এক কাপ চা পর্ব ১৭+১৮

0
682

#এক_কাপ_চা
#সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)
#পর্ব-১৭+১৮

(৪৯)

ধোঁয়া উঠা গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই সাগরিকা বলল,

“পানি খাবো।”

তাশদীদ ওর দিকে ভ্রু-কুঁচকে তাকিয়ে রইল।চোখে মুখে যথা সম্ভব বিরক্তি ফুটিয়ে তুলে জিজ্ঞেস করলো,

“এখন পানি?চা মুখে দেওয়ার পর?”

সাগরিকা তাশদীদের কথায় ফাটা বেলুনের মতোন চুপসে গেল। মাথা নিচু করে বসে রইল সে৷
হিল খুলে ফেলেছে অনেক সময়। পাকা রাস্তায় হাটছিল তাই পায়ে তেমন বালি লাগে নি।কিন্তু দোকানের সামনে পুরোটা বালি মাটি। পায়ের বুড়ো আংগুল দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে নিজেকে প্রশ্ন করল,

“পৃথিবীর সব আশ্চর্য অভ্যেস আমার কেন?চা মুখে দিলেই পানি কেন পিপাসা পায়?”

মুখ তুলে তাকিয়ে দেখতে পেল তাশদীদ তার দিকে পানির বোতল এগিয়ে দিয়েছে। দুই ঢোক পানি গিলে পুনরায় চায়ে চুমুক দিলো সে। তাদের সকালের নাস্তা হয়ে গেল
চা, চিতই পিঠা এবং সরিষার মরিচ বাটা দিয়ে। মরিচ বাটায় এতটা ঝাল ছিল যে সাগরিকার দুই ঠোঁট রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। তার দিকে তাকিয়ে তাশদীদ বলল,

“কষ্ট হচ্ছে?”
“না, খুব ঝাল।”
“মিষ্টি খাবি?”
“না। মিষ্টিতে ঝাল কমে না কী?ঝাল কমানোর জন্য তো রুটি বা ব্রেড জাতীয় কিছুর প্রয়োজন।মোট কথা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার আপনার ঝাল কমিয়ে দিবে।
খুব ঝাল যখন লাগবে তখন আপনি একটু রুটি বা সাদা ভাত খেয়ে দেখবেন। অথবা এখন এই একটু সাদা ভাত খেয়ে দেখুন।ঝাল কমে যাবে।”

“বুঝলাম।তবে কী নিয়ে লেখাপড়া করার ইচ্ছে আছে তোর?”

“আমার আর ইচ্ছে।পড়তে হবে সেই ভার্সিটি, সেই সাবজেক্ট যা আপনি ঠিক করবেন।”

বলেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলল সাগরিকা। শাড়ির আঁচল ঠিক করে উঠে দাঁড়ালো।অনাবৃত কোমরের অংশে শাড়ির আঁচল টেনে দিয়ে চুল গুলো হাত খোপা করে বলল,

“এবার ফিরবো না?”
“কেন?”
“না জিজ্ঞেস করছিলাম।”

গাড়িতে উঠে বসে সাগরিকা সিট বেল লাগাতেই তাশদীদ জিজ্ঞেস করলো,

“আমার উপস্থিত কিংবা সিদ্ধান্ত তোর অপছন্দ তাই না?”

সাগরিকা চুপচাপ বসে আছে৷ দৃষ্টি বাহিরের দিকে।হ্যাঁ সত্যি তাশদীদের এই হুটহাট স্পর্শ করা কিংবা তার সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সাগরিকার পছন্দ নয়। সাগরিকার এখন নিজের মতামত দেওয়া এবং পছন্দের একটা স্বাধীনতার প্রয়োজন যা সবার থাকে। কিন্তু সে নিজ ইচ্ছে মতোন পোশাক অবধি পরতে পারে না। এই যেমন তার জিন্স পছন্দ। কিন্তু তাশদীদ পছন্দ করে না বলে কখনো কেনাই হয়নি।তার পছন্দ চুল গুলো হালকা বাদামী রঙের হবে কিন্তু তাশদীদের কড়া আদেশ। তুলি বা সাগরিকা যেন চুলে রঙ না লাগায়,ভ্রু-প্লাগ না করে।
সে চায় সবার মতোন বন্ধুদের সাথে বাহিরে যেতে, পিকনিকে যেতে,ট্যুর দিতে কিন্তু তার মতামতের কোনো দাম নেই।তাশদীদ যা বলবে তাই।

