শেষ বিকেলের প্রণয় পর্ব ১৪

0
686
Made with LogoLicious Add Your Logo App

#শেষ_বিকেলের_প্রণয়
#আলো_ইসলাম
১৪

– ব্রো সা’প! হঠাৎ রোহানের এমন কথায় ঘাবড়ে যায় তাশরিফ। ভ্রু কুচকে বলে কোথায় সা’প?
– গার্ডেনে অনেক বড় সা’প’! কিছুটা হাঁপানোর সুরে বলে রোহান।

– গার্ডেনে সাপ তো তুই এখানে করছিস? মালি কাকা কোথায় তাকে গিয়ে বল। তাশরিফের কথায় রোহান বলে মালি আঙ্কেল কে পেলাম না বলে তো তোমার কাছে আসলাম। তাড়াতাড়ি চলো ব্রো নয়তো পরে সমস্যা হতে পারে। বাড়িতে এখন মেয়েরা থাকে৷ কখন কোন ঘরে ঢুকে যাবে তখন কি হবে বুঝতে পারছো? তাছাড়া তুমি তো জানোই আমি সা’প দেখে কতটা ভয় পাই ছোট থেকে। রোহানের কথায় তাশরিফ বিরক্তিকর চাহনি রেখে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যায়৷ যাওয়ার আগে বলে আবিরকে নিয়ে গার্ডেনে আসতে। তাশরিফ বেরিয়ে যেতেই রোহান ইয়েস বলে লাফিয়ে উঠে। আলমারি খোলা থেকে যায় তাশরিফের। রোহান ছুটি আর ছায়াকে ইশারা করে ডাকে৷ ওরা আসলে রোহান চলে যায় গার্ডেনের দিকে।

– তাড়াতাড়ি করবি কিন্তু আপাই৷ বেশি সময় আমাদের হাতে নেই৷ রোহান ভাইয়ার আইডিয়াটা কিন্তু জোশ ছিলো বল। ছায়া বলে হেসে।

— ছুটি আলমারিতে কাগজটা খুঁজতে থাকে। নিচের থাকে তিনটা ফাইল রাখা আছে। এর মধ্যে কোনোটাই আছে হয়তো। ছায়া দরজায় দাঁড়িয়ে দেখে কেউ আসছে নাকি। আর ছুটি তার কাজ করছে৷ ওইদিকে রোহান,আবির, তাশরিফ সা’প খুঁজতে ব্যস্ত৷ সাপ থাকলে তবে না পাবে৷ রোহান তো মিথ্যা বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায় তাশরিফকে। রোহান সুযোগে ছিলো। যখনই তাশরিফ আলমারি খুলে কিছু করবে তখনই কিছু একটা বলে বাইরে নিয়ে যাবে তাশরিফকে। আর এই আইডিয়ার কথায় গতদিন বলেছিলো সবাইকে। কিন্তু কেউ পাত্তা দেয়নি তখন রোহানের কথা৷

— ছুটি খুবই ব্যস্ততার সাথে কাগজটা খুঁজছে। ছায়া তাড়া দিচ্ছে ওদিক থেকে। মধ্যেকার ফাইলে কাঙ্ক্ষিত বস্তুর দেখা মিলে। প্রাপ্তির হাসি ফুটে ছুটির মুখে। সময় নষ্ট না করে ছুটি ফোনে ছবি তুলে নেয়। এখন এত কিছু দেখার সময় নেই। তাছাড়া তাশরিফ আসলে সন্দেহ করবে। ছুটি সব কিছু জায়গা মতো রেখে আলমারি বন্ধ করে তখনই তাশরিফ আসে ঘরে।

– তুমি এখানে? হকচকিয়ে উঠে ছুটি। ছায়া তো তাশরিফকে দেখেই কেটে পড়েছে। ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে ফোন টা পেছনে করে।

– কি লুকাচ্ছো তুমি? আর তুমি কি করছিলে আমার আলমারিতে? গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে তাশরিফ।
– কিছু না তো! আ-আ আমি আবার কি লুকাবো।তোমার আলমারিতে আমার কি কাজ। হাসার চেষ্টা করে বলে ছুটি।

– তাশরিফ সন্দিহান চোখে এগিয়ে যায় ছুটির দিকে৷ ছুটি শুকনো ঢোক গিলে পিছিয়ে যায়।

– তোমার হাতে কি দেখি? তাশরিফের কথায় ছুটি হাত সামনে এনে বলে কোথায় কি? আমার ফোন! তাশরিফ এখনো সন্দিহান চোখে তাকিয়ে থাকে।

