অভিমান #-পর্বঃ১৩

0
795

#অভিমান
#-পর্বঃ১৩
……………
আমি বসে আছি আন্টির মুখমুখি বুক ধুর ধুর করে মৃদু কাঁপছে ,
কি বলবেন উনি ,আন্টিকে বেশ সিরিয়াস দেখাচ্ছে,
আমার আর কাব্য ভাইয়ার বিয়ের বিষয় নিয়ে কি কিছু বলবেন,উনি ও কি সবার মতো আমাকে দোষী ভেবে কথা শুনাবেন,
আপু মুখে শুনেছি কাব্য ভাইয়া উনার খুব আদরের সন্তান ,উনার বড় ছেলেকেও তিনি খুব ভালবাসেন কিন্তু কাব্য ভাইয়ার প্রতি উনার বেশী দুর্বলতা,দুলাভাই ও কাব্য ভাইয়াকে প্রচন্ড ভালোবাসেন,মা আর ভাইয়ে চোঁখের মনি উনি।এদের এই অতিরিক্ত আদর পেয়েই উনি আদরে আদরে বাঁদর হয়েছেন,
আন্টির নিশ্চই ছোট ছেলের বৌ নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল ,কিন্তু আমার সাথে এমটা হওয়ায় উনি হয়তো কষ্ট পেয়েছেন,আমাকেও নিশ্চই খুব খারাপ মেয়ে ভাবছেন,কিন্তু আমার তো এতে কোনো দোষ নেই এটা আমি উনাকে কিভাবে বুঝাবো,
আন্টির সামনে বসে এই সবই ভাবছি ,প্রচন্ড গরম লাগছে,ঘেমে আমি একাকার হয়ে যাচ্ছি,উনি কিছু বলছেন না ,আমি অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে বসে রইলাম,
-কি হলো সুহা তুমি কি কোন কারনে ভয় পাচ্ছো ,এভাবে ঘামছো কেন ??আন্টি শান্ত গলায় প্রশ্ন ছুঁড়লেন ,
-না মানে কিছু হয় নি আন্টি ,আমি ঠিক আছি ।আমি শুকনো একটা হাসি দিয়ে আন্টি প্রশ্নের জবাব দিলাম,
-সুহা আমি তোমাকে কিছু কথা বলবো তুমি প্লিজ মন দিয়ে শুনার চেষ্টা করো ,আন্টির কন্ঠস্বর গম্ভির হয়ে এলো।
আন্টির গলার স্বর শুনে আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম ভয়ে ভয়ে বললাম,
-জি বলেন কি বলবেন,
আন্টি উঠে দাড়িয়ে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন ,
আমি উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম,
উনি ওখানে দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
কাব্য তোমাকে জোর করে বিয়ে করেছে এ কথা কেউ বিশ্বাস না করলেও আমি করেছি ,এ বিয়েতে তোমার কোনো মত ছিল না ও তোমাকে ভয় দেখিয়ে জোর করে বিয়ে করেছে তাই না,
আন্টির কথাগুলো শুনে আমি চমকে উঠলাম,
বিস্ময় নিয়ে উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম,
-খুব অবাক হচ্ছো তাই না আমার কথা গুলো শুনে,
তোমার মনে হয়তো এই প্রশ্ন জাগছে সবটা জেনেও আমি কেন চুপ করে রইলাম,
বলেই উনি আমার দিকে ঘুরে তাকালেন,আমি তখনও বিস্মিত হয়ে প্রশ্নবিদ্ধ চোখে উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম,
