সূর্যোদয় পর্ব ১৪

0
47

#সূর্যোদয়
#পর্ব_১৪
#কারিমা_দিলশাদ

৩৩.
সকাল সকাল ঐশী খাবার নিয়ে হসপিটালে যায়। কালকে বাসায় যাওয়ার পরে তার মা অনেক কথা শুনায়। তবে তা ঐশী মোটেও গায়ে লাগায় নি। ভোরে উঠে নিজেই সবার জন্য সকালের রান্না করে রেখে আশা এবং ওর বাবা মা’র জন্যও নিয়ে যায়।

যেতে যেতে বাকিদের কাছে ফোন করে সবাইকে আসতে বলে। হাসপাতালে গিয়ে দেখে এখনো ওরা কেউ আসে নি। তাই ঐশী একাই ওয়ার্ডে চলে যায়৷ আশার মা’র অবস্থাও কাহিল। তাই ঐশী আগে আশার বাবা মা কে খেয়ে নিতে বলে। খেয়ে দেয়ে ঐশীর বাবা মা যেন বাসায় গিয়ে একটু রেস্ট নেয়। এরপর দুপুরের রান্নাবান্না করে খাবার নিয়ে হাসপাতালে আসতে বলে দেয়। ততক্ষণ ঐশীরা এখানে থাকবে। আজকে বিকালে হয়তো ডিসচার্জ দিয়ে দিবে আশাকে। তারা প্রথমে গাইঁগুইঁ করলেও পরে ঐশী আর বাকিদের কথাই মেনে নেয়। ওরাও এর মধ্যে এসে পড়েছে।

দশটার দিকে জয় এবং আরও দুজন ডাক্তার আসে চেকআপ করতে। জয় ঐশীকে দেখে একটা হাসি দিলে ঐশীও সৌজন্য রক্ষা করে।

চেকআপ শেষে জয় নিজেই ওদের কাছে আসে। আশার অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করতেই জয় জানায় আজকে বিকেলে চাইলে ডিসচার্জ নেওয়া যেতে পারে কিন্তু বাসায় খুব খেয়াল রাখতে হবে। কমপক্ষে ১মাস পুরো বেডরেস্টে থাকতে হবে। আশার বাবা মা’র কাছ থেকে শুনে ঠিক করে আজকেই বাসায় নিয়ে যাবে।

৩৪.
এরইমধ্যে আবার এক চমৎকার হয়ে যায়। ঐশীর মা বিকেলের আগেই হাসপাতালে আসেন আশাকে দেখতে। বেশ দুঃখও প্রকাশ করে।

বিকালবেলা ডিসচার্জের সময় ঐশী আর অনিক ডাক্তারের কাছে যায় কাগজপাতি নিয়ে। যেহেুতু জয় সেখানকার ডিউটি প্লাস আশাকে ট্রিটমেন্ট দিচ্ছিলো সুতরাং জয়ের কাছেই যায় পারমিশন নিতে।

জয় এসে সব ফর্মালিটি পূরণ করে এবং টেক কেয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত সব বুঝিয়ে দেয়। আশাকে গাড়িতে উঠিয়ে বিদায় দেয় ঐশী এবং তার ফ্রেন্ডরা। তারা হাসপাতাল থেকেই যে যার বাসায় চলে যাবে। তাদের যাওয়ার মূহুর্তে আবার নিচে জয়ের সাথে দেখা। সবাই জয়ের কাছে শুকরিয়া আদায় করে।

এরপর জয় ঐশীর দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দেয়। এর প্রেক্ষিতে ঐশীও তা এক মিষ্টি হাসির সাথে ফেরত দেয়। জয় বলে,

“ তো? আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ। তবে এখানে না। আমি চাই না এখানে আমার কোনো আপনজনের সাথে দেখা হোক। হাসপাতালের বাইরে হলেই ভালো।”

“ তা তো অবশ্যই। ধন্যবাদ ডাক্তার। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। ”

“ ধন্যবাদ! খালি খালি ধন্যবাদে তো কাজ হবে না। শুকনো মুখে ধন্যবাদ চলে না। কিছু তো দিতেই হবে।”

ঐশী জয়ের কথায় প্রথমে অবাক হলেও পরে জয়ের মুখের দুষ্টু হাসি দেখে জয়ের মজা বুঝতে পারে। তাই সে গম্ভীর মুখ করে বলে,

“ হুমম তাই তো। পানি খাবেন? তাহলে মুখ আর শুকনো থাকবে না। এরপর তো ধন্যবাদে কাজ হবে তাই না?”

