হৃদয়ের সন্ধিক্ষণ পর্ব ৫

0
46

#হৃদয়ের_সন্ধিক্ষণ
#ফারিহা_খান_নোরা
#পর্বঃ৫
রাত আনুমানিক দশটা! কারেন্ট চলে এসেছে, আঁধার কাটিয়ে চারিদিকে আলোকিত হয়ে গেলো। হঠাৎ করেই উপর থেকে চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনা যায়।তানিয়া বেগমের হাত পা কাঁপছে শত হোক নিজের মেয়ে ত। নিজের অতীত ঢাকতে কতো বড় রিক্স নিতে হচ্ছে তাঁকে।আশা বেগম জানেই কাজ হয়ে গেছে তবুও নাটক করে বলল,

‘হয়েছে কি উপরে,এতো চিৎকার চেঁচামেচি কেন?’

ইতিমধ্যে আফসানের বন্ধু ভিকি উপর থেকে দৌড়ে আসে। উত্তেজিত হয়ে বলল,

‘আন্টি সর্বনাশ হয়ে গেছে।উপরে অই রুমটায় একটা মেয়ে ও ছেলেকে একসাথে ঢুকতে দেখেছি।মেয়েটা কালো শাড়ি পরিহিতা ছিলো আর ছেলেটাকে ভালো ভাবে দেখতে পারি নি, হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়াই।তবে আমি বাহিরে থেকে লক করে দিয়েছি।ভিতরে ওরা আটকে পড়েছে আপনারা আসুন।হাতে নাতে ধরবো।’

ভিকির এমন কথায় সবাই উপরে চলে যায় আসল ঘটনা জানার জন্য।তানিয়া বেগম মনে মনে ভাবছে কি পরিস্থিতিতে যে,পড়তে হবে তাকে।নিজের সম্মান বাঁচাতে মেয়ের সম্মান কোথায় যাবে? সবার আগে ইলিয়াস মির্জা যায়।আশার জেনো আর দেরি স‌ইছে না। সেজন্য সবাইকে সড়িয়ে দিয়ে নিজেই দরজাটার লক খুলে।ভিতরের দৃশ্য দেখে চিৎকার করে উঠে বলে,

‘এ্যা কি!’

ইলিয়াস মির্জা আশা বেগমকে বলে,

‘দেখি সাইট দেও।’

আশা বেগমকে সড়িয়ে রুমের মধ্যে ঢুকে যায়।ভেতরের দুজনকে দেখার পরে সেও বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। এদিকে উপস্থিত আত্মীয়রা গুঞ্জন শুরু করে দেয়।সবাই ছিঃ ছিঃ করতে শুরু করে। রাতের বেলা এভাবে একা এক রুমে যুবতী মেয়ের সাথে পুরুষ মানুষ ভালো কোনো উদ্দেশ্য হতেই পারে না। কেউ বলছে ছেলের চরিত্র খারাপ আবার কেউ বলছে মেয়েটাই খারাপ তা না হলে গেস্ট কেন এই বাড়ির ছেলের রুমে এভাবে। ইলিয়াস মির্জা নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে এগিয়ে যায়।গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে নিষ্প্রভের গালে থাপ্পড় মেরে দেয়।নিষ্প্রভ তুর কে নিয়েই দুই কদম পিছিয়ে যায়।কারণ তুর সেন্সলেস ,শরীরের সাথে তাঁর শাড়ি ও ঠিক নেই। ইলিয়াস মির্জা চেঁচিয়ে বলে উঠে,

‘আগে জানতাম তুমি অভদ্র,বেয়াদব।আজ দেখছি তুমি চরিত্রহীন। আমার ছেলে এমন হতেই পারে না,নিজের ছোট ভাইয়ের হবু ব‌উয়ের সাথে এভাবে ছিঃ।’

বলেই ইলিয়াস মির্জা মাথা নিচু করে নেয়।নিষ্প্রভ ও বুজতে পারছে না, কোথায় থেকে কি হলো।সে ত এই রুমে এসেছিলো আফসান কে খুঁজতে।নিচে বিজনেস এর কিছু ক্লাইন্ট আফসানের খোঁজ করছে বলে কিন্তু রুমের ভেতর এসে এতো কিছু হয়ে যাবে জানলে সে কখনোই আসতো না।সব থেকে বড় প্রশ্ন এই মেয়েটাই বা এখানে এ অবস্থায় কেন?

