এক মুঠো প্রণয় (সিজন টু)পর্ব ১২

0
33

#এক_মুঠো_প্রণয়
#সিজন_টু
#পর্ব_১২
লেখনীতেঃএকান্তিকা নাথ

সময় চলল নিজস্ব গতিতে। আজ জ্যোতির বাবাকে হসপিটাল থেকে ছাড়িয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। তাই মিথি আর তার ছোট আম্মাও সব গোঁছগাছ করে হাজির হলো হসপিটালে। মিথি চঞ্চল স্বভাবি৷ ইতোমধ্যেই এক দুইবার হসপিটাল ঘুরে মেঘকে খুঁজে ফেলেছে। শুধু যে আজই খুঁজছে এমন নয়। এই দুই তিনদিনে সে নিয়মিত খুঁজেছে মেঘকে। দেখা ফেলেই নিজ থেকে লাফিয়ে গিয়ে কথা বলে এসেছে।কেন জানি না লোকটার কথা বলার ধরন হতে, চলাফেলা, ভদ্র স্বভাব সবটাই তার মন কাড়ল। তাই তো এই অল্প সময়েও সে এতবার নিজ থেকে খুঁজেছে এই লোককে, কথা বলেছে, হেসেছে। সে জানে এটা তার কিশোরী বয়সের সাময়িক ভালোলাগা! তবুও সবটা জেনেশুনেই সে ভালোলাগাকে বাঁধা না দিয়ে প্রশ্রয়ই দিয়ে গেল সে। আজও ব্যাতিক্রম হলো না।সকাল থেকে দুই চারবার খুঁজে অবশেষে হসপিটালের বাইরেই দেখা মিলল মেঘের।সাথে সেদিনের ছোট্ট বাচ্চাটা আর একটা বোরকা পরিহিত মেয়ে।মিথি অবশ্য কথায় কথায় মেঘের থেকে বাচ্চাটার নামও জেনে নিয়েছে। সানশাইন!নিঃসন্দেহে মিষ্টি নাম। মিথি আর দাঁড়াল না। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়েই গাল টিপল সানশাইনের। পরক্ষনে ভালো করে তাকিয়ে বুঝল তার পরনে স্কুল ড্রেস। বোধহয় স্কুলেই যাচ্ছে। প্রশ্ন ছুড়ল হাসি হাসি গলায়,

“ হেই কিউটবাচ্চা, কেমন আছো? স্কুলে যাচ্ছো তুমি? ”

বাচ্চাটা আজও সেদিনের মতো গোলগোল চোখ করে তাকাল মিথির দিকে। স্বভাবে সে মেঘের মতোই গম্ভীর বলা চলে। মিথির এই গম্ভীর স্বভাবটাই কেন জানি ভালো লাগে খুব করে।আর বোধহয় এই কারণেই এই অল্প সময়েও সে মেঘের প্রতি ভালো লাগা অনুভব করল।মিথি হাসল। সানশাইনের উত্তর না পেয়ে হেসে পুনরায় আবারও বলল,

“আমি মিথি। মনে নেই? ঐদিন দেখা হয়েছিল তো। দেখোনি তোমার পাপার সাথে?”

সানশাইন এবারেও উত্তর দিল না। বরং গাল ফুলিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে থাকল। মিথিও এবারে গাল ফুলিয়ে নিল।কথা বলার উদ্দেশ্যে সানশাইনের নাম জানা সত্ত্বেও জিজ্ঞেস করল,

” আচ্ছা, তোমার নাম কি বলো?”

মিথি ভেবেছিল এবারে উত্তর আসবে সানশাইনের থেকে। কিন্তু তাকে হতাশ করে দিয়ে এবারেও উত্তর এল না। অপরদিকে মেঘ এতক্ষন দাঁড়িয়ে দাঁগিয়ে এসব দেখলেও এবারে গিয়ে বিরক্ত হলো।তার ধারণা মিথি নামক মেয়েটা আসলেই বেশি বেশি কথা বলে। এই কটাদিন সে এটা স্পষ্টভাবে খেয়াল করেছে।আজও ব্যাতিক্রম হলো না তার খেয়াল করার। কিন্তু বিষয়টা হলো তার আবার এমন বকবক করা মেয়ে পছন্দ নয়। সে বরাবরই চুপচাপ স্বভাবী, শান্ত মেয়ে পছন্দ করত। তাই তো এবারেও বিরক্ত হলো। কপালে ভাজ তুলে বলল সে,

“ ওর নাম সানশাইন বলেছিলাম একবার।ভুলে গেছো?”

