প্রেমের ঐশ্বর্য পর্ব ৩৮+৩৯

0
274

#প্রেমের_ঐশ্বর্য
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ৩৮

হালকা গোলাপি ছাপ পড়েছে ঐশ্বর্যের গালে। টকটকে হয়ে ফুটে উঠছে আস্তে আস্তে। প্রেম নামক ব্যক্তিটির কাছে থাকলে লজ্জায় ডুবে যেতে হবে হয়ত তাকে। হাত উঠিয়ে বিছানায় ভর দিয়ে উঠে যেতে চায় সে। প্রেম উঠতে দেয় না তাকে। হাত চেপে ধরে বলে,
“আমার কাজ শেষ হয়নি।”

“আমার লাগবেনা বরফ লাগানো। এমনি ঠিক হয়ে যায়।”

প্রেম কন্ঠ ভার করে জবাব দেয়,
“তোমার লাগবেনা। আমার লাগবে। লজ্জা পাচ্ছো বুঝি? আচ্ছা আর লজ্জা দেব না। আমার কাজ আমায় করতে দাও।”

ঐশ্বর্যও জোড়াজুড়ি করে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বলে ওঠে,
“উঁহু, ছাড়ুন। আপনার এতো সাহায্যের দরকার নেই আমার। ঐশ্বর্য সিনহা একাই চলতে পারে।”

ঐশ্বর্যের হাত আরো জোরে চেপে ধরে নিজের কাছে উল্টোভাবে বসিয়ে নিজের দুটো হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে জোড়ালো কন্ঠে বলে ওঠে,
“উহ…রং! ঐশ্বর্য সিনহা নয়। মিসেস. ঐশ্বর্য শেখ। আর শেখ আনন প্রেমের স্ত্রী বলে কথা! তার এই যোগ্যতা তো থাকবেই।”

“কিন্তু আমাকে আপনার সামনে ছোট তো আপনিই করেছেন তাই না মি. শেখ?”

কথাগুলো মস্তিষ্কে নাড়া দেওয়া মাত্র দেরি না করেই ফট করে উচ্চারণ করে দিল ঐশ্বর্য। প্রেম নিরব রইল এবার। ঐশ্বর্য জানে প্রেম আর কিছু বলতে পারবে না। তার কথা শুধুমাত্র ততোদূরই! প্রেম নিজেও জানে প্রেম তাকে ছোট করেছে। নিজের সাথে খানিকটা আলগা করে নিয়ে শার্টের কলার ধরে হালকা নামাতেই শার্ট চেপে ধরল ঐশ্বর্য। প্রেম আস্তে করে চেপে তার ঘাড়ে বরফ ছুঁইয়ে দিতে থাকে। ঠোঁট চেপে ঠান্ডা সহ্য করতে থাকে ঐশ্বর্য। বেশ কিছুক্ষণ চলে নিরবতা। হঠাৎ ঐশ্বর্যকে চমকে দিয়ে সে বলে,
“বিষয়টাকে তুমি দয়া না ভেবে অন্যকিছু ভাবতে পারতে না?”

ঐশ্বর্য যান্ত্রিকভাবে উত্তর দেয়,
“না পারতাম না। কারণ আপনার মনে আমার জন্য কোনো অনুভূতি ছিলই না।”

“কে বলল এটা তোমায়?”

ঐশ্বর্য ঘাড় ঘুরিয়ে প্রেমকে দেখার চেষ্টা করল। ঐশ্বর্য এতোদিন তাই জানতো। সে জানতো প্রেম কখনো কারোর খারাপ দেখতে পারে না। এই মানুষ, এই ব্যক্তিত্ব এতোটাই স্বচ্ছ যে নিজের কোনো শত্রুকেও আঘাত করতে তার হাত কাঁপবে। আসল প্রেমকে চেনার উপায় এটাই। সে স্বচ্ছ পানির ন্যায়! তার ব্যক্তিত্ব ভয়ানক প্রেম নামক সাগরে ফে’লে দেওয়ার মতো। ঐশ্বর্যও পড়েছে। নিজেকে আর বাঁচাতে পারছে না।

প্রেম ঐশ্বর্যের ঘাড়ের কাছ থেকে বরফ সরিয়ে ঐশ্বর্যের সেই নীল বর্ণের টানা সেই নয়নের দিকে। পলকহীন নজরে তাকিয়ে থেকে নিরবতা ভেঙে বলল,
“তোমায় কিছু বলার আছে আমার।”

একটু থামে প্রেম। বড় শ্বাস নিয়ে নেয়। ঐশ্বর্য ভ্রু বাঁকিয়ে তাকায়। উত্তরে কিছু বলতে নিলে তার আগেই প্রেম তাড়াহুড়ো করে বলে ফেলে,
“কিছু না। অনেক কিছু বলার আছে আমার। অনেক কথা!”

“কি কথা বলুন?”

প্রেম দম নেয় একটু। আশেপাশে তাকিয়ে বলে,
“না কিছুনা। ব্রেকফাস্ট করে নিতে হবে চলো। বলতে চাইছিলাম মালদ্বীপ ফার্স্ট এলাম। অনেক জায়গা ঘোরা বাকি। তোমার সাথে এই সুন্দর প্রকৃতি উপভোগ করা বাকি। তুমি পাশে থাকলে এই সৌন্দর্য দ্বিগুন মুগ্ধকর হয়ে উঠবে।”

ঐশ্বর্য কিছুক্ষণ চুপ থাকে। অতঃপর নিজের নেত্রপল্লব ছোট ছোট করে ফেলল। চিকন সুরে বলে উঠল,
“এক্সকিউজ মি! আপনি হয়ত ভুলে যাচ্ছেন আমার সাথে আমার কোনো ড্রেস আনা হয়নি। আপনার কি মনে হয়? আমি একবার শার্ট আর টাওজার পড়েই আপনার হাত ধরে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ব?”

“কেন পারবে না? তোমার আগের ড্রেসআপ তো এমনই ছিল। শার্ট, জ্যাকেট এসবই তো পড়তে পছন্দ করতে। এখন কেন পারবে না?”

“অবশ্যই পারব মি.! বাট এটা জেন্টস্ শার্ট। এটা আমায় পড়ে মনে হচ্ছে হাঁটু ছুঁইছুঁই। শর্ট টপস লাগছে একদম। এটা পড়ে আমি বাইরে বের হবো? নো ওয়ে!”

মুখ ফুলিয়ে কথাগুলো বলে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলে ঐশ্বর্য। প্রেম স্মিত হেঁসে বলে,
“ওয়েট অ্যা মিনিট।”

বেড থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সোফার কাছে দাঁড় করিয়ে রাখা লাগেজের কাছে গিয়ে সেটা তুলে লক খুলে নেয় প্রেম। ঐশ্বর্য মনোযোগের সাথে প্রেমের কর্ম দেখতে থাকে। যদিও প্রেম নিজের লাগেজ খুলে এমন কি জিনিস বের করতে চলেছে তা ঐশ্বর্যের অজানা। প্রেম তাকে হতবাক করে দিয়েই নিজের কয়েকটা কাপড় ঘেঁটে নিচ থেকে ঐশ্বর্যের একটা লং টপস্ বের করল। হতবিহ্বল হয়ে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল ঐশ্বর্য। তারপর নিজেকে সামলে তাৎক্ষণিক উঠে দাঁড়িয়ে হুড়মুড়িয়ে গিয়ে নিজের ড্রেসটা হাতে নিয়ে বলল,
“আরে এটা তো আমার ড্রেস! এটা কোত্থেকে এলো?”