নিষ্প্রভ নিজেকে সামলিয়ে বলল,

‘বাবা আমার কথা শোনো।’

‘আমি তোমার মতো লম্পট দুঃচরিত্র ছেলের কোনো কথাই শুনবো না।’

বলেই হনহন করে বেরিয়ে যান তিনি। তানিয়া বেগম অগ্নী দৃষ্টি দিয়ে বান্ধবী আশার দিকে তাকান।আশা অসহায় কন্ঠে বলে,

‘তোর মেয়ের আগে সেন্স ফেরা।’

আশা ও তানিয়া বেগম মিলে নিষ্প্রভের থেকে তুরকে নিয়ে অই রুমেই বিছানায় শুইয়ে দেয়।নিষ্প্রভ বেরিয়ে যায়! কিছুক্ষণ পরে হন্তদন্ত হয়ে আফসান রুমে ঢুকে বলে,

‘সরি সরি আমার লেট হয়ে গেলো।’

এই কথা শুনার সাথে সাথেই আশা বেগম আফসানের গালে স্বজোড়ে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেন।নিচে থেকে অথিতিদের চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ এখনো শুনা যাচ্ছেই। কেউ কেউ বলছে হবু ভাশুরের সাথে মেয়েটার অবৈধ সম্পর্ক ছিলো। আবার কেউ কেউ বলছে ছেলেটাই টোপ ফেলে মেয়েটার পেছনে ঘুরছে।এখন এই মেয়ের কি হবে? আশা বেগম কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইলিয়াস মির্জা বলল,

‘আজ এখন,এই মুহূর্তে নিষ্প্রভ ও তুরের বিয়ে দিতে চাই।’

আশা বেগম না করলে,তিনি আশা বেগমকে একটা থাপ্পড় দেয়।এতো গুলো লোকের সামনে স্বামীর হাতে থাপ্পর খেয়ে আশা লজ্জায় চলে যায়।তুরের জ্ঞান ফিরেছে,সে বাকরুদ্ধ।এদিকে নিষ্প্রভকে বললে,সে বিয়েতে রাজি হয় না।এতে করে ইলিয়াস মির্জা আর‌ও রেগে যায়।বলে,

‘অন্ধকার একটা রুমের ভেতর এক সাথে থাকতে না করো নি।এখন বিয়ের কথা হচ্ছে তখনি না হয়ে গেলো? এই বিয়েটা তোমার করতেই হবে নয়তো আমার মরা মুখ দেখবে।এমনিতেও তুমি আমার মান সম্মান নষ্ট করতে কিছুই বাকি রাখো নি।এখনি এই বিয়ে হবে এটাই আমার শেষ কথা’

নিষ্প্রভ বাবার দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে বিরবির করে বলল,

‘আজকেও আমায় বিশ্বাস করলে না বাবা!’

অবশেষে কাজি ডাকিয়ে রাত এগারোটায় নিষ্প্রভ ও তুরের বিয়ে সমর্পূণ হয়।নিষ্প্রভ অভিমান হয়ে কবুলটা বলেই দিয়েছে আর তুর? সে তো পুরোই বাকরুদ্ধ হয়ে ঘোরের মাঝে বলে দিয়েছে।কি হবে এই বিয়ের ভবিষ্যৎ? যেখানে কেউ কাউকে চিনেই না, শুধু মাত্র একটা জঘন্য অপবাদ মাথায় নিয়ে দুজন একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে।

