন করে উপর নীচ মাথা নাড়লো। সে নিজে কি বলবে কিছু ভেবে পেলো না। শাহাদ কফির কাপ নামিয়ে বললো –

“আপনার কিছু বলার থাকলে বলুন।যদি অন্য কাউকে পছন্দ করে থাকেন তবে নির্দ্বিধায় বলুন আমি নিজে থেকে বিয়ে আটকাব।”

কুহু দুপাশে মাথা নেড়ে বললো-
“না না আমার কোনো পছন্দ নেই।”

“তাহলে কোনো প্রশ্ন থাকলে করুন, আমাকে একটা মিটিং এটেন্ড করতে হবে। ”

“আমার কোনো প্রশ্ন নেই।”

“ওয়েল,তাহলে উঠা যাক।চলুন।”

কুহু উঠে দাঁড়ালো। শাহাদও উঠে লিফটের দিকে চললো। কুহু শাহাদের পিছু পিছু হাটতে লাগলো।পিছন থেকে সে শাহাদের হাটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলো। এক হাত পকেটে পুরে হাটছে।হাটায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কুহু কিছুটা পিছিয়ে পড়লো।হঠাৎ তার মনে পড়লো কফির বিল দেয়া হয় নি। সে অল্প দৌড়ে শাহাদের পাশাপাশি গিয়ে হাটতে হাটতে বললো-

“কফির বিল দেয়া হয় নি তো।”

শাহাদ ততক্ষনে লিফটের কাছে এসে বোতাম চেপে দিয়েছে।কুহুর কথায় কুহুর দিকে তাকিয়ে বলল-

“এটা আমার রেস্টুরেন্ট।”

কুহুর ভ্রু দুটো আপনাআপনিই উপরে উঠে গেলো। শাহাদ লিফটের ভেতরে ঢুকে পড়লো।পিছুপিছু ঢুকলো কুহুও। লিফটের ভেতর পিনপতন নীরবতা।কুহুর এত অস্বস্তি হলো যে ও শ্বাসটাও ঠিকমতো ফেলতে পারছে না।নিজের শ্বাসের শব্দই নিজের কাছে অস্বস্তিকর ঠেকছে। আড়চোখে তাকিয়ে দেখলো শাহাদ পকেটে হাত রেখে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কুহু শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না।ওর এভাবে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস নেই। ওর দাতগুলো নিসপিস করছে নখ কাটার জন্য, সে খুব কষ্ট করে দমিয়ে রেখেছে।

লিফট এসে থামলো সোজা গ্যারেজে।শাহাদ আগে কুহুকে বের হতে দিয়ে তারপর নিজে বের হলো। পকেট থেকে গাড়ির চাবি বের করে বলল-

“এদিকে আসুন। ”

“বের হওয়ার রাস্তা তো ওদিক দিয়ে।”

“আমি আপনাকে বাসায় ড্রপ করে দিব।আমার গাড়ি এইপাশে রাখা।”

“না না, আমি একাই চলে যেতে পারব। আপনার কষ্ট করতে হবে না।”

শাহাদ হাটা থামিয়ে কুহুর দিকে পিছন ফিরলো। শান্ত কন্ঠে বললো-
“মিস কুহু,আমার সত্যিই অনেক তাড়া আছে।প্লিজ সময় নষ্ট করবেন না।আপনাকে নামিয়ে দিয়ে আমি কাজে যাব।”

শাহাদ এমন ভাবে বললো যে কুহুর আর কোনো কিছু বলার থাকলো না।সে পায়ে পায়ে শাহাদের গাড়ির সামনে এলো। শাহাদ প্যাসেঞ্জার সিটের দরজা খুলে দিলো কুহুর জন্য।কুহু উঠে বসলো। শাহাদ দরজা লাগাতে গিয়ে দেখলো কুহুর আনারকলির একটু অংশসহ ওড়না বের হয়ে আছে। কুহুর সেদিকে খবর নেই, সে আপনমনে তার ব্যাগ থেকে ফোন বের করতে ব্যস্ত। শাহাদ নিজেই ঝুঁকে ওড়না আর আনারকলির অংশ টুকু নিজের হাতে ভিতরের দিকে দিয়ে দিলো। তারপর দরজা লাগিয়ে নিজেও উঠে বসলো গাড়িতে। নিজের সিটবেল্ট বেধে কুহুকে বললো-

“আপনার সিটবেল্ট বাঁধুন।”

কুহু মোবাইল টিপছিলো সিটবেল্টের কথা শুনে ভারি বিরক্ত হলো। এই এক জিনিস তার ভালো লাগে না। বাড়ির গাড়িতে বাবার ভয়ে সিটবেল্ট বাধতে হয়। সে শাহাদকে মিথ্যা বললো-
“আমি আসলে সিটবেল্ট বাঁধতে পারি না। ”

