হৃদয়ের সন্ধিক্ষণ পর্ব ১৪

0
49

#হৃদয়ের_সন্ধিক্ষণ
#পর্বঃ১৪
#ফারিহা_খান_নোরা

তুরের করা অপ্রত্যাশিত কাজে প্রথম দিকে নিষ্প্রভ বাঁধা দিলেও পরবর্তীতে সেও তুরের মত বেসামাল হয়ে প’ড়ে।সে তুরের সাথে তাল মিলিয়ে নে’শা’য় মেতে ওঠে।তুরের ওষ্ঠ জো’ড়া থেকে সমস্ত রস নিংড়ে নিচ্ছে নিষ্প্রভ।জেনো কতো জন্মের খরার পর এক পশলা বৃষ্টি স্নিগ্ধ করে দিচ্ছে তাঁদের।নিষ্প্রভের এক হাত তুরের মাথায় অন্য হাত দিয়ে তুরের পিঠে অগোছালো ভাবে বিচরণ করে।এ এক অন্য রকম অনুভুতি যার সাথে নিষ্প্রভ জীবনের ফার্স্ট টাইম পরিচিত হলো।তুর জ্বরের ঘোরে সে এই অনুভূতি মনে রাখতে পারবে কি না,জানে না।হঠাৎ করেই তুর এক ধা’ক্কা’য় নিষ্প্রভ কে সরিয়ে দেয়।নিজের মুখ দুই হাত দিয়ে ধরে বেড থেকে নিচে নামতে নেয় কিন্তু তাঁর আগেই শরীর কাঁপিয়ে গল গল করে পুরো মেঝে ভাসিয়ে বমি করতে শুরু করে।

নিষ্প্রভ অস্থির হয়ে উঠে বলে,

‘ওহ শীট!’

পিছন থেকে সে তুরের দুই কাঁধ ধরে ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে।বমি করতে করতে তুর সেন্সলেস হয়ে নিষ্প্রভের উপর ঢলে প’ড়ে।নিষ্প্রভ কোনো উপায় না পেয়ে তুরকে কোলে তুলে আলগোছে বেডে শুইয়ে দেয়।এতো রাতে বাড়িতে কেউ জেগে নেই।এবাড়িতে হেল্প করার মত একমাত্র সিতারা আছে এতো রাতে তাঁকে ডাকতে গেলে বাড়িতে সবাই জেগে যাবে হয়তো একটা সিনক্রিয়েট হবে।নিষ্প্রভ কোনো উপায় না পেয়ে নিজেই ফ্লোর পরিষ্কার করে এক বালতি পানিতে মেডিসিন নিয়ে মুছে দেয়।তখন তুরকে ধরতে নিয়ে তাঁর শরীরেও বমির কিছু অংশ লেগেছে যার ফল স্বরূপ শরীর থেকে কেমন বিদঘুটে গন্ধ বের হচ্ছে।নিষ্প্রভ টিশার্ট ও ট্রাউজার নিয়ে দশ মিনিট সময় লাগিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে।ওয়াশরুম থেকে বাহিরে এসে দেখে ম্যাডাম এখনো অই অবস্থায় আছে।সে তুরের কাছে যেয়ে কপালে হাত দেয় জ্বর চেক করে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক তার মানে জ্বর তেমন নেই।তবে তুর ঠান্ডায় কাঁপছে,এখন নিষ্প্রভের সব চেয়ে বড় কাজ হলো তুরের ড্রেস চেঞ্জ করে দেওয়া নয়তো তুরের ঠান্ডা লেগে যাবে কারণ তাঁর ড্রেস ও নোং’রা হয়ে গেছে।ড্রেস চেঞ্জ করে দেওয়ার কথা ভাবতেই ভ’য়ে তার গলা শুকিয়ে যায়। কিভাবে সম্ভব তাছাড়া তুর যদি তাকে ভুল বুঝে।এই অজ্ঞান রাণীর তো আর এসব কিছু মনে থাকবে না,ম্যাডাম এখন প’ড়ে প’ড়ে সেবা নিবে।নিষ্প্রভ মহা ঝামেলায় প’ড়ে তারপর ভাবে নাহ আগে মানুষের জীবন তারপর বাকি সব।