সাগরিকাকে চুপ থাকতে দেখে তাশদীদ বলল,

“বেশ, তবে তাই হোক। তোর কোনো বিষয়ে আজ থেকে
আমার কোনো কথা থাকবে না।”

“আমার আঠারো হয়েছে। আমি সবটা না হলেও নিজের ভালো টা বুঝবো ভাইয়া।”

তাশদীদ কোনো জবাব দেয়নি। শুধু গাড়ির গতি কিছুটা নয় অনেকটা বেড়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সে ফিরতে চায়। কারণ অঘোষিত ভালোবাসা যে বড্ড পোড়ায়।

(৫০)

তাশদীদদের গাড়ি এসে থেমেছে তাদের দাদার বাড়ি। প্রায় বিশ কাঠা জমির উপর তাদের এই বনেদি পরিবারের বসবাস। ঝড় যতই আসুক না কেন এই বাড়িকে সামলে রেখেছে তার দাদী।
বাড়ির আশেপাশে অনেক ফলের গাছ। সব ধরনের ফল গাছ আছে। গোয়ালে গোটা পঞ্চাশেক গরু। সবজির বাগান। শিমুল গাছ আর শান বাঁধানো পুকুর।
গাড়ি থামিয়ে সাগরিকা ভেবেছিল তাশদীদ সোজাসুজি বাড়িতে চলে যাবে। কারণ সে হয়তো রাগ করেছে। কিন্তু তাশদীদ ফিরে যায়নি।দরজা খুলে উপরের দিকটায় হাত রেখে সাগরিকাকে বলল নেমে আসতে। এমন কাজ সে সব সময় করে।যাতে গাড়ির উপরের অংশের সাথে কখনো সাগরিকার মাথা লেগে সে ব্যথা না পায়।

কারণ সাগরিকা এবং প্রতিটি ব্যথার মাঝেই সে ঢাল হয়ে থাকে সব সময়।
ওদের দুজন কে দেখে দাদী কিছুটা অবাক চোখে তাকিয়ে রইল।যেন সে আশা করেনি তাদের এই খানে। ভদ্রমহিলা লাউয়ের মাচা থেকে লাউ পাড়াচ্ছিলেন বাড়ির কাজের লোক দিয়ে। ওদের দেখে কাছাকাছি গিয়ে বললেন,

“তোমরা এত সকালে?”
“ভিতরে চলো দাদী।”

ভদ্রমহিলা কিছুক্ষণ ভাবলেন তার পর বললেন চলো চলো ভিতরে চলো।শীতে হাত পা নীল হইয়া গেছে। ওই ওদের হাত পা ধুয়নের গরম পানি দে।

ফ্রেশ হয়ে বসতেই তাদের জন্য গরুর দুধ নিয়ে এলেন তাদের দাদী।সদ্য ফোটানো দুধ। বড় বড় গ্লাসে করে এগিয়ে দিলেন ওদের দিকে।তাশদীদ কোনো কথা না বলে ঢকঢক করে সবটা শেষ করলো। সাগরিকা তখনো হাতে নিয়ে বসে আছে। ভেবেছিল তাশদীদ ধমক দিবে কিন্তু কিছুই বলল না।হঠাৎ সাগরিকার মনে হলো সে যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে তাশদীদের নজর থেকে।তাশদীদ তাকে দেখতে পারছে না।

বাহিরে যাওয়ার সময় তাশদীদ ভুলে ফোন ফেলে গেছে।সাগরিকা ফোন হাতে নিয়ে দেখলো রাশেদ, তার বাবার অনেকগুলো মিসড কল।ফোন হাতে নিতেই আবার কল এলো রাশেদের। রিসিভ করে হ্যালো বলার আগেই রাশেদ বলল,

“তাশদীদ মা স্ট্রোক করেছে। তাকে হাসপাতালে নিচ্ছে। তুই যেখানেই থাকিস না কেন জলদি বাড়িতে চলে আয়।আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি।”

রাশেদের কথায় দাঁত মুখ এক করে সাগরিকা জবাব দিলো,

“তোমার বুইড়া খাইস্টটা মায়ের কিছুই হয়নি।শয়তান বুড়ি পুরো বাড়ি ধেই ধেই করে নাঁচতেছে।লাউ বিক্রি করতেছে। ও বুড়ি মরবে? স্ট্রোক তাকে দেখে স্ট্রোক করবে।তোমরা আসো আমরা বাড়িতেই।”

রাশেদ জান-পরাণ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“মানে?”