ঐশীর কথায় জয় হেসে ফেলে। আর বলে,

“ পানি না, এক কাপ কফিতে হয়ে যাবে। হবে নাকি একদিন? ”

এভাবে হুট করে কফির অফার করায় ঐশী যদিও বিব্রতবোধ করে। এসব বিষয়ে সে খুবই ব্যাকডেটেড। তবুও তা সে সেটা বুঝতে দেয় না। বরং হাসিমুখে বলে,

“ অবশ্যই হবে, কেন হবে না! ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ চাইলে একদিন সবাই বসে কফি খাওয়া যেতেই পারে। একদিন চলে আসবেন কলেজে আড্ডা দেওয়া যাবে সবাই মিলে।”

“ ওহহ বাই দা ওয়ে। আমার বোন স্মৃতি আপনার নাচ নাকি কোথাও দেখেছে। দেখে তো সে আপনার কাছে নাচ শিখতে খুব আগ্রহী। বায়না করছে এখন। কিন্তু এসময়…..”

“ হ্যা সেদিন আমাকে বলেছিল। আমিও সেম কথাই বলেছি। এখন এগুলো শেখার সময় না।”

এরমধ্যে বাকিরা তাড়া দিতে থাকে যাওয়ার জন্য। ঐশী তাদেরকে এগুতে বলে। সে আসছে। এরমধ্যে জয় প্রশ্ন করে,

“ আচ্ছা যদি আপনি স্মৃতির জায়গায় থাকতেন তাহলে কি করতেন? মানে পড়াশোনা নাকি শখ?”

“ ওমমম দুটোই। কোনোটাই ছেড়ে দেওয়ার মতো না। পড়াশোনাটা আমার প্রয়োজন আর নাচটা আমার শখ। দুটোই ব্যালেন্স করার চেষ্টা করতাম। যখন দেখতাম যে না দুটো ব্যালেন্স করা আপাতত পসিবল হচ্ছে না তখন একটা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতাম। আসলে কি বলেন তো। জীবনটা অনেক ছোট। এখানে একটু ব্যালেন্স করে চলতে হয়। শখ না পড়াশোনা এই দুটোর মধ্যে কোনোটাই ছাড়ার মতো না। পড়াশোনার জন্য যদি সব শখ ছেড়ে দেই তাহলে জীবনের একটা সময় গিয়ে মনে হবে। সময় ছিল, সুযোগ ছিল, শুধু যদি একটু কষ্ট বেশি করতাম কিংবা একটু ব্যালেন্স করতাম তাহলে আমার সেই শখটা হয়তো পূরণ হতো।”- কথাগুলো বলতে গিয়ে ঐশী যেন একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছে। আর জয়ও ঠিক তেমনই এক ঘোরের মধ্যে চলে গেছে।

একসময় ঐশীই আবার হেসে বলে,

“ সরি একটু বেশি কাব্যিক হয়ে গেছিলাম। আমি হলে এটাই করতাম আরকি। বাট যার যার opinion আলাদা, সময়কার চাহিদা আলাদা। এটা নিজেদেরকেই ঠিক করতে হয়। অন্যজনকে ফলো করতে নেই। কিছু মনে করবেন না আবার যেন।”

“ এটুকুন মেয়ে হয়ে এতো গভীরভাবে চিন্তা করেন কি করে আপনি বলেন তো?”

জয়ের কথায় ঐশী হেসে নিজের মাথায় আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলে,

“ মাথা দিয়ে।”

ঐশীর কথায় জয় এবার জোরে হেসে দেয়। ঐশী বলে,

“ এবার আসি ডাক্তার সাহেব। ওরা অনেক্ক্ষণ ধরে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।”

“ ওহহ সরি৷ আল্লাহ হাফেজ। টেক কেয়ার।” —ঐশীও হ্যা সূচক মাথা নেড়ে বলে,

“ আল্লাহ হাফেজ।”

জয় একদৃষ্টিতে ঐশীর চলে যাওয়া দেখে।

৩৪.
জয় বাসায় আজ তাড়াতাড়ি এসে পড়েছে। তবে এখনও সে বাইরের পোশাকেই বিছানায় বসে আছে। সে শখ নিয়ে ভাবছে। আজকাল স্মৃতি হালকা একটু মনমরা হয়ে থাকে। আর সেটা যে নাচ শিখা নিয়ে তা সে জানে। তাই সে ভাবছে এটা নিয়ে। মন সায় দেয় না। আবার ঐশীর কথাগুলোও তাকে ভাবাচ্ছে।