– আজব তো এইভাবে তাকিয়ে থাকার কি আছে। তোমার কি মনে হয় আমি তোমার ঘরে চুরি করতে ঢুকেছি৷ ধন-সম্পদ রাখা আছে তোমার আলমারিতে তাই নিতে এসেছি? আমি তো এপাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম তোমার ঘরের আলমারি খোলা তাই এটা বন্ধ করতে আসলাম৷ এখন দেখছি উল্টো আমাকেই সন্দেহ করা হচ্ছে৷ এখনো এখানেই আছি কোথাও তো যাইনি, তুমি দেখোনা তোমার আলমারির কিছু হারিয়েছে কি-না।

– শাট আপ ছুটি, কি বাজে বকছো? আমি কখন বললাম তুমি কিছু চুরি করেছো আমার ঘরে৷ আমি তো জাস্ট এমনি জিজ্ঞেস করলাম এখানে কি করছো? তাশরিফের কথায় ছুটি রাগী ভাব নিয়ে বলে সে তো বুঝতে পারছি আপনি কি বলছেন না বলছেন৷ আমার আসাই ভুল হয়েছে এখানে কথাটা বলতে বলতে বেরিয়ে যায় ছুটি। তাশরিফ বোকা বনে যায় নিজের কাজে। ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটি টানা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। জোর বাঁচা বেঁচে গেছে সে। কিন্তু ছায়া টা গেলো কোথায় খুঁজে ছুটি।

– তাশরিফের খেয়ালে আসে কাগজটার কথা। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ফাইল খুলে কাগজ টা দেখে শান্তির নিশ্বাস ছাড়ে। তার মানে ছুটি কিছু দেখেনি ভাবে তাশরিফ।

— ফোন সামনে নিয়ে গম্ভীর মুখে বসে আছে সবাই। কাগজে যা লেখা আছে তা যেনো কারোরই বিশ্বাস হচ্ছে না। তাশরিফ টাকার জন্য তার কন্ঠ বিক্রি করবে এটা কখনোই হতে পারেনা। তাও আসিফের কাছে। কাগজ টা হলো একটা এগ্রিমেন্ট। যেখানে লেখা আছে তাশরিফ দুই কোটি টাকার বিনিময়ে তার গান, তার কন্ঠ বিক্রি করে দেয় আসিফের কাছে। আসিফ না চাওয়া পর্যন্ত তাশরিফ কখনো গান গাইতে পারবে না।

— এটা কখনোই হতে পারেনা৷ তাশরিফ এমন কাজ কখনো করবে না আমি জানি। এটা মিথ্যা, আবির বলে উত্তেজিত কন্ঠে।
– কিন্তু এটা তো ব্রোর সাইন! মনে হচ্ছেনা কেউ নকল করেছে। আর যদি তাই হবে তাহলে ব্রো কেনো যত্ন করে এই কাগজ রেখে দেবে? রোহানের কথায় ছুটি বলে এই জন্য উনি গান থেকে দূরে আছেন৷ কিন্তু উনি কেনো আসিফের কাছেই এটা করতে গেলেন তাছাড়া উনার তো টাকার দরকার ছিলোনা৷ টপ বিজনেসম্যানদের মধ্যে রানীমা একজন। তাহলে কিসের প্রয়োজন তার এত টাকার?

– ঘুরেফিরে সেই আসিফ চলে আসছে সব জায়গায়। আমার তো এখন আসিফকেই সন্দেহ হচ্ছে আপাই। ছায়ার কথায় আবির বলে আমারও।

— উকিল সাহেব কিছু বুঝলেন? আপনি উকিল মানুষ আপনার তো চিকন বুদ্ধি থাকার কথা৷ কি করছেন না করছেন কিছুই বুঝছি না৷ এইভাবে এগুতে থাকলে পারবেন নির্দোষ প্রমাণ করতে আপনার ক্লায়েন্টকে? ছুটির কথায় রোহান অসহায় মুখ করে বলে আমাকে কেনো বলছো এইসব। আমি তো চেষ্টা করছি আমার মতো। আমি বুঝতে পারছি না এই এগ্রিমেন্টের মানে কি? ব্রো এমন কাজ করবে আমি বিশ্বাস করিনা৷ সব যেনো গোলমাল পাকিয়ে যাচ্ছে।।