প্রেম কনফিডেন্টলি জবাব দিল,
“অভিয়েসলি লাগেজ থেকেই!”

“ওহ হো! সেটা তো আমিও দেখলাম। বাট…”

কথার মাঝে থামে ঐশ্বর্য। কিছু একটা ভেবে সরু চোখে তাকায় সে। সন্দিহার হয়ে বলে,
“ওয়েট ওয়েট, আপনি আমার ড্রেস সাথে করে এনেছেন। অথচ আমাকে নিজের ড্রেস পড়তে দিলেন। লায়ার! চিটার!”

ক্ষুব্ধ হয়ে বলল ঐশ্বর্য। সাথে করে প্রেমের বুকেও কিল মেরে দিল। প্রেম শব্দ করে হেঁসে দিল। বুকের কাছে হাত রেখে বলল,
“আহা! এভাবে মারে নাকি কেউ? এখানে সযত্নে রাখা সেইসব অনুভূতি ভয় পাবে তো!”

ঐশ্বর্য থামলো। স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকলো। কিসের অনুভূতি জানতে মন আনচান করল তার।
“মানে? কিসের অনুভূতি?”

“সিক্রেট! বলা যাবেনা।”

ঐশ্বর্য মুখ ভেটকাতেই প্রেম আবারও লাগেজের নিচ থেকে ঐশ্বর্যের কয়েকটা ড্রেস বের করে দিয়ে বলল,
“দেখো, কোনটা পড়ে বের হবে। অনেক সকাল হয়েছে। ব্রেকফাস্ট করতে হবে। তারপর বাকিসব!”

ঐশ্বর্য বেছে বেছে হাতে একটা কালো রঙের টপ আর সাদা রঙের ব্লেজার আর লেডিস জিন্স হাতে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে। প্রেম ঠাঁই দাঁড়িয়ে হঠাৎ পিছু ডাকে ঐশ্বর্যকে। ঐশ্বর্য তাকায়। ইশারায় জিজ্ঞেস করে ‘কি?’
প্রেম আনমনা হয়ে বলে,
“”তুমি যদি একবার বুঝতে আমার মনের সেই করুণ অবস্থা! যদি বুঝতে আমার শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি! যদি অনুভব করতে আমার মনের মাঝে সযত্নে বেড়ে ওঠা এক নতুন অপরিচিত অনুভূতি! আমি পাল্টে যাচ্ছি কেন ঐশ্বর্য? তুমি নামক এক মিশ্রিত অনুভূতি পাল্টে দিতে সক্ষম হচ্ছে অবশেষে?”

থমকে যায় ঐশ্বর্য। থমকে যায় যেন সে সময়। স্থির হয় চোখজোড়া। সামনে থাকা মানুষটি কেন যেন অচেনা হয়ে যাচ্ছে। তার এমন কথাবার্তা ঐশ্বর্যকে বাকরুদ্ধ করে তুলছে। মনে ঝড় বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শিহরণ জাগাচ্ছে। বারংবার মনে হচ্ছে লোকটার মধ্যে সে সেই অনুভূতি তৈরি করতে পেরেছে যেই অনুভূতি সে এতোদিন দেখতে চেয়েছিল। কেমন যেন পাগল পাগল লাগছে ঐশ্বর্যের। সামনে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রেমও যেন উসখুস করে উঠল। অস্থির হয়ে বলল,
“এই কথাটুকু বললাম। তার কোনো প্রশ্ন করো না প্লিজ! যাও আর চেঞ্জ করে নাও। আমরা বের হবো।”

ঐশ্বর্যও কোনোরকম প্রশ্ন করেনা। সেই মূহুর্তে কোনোরূপ কথা তো মুখ থেকে বেরই হবার নয়। শুধু হৃৎস্পন্দন বাড়বে। বাড়তেই থাকবে। ঐশ্বর্যের কথা শুনবে না। ওয়াশরুমে ঝড়ের বেগে প্রবেশ করে নিজের শক্তি দিয়ে ঠাস করে শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দেয় ঐশ্বর্য। নিশ্বাস ওঠানামা করছে তার। অবিশ্বাস্য লাগছে চারপাশ! তার মাথা ঘুরছে। একবার সে হাসছে। আবার মূহুর্তেই হতবাক হচ্ছে। মিশ্রিত অনুভূতি! সব মিলিয়ে সে পাগল হয়ে যাচ্ছে। আয়নার সামনে এসে দাঁড়ায় ঐশ্বর্য। বড় বড় নিশ্বাস ফেলে নিজের দিকে তাকায়। আজ ওকে এতো সুন্দর লাগছে কেন? নিজেই নিজেকে দেখে স্তম্ভিত হয়। এইসব পাগলামি তাকে বুঝি সুন্দর করে তুলছে?

সন্ধ্যা নেমে এসেছে। স্বচ্ছ কাঁচের পানি ঢেউ খেলছে সমুদ্রে। সন্ধ্যার এই আধো আলো এই প্রকৃতিকে আরো মোহময় করে তুলছে। মোহময়ী লাগছে ঢেউয়ের প্রতিধ্বনি। একদিকে নারিকেল, সুপারি সহ নানান গাছগাছালিতে সাজানো একটা দিক। তার থেকে কিছুটা দূরে বালিতে পরিপূর্ণ জায়গা। তারপরেই সমুদ্র। আইল্যান্ডের পূর্ব দিকে গিয়ে ভারুনুলা রালহুগান্ধু নামক জায়গায় ফেরিতে গিয়ে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করে সবেমাত্র সমুদ্রের ধার দিয়ে চুপচাপ হেঁটে চলেছে ঐশ্বর্য আর প্রেম। কারো মুখে কোনো কথা নেই। দুজনেই শুধু পাশাপাশি হেঁটে চলেছে। সমুদ্রের দমকা হাওয়া দুজনের নিস্তব্ধতা গাঢ় করছে। তীব্রভাবে যখন বাতাস আ’ক্র’মণ করছে তৎক্ষনাৎ ঐশ্বর্যের বেঁধে রাখা চুলোগুলোও বাধাহীনভাবে উড়ে এসে তার চোখেমুখে পড়ছে। বড়ই অসহ্য লাগছে ঐশ্বর্যের। চোখমুখ কুঁচকে ফেলছে সে। প্রেম আচানক আবদার করা সুরে বলে বসল,
“চুলগুলো খুলে রাখো!”

