বিয়ে পর্ব ৫

0
169

#বিয়ে
#লেখনীতে- ইসরাত জাহান ফারিয়া
#পর্ব-৫

ব্যলকনির ফুলের গাছগুলো দেখতে দেখতে আচমকা চোখ পড়লো লনের বেঞ্চে বসে ধ্রুব ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে ওর দিকে! অদ্রি খানিকটা ইতস্ততবোধ করলো। লোকটা এভাবে তাকিয়ে আছে কেন? মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই গিলে খাবে। অদ্রি ওর কোন পাকা ধানে মই দিয়েছে? হ্যাঁ এটা ঠিক বিয়ে করেছে। কিন্তু এটা তো ওদের দুজনেরই অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে। তাহলে ধ্রুব অহেতুক কেন ওকে বারবার খোঁচা দিয়ে কথা বলে? অদ্রিও একদৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে রইলো। তা দেখে ধ্রুব হকচকিয়ে গেল। বেশিক্ষণ আর বসে থাকতে পারলো না। যাওয়ার আগে গলা খাকারি দিয়ে অদ্রিকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল,
— নিজেকে কি ভাবে কে জানে? এরকম সুবিধাবাদী মেয়েদের শকুনি দৃষ্টি আমি একদম কেয়ার করি না।
ডিজগাস্টিং!
বলেই গটগটিয়ে হেঁটে চলে গেলো। ধ্রুবের কথাগুলোর মানে ভাবতে ভাবতে অদ্রি ঘরে চলে এলো। আর ঠিক তখনি শায়লা ব্যস্ত ভঙ্গিতে ঘরে ঢুকে অদ্রির দিকে ফোন বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
— ফোনটা ধরে কথা বল মা!
অদ্রি জিজ্ঞেস করল,
— কার ফোন?
শায়লা ব্যতিব্যস্ত কন্ঠে বলল,
— তোর বাবার।
অদ্রি এতক্ষণ পর্যন্ত ঠিক ছিলো। সবকিছু মেনে নিয়ে চুপচাপ ছিলো। কিন্তু বাবার ফোন এসেছে শুনেই ওর ভেতরের ক্ষতটা জেগে ওঠলো। মায়ের মুখটা ভেসে ওঠলো। ও কখনোই বাবার সাথে কথা বলবে না। কখনোই না। বাবার এত স্বার্থপরতা অদ্রি আর নিতে পারছে না! অদ্রি অনুরোধের সুরে শায়লাকে
বলল,
— আন্টি দয়া করে ওনাকে ফোন দিতে নিষেধ করো। আমার এই কথাটা রাখো। আমি কক্ষনো তোমাদের কাছে কিছু চাইবো না। প্লিজ…
শায়লা অবাক হয়ে বলল,
— তুই তোর বাবার থেকে দু’দিন ধরে দূরে। কষ্ট হচ্ছে না তোর?
— একটুও না আন্টি। আমি এখন শুধু তোমাদেরকেই আমার বাবা-মা হিসেবে মেনে নিয়েছি। মা’কে ছাড়া পুরোনো সবকিছু আমি ভুলে যাবো। কাউকে মনে রাখতে চাই না আর৷
শায়লা হাসান বুঝতে পারলেন অদ্রির মনের
অবস্থা ঠিক নেই। তিনি একটু দূরে গিয়ে অস্বস্তি নিয়ে বললেন,
— ভাইজান অদ্রি আসলে আপনার সাথে কথা..
ফোনের ওপাশ থেকে জামিউল সাহেব এতক্ষণ সবই শুনছিলেন। তিনি বললেন,
— আমি সবই শুনেছি আপা। কথা না বললে আমি আর কি করতে পারি! আপনি ওকে বলে দিয়েন যাতে নিজের খেয়াল রাখে, আর আমাকে যেন ক্ষমা করে দেয়।
শায়লা বললেন,
— আমি বুঝতে পারছি আপনার মনের অবস্থা।
আসলে ও হয়তো এতবড় শকিং ব্যাপারগুলো মানতে পারেনি। আর একটা কথা বলি ভাইজান, কিছু মনে করবেন না তো?
জামিউল সাহেব বললেন,
— না আপা, বলুন!
শায়লা হাসান খানিকটা কঠোরভাবেই বললেন,
— আসলে কি হয়েছে বলুন তো,
রুবি মারা যাওয়ার পর আপনার উচিৎ ছিলো
অদ্রিকে সামলে রাখা, কিন্তু আপনি সেটা না করে আপনি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। যেটা আপনি একদম ঠিক করেন নি।