শাহাদ কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো কুহুর দিকে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে এই মেয়ে মিথ্যে বলছে। সে সিটবেল্ট বাধতে পারে কিন্তু কোনো অজানা কারনে সে বাধবে না। শাহাদ কিছু বলে সময় নষ্ট করল না।সে নিজেই হাত এগিয়ে সিটবেল্ট টেনে এনে কুহুর সিটের পাশে আটকে দিলো।

এরকম কান্ডে কুহু আবারো স্তম্ভিত হলো। সে সিনেমায় দেখেছে নায়ক নায়িকার সিটবেল্ট বেধে দেয়।বেধে দেয়ার সময় কাছাকাছি আসে। কিন্তু এই ছেলে এত দূরে থেকে বাধলো কিভাবে।এর হাত কত লম্বা? কুহু শাহাদের হাতের দিকে তাকালো। শাহাদ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ফেলেছে। গ্যারেজ থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিলো গাড়ি। কুহু ভালো করে খেয়াল করলো শাহাদকে। শান্ত শিষ্ট মুখশ্রী, কোনো আলগা গাম্ভীর্য নেই একদম সরলতায় পূর্ন। কুহু আচমকা প্রশ্ন করে বসলো-

“আপনি কি বিয়েতে রাজী?”

শাহাদ এক পলক কুহুর দিকে তাকালো। তারপর সামনের দিকে তাকিয়ে চমৎকার করে হাসলো। কুহু হা করে সেই হাসি দেখলো। মনে মনে ভাবলো “রসগোল্লা আবার সুন্দর করে হাসেও।এ তো দেখি পুরাই রসে টুইটুম্বুর অবস্থা!!” শাহাদ হেসে উত্তর দিলো-
“আপনি রাজি থাকলে আমার অসুবিধা নেই।”

আয় হায়!! এমন করে বললে কুহুর যে বিয়ে করা ছাড়া আর উপায় থাকবে না। কুহু মুখ ফিরিয়ে অন্যপাশে তাকালো। নাক মুখ খিচে বসে রইলো। এইভাবে কিছুক্ষনের দেখায় সে তার হৃদয়কে বেদখল হতে দিবে না । কিছুতেই না।

কুহুকে নামিয়ে দিয়ে শাহাদ চলে গেলো। কুহু তার ঘরে এসে ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো। শিরিনা বেগম একবার এসে কুহুকে দেখে গেছেন কিন্ত কিছু বলেন নি। এর মধ্যে উঁকি দিলো যিয়াদ। কুহুকে এভাবে বসে থাকতে দেখে সেখান থেকেই ডাক দিলো-

“কিরে হুকু! দেখাদেখি কেমন হলো? ”

কুহু অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো যিয়াদের দিকে। যিয়াদ এই দৃষ্টি দেখে একটা জ্বালাময়ী হাসি দিলো। হেলে দুলে ঘরে ঢুকলো। কুহুর স্টাডি টেবিলের চেয়ার টেনে বসলো।কুহু রাগান্বিত কন্ঠে বললো-
“হুকু ডাকছিস কেন বেয়াদব?”

“তুমিই তো নিজের নাম হুকু দিয়েছো, আমি ডাকলে দোষ কি!”

কুহু দাত কিড়মিড় করলো। মাঝে মাঝে অতিরিক্ত উত্তেজনায় নিজের নাম হুকু বলে ফেলে তাই বলে কি এটা বলে ক্ষ্যাপাতে হবে? কুহু নিজেকে শান্ত রেখে বলল-
“যা এইখান থেকে।”

“আগে বলো কেমন লাগলো ভবিষ্যৎ দুলাভাইকে।”

“ভবিষ্যৎ দুলাভাই মানে?আমি কি বলেছি আমি বিয়ে করব?”

“করবে না?”

“না, জীবনেও করব না।”

“ওও তাহলে যাও বাবাকে গিয়ে এটা বলো।”

কুহু ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেলো। বাবার কথা মনে পড়তেই মুখটা এতটুকু হয়ে গেলো। যিয়াদ কুহুর অবস্থা দেখে বেশ মজা পেলো। কুহুকে খোচানোর জন্য ঘর ছেড়ে যেতে যেতে বললো-

” শুনলাম আর কয়দিনের মাঝেই নাকি তোমাকে ওই বাড়ির বড়রা দেখতে আসবে।কি যে মজা হবে!! ”

কুহুর শুকনো মুখটা আরো শুকিয়ে গেলো। হায় আল্লাহ!! এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিবে? রান্নাবান্না, ঘর গুছানো সব করতে হবে? তার উপর আবার রাজনৈতিক পরিবারে বিয়ে? কুহু ঝড়ের বেগে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো। বিছানায় হাত দিয়ে কিল দিয়ে বলল-
“এরকম একটা ছেলেকে কেন রাজনীতি করতে হলো। Why the কেন?”

