রেখেছি তারে বক্ষ পিঞ্জিরায় পর্ব ৪

0
122

#রেখেছি_তারে_বক্ষ_পিঞ্জিরায়
#পর্ব_৪
#জান্নাত_সুলতানা

ফুল দিয়ে সাজানো সাহাবের রুমের বিছানার মাঝখানে হালকা মিষ্টি কালার একটা শাড়ী পড়ে বসে আছে আলো।
সাথে অস্থিরতা আর লজ্জা দুই টা মিলে কেমন একটা লাগছে।
সাথে আছে কতরকম চিন্তা।
রাত এখন বারো টার কোঠায় পৌঁছায় নি।সাহাব এখনো আসে নি।শারমিন তালুকদার আলো কে রাত সাড়ে দশ টার দিকে এখানে রেখে গিয়েছে। সাহাব সেই সন্ধ্যা বেরিয়েছে খাবার টেবিলেও ছিল না।এটা নতুন নয় তবুও আজ তো ওদের বিয়ের প্রথম রাত এক সাথে খাবার তো অন্তত খাওয়া যেতো।
আর বাড়ি আসা আজ দেরী নয় সব সময়ই বারো টা একটা কোনো দিন তো রাত তিন টায়ও আসে।
আলো এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে। সাহাব রুমে এসে দেখলো তার বউ ঘুমিয়ে আছে। বিয়ের সাজ ছেড়েছে অনেক আগেই। সে বিকেলে দেখেছিল একবার।
আলো বাঁকা হয়ে শুয়ে আছে।সাহাব রুমেই ড্রেস চেঞ্জ করে। একটা থ্রি কোয়ার্টার পেন্ট পড়ে তার উপরে নাইটি পড়ে নেয়।
রাত তখন দেড়টা ছুঁই ছুঁই করছে।
লাইট সব অফ করা সন্ধ্যায় জ্বালানো মোমবাতি গুলো এখনো আছে। তবে আর বেশি হলে মিনিট পাঁচ এক এর মতো সময় জ্বলবে তার পর শেষ হয়ে যাবে।
সাহাব সে সব লক্ষ করে রুমে ড্রিম লাইট অন করে দেয়।
বিছানায় গিয়ে বউ কে সোজা করে শুয়ে দিতে গিয়ে আলোর তন্দ্রা ছুটে।
ধড়ফড়িয়ে কম্বল সমেত উঠে বসে ডান পাশে দেওয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে।
আবারও সাহাব কে পেছন ফিরে শুয়ে পড়ে।
সাহাব দুষ্ট হাসে।বউ যেহেতু ঘুমে নাই বাসর তো করাই যায়।
সাহাব আস্তে করে আলোর চুল গুলো ঘাড় থেকে সরিয়ে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দেয় সেখানে।
কম্বলের নিচ দিয়ে নিজের শক্ত দানবীয় হাত টা আলোর পেটের উপর রাখে।
আলো তৎক্ষনাৎ সাহাবের হাত সরিয়ে উঠে বসে।
চোখে জলে টলমল করছে। সাহাব হকচকিয়ে উঠে। অস্থির হয়ে আলো কে আগলে নিতে নিতে জিজ্ঞেস করে

-“কি হয়েছে কান্না কেন করছো?”

আলো কিছু বলে না ফোপাঁতে থাকে। সাহাব আলো কে বুকের উপর থেকে আলগা করে আলগোছে গালে হাত রাখে।
নিজের ঠোঁট দ্বারা আলোর চোখ হতে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া পানিটুকু শুষে নেয়।
আলো সাহাবের স্পর্শে কেঁপে উঠে।চোখ বন্ধ করে সাহাবের পরিহিত কাপড়ের উপর দিয়ে শক্ত করে খামচে ধরে পিঠ।
সাহাব সেভাবেই ধরে রাখে বউ কে।
এভাবে কাটে অনেকক্ষণ। দুই জনেই চুপ চাপ।অতঃপর হঠাৎ আলো বলে উঠে