নিষ্প্রভ আলমারির দিকে এগিয়ে যায় অনেক ভাবনা চিন্তা করে ঢিলে ঢালা একটা কামিজ ও প্লাজু বের করে নিয়ে আসে।তার বেশ অস্বস্তি হয় কি ভাবে কি করবে বুঝতে পারে না।যত‌ই তাঁর বিয়ে করা ব‌উ হোক না কেন তাদের মধ্যে এখনো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থাপন হয় নি।আর কিছু না ভেবে নিষ্প্রভ রুমের লাইট অফ করে পুরো রুম অন্ধকার করে দেয় অস্বস্তি নিয়ে এগিয়ে যায় কাঁপা কাঁপা হাত তুরের দিকে বাড়িয়ে দেয়।ড্রেস চেঞ্জ করে দিয়ে নিষ্প্রভ হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। রুমের লাইট অন করে দিয়ে টাওয়াল ভিজে নিয়ে তুরের মুখ মন্ডল মুছিয়ে দেয় চোখে একটু পানির ঝাপটা দেয়।তুরের সেন্স ফিরেছে তবে সে জ্বর ও বমি করে বেশ দূর্বল।যার জন্য চোখের পাতা খুলতে পারছে না চোখ বন্ধ করেই কি জেনো বলছে।নিষ্প্রভ তুরের গায়ে কম্বল টেনে দিয়ে সেও পাশে শুয়ে পড়ে।নিষ্প্রভ তুরের দিকে একপলক তাকিয়ে বিরবির করে বলে,

‘মানুষ বিয়ে করে ব‌উ এর সাথে বাসর করার পর ব‌উ বমি করে প্রেগন্যান্ট এর সংকেত দেয়।আর আমার ব‌উ! এখনো বাসর‌ই করতেই পারলাম না তার আগেই নিজের ইচ্ছায়,সামান্য কিস করে বমি করে ভাসিয়ে দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে।’

তারপর ভাবুক কন্ঠ নিষ্প্রভ আবার ও বলে,

‘আমার ব‌উ তাহলে কিসের সংকেত দিচ্ছে?’

_____________________

নুরুল সাহেব কারো সাথে কোনো কথা না বলে রাতের খাবার বাহিরে যেয়ে খেয়ে এসেছে। তানিয়া বেগম সেই যে রুমে যেয়ে দরজা দিয়েছে আর বের হয় নি। তুরফা না খেয়ে শুকনো মুখেই মুখ ভার করে বসে আছে।তার হয়েছে যতো জ্বা’লা এখন রান্না বসিয়ে দিলে তাঁর উপর মায়ের ঘূর্ণিঝড় প’ড়’বে কারণ মা প‌ই প‌ই করে বলে দিয়েছে কোনো মতেই জেনো রান্না না করে কারণ তুষারকে আজ তাঁর নতুন ব‌উয়ের হাতের রান্না খাইয়ে বুঝিয়ে দিবে মা কেন এই দূর্বাকে ব‌উ হিসাবে মেনে নিতে পারছে না।নামটাও কি দূর্বা? তানিয়া বেগম তো দূর্বা ঘাস ছাড়া কথাই বলে না।এতো ফল ফুলের নাম থাকতে ঘস লতা পাতার নাম রাখলে যা হয়। তুরফা বিস্কুট ও চা খেয়ে কিছুটা হলেও খুদা নিবারণ করে।এর মধ্যে তুষার এসে পড়ে ফ্রেশ হয়ে তার ব‌উকে সাথে করে টেবিলে বসে প’ড়ে।তুরফাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

‘তুরফা খাবার দে।’

তুরফা ভ্রু কুঁচকে ফেলে। হিসহিসিয়ে বলে,

‘এখন বিয়ে করছে তোমার সব দিকে খেয়াল রাখার দায়িত্ব তোমার ব‌উয়ের।ব‌উকে বসিয়ে রেখে বোন কে ডাকছো কেন?’