চকিতে তাকালো ঐশ্বর্য। লোকটার সাথে সারাদিন সেভাবে কথা হয়নি। দুজন রোবটের মতো চলেছে, ঘুরেছে ফিরেছে। মাঝে মাঝে দরকার ছাড়া দুজনের একজনও কথা বলেনি। তাদের মাঝে কেউই সকালের ঘটনাগুলোর লেশ কাটাতে পারেনি। ফলস্বরূপ দুজনেই জড়তা নিয়ে হেঁটে চলেছে। ঐশ্বর্য বিরক্তবোধ করে বলল,
“বেঁধে রেখেই তো যন্ত্রণা দিচ্ছে চুল। খুললে তো ঝড় বয়ে নিয়ে যাবে আমার ওপর দিয়ে।”

“সেই ঝড় সামলাতে আমি আছি তো। আমাকে না হয় সেই দায়িত্ব দাও!”

স্নিগ্ধতার সাথে কথাগুলো বলামাত্র কন্ঠস্বর কাঁপতে থাকে ঐশ্বর্যের। এসব কথা না বললেই নয়? তার মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টি করে সেটা থামাবে কে? তবে কথা না বাড়িয়ে চুলটা খুলে দিল ঐশ্বর্য। সঙ্গে সঙ্গে উন্মাদ বাতাস এসে তার কোঁকড়ানো ঢেউ খেলানো চুলগুলো ছুঁয়ে যায়। কালো রেশমী চুল উড়তে আরম্ভ করে। প্রেমের চোখে সেই দৃশ্য হয়ে ওঠে এক অপরূপ দৃশ্য। ঐশ্বর্য তার কাছে অপরূপা। এমন অপরূপা নারী সে নিজের জীবনে দুটো দেখেনি। তবে এই কথা সে আগে খেয়াল করেনি। এই অপরূপাকে সে আগে দেখেনি। কেন দেখেনি? দেখলে হয়ত তার জীবন আরো সুন্দর হতো! তার পৃথিবী আরো সুন্দর হতো!

খেয়ালে আসতে প্রেমের নজরে আসে ঐশ্বর্য বিরক্ত হচ্ছে চুলের দ্বারা। ফট করে হাত বাড়িয়ে চুলগুলো কানে গুঁজে দিয়ে দিল প্রেম। ঐশ্বর্য বিস্ময়ের চোখে তাকালো তবে কিছু বলল না। তবে মুখে হাসি ফুটলো আপনাআপনি। কিছুটা হাঁটতে গিয়ে সামনে দাঁড়ানো এক চেনা পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে যায় তাদের। কিছুটা চমকে ওঠে তারা। সামনের মানুষটাকে এখানে আশা করা যায় না। তারাও করেনি। প্রেম হতভম্বতা কাটিয়ে বিস্ময়ের সাথে বলে ওঠে,
“আরে ইফান, তুই? তাও এখানে?আনএক্সপেক্টেড!”

ইফান সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে কারোর সাথে ফোনে কথা বলছিল। প্রেমকে দেখে স্বভাবত হাসি দিয়ে প্রেমকে জড়িয়ে ধরে সে।
“প্রেম ভাই! তুমি। আমিও এক্সপেক্ট করিনি অবশ্য তোমার আর ভাবির সঙ্গে আমার এভাবে দেখা হবে।”

“কেন তুই কি জানতিস না বুঝি আমরা এখানে এসেছি।”

“জানতাম বাট সেই ভাবে তো ডিটেইলে জানতাম না।”

প্রেম ইফানকে ছেড়ে দূরে এসে দাঁড়ায়। আর জিজ্ঞেস করে,
“হোয়াটস দ্যা ম্যাটার? কি এমন দরকার পড়ল না জানিয়ে সোজা মালদ্বীপ! জানাস নি তো!”

“বাবার কাজের জন্য। লেট ইট গো! কেমন চলছে হানিমুন?”

হেঁসে মজা করে প্রশ্ন করে ইফান। প্রেম শ্বাস নিয়ে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“এসব কি প্রশ্ন? তাও বড় ভাইকে? বাই দ্যা ওয়ে কোন হোটেলে উঠেছিস তুই?”

“আমি বোধহয় তোমাদের পাশের হোটেলে উঠেছি। আমার পাশে যেই রিসোর্ট আছে সেটাই তো আঙ্কেল বুক করে দিয়েছিল তোমাদের জন্য। কেবল মনে পড়ছে আমার। হোয়াট অ্যা কোয়েনসিডেন্স! বাট আগে জানলে না তোমাদের রুমের সামনে গিয়ে ডিস্টার্ব করে হানিমুন স্পয়েল করে আসতাম।”

বলেই হু হা করে হেঁসে দেয় ইফান। ঐশ্বর্য চুপচাপ শুনছে তার আর প্রেমের কথা। তার উদ্ভট লাগছে। শ্বাস নিতেও অস্থির লাগছে। তাও হঠাৎ করেই এসব হচ্ছে। তাই এদিক সেদিক তাকাচ্ছে বার বার। হঠাৎ তার দৃষ্টিতে ধরা পড়ে ইফানের নজর আর মনোযোগ শুধু ঐশ্বর্যের বাম হাতের দিকে। বাম হাতের দিকে তাকায় ঐশ্বর্য। তেমন তো কিছুই নেই একটা রিং আর সেই বিশেষ চিহ্ন ছাড়া। কিন্তু চিহ্নটাও কেমন যেন মুছে মুছে যাচ্ছে। কিন্তু ইফানকে দেখে তার এমন অদ্ভুত লাগছে কেন? তৎক্ষনাৎ ঐশ্বর্যের মনে পড়ে গত রাতে তার খেয়ালে তাদের রিসোর্টের পাশের হোটেলের দৃশ্য এসেছিল। কেন সেটা এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি ঐশ্বর্য। ইফানকে দেখে তার কৌতুহল আরো বাড়লো। ইফান এবার বলল,
“ওকে। আমি আমার কাজ করি। তোমরা তোমাদের হানিমুন করো। ডিস্টার্ব করলে আবার বাড়িতে গিয়ে মার খেতে হবে।”

হেঁসে বিদায় নেয় ইফান। ঐশ্বর্য তখনও সন্দিহান নজরে তার দিকে তাকিয়ে। যাবার সময় না চাইতেও আশাতীত ভাবে ইফানের হাতের সামান্য স্পর্শ লাগে ঐশ্বর্যের হাতে। সারা শরীর কেঁপে ওঠে তার। জ্বলে ওঠে তার হাতের চিহ্ন। অনুভব করে অদ্ভুত কিছু। যা অনুভূত হওয়া উচিত নয়।

আনমনে প্রেমের পাশে হাঁটছে ঐশ্বর্য। এলোমেলো তার পায়ের ধাপ। প্রেম তা খেয়াল করেও কিছু বলল না। সামনে কয়েকজন লোকজনের সরগম। প্রেম তা দেখে বলল,
“কি হচ্ছে সামনে?”

ঐশ্বর্য কৌতুহল নয়নে তাকায়। হাসাহাসি চলছে। দেশি বিদেশি লোকজন। সামনে এগোতেই একটা লোক বলে ওঠে,
“নিউ কাপল!”