– আচ্ছা আমি কি একবার আসিফের সাথে কথা বলে দেখবো এই বিষয়ে? ছুটির কথায় আবির বলে একদম এমন কিছু করতে যেওনা৷ তাশরিফ জানতে পারলে খুব খারাপ হয়ে যাবে ব্যাপারটা। ওকে সামলানো যাবে না তখন৷ তাছাড়া আসিফকে কিছু জিজ্ঞেস করলে যে সব বলে দেবে এমন নয়। আবিরের কথায় হতাশ হয় সবাই।

— কিছু দিন পর,,,,

– তাশরিফ হাজির হয় ছুটির বাড়িতে। সাথে আসিফও আছে। আসিফের সাথে ছায়ার বিয়ের কথা বলার জন্য এসেছে তারা। তাশরিফ আগেই সবটা জানিয়ে রেখেছে আরমান তালুকদারকে৷ বড় মেয়ের আগে ছোট মেয়ের বিয়ে কিভাবে দেবে সে। পরে যখন শুনে আসিফের কথা তখন রাজি হয়ে যায় তিনি৷ কিন্তু তাশরিফ বারণ করেন আরমান তালুকদারকে। আসিফের সামনে কি কি বলতে হবে সবটাই বলে রাখেন৷ যাতে আসিফ এটা বুঝে তাশরিফ তার কাজ করেছে কিন্তু আরমান তালুকদার রাজিনা মেয়ের বিয়ে দিতে। যাকে বলে” সা’পও মরবে লাঠিও ভাঙবে না।”

— তাশরিফ ছুটিদের কিছু জানায় না এই বিষয়ে৷ কিছু বলতে গেলে সন্দেহ করবে সবাই৷ তাই যা করার আরমান তালুকদারকে দিয়ে করাতে চাই তাশরিফ । শুধু সবাইকে ছুটির বাড়িতে আসতে বলে বিকালের দিকে।

–ছায়া, ছুটি, আবির, রোহান সবাই উপস্থিত। আসিফ বসে, তার পাশে তাশরিফ। সামনে অনেক গুলো মিষ্টির প্যাকেট আর কিছু ফলমূল রাখা। আরমান তালুকদার একপাশে বসে৷ ছাবিনা তালুকদার সবার জন্য নাস্তার ব্যবস্থা করছে।

— তোমরা হঠাৎ আমার এখানে কি মনে করে তাশরিফ বাবা? আরমান তালুকদার এমন ভান ধরে যে,তিনি কিছুই জানেন না।

– তাশরিফ একটু নড়েচড়ে বসে, এরপর সবার দিকে এক নজর তাকিয়ে বলে আসলে আঙ্কেল আমি এসেছি ছায়ার সাথে আসিফের বিয়ে প্রস্তাব নিয়ে। কথাটা সবার কর্ণপাত হওয়া মাত্রই পায়ে তলা থেকে মাটি সরে যায় যেনো। বিশেষ করে ছায়া, ছুটি আর আবিরের মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে।

– কিহ! উচ্চস্বরে বলে ছুটি। ছায়া ঘাবড়ে যাওয়া ফেসে আবিরের দিকে তাকায়। আবিরের অসহায় চাহনি।

– কি বললাম শুনতে পাওনি। আসিফ আর ছায়ার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি। আসিফ, ছায়াকে অনেক পছন্দ করে ফেলে সেদিন দেখে৷ তাই ওকে বিয়ে করতে চাই। আসিফ কিন্তু অনেক ভালো ছেলে৷ নাম ডাক যথেষ্ট আছে, ছায়া সুখেই থাকবে৷ তাশরিফের গলা ধরে যায় কথাটা বলতে গিয়ে। এদিকে আসিফ মুখে হাসি ঝুলিয়ে লাজুক ভাব নিয়ে বসে।

— উনার পছন্দই তো সব না, আমাদেরও পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার আছে! ছুটি বলে কড়া মেজাজে। এদিক আসিফের মুখটা যেনো মলিন হয়ে যায়।

– মানে? তাশরিফ মনে মনে খুশি হয় ছুটির কথায় কিন্তু উপরে ভাব রাখে সে বিষয় টা নিয়ে সিরিয়াস।

