অবশেষে তোমায় হলো পাওয়া শেষ পর্ব

0
64

#অবশেষে_তোমায়_হলো_পাওয়া
#পর্ব ১০ এবং শেষ
#তামান্না_ইসলাম_কথা

মোয়াজকে এরেস্ট করা হয়েছে আজকে এক সপ্তাহ হয়ে গেছে। আগামীকাল কোর্টে নেওয়া হবে। এই এক সপ্তাহে অনেক কিছু ঘটে গেছে। রফিক সাহেবের শরীর রেসপন্স করেছে। সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ না হলেও কথা বলতে পারে ধীরে ধীরে। ওইদিন রাতে কি হয়েছে ছিলো আর কে উনাকে ইনজেকশন পুশ করেছিল সেইসব কিছু জানতে পেরেছে। এইদিকে লিজার বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণ কালেক্ট করা হয়েছে। যদিও এতে সব কিছু প্রমাণ হবে না, তবে মোয়াজকে বেল পেতে সাহায্য করবে।

” কথা এতটা রিস্ক নেয়া কি ঠিক হবে? এমনিতেই উনার লাইফ রিস্ক আছে।”

” রিয়াদ একদম ঠিক কথা বলেছে কথা। এইটা বেশি রিস্ক হয়ে যাচ্ছে।”

রিয়াদের কথার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদের বাবা নিশাদ সাহেব‌‌‌ একই কথা বললেন কথাকে। কথাও মনোযোগ সহকারে কথা গুলো শুনলো।

” হ্যাঁ আংকেল এইটা রিস্ক। কিন্তু এই রিস্ক না নিলে আপনাদের সবাইকে রিস্কে নিয়ে চলতে হবে। সুমন সিকদার আর ইয়াসমিন আরাফাত মিলে যেই প্লানিং করেছে সেই প্লানে তাঁদের কুপোকাত করতে হবে। আমার আর মোয়াজের বিয়ের কথা শুনে নিজের মেয়েকে দিয়ে যেই কার্যসিদ্ধি করতে চাই তারা আমি তা হতে দিবো না।”

” কিন্তু কথা…”

” আমি রফিক সাহেবের হাতের আংটির মাঝে একটা ছোট ট্রাকিং ডিভাইজ সেট করে দিয়েছি। আর উনার শার্টের উপরের বোতামে হিডেন ক্যামেরাও আছে। আর পুলিশকে তো আগে থেকেই ইনফর্ম করা আছে। এখন শুধু প্লান মোতাকেব আমাদের কাজ করতে হবে। আই থিংক একটু পরে থেকেই….”

” স্যার ২০২ নাম্বার কেবিনের পেশেন্ট কেবিনে নেই। তাকে কোথায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

নিজের কথা শেষ হওয়ার আগেই একজন নার্স এসে ড. নিশাদকে কথা গুলো বললো।

” নেই মানে কী? ২০২ নাম্বার কেবিনে কার ডিউটি ছিল? আর সম্পূর্ণ হসপিটাল খুঁজে দেখো। একটা মানুষ কি ভাবে এভাবে হারিয়ে যেতে পারে? হসপিটাল অথরিটির কাছে এখন কি বলবো আমি? যাও সবাই মিলে খুঁজে বের করো তাকে।”

ড. নিশাদ চিল্লিয়ে নার্সকে কথা গুলো বলতেই নার্স মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে বললো।

” স্যার ওই কেবিনে নার্স সুমির ডিউটি ছিল। কে জানি উনাকে সেখানে আহত করে ফেলে রেখে গিয়েছে।”

” যাও সবাই পেশেন্টকে খুঁজ বের করো।”

ড. নিশাদ কথা গুলো বলতেই নার্স সেখান থেকে চলে যায়।

” আংকেল কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন আমাদের কাজে লেগে যেতে হবে। নয়তো দেরি হয়ে যাবে।”

নিশাদ সাহেবকে কথা গুলো বলতেই উনি মাথা নেড়ে সম্মতি দিতেই কথা, রিয়াদ, কনা এবং মীম সবাই হসপিটাল থেকে বের হয়ে আসে। আর নিজ নিজ কাজে লেগে পড়ে।