মেঘের বিরক্তিকে ছাপিয়ে গিয়ে মিথি দ্বিগুণ বিরক্ত হলো যেন। চোখমুখ কুঁচকে বলে উঠল,

“ আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি আমি?আপনি কেন কথা বলছেন?আশ্চরায!ওকে জিজ্ঞেস করেছি না আমি?”

মেঘ ঠোঁট চেপে শ্বাস ফেলল। গম্ভীর স্বরে বলে উঠল,

“ তো তুমি কি ওর সাথে আড্ডা দিবে এখন?”

মিথি ভ্রুকুটি করে তাকাল মেঘের দিকে। বিরক্তির শীর্ষে পৌঁছে যাওয়ার ভঙ্গি দেখিয়ে বলে উঠল,

“কি আশ্চর্য ডক্টরসাহেব।আপনার সাথে কথা বলছি আমি? বলছি না তো। আপনি চুপ থাকুন দয়া করে। ”

মেঘের মুখ থমথমে হয়ে এল এবারে অপমানে। তার চেয়ে প্রায় সাত বছরের ছোট হয়েও তার মুখের উপর কিভাবে কথা বলছে এই মেয়ে। কোনরকমে দাঁতে দাঁত চেপে সেই অপমানটা সহ্য করতেই মিথি ফের চঞ্চল গলায় শুধাল,

“হেই সানশাইন, কথা বলছো না যে? পছন্দ হয়নি আমায়? আমি কি খারাপ? খারাপ না তো,কথা বলো প্লিজ।দুঃখ পাচ্ছি তো আমি।”

এবারে বোরকা পরিহিত মেয়েটা হাসল কিঞ্চিৎ। অল্প ঝুঁকে সানশাইনকে বলে উঠল,

“কি হলো কথা বলছো না কেন সানশাইন? ও তো খুব মিষ্টি দেখতে দেখো? একদম তোমার মতোই। তোমার বন্ধু হিসেবে পার্ফেক্ট না ও?আম্মু বলছি, ওর সাথে কথা বলো।”

সানশাইন এবারে মাথা নাড়াল হঠাৎ। মিথি আশা নিয়ে গোলগোল করে তাকাল। বুঝল পাশের মেয়েটা মেঘের ভাবি অর্থ্যাৎ সানশাইনের মা।মায়ের কথা নিশ্চয় ফেলবে না সে?এবারে নিশ্চয় কথা বলবে।কিন্তু ফের হতাশ করে সানশাইন তার আম্মুকে বলে উঠল,

“ ওর নাম কি আম্মু? ”

মিথি এবারেও গোল গোল চোখ করে চাইল। নিজ থেকেই গদগদ স্বরে উত্তর দিল,

“মিথি। মিথি আমার নাম।”

সানশাইন গাল ফুলিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

“ ও তো বড়, ওর সাথে ফ্রেন্ডশীপ কিভাবে হবে আমার? ”

মিথি এবার কাঁদো কাঁদো ভাব নিল। সানশাইনের মায়ের দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,

“ আপু, ও কি আমায় ইগ্নোর করছে? আমায় জিজ্ঞেস না করে আপনাকে কেন জিজ্ঞেস করছে ও?”

হেসে উঠল এবারে সানশাইনের মা। মিথি মেয়েটাকে তার এই কয়েক মিনিটেই বেশ মনে ধরল যেন। হেসেই উত্তর দিল,

“ তেমন নয়। ও আসলে অপরিচিত বলেই কথা বলছে না তোমার সাথে।পরিচিত হলে মিশে যেত এতোটা সময়ে। ”

মিথি ঠোঁট উল্টে বলল,

“আচ্ছা,আজ তো চলে যাব। পরে কোন সময় ঠিক পরিচিত হয়ে নিব। হুম সানশাইন? তখন কিন্তু বন্ধু হবে আমার। ওকে?”