— মানে আমি বলছি ভাইয়া! ছায়ার কথায় আসিফ, তাশরিফ রোহান সবাই ওর দিকে তাকায়।

– আমি উনাকে বিয়ে করতে পারবো না। উনি আমাকে পছন্দ করলেও উনাকে আমার পছন্দ না জীবন সঙ্গী হিসেবে। একজন পছন্দের গায়ক উনি ঠিক আছে তাই বলে বিয়ে ইম্পসিবল।
– কারণটা জানতে পারি? গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে আসিফ।
– অবশ্যই! কারণ আমি একজনকে ভালোবাসি। ছায়ার কথায় উঠে দাঁড়ায় আসিফ।

– কাকে ভালোবাসো? দাঁতে দাঁত চেপে বলে আসিফ.।
– সে যেই হোক! আপনার না জানলেও চলবে৷ আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না এইটুকু জেনে রাখেন শুধু।

আসিফ রাগে মুষ্টিবদ্ধ করে। তাশরিফ বেজায় খুশি।

– তুমি কিন্তু ভুল করছো ছায়া, আসিফকে ফিরিয়ে দিয়ে ঠিক করছো না। এখনো সময় আছে ভেবে দেখো তুমি। তাশরিফের কথা শেষ হতেই আসিফ বলে চল এখান থেকে।

– কিন্তু আসিফ ছায়া,, আসিফ তাশরিফের দিকে তাকিয়ে হনহন করে বেরিয়ে যায়। এদিকে আবির খুশি খুব৷ ছায়া কি তাহলে তার কথায় বললো।

– আসিফ যেতেই তাশরিফ মুচকি হাসে।
– আমাকে তো কিছুই করা লাগলো না তাশরিফ, যা বলার আমার মেয়েরাই বলে দিলো। আরমান তালুকদারের কথায় তাশরিফ ছুটির দিকে তাকিয়ে বলে আপনি আর কি বলবেন আঙ্কেল আপনার মেয়ে তো ফিরায় দিলো৷ এটা কিন্তু ঠিক হলো না।

তাশরিফের কথায় আরমান তালুকদার অবাক হয়ে বলে এইসব কি বলছো তুমি? তুমি না আমাকে বলেছিলে.. হ্যাঁ বলেছিলাম তো আসিফের কথা তাতে কি? যাই হোক আমি আসছি বলে তাশরিফ বেরিয়ে যায়। ছুটি সন্দিহান চোখে তাকিয়ে থাকে। এদিকে আরমান তালুকদার কিছুই বুঝতে পারেনা কি হলো ব্যাপারটা।

–ঘরের জিনিস একে একে ছুড়ে মারে আসিফ। ছায়া রিজেক্ট করায় ইগোতে লাগে তার৷ সবার সামনে এইভাবে অপমান মেনে নিতে পারছে না৷ তাশরিফও এর মধ্যে আছে বলে ধরে নিয়েছে আসিফ।

* আমার সাথে কাজটা ঠিক করলে না তোমরা। আর তাশরিফ তুই! তুই আমার সাথে চালাকি করিস তাই তো৷ তুই কি ভেবেছিস আমি কিছু বুঝবো না৷ এবার দেখ এই আসিফ কি করতে পারে। ছায়াকে আমার করে ছাড়বো৷ ওকে আমার পায়ের তলায় এনে ফেলবো। আমাকে রিজেক্ট করার শাস্তি ভোগ করবে ও। আচ্ছা ছায়া কাকে ভালোবাসে? জানতে হবে এটা। এরপর একজনকে ফোন দিয়ে ছায়ার উপর নজর রাখতে বলে। কোথায় যায় কি করে সব কিছু।

— রাতে তাশরিফ বাড়িতে ফিরলে ছুটি আসে তাশরিফের ঘরে। তাশরিফের সাথে জরুরি কথা আছে তার। তাশরিফ ফ্রেস হয়ে এসে বসেছে মাত্র, তখনই ছুটি আসে।

– আসতে পারি? ছুটিকে দেখে তাশরিফ ভ্রু উঁচিয়ে বলে তুমি?
– তোমার সাথে কিছু কথা আছে আমার! ছুটির কথায় তাশরিফ ছোট ছোট চোখে তাকিয়ে বলে কি কথা?

– তুমি কি সত্যি চাও ছায়া আর আসিফের বিয়েটা হোক? ছুটির কথায় ঘাবড়ে যাওয়া চোখে তাকায় তাশরিফ। ছুটি আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে..

চলবে..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here