——

” কি রে রফিক কি খবর তোর? শালা কৈই মাছের জান তোর। যেই বিষ প্রয়োগ করে ছিলাম সেই বিষে এতো দিনে তুই গলে পচে মরে যেতি। কিন্তু ওই কথা! আমার সব কিছু ভেস্তে দিলো। কি ভেবেছিলো আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগবে আর আমি জানবো না? যেমন করে ওর বাপকে মেরেছি তেমন করে ওঁকেও মেরে ফেলবো। তার আগে তোকে মরতে হবে। তুই মরে গেলে আর কোনো প্রমাণ থাকবে না আমাদের বিরুদ্ধে। আমার মেয়েকে কাঁদিয়েছে তার সুদ আমি নিবোই। তিলে তিলে গড়ে তোলা আমার তাসের ঘর ওই পুঁচকে মেয়ে নিমিষেই ভেঙে দিবে আর আমি সেটা দেখবো?”

রফিক সাহেবের চারপাশে গোল চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে কথা গুলো বললেন সুমন সিকদার। তার থেকে একটু দূরে ইয়াসমিন আরাফাত দাঁড়িয়ে আছেন।
শহর থেকে বেশি কিছুটা দূরে একটা পরিত্যক্ত গ্যারাজে নিয়ে আসা হয়েছে রফিক সাহেবকে।

” একদিন সব সত্যি সবার সামনে আসবে সুমন সিকদার। আমাকে মেরে ফেললেও যে মেয়ে তোমার পিছনে আদাজল খেয়ে লেগেছে সে আমার মৃত্যুর পর আরো মরিয়া হয়ে উঠবে তোমাকে ধংস করতে। তোমার মিথ্যের পাহাড় ভেঙে গুঁড়িয়ে দিবে।”

” তার আগেই কথা শেষ হয়ে যাবে। আর কথা শেষ হওয়ার আগে তোকে শেষ করি। ইয়াসমিন?”

সুমন সিকদার রফিক সাহেবকে কথা গুলো মিসেস আরাফাতকে ডেকে উঠতে তিনি নিজ সাইড ব্যাগ থেকে একটা গাণ বের করে এগিয়ে আসে সুমন সিকদারের দিকে।

” অনেক বেঁচে থেকেছো রফিক এবার তোমার মরার পালা।”

” ডোন্ড মুভ মিস্টার সিকদার। যদি নিজ জায়গা থেকে একচুল নড়ার চেষ্টা করেছেন তো আমি আপনার প্রাত্তন এবং ক্রাইম পার্টণারকে শুট করে দিবো। আর হ্যাঁ পুলিশ কিন্তু ও আছে। সো বি কেয়ার ফুল।”

রফিক সাহেবের দিকে তাক করে রাখা ট্রিগারে চাপ দেওয়ার আগেই সেখান কথা সহ পুলিশ উক্ত স্থানে এসে উপস্থিত হয়। এবং সুমন সিকদার সহ ইয়াসমিন আরাফাতকে হাতে নাতে ধরে ফেলে তারা।

” কি মিস্টার সিকদার! কি ভেবেছিলেন আপনি একেরপর এক ক্রাইম করে যাবেন আর কেউ কিছু বুঝতে পারবে না? আপনাকে কেউ শাস্তি দিতে পারবে না? আমার বাবাকে মেরে আবার আমার মা’কে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন আপনি। শুধু আমার মা-বাবাকে না, মোয়াজের মা’কে মেরে ফেলেছেন আপনি। আর সুন্দর করে সেটা হার্ট অ্যাটাক বলে চালিয়ে দিয়েছেন। তাকে মারার কি কারণ ছিল মিস্টার সিকদার?”

” তুমি এতো কিছু জানলে কি করে? তোমাকে এইসব কথা কে বলেছে?”