সানশাইন এবারে কথা বলল।কপাল কুঁচকে ঠোঁট নেড়ে শুধাল,

“ তুমি এমন হাসো কেন খালি? ”

মিথি মিষ্টি করে হেসে উত্তে দিল,

“তোমার কথা শোনার অপেক্ষায়। ”

সানশাইন বিশেষ গুরুত্ব দিল না যেন। ফের গাড়িতে উঠে বসে বলল,

“ আমি তো এখন স্কুলে যাব। তোমার সাথে কথা বলা হবে না। ”

মিথি গাল ফুঁলিয়ে শ্বাস ফেলল। কিছুটা সময় পর অবশ্য সানশাইন আর তার মা চলে গেল চোখের সামনে দিয়ে। মিথি সেদিক পানে একবার তাকিয়ে এবার মেঘের দিকে তাকাল।হতাশার স্বরে বলল,

“আপনি কি জানেন সানশাইন আপনার মতোই স্বভাবী? ”

মেঘ ভ্রু কুঁচকাল। একনজর মিথির দিকে তাকিয়ে ফের নজর সরাল। পা বাড়াতে বাড়াতে বলল,

“নাহ তো, জানতাম না। তোমার থেকে জানলাম মিথি। ”

মিথি লাফিয়ে মেঘের পিছু পিছু পা বাড়াল। চঞ্চল গলায় শুধাল,

“ আপনার বাচ্চা হলেও কি সে আপনার মতোই গম্ভীর হবে ডক্টরসাহেব?ধরুন আপনার ডজনখানেক বাচ্চা হলো, আর সবাইই আপনার মতোই মুখ গোমড়া করে সবসময় বসে থাকবে। ভাবতে পারছেন বিষয়টা কি সাংঘাতিক?আপনি বরং এখন থেকেই নিজেকে পাল্টে ফেলুন ডক্টরসাহেব।”

মেঘের হঠাৎই হাসি ফেল মেয়েটার কথাতে। মেয়েটার বোকাবোকা কথা গুলো সত্যিই হাস্যকর। তবুও অবশ্য হাসল না সে। হাসি চেপে গিয়৷ বিড়বিড় করে শুধাল,

“ বাচ্চার মায়েরই দেখা নেই জীবনে, আবার বাচ্চা!”

বিড়বিড় করে বললেও মিথি শুনে নিল। বলে উঠল,

“ উহ! এত অধৈর্য্য হওয়ার কি আছে?বাচ্চার মাও আসবে, বাচ্চাও আসবে।তবে সঠিক সময়ে। বুঝলেন ডক্টরসাহেব?”

মেঘ ঘুরে তাকাল।ভ্রু উঁচিয়ে প্রশ্ন ছুড়ল,

“ তুমি কিসে পড়ো মিথি? এতো পাকাপাকা কথা কে শেখায় তোমায়?”

“ কি আশ্চর্য!ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি বুঝলেন? এমন বয়সী মেয়েরা কি অবুঝ হয়? যদি অবুঝ ভেবেও থাকেন তবে বুঝবেন সে ভান করছে। বুঝলেন? ”

“ তুমি যে বেশি কথা বলো জানো?”

“ বেশি কথা?আমি কি বাচাল? আমি তো আপনার মুখ ভার দেখেই মন ভালো করার জন্য বেশি বেশি কথা বলছি। আপনি এটাকে বেশি কথা বলা ভেবে নিলেন?আজকাল মানুষের ভালোও করতে নেই।”

মেঘ ফের গম্ভীর গলায় বলল,

“ অপ্রয়োজনীয় কথা বলো। ”

মিথিও এবারে চঞ্চল গলা থেকে গলাটা গম্ভীর করল। মৃদু আওয়াজে উত্তর দিল,

“ সবসময় প্রয়োজনের কথাই বা বলতে হবে কেন বলুন? জীবন কি শুধু প্রয়োজনের জন্যই ঝুলে থাকে পৃথিবীতে? ”

মেঘ ভ্রু নাচিয়ে শুধাল,

“বাহ!বড়দের মতোও কথা বলতে পারো তুমি?”

মিথি ছোট বাচ্চাদের ন্যায় গাল ফুলাল। বলল,

“কেন পারব না?যায় হোক, ভালো থাকবেন ডক্টরসাহেব। আজকের পর আপনার সাথে দেখা হবে কিনা জানা নেই বুঝলেন?এইজন্যই আমি আপনাকে সকাল থেকে খুঁজে খুঁজে হাফিয়ে গেছি।”

মেঘ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন ছুড়ল,

“এতো খুঁজার কি আছে? ”

মিথি ফিক করে হেসে দিল। বলল,

“না খুঁজলে আপনার এই সুন্দর রূপখানা দেখা হতো বলুন?”