তুষার চুপ হয়ে যায় দূর্বা উঠে খাবার নিয়ে এসে তুষারের প্লেটে দেয়। তুষার খাবারের দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। কিছুটা রে’গে বলে,

‘এসব কি?’

তুরফা একটু হেসে স্বভাবিক কন্ঠে বলে,

‘কেন খাবার তোমার ব‌উ রেঁধেছে।’

তুষার কিছু না বলে দূর্বার হাত ধরে টেনে রুমে নিয়ে যায়।দরজা জো’রে লাগিয়ে দেয় দূর্বা কেঁপে উঠে বলে,

‘কি হয়েছে স্বামী আমি কি কিছু ভুল করেছি?’

‘তোমার এই স্বামী স্বামী বলা দয়া করে বন্ধ করো।’

‘কেন স্বামী?’

তুষার চটে যেয়ে দূর্বাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে।ক’ড়া কন্ঠে বলে,

‘তোমার এই স্বামী স্বামী বলে মুখের ফোনা তোলা বন্ধ করো।আর খ’ব’র’দা’র! বাবা মায়ের সামনে আমাকে স্বামী স্বামী বলে সম্মধন করছো তো তোমার একদিন কি আমার যে কয়দিন লাগে।’
____________________

এখন মধ্যে রাত! নিষ্প্রভের বুকের উপর গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে তুর। কিছু আগেই নিষ্প্রভ তুরের মাথায় পানি ঢেলেছে কারণ তুরের জ্বর আবার এসেছিলো।ম্যাডাম সারারাত নিষ্প্রভের সেবা নিয়েছে।

‘আমায় একটু জড়িয়ে ধরেন না, খুব শীত করছে।’

তুরের কথা শুনে শুকনো ঢুক গিলে নিষ্প্রভ।তুর নিষ্প্রভকে টাইম না দিয়েই নিজেই ঝাপটে জড়িয়ে ধরে মিন মিন করে বলে,

‘তখন অই মেয়েটার সাথে হেসে হেসে কথা বলছিলেন কেন? আমার খুব রা’গ লেগে ছিলো।’

‘আমার তার সাথে হেসে হেসে কথা বলায় তোমার কেন রা’গ লেগেছিল?’

তুর নিজের ঠোঁট উল্টে বলে,

‘জানি না।’

নিষ্প্রভ তুরকে তার বুকের উপর থেকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়।তুর নিষ্প্রভকে টেনে নিজের উপর ফে’লে যার ফলে নিষ্প্রভের শরীরের আশি পার্সেন্ট ভার তুরের উপর গিয়ে পরে।নিষ্প্রভ উঠতে নিলে তুর তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বলে,

‘আপনি এমন কেন! সব সময় আমায় শুধু ইগনোর করেন।এমন ভাব করেন জেনো আমি অন্যের ব‌উ।আমায় একটু আদর করলে কি হয়?’

নিষ্প্রভের গলা শুকিয়ে যায়।জ্বরের ঘোরে মেয়েটা কি বলছে জানলে নিজের‌ই হুঁশ থাকতো না। নিষ্প্রভ শুকনো ঢুক গিলে তুরের কানের কাছে তার মুখ এগিয়ে এনে বলে,

‘আচ্ছা আচ্ছা তুমি আমার‌ নিজেরই ব‌উ।এখন আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, তুমি এখন ঘুমাও ব‌উ। ভালো ব‌উয়েরা কিন্তু স্বামীর কথা শুনে।’

তুর ঘোর লাগা কন্ঠে বলে ওঠে,

‘সব কথা শুনবো তার আগে আমায় একটু আদর করেন।’

নিষ্প্রভ কিছু একটা বলে তুরকে মানতে চাইছিলো তার আগেই এই রাতের বেলা নিচে থেকে চিৎ’কা’র এর আওয়াজ ভেসে আসে।

‘চলমান।

বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here