“মানে তোমাদের মিথ্যে বলেছে।”

(৫১)

মানুষ
কতটা অসহায় হলে আত্মহত্যার চিন্তা করতে পারে?
কে বলেছে পুরুষ মানুষ নিরুপায়, অসহায় হয় না?
তাদের সৃষ্টি কর্তা শক্ত আবরণ দিয়েছে কিন্তু তাদের ভিতরেও একটা মানুষ বাস করে। কিন্তু সমাজের চোখে সে মানুষ দেখিয়ে বেড়ানো যায় না।
রাশেদ নিজেকে বড্ড একা মনে করে ইদানীং। কিছুক্ষণ পূর্বে বাড়িতে এসেছে তারা৷ স্পষ্ট তার মা মিথ্যে বলেছে।ইখুমকে কিছু বলতে পারেনি রাশেদ।
ইখুমকে পাশে নিয়ে তার পথ চলা হবে না।মেয়েটার দোষ নেই।দোষ তার ভাগ্যের। কিন্তু আজ যখন ইখুম বলেছে সে মুক্তি চায় তখন না হয় তাকে মুক্তিই দিবে সে।
ইখুম কে তালাক দিয়ে সামিনাকে বিয়ে মানবিক মর্যাদায় কতটা মহান তার মা তাকে বুঝিয়েছে। সে বুঝেছে। কিন্তু সব বুঝলেই কী করতে হবে।
উদ্দেশ্যহীন ভাবে হেঁটে রেল লাইনের পাশে এলো রাশেদ। দূর থেকে ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে।

বিকেল তিনটা বেজে সাত মিনিট। খবর এলো রেল লাইনে একজন মানুষ কাটা পড়েছে। তার লাশ ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে রেল লাইনের উপর।

চলবে,,,,

#এক_কাপ_চা
#পর্ব-১৮
#সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

(৫২)

চা’য়ের কাপে চামচ দিয়ে টুংটাং শব্দ করছিল সাগরিকা।বিনা নোটিশে তার পুরো চৌদ্দ গুষ্টি হাজির হয়েছে গ্রামের বাড়িতে। অবশ্য এখানে আসার পর বুড়ি তার সুর পাল্টে বলেছে যে তার না কী তার সব ছেলে মেয়েকে এক সাথে দেখতে ইচ্ছে করছিল তাই সে মিথ্যে বলে সবাইকে খবর পাঠিয়েছে। বিশাল সাইজের উনুনে কাঠ দিয়ে চলছে রান্না।তুলির মা -বাবা এসেছে কিছুক্ষণ আগে। সে মায়ের কাছে আছে। সাগরিকা বসে আছে ইখুমের পাশে। তাজবীদ বাড়িতে প্রবেশ করেই হুকুম দিয়েছে চা বানানোর। অগ্যতা চা নিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু ইখুমের চাপা স্বরে কান্নায় থামে সে।
চায়ের কাপ তার দিকে এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“ছোটো চাচ্চুকে খুব ভালোবাসো তাই না?”

“না।”

“তবে কাঁদছো কেন?”

“তুমি বুঝবে না।”

“আচ্ছা তোমার কেমন লাগছে চাচ্চুর উপর রাগ করে?ফাঁকা ফাঁকা লাগছে ভিতরে?না কী মনে একটা অস্বস্তি হচ্ছে?”