প্রেম ও ঐশ্বর্য দুজনেই বিস্ময়ের সাথে একে ওপরের দিকে তাকায়। এর বেশ কিছুক্ষণ পর তাদের সাথে যোগ দিয়ে জানতে পারে তারা এখানে যারা যারা আছে সবাই কাপল। সবাই গেম খেলছ। গেমের নাম ‘লাভ গেম’। বেশ ইন্টারেস্টিং লাগল তাদের কাছে। হঠাৎ একজন প্রেমকে প্রশ্ন করে উঠল,
“হোয়াট ইজ লাভ? আপনার স্ত্রীকে দেখার পরই আপনার মনে ভালোবাসার উদয় হয়েছে? নাকি সময় লেগেছে?”

“ভালোবাসা একটা অনুভূতি। এই অনুভূতি প্রকাশের ধরণ একেকজনের একেকরকম হয়। কেউ পাগলের মতো প্রকাশ করে। উন্মাদ হয়ে যায়। আবার কেউ ভেতরে ভেতরে পাগল হয়ে যায়। তবে প্রকাশ করার সময় একদম বোকা সেজে যায়। কাঙ্ক্ষিত মানুষটার সামনে বলতেই পারে না। আর কাউকে দেখার সাথে সাথে ভালোবাসার উদ্ভব হতেই পারে। এই সম্পর্কে জানি না।”

প্রেমের এমন সোজা উত্তর শুনে ঐশ্বর্য হকচকিয়ে ওঠে। পলকহীন নজরে তাকিয়ে থাকে। লোকটা প্রেম তো? প্রেম নামক ব্যক্তির মুখে যেন প্রেমের বাণী শুনে মাথা ঘুরছে ঐশ্বর্যের। তবে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটা এমনই হবে ঐশ্বর্যের জানা ছিল। এবার ঐশ্বর্যকেও একই প্রশ্ন করা হলো। ঐশ্বর্য প্রেমের দিকে চাইলো। আর বলে উঠল,
“ভালোবাসা একটা পাগলামি। আমার কাছে ভালোবাসা মানে উন্মাদনা। যেই উন্মাদনায় ভেসে গিয়ে অন্যরকম সুখ উপলব্ধি করা যায়। সেই উন্মাদনা মানুষকে পাল্টে দেয়। শুধু মানুষ না। যেই হৃদয়ে ভালোবাসা দখল করে। সেই হৃদয় পাথরের তৈরি হলেও সেটার আস্তরণ ভেঙে গুঁড়িয়ে একটা নমনীয় মন সৃষ্টি করতে পারে।”

দুজনের উত্তরে সকলেই বিমোহিত হয়ে ছিল যেন। হাততালি দিল সকলেই। অনেকে সেই ভাষা বুঝল না। তবে দুজনের কথার মাঝে গভীরতা যেন ঠিকই বুঝেছে তারা। এরপর বলা হলো পুরুষদের তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বেশি নয় শুধু মাত্র একটা লাইন গাইতে। ঐশ্বর্য দায়সারা ভাব নিয়ে বসে থাকল। আর মনোযোগ দিল বাকিদের গানের দিকে। গানের গভীরতার দিকে। কারণ সে জানে প্রেমের দ্বারা এসব সম্ভব নয়। মানুষটা তো ভালোবাসার গভীরতা বোঝেই না। সেই মানুষ কি করে ঐশ্বর্যের উদ্দেশ্যে একটা লাইন গাইবে?

একে একে সব শেষে পালা এলো প্রেমের। উঠে দাঁড়ালো প্রেম। ঐশ্বর্য বসে ছিল একটা বড় ভাঙা নৌকার মতো কিছু একটা ওপরে। মেয়েরা সবাই সেখানেই ছিল। একটু একটু করে এগিয়ে আসে প্রেম। ঐশ্বর্য নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে চেয়েই থাকে। তার নিকটে এসে বালিতে হাঁটু গেঁড়ে বসে ঐশ্বর্যের বাম হাত নিজের হাতের ভাঁজে নেয় প্রেম। ঐশ্বর্যের সেই রহস্যে ঘেরা চোখে চোখ রাখে। ঐশ্বর্য ঢক গিলে। প্রেম নিজ মনে গেয়ে ওঠে,
“Yeh dil pagal bana baitha
Ise ab tu hi samjha de…”

ঐশ্বর্যের অন্তর সর্বাঙ্গ কেঁপে ওঠে। নিজের কানকে বিশ্বাস হয় না। সে ভুল শুনছে না তো? বার বার তার কানে আসতে থাকে সেই লাইন। সেই গানের গভীরতা। প্রেম হাঁসে। হাসিতেই যেন আঁটকে যায় ঐশ্বর্যের শ্বাস। প্রেম বলে,
“হ্যাঁ, পাগল হয়ে গেছি ভেতরে ভেতরে। এই পাগলকে তুমিই বুঝিয়ে দাও। তুমি আমার। প্রচন্ড ভয়া’বহ আকারে বেড়ে উঠেছে আমার মনের মধ্যে সেই অনুভূতি। আঁটকে রাখতে পারছি না নিজেকে। ভালোবাসি তোমায়।”

চলবে…

#প্রেমের_ঐশ্বর্য
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ৩৯

হাত-পা অসার হয়ে এসেছে ঐশ্বর্য। নিজেকে বিশ্বাস করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে নিজের কান দুটোকে। সে কল্পনায় নাকি বাস্তবে ভাসছে সেটাও বোধগম্য হচ্ছে না। নেত্রপল্লব স্থির সামনে থাকা হাঁটু গেঁড়ে থাকা মানুষটার দিকে। এই কি সেই পুরুষ? যাকে ঐশ্বর্য প্রথম দেখেছিল সেদিন রুক্ষতা আর মানবিকতা ছাড়া কিছুই ছিল না? দৃষ্টি বেশ কিছুক্ষণ স্থির রেখে চোখ বন্ধ করল ঐশ্বর্য। বড় বড় শ্বাস নিতে লাগলো। বিরবির করতে লাগল,
“স্বপ্ন হলে তা এখনি ভেঙে যাক। এই স্বপ্ন আমি নিতে পারব না। ভেঙে যাক সেইসব কল্পনা। আমি বাস্তবে ফিরতে চাই।”

কথাগুলোর হয়ত সকলের কানে গেল না। তবে প্রেমের কানে ঠিকই এসে পৌঁছালো। প্রেমে কন্ঠস্বরও অসম্ভব কাঁপছে। সে কি বলছে তার নিজেরও ধারণা নেই। শুধু জানে কথাগুলো তাকে যে করে হক বলতেই হবে। কাঁপা গলায় সে বলল,
“দ্যাটস নট ইউর ড্রিম ঐশ্বর্য। দ্যাটস ট্রু। আই লাভ মাই এ্যাংরি বার্ড। তোমাকে কখন থেকে এই কথাগুলো বলার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু মুখে আসছিল না। বলতে গিয়েও থেমে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তুমি যেভাবে আমায় বুকের এই পাশটা দখল করে ফেলেছো তোমায় বলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় পেলাম না।”

