শেষ ঠিকানা পর্ব ১০

0
47

#শেষ_ঠিকানা
#পর্ব_১০
#মেহরিন_রিম
_মা,আপনি কি বিয়েতে রাজি? রাজি থাকলে বলুন কবুল।

চুপ করে রইলো হিমি। গলা দিয়ে যেনো আওয়াজ বের করতে পারছেনা সে। বেশ কিছুক্ষন হিমিকে চুপ থাকতে দেখে অর্নব এর এবার কিছুটা চিন্তা হচ্ছে। দিবা হিমির কানের কাছে গিয়ে বললো,
_হিমি,কবুল বল।

হিমি এবার চোখ বন্ধ করে কবুল বলে দিলো। অর্নব এতক্ষন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো হিমির দিকে, কবুল বলার সঙ্গে সঙ্গেই যেনো অর্নবের বুক থেকে একটা পাথর নেমে গেলো। সস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো সে, এরপর সেও কবুল বলে দিলো। অত:পর সম্পূর্ন হলো হিমি-অর্নবের বিয়ে।
নিজের হাতে কারোর স্পর্ষ অনুভব করতেই চোখ তুলে তাকালো হিমি। অর্নব ঠোঁটের কোণে স্বস্তির হাসি ঝুলিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। অর্নব তার হাতটা এবার কিছুটা শক্ত করে ধরে চোখের ইশারায় বোঝালো,
_আমি আছি তোমার পাশে।

হিমিও তাকিয়ে রইলো অর্নব এর দিকে। এই মানুষটার জীবনের সঙ্গে সে এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চোখ সরালো না হিমি, আসলেই কি এই মানুষটার সঙ্গে সে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারবে?

____
অর্নবের মা চান হিমিকে আজই তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে। পড়ে নাহয় ইচ্ছে হলে আসবে এখানে,অর্নব ও তাই চায়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো তারা আজই হিমিকে বাড়িতে নিয়ে যাবে,হুর ও যাবে হিমির সঙ্গে। হিমি একবার দিবাকে বলেছিল তার সঙ্গে যেতে তবে তার বাসা থেকে না বলায় সে আর যেতে পারছেনা।
রিপা অনেকক্ষণ নিজেকে সামলে রাখলেও বিদায়ের বেলায় আর নিজেকে আটকাতে পারলোনা,মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো সে। হিমির কষ্ট হলেও সে যেন গভীরভাবে এ সবকিছু অনুভব ই করতে পারছে না। মাথার মধ্যে শুধু একটা কথাই ঘুড়ছে,
“বিয়েটা করে আমি ঠিক করলাম তো?”

মানিক সাহেব চশমাটা খুলে নিজের চোখের কোণে জমে থাকা জলটুকু হাত দিয়ে মুছে অর্নবের কাছে গেলেন। তার হাত ধরে অনুরোধ এর সুরে বললেন,
_বাবা, অনেক ভরসা করে আমার মেয়েটাকে তোমার হাতে তুলে দিলাম। তুমি ওকে দেখে রেখো বাবা।

অর্নব সামান্য হেসে মানিক সাহেব এর হাটদুটো ধরে হিমির দিকে তাকিয়ে বলল,
_নিজের প্রাণ থাকতে আমি হিমির কোনো ক্ষতি হতে দেবোনা,কথা দিচ্ছি আপনাকে।

___
সবেমাত্র বাড়িতে এসে পৌঁছেছে তারা। হিমিকে ধরে সোফায় বসিরে দিলো অরি,তারা একই বয়সের। অরি হিমির পাশে বসে হেসে বললো,
_যদিও তুমি আমার চেয়ে বয়সে পুরো চার মাসের ছোট। কিন্তু তবুও, সম্পর্কে যেহেতু তুমি আমার ভাবি হও তাই আমি তোমাকে ভাবি বলেই ডাকবো। ঠিক আছে?

হিমি মুচকি হেসে মাথা নেড়ে হ্যা বোঝালো। অরিকে বেশ মজার মানুষ মনে হয়েছে হিমির। এতক্ষনে হুরের সঙ্গেও ভাব জমে গেছে তার। নতুন বউ আসবে শুনে অনেক আত্মীয় স্বজন ই বাড়িতে ছিল আগে থেকে। এখন ধীরেধীরে প্রতিবেশীরাও আসছে হিমিকে দেখতে। এত মানুষের মাঝে যেন অস্বস্তি টা আরো বেড়ে যাচ্ছে হিমির। বাইরে থেকে যারাই আসছে সকলেই অদ্ভুত চোখে পাশে থাকা হুইল চেয়ারটার দিকে তাকাচ্ছে। অর্নবের মা তাদের আত্মীয় স্বজনদের হিমির কথা জানানোতে তারা খুব একটা অবাক চোখে তাকায়নি। তবে প্রতিবেশীরা হয়তো জানতোনা বিষয়টা।