ইখুম জবাব দেয়নি।তার দৃষ্টি বাহিরের দিকে। তার ঘরের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে হলুদের সমারোহ। সরিষার ফুলে ছেয়ে আছে পুরো মাঠ। মাঠ পেরিয়েই রেল লাইন। কিছুক্ষণ পূর্বে খবর এসেছে রেল লাইনে কাটা পড়ে একজন মানুষ মারা গেছে।এটা শোনার পর ইখুমের অস্বস্তি আরো দ্বিগুণ হয়েছে।
এ বাড়িতে আসার পর আজ এক দফা রাশেদের সাথে তর্ক বির্তক হয়েছে। তর্কের এক পর্যায়ে ইখুম তার থেকে মুক্তি চেয়েছে। রাশেদ বেরিয়ে যাওয়ার পূর্বে বলেছিল সে শুধু ইখুম নয় সবাইকেই মুক্তি দিবে।

ট্রেনে কাটা পড়া মানুষের খবর এসেছে। নিজেকে কোনো ভাবে টেনে নিয়ে দরজার হাতল ধরে দাঁড়ালো ইখুম।
একজন দিন মজুর কাটা পড়েছে ট্রেনে।ট্রেনের ছাদে করে কাজ থেকে ফিরছিলো।সবার ধারণা ঘুমিয়ে পড়েছিল। আর ছাদ থেকে পড়ে সরাসরি ট্রেনের নিচে চলে যায়। লাশের অবস্থা খুব একটা ভালো না।
বস্তায় করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তাশদীদ কথাগুলো বলছিল। তাশদীদের কথায় ইখুম কিছুটা স্বস্তি পেলেও রাশেদ ফিরেনি দেখে তার আবার চিন্তা হতে লাগলো।সে সময় রাশেদ ঘরে প্রবেশ করলো হাতে পাকা কদবেল ভর্তা নিয়ে।ধনিয়া পাতা, লবণ মরিচ এবং চিনি দিয়ে বানানো কদবেল ভর্তা ইখুমের সব থেকে প্রিয়। ঘরে প্রবেশ করে টেবিলের উপর কদবেল ভর্তা রেখে বলল,

“আমার সাথে রাগ আছে থাকুক।খাবারের সাথে দেখিও না।”

(৫৩)

মৌসুমিকে দেখে রাগে পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে সাগরিকার। বেহায়া মেয়েটা এখানেও হাজির। নানীর সাথে পড়ে ভালো।দুটোই কুটনি তো তাই পড়ে ভালো।পিছন ফিরে রাশেদকে দেখে সাগরিকা জিজ্ঞেস করলো,

“চাচ্চু!মুনির ভাই বিয়ে করেনি?”

“করেছে।”

“কাকে?”

“কনে কেই বিয়ে করেছে। কেউ একজন কনেকে নিচ তলার রান্নাঘরের পাশের রুমে বন্ধ করে রেখেছিল।”

“আশ্চর্য! বুঝলে কীভাবে?

“একজন ওয়েটার তার চিৎকার শুনেছিল।”

“এত বড় দামড়িকে আটকে রাখলো আর ও গেল?”

“পরিচিত কেউ নিয়েছিল বলেই গিয়েছিল।”

“কে বলেছে?”

“না, মেয়েটা প্রচন্ড ভয় পেয়েছিল।তাই আর তাকে ঘাটায়নি কেউ।”

“নিশ্চিত এটা মৌসুমি আপুর কাজ।তাই তো বলি,ভাইয়ার প্রেমের বিয়ে অথচ কনে পালালো কী করে?তাও আবার জানালা দিয়ে?
ভাগ্যিস ওয়েটারটা দেখেছিল।আরেকটা কথা চাচ্চু।”

“বলো রে আমার টেপ রেকর্ডার।”

“তোমার মা, মানে কুটনি বুড়িটা রাঙ্গামা কে দেখতে পারে না কেন?”

“আমি নিজেও জানি না।শুধু বলে আমার পছন্দ না।”

“পারমিশন দিলে একটা অনুমতি চাইতাম।”

“এটা কেমন কথা হলো?”

“দিবে কী না তাই বলো?”