নিস্তেজ কন্ঠে নিজের বুকের বা পাশে হাত রেখে শেষ কথাগুলো বলতেই ঐশ্বর্যের মস্তিষ্ক ফাঁকা হয়ে গেল। স্বপ্ন কি সত্যি হচ্ছে নাকি স্বপ্ন আবারও স্বপ্ন দেখছে কিছুই বুঝতে পারছে না। মাথা ঘুরছে। চোখ বুঁজে আসছে। তিরতির করে কাঁপছে ওষ্ঠযুগল। বুক ধড়ফড় করছে এই ভয়ে যে কখন যেন ঘুম ভাঙবে সেই সাথে ভাঙবে স্বপ্ন। নাহ, সামনে থাকা ব্যক্তিটির সামনে আর বসে থাকা যাচ্ছে না। সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠছে। কোনোরকমে কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়াল ঐশ্বর্য। শুঁকনো ঢক গিলে নিলো কয়েকবার। হাফ ছেড়ে দৌড়ে চলে এলো সেই সমাগম থেকে। এসে দাঁড়াল সমুদ্র কিনারায়। ঢেউয়ের শেষ প্রান্ত এসে ছুঁয়ে দিল ঐশ্বর্যের পা। একদিকে মস্তিষ্ক মনে করাচ্ছে সেদিনকার সেই প্রেম আর তার মায়ের কথপোকথন! অন্যদিকে আজকে প্রেমের স্বীকারোক্তি! সব মিলিয়ে কিছু ভেবে উঠতে পারছে না। মন ছুটছে শুধু প্রেমের দিকে!

প্রেম কিছুটা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল ঐশ্বর্যের পানে। মেয়েটার মনের অবস্থা উপলব্ধি করতে পেরেছে সে। হয়ত একটু রয়েসয়ে বলা উচিত ছিল তার কথাগুলো। তবে তার কথাগুলো ঐশ্বর্যের বিশ্বাস হয়েছে কিনা তা নিয়ে খানিকটা সন্দেহ রয়েছে প্রেমের। কারণ মেয়েটা এখনো সেই রাতের কথাগুলো থেকে বের হতেই পারেনি। বলা বাহুল্য, বের হতেই চায়নি।

আশেপাশের সকলেই হতবিহ্বল হয়েছে। দৃষ্টি প্রেমের দিকে। কোথা থেকে কি হলো কেউই ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারেনি। প্রেম উঠে দাঁড়ায়। দ্রুততার সাথে বলে,
“এক্সকিউজ মি!”

সেখান থেকে বেরিয়ে আসে প্রেম। ঐশ্বর্যের খোঁজে আশেপাশে তাকায় আর পা চালিয়ে হাঁটতে থাকে বালুময় স্থানে সমুদ্রের ধারে। আকাশে তাঁরা টিমটিম করে জ্বলছে। চিকন একটা চাঁদ টলমলে সমুদ্রের পানিতে পড়ে চিকচিক করছে। মনোরম পরিবেশে প্রেমের দুচোখ খুঁজছে ঐশ্বর্যকে। কোথায় যে যায় মেয়েটা!

হাঁটুতে দুহাত রেখে থুঁতনি রেখে বসে আছে ঐশ্বর্য। পরনে থাকা টপ আধভেজা প্রায়। ঢেউ এসে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে তাকে। জোয়ারভাটার কারণে বড় বড় ঢেউ গুলো ঐশ্বর্যের চোখেমুখে ছিটে পড়ছে পানি। চোখমুখ বন্ধ করে আবারও খুলছে। সমুদ্রের টলটলে পানির দিকে চোখ স্থির। স্থির চোখের সামনে আচমকায় কেন যেন তার সামনে পানির মাঝে বসে পড়ল। ঐশ্বর্য বিস্ময় নিয়ে বড় শ্বাস নিয়ে পিছু সরে যেতেই তার বাহু আঁটকে ধরল ব্যক্তিটি। গাম্ভীর্যের সাথে সে ধমক দিয়ে উঠল,
“এই মেয়ে এই! কি সমস্যা? যখন কাছে টানতে চাই দূরে সরে যাও কেন?”

ঐশ্বর্য কাঁপুনি দিয়ে প্রেমের দিকে তাকালো। থেমে থেমে বলল,
“আপনি প্রেম তো? মি. আনস্মাইলিং আমাকে কখনো ভালোবাসতে পারে না। সে তো শুধু আমাকে দয়া করেন। উনি কখনো আমায় ভালোবাসতে পারেন বলে আমি বিশ্বাস করি না।”

“কেন করো না? করতে হবে বিশ্বাস তোমায়। আমার মনে কি তোমার জন্য অনুভূতি মিথ্যে? তোমার কি মনে হয়? আমি তোমায় মিথ্যে বলছি? আমার এইসব স্বীকারোক্তি মিথ্যে?”

“আমি জানি না, আমি জানি না, জানি না। শুধু এতটুকু জানি যে আপনি আমায় দয়া করে বিয়ে করেছিলেন। আপনি আমার ভালোবাসাকে অপমান করেছিলেন।”

জোর কন্ঠে তেতে উঠে জবাব দিল ঐশ্বর্য। প্রেমও দমলো না। এতটুকু বুঝতে পারল এই মেয়েকে চুপ না করালে কথায় কথায় তর্ক করতেই থাকবে। কোনোরকম কথা শুনতে চাইবে না। প্রেমের ভেজা হাত দুটো দিয়ে ডান হাত ঐশ্বর্যের মুখে আর বাম হাত দিয়ে তার কোমড় আঁকড়ে ধরে বলল,
“শাট আপ! অপমান আর তোমায়? তার আগে শেখ আনন প্রেমের মৃ’ত্যু হক। তোমার কি মনে হয় আমি এতোটাই ভালো মানুষ যে আমি আমার লাইফ স্পয়েল করে আমি তোমায় দয়া করে বিয়ে করব?”

প্রেম থামে। ঐশ্বর্য চোখজোড়া কপালেই তুলে ফেলেছে প্রায়। আবার মুখ খুলে বলতে শুরু করে প্রেম,
“সরি টু সে, আমি এতোটাও ভালো মানুষ নয়। আমি আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে তাকেই চেয়েছি যাকে আমি বিয়ে করেছি। তোমার মায়ের কথায় বিয়ে এটা তো শুধুমাত্র একটা বিষয় ছিল, একটা পথ ছিল। আমি কখনো মা-বাবার কথার অমান্য করিনি। তাই রোজের সাথে বিয়ের কথাতেও আমি অমান্য করিনি। তবেও মাকে অনেকবার বলেছিলাম বিয়েটা করব না আমি। কিন্তু মা আমাকে যেভাবে এক কথায় ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করেছিল যার কারণে আমি মানা করতে পারিনি। অন্যদিকে তোমার প্রতি সেই অপরিচিত অনুভূতি বীজ তুমি আমার মনে পুঁতে দিয়েছিলে। সেটা যে একটু একটু করে বড় হচ্ছিল তীব্রভাবে বেড়ে উঠছিল আমি উপলব্ধি করতেই পারিনি। সব মিলিয়ে আমি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অসহায় ব্যক্তি হয়ে পড়েছিলাম। শেষমেশ নিজের মনের সাথে যখন যুদ্ধ করেও পেরে উঠছিলাম না তখন তোমার মা এলো। সেই সাথে হানা দিল সেইসব অনুভূতিরা যারা শুধু তোমার নামে ছিল।”