-“আপনি বলে ছিলেন সব ছেড়ে দেবেন।”

সাহাব কিছু বলে না সেভাবে আগের নেয় বউকে বুকে নিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকে।

-“সময় লাগবে।
আস্তে আস্তে চলে আসবো।”

-“সত্যি? ”

-“হুম।”

-“ঘুমিয়ে পড়ুন।”

আলোর কথা শুনে সাহাব চোখ বড় বড় করে তাকায় আলোর দিকে।
তার পর আলোর ঘাড়ে নিজের বাম হাত টা রেখে শান্ত চোখে তাকিয়ে বলে উঠে

-“বাসর করবো না?”

আলো লজ্জা পাচ্ছে। যা এই হালকা ড্রিম লাইট এর আলোর মাঝেও চোখে পরে সাহাবের।
আলো আলগোছে সাহাবের হাত টা নিজের ঘাড় থেকে নামাতে চেষ্টা করতে করতে মিনমিন করে বলে উঠে

-“ওয়াশ রুম যাব।”

সাহাব মাথা নেড়ে সরে বসে। আলো উঠে ওয়াশরুম চলে যায়।
সাহাব সুয়ে পড়ে।মিনিট পাঁচ এক এর মাথায় আলো বেরিয়ে আসে।
সাহাবের পাশে বালিশে শুয়ে পড়ে।কিন্তু সাহাব ওকে টেনে এনে নিজের বুকের উপর রেখে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে

-“একদম নড়াচড়া করবে না।
বাসর তো করতে দিবে না
শান্তিতে একটু ঘুমুতে চাই।”

আলো আর নড়ে না।কিন্তু ওর কেমন অস্থির অস্থির লাগছে। আলোর মাথা টা সাহাবের বুকে থাকার ফলে আলো সাহাবের হার্টবিট খুব গভীর ভাবে অনুভব করতে পারছে।
আলোও কান টা সাহাবের বুকে রেখে হার্টবিট শুনতে শুনতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে।
সাহাব চোখ জোড়া বন্ধ করে ছিল এতোক্ষণ। কিন্তু ঘুমায় নি।
আলোর ঘনঘন নিশ্বাসের শব্দে সাহাব চোখ মেলে তাকায়।
আর আলোর মাথাটা প্রথমে নজরে পড়ে।
সাহাব আলোর মাথার তালুতে চুমু আঁকে।
আর বিরবির করে বলে উঠে

-“তুমি আমার মানসিক শান্তি।
তুমি আমার শখের। ভীষণ ভালোবাসি তোমায়।
কিন্তু তোমাকে দেওয়া কথা টা আমি রাখতে পারবো না জান।”

আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বউ কে। অতঃপর নিজেও ঘুমিয়ে পড়ে।
কিন্তু সাহাব হয়তো জানতোই না আলো ঘুমায় নি সেও শুনছিল সাহাবের বলা প্রতি টা কথা।
আলো সাহাবের দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবতে ভাবতে আবারও সাহাবের বুকে মাথা রেখে ঘুমের দেশে তলিয়ে যায়।

——————

সকালে আটটার বেশি সময় বাজে। আলো ঘুমিয়ে আছে আর সাহাব বউয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাতে সাহাব বউ কে জড়িয়ে ধরে থাকলেও এখন উল্টো। বউ তার এখন নিজ থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে।
যার ফলে সাহাব এখন উঠতে পারছে না। যদি বউয়ের ঘুম ছুটে যায়?তাই নিজেও নড়াচড়া করছে না।
এভাবে প্রায় অনেকক্ষণ সময় কেটে যায়।কিন্তু সাহাব তার বউয়ের দিকে এক রাশ মুগ্ধতা নিয়ে এখনো তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। কিন্তু মেইড এর জন্য সেটাও আর হলো না নিচে নাস্তা করতে যাওয়ার ডাক পরেছে। সাহাব আলো কে আস্তে করে নিজের শরীরের উপর থেকে সরিয়ে হাতের বাঁধন গুলো খুলে বালিশে সুয়ে দিয়ে নিজে উঠে তোয়ালে নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়।মিনিট দশের মধ্যে ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আসে সাহাব আলো ততক্ষণে উঠে বসে বিছানার মধ্যে।
চোখ গুলো ফোলা রাতে কান্না করেছে কি না।চুল এলোমেলো সাথে শরীরে কাপড় ঠিক নেই।সাহাব সে দিকে তাকিয়ে যেনো নেশা ধরে এলো। শুধু আলোর মাঝে দৃষ্টি আটকে আছে।আলো সাহাবকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে

-“কি হয়,,,

কিন্তু কথা শেষ করার আগেই একবার নিজের দিকে দৃষ্টি বুলিয়ে সব টা কথা সম্পূর্ণ না করে শাড়ী টেনেটুনে ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।কিন্তু সাহাব পাশের সোফায় তোয়ালে ছুড়ে ফেলে এগিয়ে আসে ঘুম থেকে উঠা সদ্য বউয়ের নিকটে। হাঁটু মুড়ে বিছানায় বসে বউয়ের সামনে আলো ততক্ষণে বুঝে গিয়েছে সাহাবের মতলব। তাই ধাক্কা দিয়ে বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করে।
কিন্তু সাহাব তা হতে দিলে তো। স্বামীর এমন শক্ত পোক্ত শরীর থেকেও যদি বউ এই রোমান্টিক সময় পালিয়ে যায়।
তবে লোকচক্ষু মুখ দেখানো দায় হবে যে।আর সে টা কিন্তু এই সামনে বসা সুদর্শন পুরুষ হতে দেবে?উঁহু। সাহাব আলো কে এক ঝটকায় নিজের কোলে এনে বসালো।
কাঁধ হতে শাড়ীর আঁচল সরিয়ে চুমু আঁকে সেখানে। আলো কেঁপে উঠে শক্ত করে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়।
চোখ বন্ধ করেই কাঁপা কাঁপা ঠোঁট নেড়ে বলে উঠে

-“ফ্রেশ হবো।”

-“দরকার নেই।”
করছিলাম না কন্টোল?
তুমি তো সব টা আবার এলোমেলো করে দিলে।এখন সহ্য করতে হবে।”

নেশাতুর কণ্ঠে কথা গুলো বলেই সাহাব আলোর মাথা টা ঘুরিয়ে নিজের অধর জোড়া দিয়ে আলোর অধর চেপে ধরে ভালোবাসার পরশ দিতে থাকে।সাথে নিজের হাত জোড়া তো অবাধ্য স্পর্শ করেই যাচ্ছে আলোর সারা শরীরে।

বেশ অনেক টা সময় নিয়ে সাহাব আলোর ঠোঁটের উপর রাজত্ব চালিয়ে ছেড়ে দিয়ে দু গালে হাত রেখে বলে উঠে

-“আমি আর ধৈর্য্য ধরতে পারলাম না জান।
তোমাকে আমার সম্পূর্ণ চাই।
একদম নিজের করে নিজের অস্তিত্ব বানাতে।”

আলো পিটপিট করে তাকিয়ে সাহাবের দিকে।
যা দেখে সাহাব ঠোঁট এলিয়ে হাসে। আলোর এলোমেলো চুল গুলো কানের পিঠে গুঁজে দিতে দিতে আবারও আবদার কণ্ঠে বলে উঠে

-“জান ভালোবাসি।”

স্বামীর এমন আবেদন কি স্ত্রী হয়ে ফিরে দিতে পারে কোনো নারী? আলোও পারে না।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের ইচ্ছে জানান দেয়।
সাহাবও নিজের উত্তর পেয়ে বউ কে নিয়ে নিজের ভালোবাসার রাজ্যে পাড়ি জমায়।

#চলবে…

[ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here