সত্যিই মানুষের ছোট ছোট শখ আহ্লাদগুলোই একসময় গিয়ে বড় এক আফসোসে পরিণত হয়। তখন কেবল এই ভাবনা আসে ইশশ যদি এটা করতাম তাহলে হয়তো শখটা পূরণ করতে পারতাম।
তারও তো কত শখ ছিল। তবে সে ভেবেছিল পড়াশোনা শেষ করে এসব নিয়ে ভাবা যাবে। এখন ডাক্তার হয়ে গেছে, টাকাও আছে তবে সেই শখগুলো পূরণ করার মতো বয়স নেই, সময় নেই, সুযোগ নেই।

মা সত্যি বলে সে সারাজীবন পড়াশোনা পড়াশোনা করতে করতে ভেড়া হয়ে রইলো। জয় ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় বরাবরই খুব ভালো। তবে এক্সট্রা কারিকুলার কোনো অ্যাক্টিভিটিসে সে মোটেই এক্টিভ ছিল না কখনো।

এসব ভাবতে ভাবতেই তার নজর ঘরের এক কোণে রাখা গিটারটাতে গিয়ে পড়লো। বিছানা থেকে উঠে সে গিটারটা হাতে নেয়। এরপর বারান্দায় গিয়ে বসে।

এই গিটারটা ক্লাস নাইনে থাকতে তার বাবা তাকে জন্মদিনের গিফট হিসেবে দিয়েছিল। জয়ের গাণের গলা বেশ ভালো। গুণগুণ করে জয়কে গাণ গাইতে শুনে তার বাবা সেবার তাকে এটা গিফট করে। ঐশীর মতো তার বাবাও বলেছিল,

“ আরে ব্যাটা তোর সময়ে আমরা কত কি করছি। আর তুই ব্যাটা খালি বইয়ে মুখ দিয়ে পড়ে থাকিস। না বাইরের দুনিয়া নিয়ে তোর কোনো ধ্যানজ্ঞান আছে না কোনো শখ আহ্লাদ। মাঝে মাঝে ছোট ছোট বিষয়েও সময় দিতে হয়, নিজের শখ আহ্লাদের পিছনেও সময় দিতে হয়। নইলে একসময় পিছনে চাইলে এই বই খাতা, পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পারবি না। জীবনে কিছু সুন্দর মূহুর্তও তৈরি করা লাগে। পরে গিয়ে এই সুন্দর মূহুর্তগুলাই দেখবি কত খুশি দেয়।”

মাখে মাঝে এটা নিয়ে মন চাইলে গান গাইতো তবে কোনো অনুষ্ঠানে গাওয়া হয় নি। গিটার বাজানোটাও তার বাবা’ই শিখিয়ে ছিলেন। তার ক্লোজ কয়েকজন ছাড়া কেউই জানে না তার এই গুণের কথা। ভালো লাগার কথা।

এসব ভাবতে ভাবতেই গিটারে টুংটাং করে শব্দ তুলে। গত দুবছর তো গিটারটা ধরাই হয় না। ঐশীর সাথে প্রথম দেখার পর থেকে মাঝেমধ্যে মা বোনের আবদারে কয়েকবার সুর তুললেও গত কয়েকমাস ধরে গিটারটা আর ছোঁয়াই হয় না৷ আজ সে মন থেকে গাইতে চায়। জয় গিটারে সুর তুলে গাইছে,

এখন অনেক রাত,
তোমার কাঁধে আমার নিঃশ্বাস
আমি বেঁচে আছি তোমার ভালোবাসায়।
ছুঁয়ে দিলে হাত,
আমার বৃদ্ধ বুকে তোমার মাথা
চেপে ধরে টলছি কেমন নেশায়

কেন যে অসংকোচে অন্ধ গানের কলি,
পাখার ব্লেডের তালে সোজাসুজি কথা বলি।

আমি ভাবতে পারি নি,
তুমি বুকের ভেতর ফাটছো আমার
শরীর জুড়ে তোমার প্রেমের বীজ
আমি থামতে পারি নি,
তোমার গালে নরম দুঃখ
আমায় দুহাত দিয়ে মুছতে দিও প্লিজ…

৩৫.
গান শেষ করে জয় চোখের কোণে হালকা জমে থাকা পানিটা মুছে নেয়। স্মৃতি এতক্ষণ বারান্দার দরজার সাথে দাঁড়িয়ে চুপচাপ গান শুনছিল। কতদিন পর গান গাইলো তার ভাই।

স্মৃতি নিজের রুমে বসেই পড়ছিল। হঠাৎ ভাইয়ের গিটারের শব্দ শুনে ভাইয়ের রুমে এসে দেখে তার ভাই গিটার বাজিয়ে গান গাইছে। তাই সে আর ডিস্টার্ব না করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। এবার গিয়ে ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে দাঁড়ায়।
জয় স্মৃতির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলে প্রতিত্তোরে স্মৃতিও হালকা হেসে ফ্লোরে বসে ভাইয়ের কোলে মাথা এলিয়ে দেয়। জয়ও পরম মমতায় বোনের মাথায় হাত বুলাতে থাকে। একটু পর বলে,