এতোক্ষণ ছটফট করছিল ঐশ্বর্য। মূহুর্তেই যেন তব্দা লেগে গিয়ে প্রেমের নয়ন দুটোর দিকে তাকালো। তার চোখে সত্যি ভাসছে। মিথ্যা নেই। ভালোবাসা নামক কোনো মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেই। আস্তে করে ঐশ্বর্যের মুখটা ছেড়ে দেয় প্রেম। ঐশ্বর্যের ভেতরে তোলপাড় চলছে। কি করবে, কি বলবে সেই কোনোকিছু মাথায় আসছে না। মনের মাঝে যে আনন্দের বন্যা বইছে সেটা কি করে প্রকাশ করবে সেটা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে হুট করেই চোখ টলমল করে উঠল ঐশ্বর্যের। প্রেমের অস্থির চাহনি তাকে আরো খানিকটা পাগল করে দেওয়ার জন্য ছিল যথেষ্ট। প্রেমের গালে হাত রাখলো ঐশ্বর্য। হালকা খোঁচা খোঁচা দাড়িতে পরিপূর্ণ তার গাল। তা হালকা ভিজে গেছে। ঐশ্বর্য অবিশ্বাস্য কন্ঠে প্রশ্ন করল,
“সত্যি? আপনি আমাকে ভা…ভালোবাসেন?”

“সত্যিই ভালোবাসি। ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।”

এবার প্রেমের গাল থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিজের মুখ চেপে ধরে ঐশ্বর্য। সবটা অবিশ্বাস্য লাগছে। মাথা ঘুরছে তার। এইতো সেদিনই তো এই লোকটার পেছন পেছন পাগলের মতো ভালোবাসা পেতে ঘুরেছে। আজ সত্যিই লোকটা তাকে ভালোবাসে! এর থেকে সুন্দর হয়ত আর কিছু হতে পারে না। এর থেকে বড় খুশি হয়ত আর কিছুই হতে পারে না। চোখে পানি পরিপূর্ণ হলো ঐশ্বর্যের। অনুভূতিরা বেরিয়ে আসতে লাগল। টপটপ করে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে আরম্ভ করল। হাত ভিজলো সেই অশ্রুতে। ঐশ্বর্যের এমতাবস্থা দেখে তার মুখ থেকে হাত সরাতেই প্রেম দেখে ঐশ্বর্য কাঁদছে। মুখ থেকে হাত সরে যেতেই বাচ্চাদের মতো কাঁদতে শুরু করে দিল ঐশ্বর্য। পাগলের মতো কাঁদতে থাকলো। চোখ থেকে ক্রমাগত অশ্রু ঝরতে থাকল। প্রেম হতবিহ্বল নয়নে চেয়ে রইল। কি হলো মেয়েটার? এভাবে কাঁদছে কেন সে? তার চিবুকে সযত্নে হাত রেখে আদুরে কন্ঠে প্রেম প্রশ্ন করল,
“এই মেয়ে, এভাবে কাঁদছো কেন? আমি কি তোমায় কোনো কষ্ট দিয়ে ফেলেছি? হ্যাঁ, হয়ত এসব কথা আমার আগে বলে দেওয়া উচিত ছিল। আমি পারিনি। আমি বুঝিনি আমার ভেতরে কি হচ্ছে আমি বুঝতেই পারিনি। শুধু তোমার সংস্পর্শে নিজেকে উন্মাদ মনে করেছি। আই এম সরি!”

কাঁদতে কাঁদতেই ঐশ্বর্য প্রতিত্তোরে বলে,
“আই এম অলসো সরি। আমি ভেবেছিলাম আপনি আমায় অপমান করে বিয়ে করেছেন। তাই সবসময় আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করে গেছি। আই এম সরি মি. আনস্মাইলিং!”

প্রেম ঐশ্বর্যের হাত নিজের হাতের ভাঁজে নিয়ে হাতের পিঠে তার ওষ্ঠদ্বয় চেপে ধরে। শব্দ করে চুমু খেয়ে স্নিগ্ধ আবেশের সাথে বলে,
“তুমি কি আমার সেই ছোট্ট পৃথিবী হবে? যেখানে শুধু তুমি নামক সুখ থাকবে?”

ঐশ্বর্য এখনো অনবরত কাঁদছে। তবে তার কাঁদার কারণ অজানা নয় প্রেমের। মেয়েটা নিজেকে বাহিরে বাহিরে কাঠিন্যের সাথে যতই আচরণ করুক না কেন! সেই তো একটুতেই গলে পড়ে সে। চোখমুখ জড়িয়ে খিঁচে কাঁদতে কাঁদতেই বড় শ্বাস নিয়ে মাথা ঝাঁকায় ঐশ্বর্য। অতঃপর প্রেমের সাথে তার হাত রাখা সেই হাতটা নিজের ঠোঁটের কাছে এনে বেশ কয়েকটা ঠোঁটের পরশ দিয়ে নিল সে। অতঃপর থামলো হঠাৎ করে। কান্নাও থামলো সেই সাথে। কিছু কথা মস্তিষ্কে নাড়া দিয়ে উঠল। অস্ফুটস্বরে বলে উঠল,
“কিন্তু…”

এতটুকু বলেই থেমে গেল সে। আর কোনো কথা বের হলো না। অজানা আশঙ্কায় অন্তর কেঁপে উঠল। প্রেমের কপালে ভাঁজ পড়ল। সন্দিহান হয়ে প্রশ্ন করল,
“কিন্তু কি?”

“আমি…”

আবারও এতটুকু বলে থামলো সে। সম্পূর্ণ কথা বলতে পারছে না আঁটকে যাচ্ছে। সে খুব করে চাইছে এই মূহুর্তে নিজের আসল পরিচয় প্রেমকে জানাতে। সে যে মানুষ নয়। তার জগৎ আর প্রেমের জগৎ যে সম্পূর্ণ আলাদা। তারা আলাদা জাতি! প্রেম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে তাকিয়ে বলল,
“কি বলতে চাইছো তুমি ঐশ্বর্য? বলো!”

কোনো রকম জবাব না দিয়ে প্রেমের বুকে ঢলে পড়ল ঐশ্বর্য। যেন অনেক সাধনার পর এই মানুষটার বুকে স্থান পেয়েছে সে। সে যে হারাতে চায় না সেই স্থান। সেসব অনাকাঙ্ক্ষিত কথা শোনার পর যদি এই পরম শান্তির স্থান হারিয়ে ফেলে? অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে ঐশ্বর্যের হাত দিয়ে প্রেমকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে। প্রেমও গভীর আবেশে তাকে নিজের নিকটে নিয়ে আসে। ঐশ্বর্যের ক্লান্ত ভঙ্গি। সে নিজের অস্তিত্বের সাথে যুদ্ধ করে প্রেম নামক এই পুরুষটির গভীর আবেশে হারিয়ে যেতে চাইছে। ঐশ্বর্য নিচু সুরে বলে,
“আপনার মুখে ভালোবাসি শব্দটা আমার কাছে অমৃতের মতো লাগছে। এই অমৃত আমার প্রাণ নতুনভাবে সঞ্চার করছে মি. আনস্মাইলিং!”