“আচ্ছা বলো।”

“বুড়ির এক পা তো কবরে। ধাক্কা দিয়ে আরেক পা নামানোর ব্যবস্থা করা যায় না?আমাদের সবার শান্তি এতেই।”

সাগরিকার এমন কথায় রাশেদ বিরক্ত হলো না।কারণ সাগরিকা এসব তার মন ভালো করার জন্য চেষ্টা করছে এটা সে খুব ভালো করেই জানে।কিন্তু সাগরিকাকে বুঝতে হবে তামাশার একটা সীমা আছে। রাশেদ কখনো সাগরিকা কিংবা স্নেহাকে ধমক দেয় না।তাদেরকে শান্ত স্বরে বুঝিয়ে বলে।এবারো তাই করলো। সে বলল,

“আমরা সন্তানরা জন্ম থেকেই মা-বাবার কাছে ঋণী থাকি।আমাদের প্রতি তাদের দায়িত্ব থাকে ঈশ্বরপ্রদত্ত।ঠিক তেমনি মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব একই। তাই কারো বাবা- মা সম্পর্কে এমন বলা উচিৎ নয়।”

রাশেদের সাথে কথা বলে ঘরে ফেরার সময় অন্ধকারে সাগরিকা কিছু একটার সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেল।পড়ে যাওয়ার আগে তার নাকে এসে ধাক্কা দিয়েছে বেলী ফুলের গন্ধ।ভয়ে চুপসে যাওয়া সাগরিকা মনে মনে যত দোয়া-দরুদ পারে পড়তে লাগলো।আজ কয়েকদিন পর সেই আশিক জীনের সামনাসামনি সে। এর আগে তাকে ঘুমের মধ্যেই অনুভব করতো। আজ এতটা কাছাকাছি দেখে সে হুট করেই কান্না ভুলে বসেছে।চাঁদের আলোয় দেখতে পাচ্ছে হালকা সাদা রঙের কাপড় পরিহিত একজন সুদর্শন যুবকের হাত এগিয়ে আসছে তার দিকে।সাগরিকার আর কিছুই মনে নেই।
সম্ভবত সে জ্ঞান হারিয়েছে।

(৫৪)

সাগরিকা চোখ মেলে নিজেকে আবিষ্কার করলো নিজের দাদীর খাটের উপর। তার গায়ে লেপ জড়ালো। মাথাটা রাখা তাশদীদের কাঁধে। এক হাতে সে সাগরিকার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে অন্য হাত ধরে রেখেছে সাগরিকার কাঁধ।সবাই তখন কোনো একটা বিষয়ে কথা বলছিল।সাগরিকাকে চোখ মেলে তাকাতে দেখে তুলি তার কানে কানে গিয়ে বলল,

“নেশা করছো না কী?”
“কেন?”
“তাহলে ভাইয়াকে এমন ভাবে ধরেছো কেন?অন্য কেউ ধরতে গেলেই বলছো তোমাকে না ধরতে। শুধু ভাইয়ার নাম ধরে ডাকতেছো।”

সাগরিকা মুখ তুলে তাকিয়ে তাশদীদের দিকে একবার তাকালো। তার কপালের শিরা হঠাৎ করেই ফুলে উঠেছে। সে রেগে আছে এটা স্পষ্ট। কয়েক মুহুর্ত যেতে না যেতেই তাশদীদ বলল,

“দাদু এটা তোমার অন্যায় আবদার।তুমি এমন চিন্তা করো কী করে?”
“স্নেহার ভালোর জন্য করি।”
“আশ্চর্য! এটা কোনো সমাধান নয়। তুমি কাকার উপর এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারো না।”
“আমার ইখুম পছন্দ না।”
“কিন্তু কেন?”
“পছন্দ না মানে না।ওই মেয়েকে বিয়ের সময় আমি অনুমতি দিয়েছি।এবার ও আমার পছন্দের বিয়ে করবে।”
“না এটা হয় না।”

তাশদীদের বাবা, মা সবাই মিলে রাশেদের হয়ে আজ কথা বলল।এটা তার মায়ের বাচ্চাদের মতোন জেদ করাটাকে কেউ পশ্রয় না নিয়ে সবাই তাকে বুঝিয়ে বলছিল।এমন সময় সামিনা এসে তার শাশুড়ির হাত ধরে বলল,

“মা আমার ভাগ্যে এই বাড়ির ভাত থাকলে একাই আসবে। আপনি আমার উপর দয়া করুন। আমার উপর একটু দয়া করুন মা।
আর তাদের বলে দিন আমি বা আমার মেয়ে কারো কাছে বোঝা হতে চাই না।যদি না পারেন তবে নিজ হাতে আমাকে আর আমার মেয়েকে মেরে ফেলুন।তবুও আমাদের জন্য আর এসব বলে নিজেকে কথার ভাগীদার করিয়েন না।”

চলবে,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here