সূচনাতে প্রেম পর্ব ২

0
77

#সূচনাতে_প্রেম
#নুসাইবা_রেহমান_আদর
#পর্ব:২

তখন সুমাইয়া জহির কে বলে,,,,
~আসলে আজ ভাইয়া সানাকে নিয়ে বের হবে। লাঞ্চ তারা বাহিরে করবে তাই বাবা থেকেও পারমিশন নিয়ে নিয়েছে। আপনি আমি আর সাইফ একসাথে লাঞ্চ করে নিবো নে। সানা তো রেডি আছে এবার নাহয় তারা বের হোক।

জহিরের ব্যাপার টা ভালো লাগলো না। এই দুপুর বেলা রোদে বোনের বের হওয়াটা পছন্দ হচ্ছে না।সানার গরমে প্রচন্ড সমস্যা হয়। রোদে গেলে অতিরিক্ত গরমে মেয়েটার ঠান্ডা লেগে হাচি শুরু হয়ে যায়। এই কারনে বোন কে যে সে কত শাসনে রাখে তা সে ই একমাত্র জানে। ছোট বোনের গায়ে সামান্য আচর লাগলেও তার কলিজা ফেটে যায়। নতুন জামাইকেও না করতে পারে না। অনিচ্ছা থাকার পরেও সে যেতে বললো,

~ যাও তাহলে তোমরা।সাবধানে যেও সাফোয়ান সানার খেয়াল রেখো।

সাফোয়ান উপর নিচ মাথা দুলালো।এরমানে সে সানার খেয়াল রাখবে। সানা আর কি করবে রুমে গিয়ে ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে আসলো। সাফোয়ান ও কালো পাঞ্জাবিটি টেনে টুনে সোজা করে নিলো।গরমে ঘেমে পাঞ্জাবিটি শরীরের সাথে লেগে গিয়েছিলো তার। সাফোয়ানের দিকে এখন অব্দি সানা চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে নি। লজ্জা লাগছে অনেক তার তাকাতে। সানা আর সাফোয়ান বের হওয়ার সময় সাইফ ঢুকলো সানাদের ফ্লাটে।

~ জানো মিষ্টিভাবি ভাইয়া নিজে তো আগে শশুরবাড়ি ঢুকে গরম থেকে বাচলো অথচ আমাকে এই গরমে এতো কিছু কিনতে পাঠালো। এটা ঠিক কি ঠিক বলো?

সাইফের অভিযোগ শুনে সানা মুচকি হাসলো।

~ যাও গিয়ে ভাবিকে বলো ফ্রিজ থেকে শরবত বের করে দিতে।তোমার জন্য আমি বিটলবন মিশিয়ে আলাদাভাবে বানিয়ে রেখছি। গিয়ে খেয়ে নাও!

~ তুমি এতো ভালো কেনো মিষ্টি ভাবি?

~ এখানে না দাঁড়িয়ে থেকে, এবার যা আমাদের লেট হচ্ছে।

সাফোয়ানের গম্ভিরভাবে বলা কথাটা শোনা মাত্রই সাইফ সেখান থেকে কেটে পরলো। সাফোয়ান এবার ধীর গলায় সানাকে বললো,

~ দেরি হয়ে যাচ্ছে হাটুন।নিচে গিয়ে আবার রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

সানা হাটা ধরলো আশে-পাশে না তাকিয়েই। সাফোয়ান ফোস করে নিশ্বাস নিলো।আজকাল এই মেয়েটাকে যা বলা হচ্ছে রোবটের মতো তাই করে যাচ্ছে। সাফোয়ান এবার দ্রুত পা চালালো। সানার সাথে নিচে গিয়ে দাঁড়ালো।দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাতেই দেখতে পেল একজন রিক্সাওয়ালা আসছে। রিক্সাওয়ালা কে হাত দিয়ে ইশারা করে থামিয়ে দিলো। রিক্সা ওয়ালার সাথে কথা বলে উঠে বসলো রিক্সায়। সানার দিকে হাত বাড়িয়ে রাখলো সাফোয়ান। যাতে তার হাত ধরে উঠতে পারে সানা৷ সানাও ইতস্ততভাবে সাফোয়ানের হাতে হাত রাখলো।সম্পূর্ণ ভার সাফোয়ানের হাতে দিয়ে রিক্সায় উঠে বসলো।