কথার মুখে নিজের কুকর্মের কথা শুনে অবাক আর কিছুটা বিচলিত হয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। সুমন সিকদারের কথা শুনে হেয়ো হাসলো কথা।

” আমি কি করে জানি সেটা বড় কথা নয় মিস্টার সিকদার। বড় কথা হচ্ছে, আমি যেই কথা গুলো বলেছি তার মাঝে চুল পরিমান মিথ্যে নেই এইটা।”

” হ্যাঁ আমি মেরেছি মোয়াজের মা’কে। আমার সব কুকর্মের কথা সে জেনে গিয়েছিল। ভয় দেখাচ্ছি আমাকে। আর তোর বাপের কাছে আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ দিয়ে ছিল। তাই মোয়াজের মা’কে বালিশ চাপা দিয়ে আমি তাকে মেরে ফেলেছি। আর তোর বাপকে গাড়ি চাপা দিয়ে। কিন্তু ইয়ামিদের এতো এতো সম্পত্তি দেখে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি। তাইতো নিজের ভালোবাসার মানুষকে দিয়ে ইয়ামিদের বিয়ে দিয়ে দেয়। মিথ্যে কথা বলে। বলি যে, মোয়াজের জন্য বিয়ে করতে। এতে করে সে মা পাবে। আর বোকা ইয়ামিদ ও আমার কথা মেনে নিয়ে আমার প্রাত্তনকে বিয়ে করে। তারপর সব কিছু ঠিক ছিল। কিন্তু জানিনা হঠাৎ করে সব সম্পত্তি মোয়াজের নামে করে দিলো ইয়ামিদ। তারপর থেকে আবার নতুন করে সব কিছু পরিকল্পনা করতে থাকি। সব কিছু ঠিক ছিল কিন্তু কোথা থেকে মোয়াজ তোকে বিয়ে করে নিয়ে আসলো আর আমার সব কিছু ভেস্তে দিতে চাইছিল। তাইতো আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছি।”

রাগ আর ক্ষুভ থেকে সব সত্যি কথা বলে দেয় সুমন সিকদার। যদিও কথা সব সত্যি জানতো না কিন্তু কিছুটা সন্দেহ ছিল। আর সেই সন্দেহ থেকেই সত্যি কথা বের হয়ে আসলো।

” আপনি কি সত্যি কোনো বাবা? নিজের সাধ্য হাসিল করার জন্য নিজের মেয়েকেও ব্যবহার করতে দুইবার ভাবলেন না? এইবার নিজে থেকে প্রস্তুত হয়ে যান সারাজীবন অন্ধকার জেলে পচে গলে মরার জন্য।”

কথা বলা শেষ হতেই পুলিশ অফিসার সুমন সিকদার আর ইয়াসমিন আরাফাতকে সেখান থেকে ধরে নিয়ে চলে যায়। আর কথা ‌সহ বাকি সবাই সেখান থেকে বিজয়ের হাসি হেসে প্রস্থান নেন। এখন উদ্দেশ্য থানায় যাওয়া এবং সকল প্রমাণ পেশ করে মোয়াজকে মুক্তি করা।

——-

” ধন্যবাদ মোয়াজ সাহেব।”

” কেন?”

” আপনি যদি এতো সাহায্য না করতেন তাহলে আমি এতো তাড়াতাড়ি সত্যিটা জানতে পারতাম না। ধন্যবাদ আপনাকে।”

রাত দশটা বাজে।‌ মোয়াজের সাথে ব্যালকনিতে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে দুইজন।

” আমার অন্ধকার জীবনে,
তুমি এই ফালি রোধ।
আমার মুক্ত আকাশে,
তুমি সাত রঙা প্রজাপতির মেঘফুল।
আমার এই ছোট জীবনে,
অবশেষে তোমায় হলো পাওয়া।”🤍

সমাপ্ত
( আসসালামুয়ালাইকুম।এই ভাবে শেষ করে দেওয়ার কোনো রকম ইচ্ছে আমার ছিলো না। তবে আমি মেন্টালি এবং ফিজিক্যালি দুইভাবে অসুস্থ তার জন্য আমাকে এভাবে শেষ করতে হলো। যদি বেঁচে থাকি তাহলে হয়তো আবারো কোনো গল্প নিয়ে ফিরবো। তখন নিজেকে মেন্টালি এবং ফিজিক্যালি দুইভাবে সুস্থ করে ফিরে আসবো। ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here