হিমি এসবের সঙ্গে অনেকটাই অভ্যস্ত,তবে নতুন জায়গা হওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে তাকে। পাশে কিছুটা দূড়ে দাঁড়িয়ে দুজন মহিলা অদ্ভুত চোখে অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে ছিল হিমির দিকে।
এবার তারা কিছুটা আফসোস এর সুরে বলতে লাগলেন,
_শেষমেশ কিনা অর্নব এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করলো? আর তার মা ও কি সুন্দর হাসিখুশি দেখো, যেন কোন পরি নিয়ে এসেছেন বাড়িতে। আমি এতদিন কত ভালোভালো মেয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলাম,কই তাদের তো পছন্দ হলো না।
পাশের মহিলা বললেন,
_আসলে যার যেমন রুচি আরকি।

এতক্ষন খারাপ না লাগলেও এবার হিমির কিছুটা কষ্ট হচ্ছে তাদের কথা শুনে।
অর্নব এতক্ষন বাহিরেই ছিল, মাত্র ভিতরে ঢুকতেই এসব কথা কানে আসায় মেজাজ টা বিগড়ে গেলো তার। সেই দুজন মহিলার কাছে গিয়ে সামান্য হেসে বললো,
_আরে আন্টি,আপনারা এখানে?

_ওমা, এটা আবার কেমন কথা। তোমার বউকে দেখতে এলাম।

_কিন্তু আমার তো সেটা মনে হচ্ছেনা।

মহিলা দুজন অবাক হয়ে বললো,
_মানে?

_ফার্স্ট অফ অল, আমার বউ কোনো শো পিস নয় যে সবাই তাকে দেখে কমেন্ট করবে। আপনারা তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেই পারেন, তবে তার সম্পর্কে কমেন্ট করার অধিকার কিন্তু আমি কাউকে দেইনি। আর আমি কেমন মেয়েকে বিয়ে করবো সেটা নিশ্চই আপনাদেরকে জানাবোনা।

_এটা কেমন ব্যাবহার অর্নব?

অর্নব আশেপাশে তাকিয়ে ঘারে হাত ঘসে বিরক্তির সুরে বললো,
_এখনো আমি বেশি কিছু বলি নি,আর চাইও না বলতে। আশা করি আপনারা যে কাজে এসেছিলেন সেই কাজে সফল হয়েছেন,এখন আপনারা আসতে পারেন।

মহিলা দুজন অর্নবের দিকে কিছুটা রাগী চোখে তাকিয়ে বেরিয়ে গেলেন সেখান থেকে। অর্নব এবার হিমির দিকে তাকালো। হিমি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। অর্নব গিয়ে হিমির পাশে বসলো। তার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিয়া করে বললো,
_এর আগে কি হয়েছে না হয়েছে আমি জানিনা। বাট আই প্রমিস, এখন থেকে আমার সামনে কেউ তোমাকে অপমান করতে পারবেনা হিমপরি।

কথাটা বলেই সেখান থেকে উঠে গেলো অর্নব। হিমি অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো অর্নবের যাওয়ার পানে। এর আগে কেউ তাকে এভাবে প্রটেক্ট করেনি। হ্যা অপূর্ব তার হয়ে প্রতিবাদ করলেও ধরণটা ভিন্ন। অবশ্য অপূর্বের সঙ্গে অর্নবের তুলনা করতেও চায়না হিমি। অপূর্ব আর অর্নব দুজন দুই মেরুর মানুষ। অপূর্ব অত্যন্ত সাধারণ একটা ছেলে, রাগ জিনিসটা তার মধ্যে খুব একটা লক্ষ্য করাই যায়না। অন্যদিকে অর্নবের দুটো রূপ,সে যখন শান্ত থাকে তখন একরকম আর রেগে গেলে সম্পূর্ন অন্যরকম মানুষ।
অপূর্বকে তার মতো করেই ভালোবেসেছিল হবে। তবে তার থেকে সম্পূর্ন বিপরীত প্রকৃতির একটা মানুষকে কি পারবে ভালোবাসতে।
এসব চিন্তার মাঝেই অরি তার কাছে এসে বললো,
_চলো ভাবি তোমাকে তোমার ঘরে নিয়ে যাই। তুমি জানো, ভাইয়া তোমার জন্য নিজের ঘরও চেঞ্জ করে ফেলেছে।

কথাটা বলে অরি হিমিকে নিয়ে ঘরে যেতে লাগলো।

___
অর্নবের রুমে চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখতে হিমি। অরির কথা অনুযায়ী নতুন ঘর বলে এখনো ঠিকভাবে গোছানো হয়নি। তবুও ফুল দিয়ে খুব সুন্দর করে সাজানো।

অর্নব এখনো আসেনি। ঐসময়ের কল টার কথা মনে পড়তেই হিমি নিজের ফোনটা হাতে নিলো। তবে ডায়েল এ গিয়ে ঐ নম্বর টা দেখেই ভ্রু কুচকে গেলো তার। এখানে পাঁচ মিনিট সময় দেখাচ্ছে,তবে তার যতটা মনে আছে কল রিসিভ করার এক মিনিটের মধ্যেই হুর এসে তাকে নিয়ে চলে গিয়েছিল। তাহলে একটা লোক বাকি চার মিনিট কেন কলটা ধরে রাখবে!
এসব চিন্তা মাথায় নিয়েই লোকটার নম্বরে কল দিলো হিমি।

#চলবে
[একটু ছোট হয়েছে পর্বটা,কেউ রাগ করবেন না। কাল বড় করে দিবো। আপনাদের মতামত জানাবেন কমেন্ট এ।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here