~রিক্সার হুডটা একটু টেনে নিবেন? রোদে আমার সমস্যা হচ্ছে।

সানার কথা শুনে সাফোয়ান রিক্সার হুড টেনে দিলো। নিজে যথাসম্ভব রিক্সার কোনায় চেপে বসলো যাতে সানার বসতে কোনো সমস্যা না হয়। রিক্সার মধ্যে এইভাবে আলাদা বসা যায় না তবুও সাফোয়ান চেপে আছে যাতে সানার কাম্ফোর্ট ফিল হয়। এই একজন মেয়ে তার সারাজিবনের দায়িত্বে আছে।পুরো রাস্তা জুরে কেবল নিস্তব্ধতা ঘিরে আছে দুইজন মানব মানবি কে৷ একজন বরাবরের গম্ভির তো আরেকজন শান্ত হয়ে আছে৷ দুই জনের মনের মধ্যে চলছে দুই রকম ভাবনা। তাদের এই চুপ থাকার মধ্যেই তারা রেস্টুরেন্টের সামনে চলে আসে। সানা রিক্সা থেকে নেম সাইডে দাড়ালো! সাফোয়ান রিক্সা ভারা মিটিয়ে দিয়ে সানার হাত নিজের হাতের মধ্যে মুষ্টিবদ্ধ করে ফেললো। আচমকা সাফোয়ান হাত ধরায় চমকে যায় সানা।সাফোয়ান নিজ থেকে কিভাবে তার হাত ধরলো?সানার কাপাকাপি শুরু হয় যায়। সানাকে এভাবে কাপতে দেখে হাল্কা হাসে সাফোয়ান।

~ রাস্তায় এভাবে কাপতে থাকলে লোকে ভাববে আপনার মৃগি রোগ আছে মিসেস সাফোয়ান।

সাফোয়ান যে আজ সানাকে লজ্জা দিতে চাচ্ছে। সানা এবার বলে উঠে,

~ আপনি আমার হাত ছেড়ে দিন তাহলে কাপবো না আর।

~ আমি আমার বিয়ে করা বৈধ স্ত্রীর হাত ধরেছি তাই আর ছাড়ছি না হাত।মৃত্যু অব্দি এই হাতের মালিকানা আমি ছাড়ছি না।

সাফোয়ানের এই কথা সানার মনের মধ্যে গেথে গেলো।হঠাৎ করেই সানার মনটা ভালো হয়ে গেল। তার কানের মধ্যে বারবার বেজে চললো সাফোয়ানের বলা কথাটা। সাফোয়ান তার উপর কতটা অধিকারবোধ দেখাতে পারলে এই কথাটি বলতে পারলো। অথচ সে নিজে বিয়ের এই কয়টা দিনের মধ্যে একবারও সাফোয়ানের কথা ভাবে নাই। তাকে নিয়ে একটুও চিন্তা ভাবনা তার মনের মধ্যে কাজ করে নাই।

সাফোয়ানের পায়ে পা মিলিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে চলল রেস্টুরেন্টের ভিতর সানা। আজ এতো গরমেও খারাপ লাগছে না তার। কেমন যেনো এক ফিলিংস হচ্ছে মনের মাঝে।মাথায় শুধু সাফোয়ানের বলা কথা গুলোই বেজে চলেছে।