____________

আফসান কিছুতেই এই বিয়ে মানতে পারছে না।বিয়ের আগে সে রাগের মাথা ইলিয়াস মির্জার সামনে সব কিছু বলতে নিয়েছিলো,আশা বেগম বুদ্ধি করে আফসান কে নিয়ে এসে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে দেয়।সব কাজ শেষ হবার পর সুযোগ বুঝে সে ঘরের মধ্যে এসে, এমন অঘটন ঘটলো কিভাবে তা আফসানের থেকে শুনবে তার আগেই তানিয়া বেগম এসে আশার কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলতে শুরু করে,

‘তুই এটা কি ভাবে করলি আশা! তোর উপর বিশ্বাস করে আমি আমার মেয়েকে এখানে নিয়ে এসেছি আর তুই আমার ও আমার মেয়ের সাথে এটা কি করে করতে পরলি।তোর বিবেকে বাঁধল না।তুই তোর নিজের ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার নাম করে আমাকে এখানে নিয়ে এসে সৎ ছেলের সাথে বিয়ে দিলি?’

‘আরে তুই চুপ কর তো।আগে আফসানের থেকে পুরো ঘটনা শুনতে দে।আমার প্লান এভাবে ফ্লপ হতেই পারে না। আফসান সব ঠিক মতোই চলছিলো তাহলে ঘরে তার জায়গায় নিষ্প্রভ কি করছে?’

আফসান একটু নিজেকে গুছিয়ে নিলো।তারপর বলতে শুরু করলো,

‘মম তোমার কথা অনুযায়ী সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছি।ভিকি তুরের উপর জুস ফেলে দিয়ে ওকে আমার রুমে নিয়ে এসেছে।দেন আমার আরেকটা বন্ধু কারেন্টের সুইচ অফ করেছে। আমি ভিকিকে মেসেজ দিয়ে বলেছিলাম রুমে যাবো,সে জেনো বাহির থেকে লক দেয়,যে মুহূর্তে ঘরে ঢুকবো ঠিক সে মুহূর্তে হঠাৎ করে একটা মেয়ে এসে আমায় টানতে টানতে গার্ডেনে নিয়ে যায়।অন্ধকারে তার মুখটাও দেখতে পারি নি। কিছু বলার আগেই সে উধাও,তারপরের ঘটনা তুমি জানোই।’

আশা বেগম রাগের বসে আফসানকে আরেকটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।রেগে গজ গজ করে করতে বলে,

‘জা*নো*য়া*র সামান্য মেয়ে মানুষের সাথে পারিস না।তোকে টেনে নিয়ে গেলো আর তুই ও গেলি।তোর সামান্য ভুলের জন্য আমার কতো বড় প্লান নষ্ট হয়ে গেলো। কাপুরুষ একটা! কোনো কাজের ই না তুই।এখন তুরকে অই নিষ্প্রভের সাথে দেখ সকাল স্বন্ধ্যা।’

বলেই তানিয়ার হাত ধরে সেখান থেকে নিয়ে গেলো আশা বেগম। তানিয়া বাকরুদ্ধ! তার কি বলা উচিত বা কি করা উচিত এই মুহূর্তে সে বুজতে পারছে না।

আফসান পিছন থেকে বার দুয়েক ডাকলো আশা বেগমকে।তবে তিনি ছেলের দিকে ফিরেও তাকায় নি।কেন তাকাবে? দোষ ত পুরোপুরি আফসানের।

আফসান মেঝেতে ডান পা দিয়ে জোড়ে আঘাত করে বিরবির করে বলল,

‘আমি কিছুতেই অই নিষ্প্রভের সাথে তুরকে দেখতে পারবো না।যে করেই হোক ওদের আলাদা করতেই হবে।’

চলমান।

বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।সবাই ছোট্ট করে হলেও মন্তব্য করে যাবেন অনুরোধ।আপনাদের ছোট্ট মন্তব্য আমার লেখার আগ্রহ বাড়াবে।তা না হলে কিন্তু নিয়মিত গল্প দিবো না বলে দিলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here