প্রেম হাসে। হুট করে দুজনের ওপর ঢেউ এসে ভিজিয়ে দিয়ে নিজমনে চলে যায়। সমুদ্রের প্রগাঢ় শব্দ। আর তাদের বড় বড় নিশ্বাসের শব্দ দুজনকেই মাতাল করে তুলছে। প্রেম বলে,
“তোমাকে এবার হাজারবার ভালোবাসি বললেও তৃষ্ণা মিটবে না।”

এরপর নিস্তব্ধতা। শুধু একটা চাঁদের আধো আলো। আর শুধুমাত্র প্রণয়!

বারংবার হাঁচি দিয়ে যাচ্ছে ঐশ্বর্য। টিস্যুতে নাক মুছে নিচ্ছে। গায়ে আর মাথায় ব্ল্যাঙ্কেট মুড়ি দিয়ে নাক টানছে ফের হাঁচি দিয়ে যাচ্ছে। সেই মূহুর্তে ওয়াশরুম থেকে প্রেম বেরিয়ে এলো। গায়ে ওফ হোয়াইট গেঞ্জি। ভেজা মাথার চুল নেতিয়ে কপালে পড়েছে। সেটা টাওয়াল দিয়ে মুছতে ব্যস্ত সে। ঐশ্বর্যের হাঁচি শুনে সে ব্যস্ত কন্ঠে বলে উঠল,
“শান্তি পেয়েছো? কি দরকার ছিল সমুদ্রের ধারে গিয়ে দেবদাসের মতো বসে থাকার?”

নাক মুছে আবারও হাঁচি দিয়ে ঐশ্বর্য ঝাঁঝালো গলায় জবাব দেয়,
“আপনার কি দরকার ছিল ওখানে ওইভাবে কনফেস করার? রুমে করতে পারতেন। অন্তত শক পেয়ে সমুদ্রের ধারে দৌড়ে গিয়ে বসতাম না।”

“সকালে চেষ্টা করেছিলাম। আপনি তো পুরোটা না শুনেই দৌড় ওয়াশরুমে। এতো লজ্জা কোথা থেকে উদ্ভব হয়েছে আপনার? আগে তো কিড’ন্যাপ করে আই লাভ ইউ বলতে বাঁধতো না।”

ঐশ্বর্য গালে হাত দিয়ে বলে,
“ধুর, আগে আর এখন এক নাকি?”

“কেন কি চেঞ্জ হয়েছে?”

ফিচেল হেঁসে জিজ্ঞেস করে প্রেম। ঐশ্বর্য আবারও হাঁচি দিয়ে বলে,
“জানি না।”
প্রেম কথা বাড়ায় না আর। রুমের টেলিফোনের কাছে বসে। রাতের খাবার ঘরেই খেয়ে নেবে। সাথে বেশ ঠান্ডা লেগেছে তাদের। তার জন্য মেডিসিনের প্রয়োজন।

নিশুতিরাতে চাঁদের দেখা নেই। মেঘের আড়ালে নিজের সুবিধেমত লুকিয়ে পড়েছে। ঘনঘন বজ্রপাত ঘটছে। আকাশ চমকাচ্ছে। ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে প্রকৃতি আরো মেতে উঠেছে। চারদিক বিমোহিত হয়ে উঠেছে। ঐশ্বর্যকে নিজের বাহুডোরে রেখে নিজের আরেক হাত দিয়ে তার বুকের সাথে চেপে ধরে ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে ঘুমোচ্ছে প্রেম। গভীর ঘুমে মগ্ন অথচ ঐশ্বর্যকে নিজের হাত দিয়ে বাঁধনে বেঁধে রাখা। ঐশ্বর্যের ঘাড়ে পড়ছে প্রেমের গরম নিশ্বাস। দুজনের মনেই নেই কোনো দ্বিধা দুজনের নিকটে থাকতে। তবে ঐশ্বর্যের মনের কোণে তবুও দ্বন্দ্ব।

বজ্রপাতের শব্দে চোখ মেলে তাকালো ঐশ্বর্য। সে ঘুমায় নি। শুধুমাত্র ঘুমের ভান ধরেছিল। নয়ত প্রেম যে ঘুমোচ্ছিল না। চেয়ে চেয়ে দেখছিল ঐশ্বর্যের বিমোহিত মুখশ্রী। সেই হরিণী চোখে তাকিয়ে নিজে হারিয়ে ফেলছিল যে বার বার। তাই ঐশ্বর্য চোখ বুঁজে ঘুমিয়ে যাওয়ার ভান করছিল। ঐশ্বর্য উঠতে চায়। তবে পারে না। যদি প্রেমের ঘুম ভাঙে? তা তো হতে দেওয়া যাবে না। খুব আস্তে করে প্রেমের হাত সরিয়ে নেয় ঐশ্বর্য। অতঃপর নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে কৌশলে হাওয়ায় বেগে নিজে সরে এসে প্রেমের বাহুডোরে বালিশ রেখে দেয় ঐশ্বর্য।

বেডের নিচে নেমে স্বস্তির শ্বাস ফেলে নেয় ঐশ্বর্য। তাকায় ঘুমন্ত প্রেমের দিকে। মানুষটার বাহুডোর থেকে এখনি উঠতে তার ইচ্ছে করছিল না। তবে উপায় নেই। খানিকটা প্রেমের দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে ঐশ্বর্য বলে,
“আই ইউল বি ব্যাক সুন, মি. আনস্মাইলিং!”

হোটেলের নাম লাইটিং হচ্ছে। ভালোই লাগছে দেখতে। সেই হোটেল টার ছয় নম্বর ফ্লোরের ৬১০ নম্বর রুম। আগুন জ্বলছে ঘরের মধ্যে। সেই আগুনের তাপ নিচ্ছে ইফান। বড় দুটো শ্বাস নিয়ে বেলকনি দিয়ে বাহিরে তাকায় সে। বৃষ্টি হচ্ছে। ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঠান্ডায় তার শরীর অসার হয়ে আসছে। শক্তি কমে যাচ্ছে। তৎক্ষনাৎ বেলকনির দরজা লাগিয়ে দেয় সে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“কালকে অমাবস্যা। প্রায় শতশত বছর ধরে সেই অমাবস্যার অপেক্ষা। কাল একটা বিশেষ দিন। আর কালকেই হবে কার্য হাসিল।”

বাঁকা হাসি দেয় ইফান। হঠাৎ অনুভূত হয় এই হোটেলের ভীত কেঁপে উঠছে। ইফানের পায়ের তলা কাঁপছে। ইফান দ্রুত ফোন হাতে নেয়। কাউকে কল লাগায়। দুইতিন বার কল লাগানোর পর রিসিভ হয় কল। পাগলের মতো কিছু প্রলাপ বকে। তৎক্ষনাৎ তার রুমের দরজায় ঠকঠক আওয়াজ শুনে দরজার দিকে তাকায় ইফান। ফোনটা কেটে দেয়। দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যায় দরজার দিকে। দরজা খোলে। সামনের মানুষটাকে চিনতে বিন্দুমাত্র ভুল হয় না। সে আগেই টের পেয়েছিল সামনে থাকা ব্যক্তিটির আগমন। সুন্দর একটা হাসি দিয়ে ইফান বলে,
“ভাবি, এতো রাতে তাও এই হোটেলে? তোমরা না পাশের রিসোর্টে উঠেছিলে। এনি প্রবলেম? প্রেম ভাই ঠিক আছে তো?”