রেষ্টুরেন্টে আজ মানুষের তেমন একটা ভীড় নেই। সাফোয়ান কাম্ফোর্ট অনুযায়ী যায়গা খুজে বের করলো। যাতে সানার খেতে অসুবিধা নাহয়। সানা যাতে নিজের মতো করে বসে খাবার খেতে পারে। সাফোয়ানের এই ছোট ছোট কেয়ার গুলোতে সানার মন মোমের মত গলে যাচ্ছে। সানা ভাবতেই পারছেনা কোন মানুষ তার ছোট ছোট দিকগুলোরও খেয়াল রাখছে। আর সেই মানুষটি হলো তার স্বামী।

সানার মন জানান দিচ্ছে যে তার জন্য হয়তো সাফোয়ানের মনে কোন অনুভূতি রয়েছে। কিন্তু সে এত তাড়াহুড়ো করে বিয়েটা হওয়ায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না।

~কি খাবেন বলুন? আপনার পছন্দের খাবার সম্পর্কে আমার কোন আইডিয়া নেই।

~সমস্যা নাই আপনার যা পছন্দ হয় আপনি অর্ডার করুন।

সাফোয়ানের কথায় নিচু কন্ঠে তাকে উত্তর দেয়স সানা। সানা গুলিয়ে যাচ্ছে এর আগে এমন পরিস্থিতিতে এসে পরেনি। নিজেকে যত শান্ত রাখতে চাচ্ছে তার মন ততই বিচলিত হয়ে যাচ্ছে। সানার উত্তর মোটেও পছন্দ হয়নি সাফোয়ানের। কারণ সানার পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে এখনো তার ধারণা হয়ে ওঠেনি। নিজের মন মত অর্ডার দেওয়া খাবারগুলো যদি সানা না খেতে পারে তাহলে?

~এটা সিনেমা নয় যে আমি আপনার সব পছন্দের খাবার বিষয়ক জ্ঞান রাখবো। আমি সত্যি বলতে কোন আইডিয়া নাই আপনার কোন ধরনের খাবার পছন্দ। অভুক্ত থাকতে না চাইলে নিজের পছন্দের খাবারগুলো অর্ডার দিয়ে দিন।

সানা বুঝতে পারলো যে সাফোয়ান হালকা রাগী কন্ঠে তাকে কথাটি বলল। তাই ওয়েটারকে ডেকে নিজের পছন্দমত কিছু খাবার অর্ডার দিল। সাফোয়ানো কিছু খাবার অর্ডার দিল নিজের মতো করে। খাবার আসতে এখনো ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগবে। এই ১৫ মিনিট ধরে সানা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। কোন বিষয়ে কথা বলবে সাফোয়ানের সাথে এটাও ভাবার বিষয়। সাফোয়ানের সাথে শুরু থেকে কেমন আছেন ভালো আছেন টাইপ কথাবার্তা হতো তার বেশি না। সাফোয়ান নিজ থেকে কখনো সানার সাথে কথা বলতে চায়নি আর না সানা চেয়েছে। ভাবির বিয়ের পর থেকে দুই একবার ছাড়া বেশি দেখা হতো না অনুষ্ঠান ছাড়া । তাই হঠাৎ কি বলে কথা শুরু করবে তারা দুইজনেই বুঝতে পারছে না। সাফোয়ান কাশি দিয়ে নিজের গলা ঝেড়ে নিল। পুরুষ মানুষেরও যদি কথা বলতে এরকম হ্যাজিটেশন হয় তাহলে সানা মেয়ে হয়ে কিভাবে নিজ থেকে কথা শুরু করবে?

~আমি চাচ্ছিলাম কি সানা সামনের সপ্তাহে আপনাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবো। আমি অফিস থাকাকালীন সময়টা যদি সাইফ আপনার সাথে থাকে তাহলে আমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারবো।
এর আগে সুমাইয়া ওর খেয়াল রাখত কিন্তু এক বছর যাবত আমি সাইফের একা থেকে বিষন্ন হয়ে থাকার বিষয়টা সহ্য করতে পারছি না।সাইফ ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে, ও আপনাকে অনেক ভালোবাসে। আপনি ওর আশেপাশে থাকলে কতো খুশি থাকে ও আপনি দেখেছেন হয়তো।

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here