মেঘ বিরক্ত হলো। কপাল কুঁচকে এবারে উত্তর না দিয়ে পা বাড়াল। মিথির থেকে আরো কয়েক কদম পেরিয়েও গেল মুহুর্তেই। মিথি পেছনে দাঁড়িয়েই বলে উঠল আবারও,

“ডক্টরসাহেব শুনুন?আপনাকে কিন্তু সাদা এপ্রোনে সত্যিই দারুণ লাগে বুঝলেন? ”

মেঘ শুনল ঠিক। তবে ফিরে চাইল না। এসব কিশোরী মেয়েদের এমন পাগলামো সম্পর্কে সে অবগত বলেই এসবকে আর বিশেষ পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করল না৷ সে তো ভালোবাসেই একজনকে৷ তবুও অন্যজনের ভালো লাগাকে পাত্তা দেওয়ার মানে হয়?এসব ভাবতে ভাবতে হসপিটালে ডুকতে দেখা মিলল মেহুর সাথে। ফের বুকের ভেতর চিনচিন করে উঠল। চেপে রাখা দুঃখ যেন জেগে উঠল। মেঘ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।পা বাড়িয়ে বলল

“মেহু?কেমন আছো?”

মেহু অন্যমনস্ক হয়ে কিছু ভাবছিল। হঠাৎ কারো গলা শুনে তাকাল। বলল,

“ হু?আছি, ভালো আছি।আপনি? ”

মেঘ কৌশলে প্রশ্নরটা এড়িয়ে গেল। এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে বলল,

“ মেহেরাজ ভাই এসেছে? দেখছি না যে?কোথায়?”

মেহুও চোখ বুলাল এদিক ওদিক। বলল,

“আছে বোধহয় কোথাও। জ্যোতি, মিথি,চাচা চাচী সবাই ই তো গ্রামে ফিরবে।সাথে বোধহয় ভাইয়াও যাবে।”

মেঘ ছোট করে উত্তর দিল,

“ওহ।

.

হসপিটালের বাইরেই মেহেরাজের দেখা মিলল। জ্যোতি গিয়ে দাঁড়াল মেহেরাজের সামনে। মৃদু আওয়াজে বলে উঠল,

“ আপনাকে কষ্ট করে যেতে হবে কেন মেহেরাজ ভাই? আপনার যাওয়ার প্রয়োজন নেই।আমরা তো যেতেই পারব।”

মেহেরাজের মেজাজ যেন আগে থেকেই খারাপ ছিল। এহেন কথা শুনে মেজাজটা আরো খারাপ হলো বোধহয়। তবুও পকেটে হাত ডুকিয়ে শীতল গলায় জিজ্ঞেস করল,

“আমার প্রয়োজন অপ্রয়োজন কি তুই ঠিক করে দিবি জ্যোতি? ”

জ্যোতি থতমত খেল। উত্তরে বলল,

“ সেভাবে বলতে চাইনি, কিন্তু আপনার এখানে কাজ ফেলে আমাদের সাথে যাওয়ার বিশেষ প্রয়োজনও তো নেই। তাই না?না গেলে তো আপনারই সুবিধা হবে।”

মেহেরাজ গলা গম্ভীর। অন্যদিকে ফিরে শুধাল,

“আমার সুবিধাটা আমি ভালো বুঝব নাকি তুই ভালো বুঝবি? ”

জ্যোতি এবারে উত্তর দিল না। হুট করেই মনে হলো মেহেরাজ ভাই রেগে আছে।কিন্তু কেন রেগে থাকবে?সে কি খারাপ কিছু বলেছে?প্রশ্ন করল,

“ আপনি কি রেগে আছেন মেহেরাজ ভাই? আমি কি রেগে যাওয়ার মতো কিছু বলে ফেলেছি?”

মেহেরাজ আগের মতোই অন্যদিকে ফিরে থাকল। বিরক্তির সুরে বলে উঠল,

“ ভেবে দেখ তুই। ”

জ্যোতি ভেবে দেখল। উত্তর দিল,

“ আমার ভেবে দেখা বলছে আমি তেমন কিছু বলিনি।”

মেহেরাজ এবার ত্যাড়া চাহনিতে একনজর তাকাল জ্যোতির দিকে। শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় বলল,

“আমার ভেবে দেখা বলছে তুই তেমন কিছু বলেছিস। একবার নয়, বারংবার!”