ঐশ্বর্যও হাসে। মাথা নাড়িয়ে জবাব দেয়,
“সবাই ঠিক আছে। আমিও ঠিক আছি। তোমার প্রেম ভাইও ঠিক আছে। কোনো প্রবলেম হয়নি।”

“তাহলে হঠাৎ এতো রাতে? ভাবলাম কোনো সমস্যা!”

ঐশ্বর্য কথার জবাব দিতে দিতে তড়তড় করে রুমের ভেতরে প্রবেশ করে। সরাসরি চেয়ারে বসে পড়ে পায়ে পা তুলে।
“সমস্যা থাকলেই বুঝি তোমার কাছে আসতে হবে? এমনি আসতে পারি না?”

“না ঠিক তা নয়।”

ঐশ্বর্য আগুনের দিকে তাকিয়ে থাকে বেশ কিছুক্ষণ। ইফান কৌতুহলের সাথে প্রশ্ন করে,
“তাহলে এতো রাতে না ঘুমিয়ে আমার ঘরে? কোনো বিশেষ কারণ আছে?”

ঐশ্বর্য এবার র’ক্তলাল দৃষ্টিতে তাকায় ইফানের দিকে। তাকে কটাক্ষ করে বলে,
“প্রশ্নটা আমারও! নিজের রাজ্য, নিজের আস্তানা ছেড়ে হঠাৎ বিদেশের মাটিতে কি করছো? কোনো বিশেষ কারণ আছে?”

থতমত খেয়ে তাকায় ইফান। কিছু বলতে যাওয়ার আগে উঠে দাঁড়ায় ঐশ্বর্য। চোখের রঙ পাল্টাতে শুরু করে তার।
“হুঁশশ, নো মোর এক্সকিউজ! হোয়াট ডিড ইউ থিংক? আমি চিনব না তোমায়? তুমি ইফান নও। ইউ আর অ্যা ডেভিল।”

ইফান পিছু সরে যেতে শুরু করে। ঐশ্বর্য আগায়। হাতের নখ তীক্ষ্ণ আকারে বাড়তে শুরু করে। চোখের রঙ ইতিমধ্যে সবুজ রঙ ধারণ করেছে। ইফানের চক্ষু চড়কগাছ। কেননা, ঐশ্বর্যের চোখের বর্ণ তো লাল হবার কথা। তবে কি সে ডেভিল কুইন হবার আশঙ্কা হারিয়ে পূর্ণাঙ্গ ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হচ্ছে?

ঐশ্বর্যের ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসেছে দুটো তীক্ষ্ণ দাঁত। শরীরের সমস্ত রগ সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে। সে নিজের আসল রূপে এসেছে। তৎক্ষনাৎ ইফানকে নিজের হাত দিয়ে আঘাত করে ঐশ্বর্য। ছিটকে পড়ে ইফান। সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যায় তার ইফানের রূপ। বেরিয়ে পড়ে তার আসল রূপ। এরিকের চেহারা। তার চোখজোড়া লাল হয়ে ওঠে। শরীরের রগ আর শিরা কালো হয়ে ফুটে ওঠে। এরিক উঠে দাঁড়ায়। ঐশ্বর্য চোখের পলকেই এরিকের কাছে আসে। এরিকের গলা চেপে ধরে।
“বলো, ইফান কোথায়? কোথায় ইফান? তার মানে তুমিই এতোদিন ইফানের রূপে ওই বাড়িতে ছিলে? তাহলে ইফান কোথায়?”

এরিক কথা বলতে পারছে না ছটফট করছে। এমতাবস্থায় সে জবাব দিল,
“ওর যেখানে থাকার সেখানেই চলে গেছে।”

ঐশ্বর্য থমকায়। গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। হতভম্ব হয়ে বলে,
“ওয়েট, তোমরা ডেভিলরা তো একটা মানুষ ম’রে না যাওয়া অবধি তার রূপ ধারণ করতে পারো না। এর মানে ইফান…”

এতোটুকু বলে থামলো ঐশ্বর্য। এরিকের গলা ধরে ওপরে তুলে ছিটকে ফেলে দিল সে। সোফার সাথে আঘাত থেকে চূর্ণ বিচূর্ণ হলো সোফা। হুংকার দিয়ে উঠল ঐশ্বর্য। তেড়ে আসে এরিকের দিকে। চিৎকার করে বলে,
“তোকে আমি তখনই চিনেছিলাম যখন ইফানের রূপে এখানে প্রথমবার দেখি। যদিও বাড়িতে চিনতে পারিনি। সেই পরিস্থিতিতে আমি ছিলাম না। আমি নিশ্চিত হই তখন যখন তোর স্পর্শ আমার হাতে লাগে। বোকা ডেভিল!”

আহ’ত অবস্থায় এরিক হাসে। তার হাসিতে রাগের মাত্রা বাড়ে ঐশ্বর্যের। হাসতে হাসতে এরিক বলে,
“আপনি নিজের ফাঁদে নিজেই ধরা দিয়েছেন।”

ঐশ্বর্য চোখমুখ জড়ায়। তৎক্ষনাৎ বলে,
“মানে? কি উদ্দেশ্য তোর? কেন তোরা আমাদের পেছনে পড়ে আছিস?”

“আপনাকে সঠিক স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য।”

ঐশ্বর্যের বিশ্বাস হয় না সব আজগুবি কথা। এরিকের দিকে এসে ঝুঁকে তার গলা চেপে ধরে টেনে সে। আস্তে আস্তে দেয়ালের সাথে ওপরে তুলে বলে,
“আজকে ম’রবি তুই। বিনা অপরাধে যাকে তুই মৃ’ত্যু দিয়েছিস সেই সাজা তোকেও ভোগ করতে হবে। আমি কিন্তু পরিচয় আর নিজের শক্তি কোনোটাই ভুলিনি। আমি ভ্যাম্পায়ার প্রিন্সেস ঐশ্বর্য।”

এরিক কিছু বলতে পারছে না। সে নিজের শক্তি কমিয়ে ইফানের রূপ পুনরায় ধারণ করেছে। তার শ্বাস রো’ধ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে প্রা’ণ বেরিয়ে যাচ্ছে। চোখ উল্টে ফেলেছে। ঠিক সেই মূহুর্তে ঐশ্বর্যকে ধাক্কা দিয়ে কেউ ফেলে দেয়। ছিটকে পড়ে যায় ঐশ্বর্য। চোখমুখ খিঁচে ফেলে। চেনা কণ্ঠস্বরে চোখ খুলে ফেলে সে। মাথা থেকে পা অবধি কাঁপুনি ধরে।
“ইফান আমার ভাই ঐশ্বর্য। ওকে মা’রতে পারো না তুমি ভ্যাম্পায়ার প্রিন্সেস!”

চলবে….

[বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই।]

লেখিকার গ্রুপ : আনিশার গল্পআলয় (সাবির পাঠকমহল)?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here