“ তোর ঐশী আপুর সাথে আমি কথা বলে নিব নি। তুই তার কাছে নাচ শিখতে যাস। আমার কোনো আপত্তি নেই।”

ভাইয়ের মুখে আচমকা এমন কথা শুনে স্মৃতির চোখ চকচক করে উঠে। সে জয়ের কোল থেকে মাথা উঠিয়ে তার দিকে তাকায়৷ আর একরাশ খুশি নিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“ সত্যি?! ”

জয় হাসিমুখে হ্যা সূচক মাথা নেড়ে স্মৃতির নাক টিপে বলে— “তিনসত্যি।”

স্মৃতি খুশিতে ভাইকে জ’ড়িয়ে ধরে। কিন্তু আবার কি মনে করে ছেড়েও দেয়। চোখেমুখে একরাশ দুঃখ নিয়ে বলে,

“ ভাইয়া আম্মু? আম্মু কি মানবে?”

“ আম্মুকে আমি মেনেজ করে নিব। তবে আমার কিছু শর্ত আছে।”

“ কি শর্ত? ”

“ পড়ালেখায় কোনোরকম ফাঁকিবাজি চলবে না। রেজাল্ট খারাপ হওয়া চলবে না। যদি তুই আমাকে প্রমিজ করিস যে এমন কিছু হবে না তাহলে আমি কথা বলে দেখতে পারি। বল রাজি?”

স্মৃতি আবার খুশিতে ভাইকে জ’ড়িয়ে ধরে বলে,

“ একশোবার রাজি ভাইয়া৷ আমি তোকে প্রমিজ করছি পড়াশোনায় কোনো ক্ষতি হবে না। আমি একদম ফাঁকিবাজি করবো না। একদম না।”

“ ঠিকাছে। তাহলে আমিও সব মেনেজ করে নিব।”

“ ইয়েয়য়য়। ইউ আর দ্যা বেস্ট ভাইয়া ইউ আর দ্যা বেস্ট। উম্মাহহহহ…..” — এবার জয় জোর করে স্মৃতিকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে উঠে পড়ে। আর বলে,

“ হয়েছে হয়েছে ছাড়। ঢং করিস না। উহহহহহহহ্ এখন আদরে একেবারে উতলে পড়ছে। অন্যসময় তো আমার মতো খারাপ ভাই আর একটাও নেই। এখন ইউ আর দ্যা বেস্ট।” —শেষের কথাটা মুখ ভেঙচিয়ে বলে জয়। স্মৃতি সেসবে পাত্তা না দিয়ে বরং পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে,

“ না না তুই তো দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো ভাই। এক্কেবারে সত্যিওয়ালা কথা।”

৩৬.
ভাইবোনের এই মিষ্টি খুনসুটিময় দৃশ্যের একজন মাত্র সাক্ষী ইলোরা ইয়াসমিন। রান্না করার সময় হঠাৎ ছেলের গলায় গান শুনে তিনিও এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন দরজায়। গান থামলে ভিতরে গিয়ে ভাইবোনের সব কথোপকথনই তিনি শুনেছেন। তবে যেভাবে নিঃশব্দে এসে দাড়িয়ে ছিলেন সেভাবেই আবার চলে গেলেন।

থাক ওরা ওদের মতো করে থাকুক একটু। এতোবড় হয়েও সারাদিন ঝ’গড়াঝাটি মা’রামা’রি লেগেই থাকে। তবে তিনি জানেন ওগুলো সব উপরে উপরে। ওদের মধ্যকার আসল সম্পর্কটাতো এমনই। যতই মা’রামা’রি ঝ’গড়াঝাটি করুক, দুজনের মধ্যে বেশ ভাব।

তবে স্মৃতির নাচ শেখার ব্যাপারটা নিয়ে যদিও তার একদমই মত নেই। তবুও তিনি চুপ থাকেন। এবং মনে মনে ঠিক করেন জয় বললে তিনিও রাজি হয়ে যাবেন। আর যাইহোক জয়ও অবশ্যই কিছু না কিছু ভেবে রাজি হয়েছে।

#চলবে……….

( কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে চাইলে শেয়ার করতে পারেন।)

[ গল্পটা কি বোরিং লাগছে? গল্পটা কেমন লাগছে সে সম্পর্কে আপনাদের মতামত জানান।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here