———-

সকালে কুহু যত তাড়াতাড়ি পারে খেয়ে বের হয়ে গেলো ভার্সিটির জন্য। ব্রেকফাস্ট টেবিলে সে তার বাবার মুখোমুখি হতে চায় না। মুখোমুখি হলেই শাহাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে তার বাবা।গত রাতেও সে তার বাবাকে এড়িয়ে গেছে। ভার্সিটি এসে তনয়াকে দেখলো পিছনের বেঞ্চে বসে আছে। কুহুকে দেখে আজকেও হাত উড়িয়ে ডাকলো। কুহু ধপ করে গিয়ে বসে পড়লো বেঞ্চে। তনয়া আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“কাল যে দেখা করতে গেলি কেমন দেখলি? কি কি খুত বের করলি?”

কুহু হতাশ কন্ঠে বললো-
“কোনো খুত নেই রে, ছেলে একদম রসগোল্লার মতো।”

“ইয়া আল্লাহ! অসভ্যের মতো এইসব কি বলিস।”

“এরকম একটা ছেলে রাজনীতি করে কেন রে?হোয়াই? মনটাই খারাপ হয়ে গেলো।”

“রাজনীতি খারাপ কি, পছন্দ হলে বিয়ে করে ফেল।”

“তুই বুঝবি না।চল ক্লাস পালাই।মন টা ভালো না। চল একটু খাওয়া দাওয়া করি।”

“করব যদি তুই ট্রিট দিস।”

কুহু ট্রিট দিতে রাজি হলো। ক্লাস মিস দিয়ে তারা শহরের সবচেয়ে ব্যস্তততম এলাকায় এলো। এখানেই বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট আছে সাথে শপিংমল ও আছে।কুহু আর তনয়া ফুটপাতে একটা স্ট্রিট ফুডের দোকানে দাঁড়িয়ে গলদা চিংড়ী ভাজা খাচ্ছে।এমন সময় বেশ কয়েকটা বাইক হই হল্লা করতে করতে রাস্তার অপর পাশে থামলো। সাথে থামলো একটা গাড়ি। গাড়ি থেকে বের হলো শাহাদ সহ আরো কয়েকজন। শাহাদকে দেখে কুহুর খাওয়া থেমে গেলো। তনয়া কুহুর কাধে ধাক্কা দিয়ে বলল-
“খাচ্ছিস না কেন?না খেলে আমায় দে।”

কুহু সামনে দেখিয়ে বলল-
“ওই দেখ, ওই লোকের সাথেই গতকাল দেখা করতে গিয়েছিলাম।”

তনয়া সামনে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“কোন লোকটা?”

“ওই স্কাই ব্লু কালার শার্ট আর কালো প্যান্টের ছেলেটা।”

তনয়া এতজনের ভীড়ে কুহুর বর্ননা অনুযায়ী শাহাদকে খুজে পেলো। শাহাদ শান্ত মুখে দোকানীদের অভিযোগ শুনছে। তনয়া সেদিকে তাকিয়ে থেকে বলল-
“আসলেই তো রসগোল্লার মতো রে।”

কুহু উদাস হয়ে বললো-
“হুমমম। এমন ছেলে গান গাইবে, ক্যানভাস নিয়ে ছবি আঁকবে,তা না দলবল নিয়ে মিছিল করছে।”

“তুই যা না একটু গিয়ে কথা বলে আয়। ”

“পাগল নাকি। জীবনেও যাব না ”

কুহুর যাওয়ার দরকার পড়লো না শাহাদ ই তার দলবল নিয়ে রাস্তার এই পাড়ে চলে এলো। রাস্তা থেকে ফুটপাতে উঠতে গিয়ে কুহুকে দেখে চমকে গেলো। দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেলো। কুহু এমন চোখাচোখিতে ভ্যাবাচেকা খেয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। শাহাদের দলের একটা ছেলে শাহাদকে ফুটপাতের ভাজাপোড়ার দোকান দেখিয়ে বলল-

“ভাই এই দোকানিটাকে বলে যান।”

শাহাদ কুহুর দিক থেকে চোখ সরিয়ে কুহু যেই দোকানে খাচ্ছিল সেখানে দাঁড়ালো। ফুটপাতে দোকান না দেয়ার কথা খুব সুন্দর ভাবে দোকানিকে বুঝিয়ে বলল। কুহু আর তনয়া দুজনেই হা করে তাকিয়ে রইলো শাহাদের দিকে। কুহু মুখে থাকা খাবারটা গিলতেও ভুলে গেলো।

কথা শেষ করে যাওয়ার আগে শাহাদ একবার ভাবলো কুহুর সাথে কুশল বিনিময় করা উচিত।সে কুহুর দিকে হেটে এগিয়ে গেলো। শাহাদকে এগিয়ে আসতে দেখে কুহুর চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। গালে থাকা খাবার তাড়াতাড়ি গিলতে চাইলো কিন্তু তা আটকে গেলো গলায়। ততক্ষনে শাহাদ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সে কুহুকে যেই বললো “মিস কুহু” অমনি কুহু জোরেশোরে একটা বিষম খেলো। মুখের খাবার ছিটকে পড়লো শাহাদের চোখেমুখে। সহজাত প্রবৃত্তির দরুন শাহাদ চোখ বন্ধ করে ফেললো।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here