উনি আবার বলতে লাগলেন,আমি কাব্য কে খুব ভালো করে চিনি কাল যখন ও তোমাকে বিয়ে করে নিয়ে এসে ওই সব বললো ওর কথা বলার ধরন আর ওর চোঁখ মুখ দেখে আমার কিছুটা কটকা লাগে কেন জানি মনে হচ্ছিল কাব্য কিছু আড়াল করতে চাইছে আর তুমি খুব ভয় পেয়ে আছো।কিছু একটা গন্ডগোল আছে,তুমি যখন বললে ও তোমাকে জোর করে বিয়ে করেছে আর এর পর কাব্য যা বলেছে কেন জানি তোমার বলা কথাগুলো আমার বিশ্বাস যোগ্য মনে হয়েছে,তখন আমি কিছু বলিনি কারন আমি কাব্যের কষ্ট সহ্য করতে পারবো না,তোমাকে যখন ও বিয়ে করেছে ও সত্যি তোমাকে ভালোবাসে কারন কাব্য মন থেকে কিছু না চাইলে তার জন্য কখনও জোর করেনা।
আমি যদি তখন তোমার সাপোর্টে চলে যেতাম তাহলে তোমার ফ্যামেলি ও তোমার কথা বিশ্বাস করতো আর তারা এ বিয়ে কিছুতেই মেনে নিত না,
আর তারা যদি তোমাকে নিয়ে যেত তাহলে কাব্য তোমাকে পাওয়ার জন্য কতটা মরিয়া হয়ে উঠতো সেটা আমার থেকে ভালো কেউ জানে না,
তোমাকে পাওয়ার জন্য ও যা করেছে তুমি চলে গেলে হয়তো এর থেকে বেশি ভয়ংকর কিছু করে ফেলতো ,
ছোট বেলা থেকেই ওর যেটা ভালো লাগে বা পছন্দ হয় সেটা ও না পেলে জোর করে নয়তো বা চিনিয়ে নিয়ে নিজের করে নেয়,
সবার ভালের জন্য আমি সব জেনে ও চুপ করে রইলাম,আমার ছেলেটা ওতোটাও খারাপ নয় ,ও হয়তো একটু বেশী রাগী কিন্তু ওর ভালো লাগার জিনেসের যত্ন নিতে জানে মন প্রান দিয়ে ,ওর সাথে কখনই তুমি অসুখি হবে না ,
ও যখন তোমায় ভালবেসে তাহলে ও নিজের সব কিছু দিয়ে তোমাকে ভালো ও সুখী রাখার চেষ্টা করবে ,ও যতটা রাগী ওর ভালোবাসা ততোটা গভীর।
আমি ভাষাহীন ভাবে আন্টির বলা কথাগুলো শুনতে লাগলাম ,
আন্টি আমার পাশে এসে বসলেন,
তারপর আবার বলতে লাগলেন,আমার ছেলেটা তোমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে ওর চোঁখে আমি তোমার জন্য তীব্র ভালোবাসা দেখেছি,
তোমাকে পাওয়ার পথটা হয়তো অন্যায় ছিল,কিন্তু ওর ভালবাসাটা সত্য,
আন্টি আমার হাত ধরে বলতে লাগলেন ,
তুমি ওকে একটু মানিয়ে নেওয়া চেষ্টা করো মা ,
আমার ছেলেটা তোমাকে ছাড়া ভালো ভাবে বাঁচতে পারবে না,
ওর ভালো থাকা সুখে থাকা তোমার উপর নির্ভর করছে,ছোটবেলা থেকে ও যা চেয়ে তাই পেয়েছে ,
আমরা ওর কোনো চাওয়াই অপূর্ন রাখিনি,
জানি না তোমার ব্যাপারে ও আমাদের কিছু না জানিয়ে এমনটা কেন করল,
ওর কষ্ট আমি বেঁচে থাকতে কিছুতেই সহ্য করতে পারবো না ,
বলেই আন্টি মাথা নিচু করে রইলেন আন্টি চোঁখ থেকে এক ফোটা জল গড়িয়ে আমার হাতে পরল,
সাথে সাথে আমার বিস্ময়ের ঘোর কাঁটল,আমি উনাকে ডেকে উঠলাম,
-আন্টি !!
আমার ডাক শুনে উনি মাথা তুলে তাকালেন আমার দিকে আমার হাত ছেড়ে দিয়ে উনি নিজের হাত দিয়ে চোঁখের জল মুছতে মুছতে বলে উঠলেন,
-তুমি আমাকে আন্টি না ডেকে মা বলে ডাকলে আমি বেশি খুশি হবো,
আন্টির কথার প্রতুত্তরে আমি কি বলব কিছুই খুঁজে পেলাম না,
আমি কিছু না বলে ছলছল চোঁখ নিয়ে বেরিয়ে এলাম উনার ঘর থেকে ।
.
