একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি পর্ব ৩

0
80

একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি -৩

এফডিসিতে পৌঁছে অমিত মেকাপ আর কস্টিউম নিয়ে রেডি হয়ে গেল৷ আজ একটা ড্যান্সের সিন। অনেক সময় লাগার কথা, ড্যান্সগুলো ওকে হতে সব চাইতে বেশি সময় লাগে।
মানুষ তো শুধু সঙের মত নাচটাই দেখে। স্টেপ গুলো মেলাতে অনেক কষ্ট হয়।

হিরোইন নীলাও চলে এসেছে। ওর সাথে ড্যান্স ট্রুপের মেয়েগুলো প্রাকটিস করছে। অমিত গিয়ে শট দিলো।
তুলনামূলক ভালো হলো কাজ।
রিয়াজুল গিয়েছে সেভ দ্যা ন্যাচারে। এত ডেস্পারেট না হলেও চলত।

রিয়াজুল চলে এলে ফোন নম্বরটা নিয়ে নিবে অমিত কিন্তু ফোন করবে না। এটাই ফাইনাল। কি দরকার একটা মেয়েকে বিব্রত করা। অমিতের জন্য কোথাও মেয়ের অভাব আছে, জুনিয়র মডেল গুলো তো ভাইয়া বলে এমন টান দেয়, এদের সাথে ডেটে যাওয়া কোনো ঘটনাই না।

একি, ডেটের কথা কেন ভাবছে অমিত! মেয়েটা চিন্তায় ঢুকে পড়ছে একা একাই।

ঘন্টাখানেক পরে রিয়াজুল এলো। ফোন নম্বর আর ঠিকানা পাওয়া গেছে। লালমাটিয়ার দিকে একটা এড্রেস দেওয়া আছে।

অমিত ফোন করল না৷ নম্বরটা রেখে দিলো নিজের কাছে।

★★★

নওরিন কল পেয়েছে সকাল এগারোটায়। সে প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত। এখন ভাইভার পরে এপয়েন্টমেন্ট হবে। মোটামুটি খুশির খবর বলা চলে। আর্থিক দুরবস্থা দূর হবে। দুদিন পরে ভাইভা। নওরিন ঠিক করল৷ নিজেকে একটু তৈরি করে নেবে। বিভিন্ন চাপে নিজের যত্নটাই করা হয় না৷

বেশ কিছু টাকার দরকার ছিল, নওরিন আব্বাকে ফোন করল। কয়েকটা রিং বাজার পরে নওরিনের বাবা ফোন রিসিভ করলেন।

আনুষ্ঠানিক কথা বলার পরে, আব্বা বললেন, একটা ভালো ছেলের কথা বলেছিল তোমার বড় মামা। বৃহস্পতিবার মামার বাসায় চলে যেও। শুক্রবারে ওরা আসবে তোমাকে দেখতে।

নওরিন বলল, আব্বা, আমি সেভ দ্যা ন্যাচারে রিটেনে সিলেক্টেড হইছি, ভাইভা বৃহস্পতিবার।
শেষ কখন হয়, আমি কিভাবে যাব!

এটা কেমন কথা, মানুষের কথার একটা গুরুত্ব আছে৷ তোমার ভাইভা যখন শেষ হোক, মামার বাসায় যেতেই হবে। বিকেলের আগে শেষ না হলে ভাইভা দেওয়ার দরকার নেই।

নওরিন বলতে পারল না, ওর কিছু টাকার দরকার। অল্প কিছু টাকা একটা ব্যাগে রাখা আছে৷ নওরিন ভাবল এটা দিয়েই একটা শাড়ি কিনে ফেলবে।

অমিত নওরিনকে ফোন করল লাঞ্চের পরে।

নওরিন তখন হকার্স মার্কেটের দোতলায়। শাড়ি দেখছিল।

নওরিন বলছেন?

হ্যা, কে বলছেন?

আমি অমিত, গতকাল লেকপাড়ে দেখা হলো? মনে আছে?

নওরিন বলল, হ্যা মনে আছে। কিন্তু আপনি আমার ফোন নম্বর কোথায় পেলেন?

অমিত বলল, ইচ্ছে থাকলে সবই সম্ভব হয়।

কথা সত্য না, আমার তো কত কিছুই ইচ্ছে আছে, কিছুই সম্ভব হচ্ছে না।

আচ্ছা, বলেই দিই, আমার পরিচিত একজন সেভ দ্য ন্যাচারে আছে, ওনাকে কল করে আপনার নাম বললাম, তিনি বের করে দিলেন।

আরেএ, এত ঝামেলা করে আমার ফোন নম্বর খুঁজে বের করার কারণ কি?

আছে নিশ্চয়ই কোনো কারণ! কাল আপনি চলে যাওয়ার পরে মনে হলো, আপনার সাথে গল্প করতে বেশ ভালো লাগছিল।

আপনি তো বেশ ভালো ফ্লার্ট করতে পারেন!

অমিত একা একা হাসল। সত্যিই কি তাই, অমিত সাধারণত ফিমেল আর্টিস্টদের একটু এড়িয়ে চলে।

আপনি কি করছেন এখন?

আমি একটা কাজে এসেছি।

আপনার লোকেশন কই এখন?

হকার্স মার্কেট।

শাড়ি কিনছেন?

হ্যা, বুঝে গেছেন!

আমি আসব?

কেন?

ওই যে বললাম, কথা বলতে ভালো লাগছে।

নওরিন হেসে বলল, না আসতে হবে না। আমার কাজ শেষ। আমি এখন ফিরব৷

নওরিন, একদিন দেখা করতে পারি আমরা?

নওরিন একটু ভেবে বলল, বৃহস্পতিবারে আমার ভাইভা, সেই অফিসেই। তারপর ওখান থেকে গাজীপুরে যাব। ফিরে না হয় কথা হবে?

কেন, আগে কথা হতে পারে না?

এই আমি না আপনাকে বুঝতে পারছি না, এত আগ্রহ কেন দেখাচ্ছেন, সামহাউ আপনি আবার মামার দেখা ছেলে না তো?

মানে কি?

মানে আমার একটা বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, আমার মনে হচ্ছে আপনিই সেই, সিনেমার মত আমার খোঁজ নিচ্ছেন, বাজিয়ে দেখার জন্য৷

জীবন তো সিনেমা নয় নওরিন! আর আমি আপনার মামার দেখা পাত্রও নই৷ আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই৷

নওরিন বলল, ঠিক আছে৷ আমি এখান থেকে বের হবো। তারপরে বাসায় ফিরব৷ এই সময়ে কি আসতে পারবেন? ধানমন্ডি বা লালমাটিয়ার কোথাও?

হ্যা পারব। লালমাটিয়ায় আড়ংয়ের কাছে যে মাঠটা আছে, ওখানে আসি, কেমন? সন্ধ্যায় আসব।

ওকে, তাহলে দেখা হচ্ছে, অমিত!

অমিত ফোন রাখল।

চলবে

শানজানা আলম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here