“ কি বলেছি?”

“ সেসব জেনে তোর বিশেষ লাভ হবে? ”

জ্যোতি শান্তস্বরে উত্তর দিল,

“না। তবে কৌতুহল জাগল তাই জিজ্ঞেস করলাম।”

মেহেরাজ ভ্রু নাচাল। বলল,

“ অতি কৌতুহল ভালো নয় জ্যোতি।দেখা গেল কৌতুহলের বশে তুই গভীর কোন সত্য জেনে গেলি। সেক্ষেত্রে তো ক্ষতিটা আমারই তাই না?”

কথাটা বলেই ফের বলে উঠল,

”সর সামনে থেকে। ”

জ্যোতি সরে গেল। মেহেরাজ অবশ্য আর দাঁড়াল না। দ্রুত চলে গেল তাকে পাশ কাঁটিয়ে।

.

সাঈদ রাস্তা দিয়ে এলোমেলো হয়ে হাঁটছিল বিকালে। হঠাৎই দেখা মিলল রাস্তার অপরপ্রান্তে হাঁটতে থাকা মেহুকে। চোখমুখ শুকনো।কেমন জানি মলিন চেহারা। সে ছুটে গেল, জিজ্ঞেস করল,

“মেহু তুমি? মুখচোখের এই হাল? ভালো আছো মেহু?”

মেহু চোখ তুলে চাইল। তাচ্ছিল্য নিয়ো শুধাল,

“ ভালো থাকব না কেন সাঈদ ভাইয়া? অবশ্যই ভালো আছি। ”

সাঈদ কথা বলার জন্য আকুল হলো। ফের বলল,

“আমি কেমন আছি জিজ্ঞেস করলে না যে?”

ফের তাচ্ছিল্যমাখা উত্তর এল,

“ভালোই তো থাকবেন তাই না?খারাপ থাকার তো কোন কারণ নেই। ”

সাঈদের গলা নিষ্প্রভ। উত্তর দিল,

“ তা ঠিক।তবে খারাপ থাকার কোন কারণ না থাকা সত্ত্বেও আমি ভালো থাকতে পারছি না। ”

মেহু ভ্রু কুঁচকাল। বলল,

“ কেন? ”

সাঈদের নিষ্প্রভ গলা হঠাৎই উৎফুল্লময় হয়ে উঠল। নিজের দুঃখ চেপে রেখে চঞ্চল স্বরে শুধাল,

“ এই যে তুমি বিয়েটা করছো না?দাওয়াত খেতে পারছি না তো। তাছাড়া তুমি বিয়ে করলে বিয়েতে কতগুলো মেয়ে পটাতে পারতাম ভেবে দেখেছো একবারও? সেসবও তো ভেস্তে দিলে! ”

মেহু হাসল কিঞ্চিৎ। বলল,

“ আপনার জীবনে তো মেয়ের অভাব নেই সাঈদ ভাইয়া। তবুও মেয়েদের জন্য মন খারাপ করাটা হাসির ব্যাপার। ”

সাঈদ ফের মেকি দুঃখ দেখিয়ে নিয়ে বলল,

“ তুমিও তো আজকাল আর পাত্তা দিচ্ছো না মেহু। কত কষ্ট পাচ্ছি জানো? ”

মেহু তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। বলল,

“ আমার পাত্তা না দেওয়াতে কষ্ট পাচ্ছেন? হাস্যকর! আপনার জীবনে এত এত মেয়ের ভীড়ে আমি কিছুই নই সাঈদ ভাইয়া।ভালো থাকুন, আমার কিছু কাজ আছে।যেতে হবে।”

কথাটা বলেই যত দ্রুত সম্ভব সাঈদকে পাশ কাঁটিয়ে চলে গেল মেহু। সাঈদ তাকিয়ে রইল তার যাওয়ার দিকে। বুকের বা পাশে হাত রেখে সেদিকে তাকিয়ে থেকেই বিড়বিড় করে বলে উঠল,

“ এত মেয়েদের ভীড়েও আমি কেবল তোমাকেই খুঁজি মেহু৷ এত মেয়ের মাঝেও তুমিই কিন্তু আমার জন্য সব!বুঝলে না!”

#চলবে….

[ দেরি হওয়ার জন্য দুঃখিত।কাল থেকে আবার নিয়মিত দিব।কেমন হয়েছে জানাবেন। ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here