,
নিচে ড্রয়িং রুমে চলে এলাম,এসে দেখলাম কাব্য ভাইয়া সোফায় শুয়ে শুয়ে ফোন
টিপছেন,আমি আড় চোঁখে একবার উনাকে দেখলাম,সুন্দর নিখুঁত সব দিকে পার্ফেক্ট একজন সুপুরুষ ,এই মানুষটা আমার স্বামী ,উনার মতো এমন একজন পুরুষকে স্বামী হিসেবে পাওয়া সব মেয়েদেরই স্বপ্ন,
এমন একজন মানুষ আমার মতো সাধারন ভীতু একটা মেয়েকে ভালবাসেন,সত্যি কি উনি আমাকে এতোটা ভালবাসেন,
কিছুই বুঝতে পারছি না ,কি করবো আমি কি করা উচিত আমার ,আমি কেন উনাকে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না,
কিচ্ছু ভালো লাগছে না ,কিছুই আর ভাবতে পারছি না,সত্য মিথ্যার বেড়াজালে জরিয়ে গেছি আমি ,কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে কিছুই বুঝতে পারছি না।
উনার কাছে যেতে লাগলাম নাস্তা করছেন কিনা জিজ্ঞেস করার জন্য ,উনার একটু কাছে গিয়ে ও ফিরে এলাম জিজ্ঞেস না করে,
.
,
ডাইনিং টেবিলে আসতেই আপু নাস্তা করার জন্য বলতে লাগলেন,আমি আপুকে কিছু না বলে চেয়ারে বসে পরলাম ,আন্টির বল কথাগুলো মাথার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে,উনার বলা কথাগুলো আবার ভাবতে লাগলাম,
হঠাৎ কানের কাছে কেউ ফিসফিয়ে বলে উঠল,
আই লাভ ইউ বউ!!!
আমি চমকে উঠে পাশ ফিরে তাকাতেই দেখি কাব্য ভাইয়া আমার পাশে হাসি হাসি মুখে বসে আছেন,
-স্বামীকে ছাড়াই খেতে বসে গেলে ,তোমার সাথে খাবো বলে না খেয়ে বসে আছি আর তুমি কিনা আমাকে একবার জিজ্ঞেসও করলে না আমি খেয়েছি কি না,কাব্য ভাইয়া দু:খি দু:খি মুখ বানিয়ে কথাগুলো বললেন,
-আমি তো কাউকে খেতে মানা করিনি,বিরক্তি নিয়ে কথাগুলো বলে আমি পাশ ফিরে তাকাতেই উনি কাজের লোক আপু সবার সামনে আমার গালে চটাস করে কিস করে বসলেন,উনার এমন নির্লজ্জ কাজে আমি বেকুব বনে গেলাম,গালে হাত দিয়ে অস্বস্তি নিয়ে সবার দিকে তাকালাম,
তাকিয়ে দেখি কাজের ছেলে মেয়ে গুলি একে অন্যের কানে কিছু ফিসফিস করে বলছে আর মিটমিটিয়ে হাসছে,আপুও অন্যদিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছেন,
লজ্জায় আমার মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল,
অসভ্য লোক কোথাকার,অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে উনার দিকে তাকিয়ে দেখি সে যেন কিছুই হয়নি এমন একটা ভাব নিয়ে খাবার খাচ্ছে,
ইচ্ছে হচ্ছে এই বজ্জাতটাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলি ,শয়তানের নানা,ফাজিল ছেলে শুধু আমাকে বিব্রত করা,

.
আমি মাথা নিচু করে নাস্তা করছি এমন সময় কারো চিৎকার শুনে সবাই মিলে দরজার দিকে তাকালাম, কে এসেছে দেখার জন্য ,সামনে তাকিয়ে আমি বিম্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম,
আমার নাম ধরে একটা চাপা চিৎকার দিয়ে এই মাএ আসা আগন্তুকটি দৌড়ে এসে সবার সামনে আমায় জড়িয়ে ধরল,
আচমকা এমন একটা ঘটনায় আমি থতমত খেয়ে গেলাম,
সবকিছু আগে আমি কাব্য ভাইয়ার দিকে তাকালাম,
তাকিয়ে দেখি কাব্য ভাইয়ার চোঁখ মুখের ভয়ংকর অবস্থা ,উনি রক্তচুক্ষু নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।
#চলবে???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here