ওপাশ থেকে জামিউল সাহেব কিছু বললেন না। তার আসলে বলার কিছুই নেই। শায়লা ফোনটা রেখে দিলেন। দেখলেন অদ্রির চেহারা লাল হয়ে গেছে। কিন্তু ও প্রাণপণে নিজেকে ঠিক দেখানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। শায়লা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর কাছে গেলেন। মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
— বলে দিয়েছি। তুই কষ্ট পাবি না একদম!
অদ্রি মাথা নেড়ে বলল,
— আমি এখন আর কষ্ট পাইনা আন্টি।
শায়লা ব্যাপারটা বাড়তে না দিয়ে বললেন,
— এইতো ভালো মেয়ে। তুই বস আমি কিছু একটা বানিয়ে আনি।
অদ্রি বলল,
— এখন না আন্টি। একটু আগেই তো লাঞ্চ করলাম, পেটে একটুও জায়গা নেই ।
শায়লা বললেন,
— ওইতো চড়ুই পাখির মতো খেলি। আবার বলছিস পেটে জায়গা নেই। তোরা আজকালকার বাচ্চারা খাবার নিয়ে কত যে যন্ত্রণা দিস!
অদ্রি হেসে বলল,
— তোমার তো এতগুলো না, একটা বাচ্চা। তাও অনেক বড়। এমনভাবে বলছো যেন কতগুলো বাচ্চা বড় করেছো তুমি!
শায়লাও হেসে প্রতিত্তোরে বলল,
— তা অবশ্য ঠিকই বলেছিস। আচ্ছা রান্নাঘরে অনেক কাজ জমে আছে। তুই রেস্ট নে।
— ওকে!

সাথী বেগম যেদিন টুইন বেবির খবরটা অদ্রিকে দিয়েছিলো ও খানিকটা খুশিই হয়েছিলো। কিন্তু সাথী বেগম ওদেরকে অদ্রির রাইভাল বানাতে চাচ্ছে বিষয়টি বুঝতে পারার পর অদ্রি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলো।
এরপরই বাবার ঘরে চেঁচামেচি
শুনে বুঝতে পেরেছিলো সাথী বেগমই যে তার
প্রেগ্ন্যাসির খবর অদ্রিকে দিয়েছে তা নিয়ে
দুজনের মধ্যে বেশ ঝগড়া হচ্ছে। সাথী বেগম
চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো
অদ্রিকে সে এরকম কিছুই বলেনি। ও নাকি বাবার
কান ভাঙিয়েছে। অদ্রি আহত হলো এসব শুনে।
এরপর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে
গেলো। অদ্রি নিজের মতো থাকে সারাদিন, বিলকিসের
সাথে গল্প করে। অদ্রির বাবা আর সাথী বেগম
তাদের মতো। মাঝেমধ্যে অদ্রিকে নিয়ে দুজনের প্রচুর ঝগড়া হয়। একদিন তিনি হুট করেই অদ্রির জন্য
বেশ দামী কিছু জামা কিনে আনলো। ওর ঘরে
এসে সেগুলো আমাকে দিতে দিতে বলল,
— শুনো অদ্রি, তৈরি হয়ে থেকো। বাসায় আজ মেহমান আসবে।
অদ্রি জিজ্ঞেস করল,
— মেহমান আসবে তো আমার তৈরি হওয়ার কি আছে? সামনে আমার টেস্ট এক্সাম। অনেক পড়া আছে। আমি বেরুবো না ঘর থেকে।
জামিউল সাহেব রুক্ষ স্বরে বললেন,
— এত কথা না করে যা বলেছি তাই করবে।
বলেই জামিউল সাহেব চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। অদ্রি ব্যাগগুলো খুলেও দেখলো না ভেতরে কি আছে। তাহলে হয়তো বেনারসি শাড়িটা ওর চোখে পড়তো। কিন্তু অদ্রি প্যাকেটসমেত সেগুলো বিলকিসকে ডেকে দিয়ে দিয়েছিলো।
বিলকিস অবাক হয়ে বলল,
— আমারে এইগুলা দিতেসেন কেন আফা? স্যার দেখলে রাগ করবো। এইগুলা তো আফনের জন্য আনছে।
অদ্রি শুধু বলল,
— আমার এসব চাইনা। বাড়ি যাওয়ার সময় লুকিয়ে নিয়ে যেও।
— কেন চান না আফা?
— আমি মায়ের সাথে প্রতারণা করতে পারবো না। তোমার স্যারের কোনো জিনিস নেওয়া মানে মাকে অপমান করা।
বিলকিস কাঁদোকাঁদো হয়ে বলল,
— ঠিকই কইছেন। আহারে…

বিলকিসের খুব মায়া হয় অদ্রির জন্য। এত ছোট একটা মেয়ের কি কষ্ট! আহারে.. কত আদরের মেয়ে ছিলো। আজ সৎ মায়ের সংসারে অবহেলার পাত্রী। সাথী বেগমের ওপর বিলকিসের খুব রাগ। এই মহিলা সারাদিন অদ্রিকে খোঁচা মেরে কথা বলে সবই জানে সে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিলকিস বেড়িয়ে যায় অদ্রির ঘর থেকে। বিকেলে অদ্রি নিজের
মতো তৈরি হলো। টি-শার্ট, প্যান্ট ছেড়ে হালকা খয়েরি রঙের জামা পরে নিলো। পরিপাটি করে চুল আঁচড়ে বসে রইলো। এমনিতেই ও দেখতে ভীষণ সুন্দর, তাই
সাজগোজের খুব দরকার পড়ে না। মেহমান আসার
পর বাবা ওকে ডেকে নিয়ে গেলো। পরিচয় করিয়ে দিলো ওদের সাথে। অদ্রি খুব অবাক হলো মায়ের বান্ধবী শায়লা হাসানকে দেখে। ধ্রুবকেও অদ্রি তখনই দেখেছিলো। শায়লার সাথে পরিচয় হওয়ার পর তার মাঝে নিজের মা’কে যেন খুঁজে পেলো।

কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পর বাবা যখন বলল কাজী চলে এসেছে তখনই অদ্রির ঘোর কাটলো। ধ্রুবও চমকে ওঠে তখন দাঁড়িয়ে পড়লো। শায়লা হাসান ওর হাত টেনে ধরে নিজের পাশে বসিয়ে কিছু একটা বলতে লাগলেন। সাথী বেগম যেন বেশ মজা পেলো। অদ্রির বিভ্রান্তি দেখে কানে কানে এসে বললেন,
— আজ তোমার বিয়ে।
অদ্রি হতভম্ব হয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো। পেছন পেছন সাথী বেগম আর জামিউল সাহেবও এলো। অদ্রি ওদেরকে বললো ও কিছুতেই বিয়ে করবে না। কিন্তু জামিউল সাহেব প্রচন্ড রেগে চড় মারলেন মেয়ের গালে। অদ্রি আহত চোখে বাবার দিকে তাকালো। যেন ও বিশ্বাস করতে পারছেনা নিজের বাবাকে!
অদ্রি এক মুহূর্ত কিছু একটা ভাবলো। তারপর কঠোর গলায় বলল,
— আমি বিয়ে করবো।
সাথী বেগম আহ্লাদীভাবে অদ্রিকে এসে জড়িয়ে ধরলেন। শাড়ি পরিয়ে সাজিয়ে দিলেন। বিভিন্ন কিছু বোঝাতে লাগলেন। অদ্রি কাঠ হয়ে ওদের কথা শুনছিলো, যা করতে বলা হচ্ছিলো তাই করছিলো, এমনকি বিয়েটাও! নিজের বাবা-ই যখন পর হয়ে গেছে
অন্যের দোষ দিয়ে আর কি লাভ? বাবাকে সে কোনোদিন ক্ষমা করবে না।

এসব চিন্তা করতে গিয়ে কখন যে ঘুম এসে গেলো টের পেলো না অদ্রি। ঘুম ভাঙার পর দেখলো সন্ধ্যা ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে। ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে এলো অদ্রি। রান্নাঘরে জরিনা চা বানাচ্ছে। শায়লা ওকে দেখেই বলে ওঠল,
— ঘুম ভালো হয়েছে?
— হ্যাঁ।
— চা খেয়ে নে, ভালো লাগবে।
অদ্রি বলল,
— দাও, কিন্তু চিনি বেশি দিও না।

আশফাক সাহেব অফিসে, ধ্রুব বাড়িতে নেই। ওদের ছাড়াই বাকিরা সবাই মিলে চা দেখতে দেখতে টিভি দেখলো, গল্প করলো। জরিনার কথা শুনে হাসি
আটকে রাখতে পারছেনা ওরা। খুব দারুণ একটা
সময় পার করার সময় রাত নয়টায় আশফাক সাহেব অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরলেন। তিনিও আড্ডায় মেতে ওঠলেন। ডিনারের সময় ধ্রুব এলো না। তখন প্রায় সাড়ে দশটা। অদ্রি আর ধ্রুব দুজনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ধ্রুব’র ঘরে অদ্রির থাকার ব্যবস্থা করলেন শায়লা। ধ্রুব ব্যাপারটা কিছুতেই মানতে
পারলো না। সে বেশ রাগারাগি শুরু করলে আশফাক সাহেব বললেন,
— তুমি মানো আর না মানো অদ্রি তোমার বউ। তাই এই ঘরে তোমার যতটা অধিকার আছে ওর ঠিক ততটাই আছে।
ধ্রুব বলল,
— আমি তো বিয়েটা মন থেকে মানছি না, তাহলে ও কীভাবে আমার বউ হলো?
আশফাক সাহেব কঠোর গলায় বললেন,
— মন থেকে না মানলেও ধর্মীয়, সামাজিক এবং আইনত মেয়েটা তোমারই স্ত্রী।
ধ্রুব রেগে বলল,
— সবকিছু আমার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি বুঝতে পারছিনা তোমরা আমার না ওই মেয়েটার প্যারেন্টস!
শায়লা হাসান এবার হতাশ হলেন। স্বামীর উদ্দেশ্যে বললেন,
— বাদ দাও, ওকে আর জোর করো না। আমি লজ্জিত। নিজেকে ব্যর্থ মা মনে হচ্ছে। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন না। একটা মেয়েকে কুয়ো থেকে তুলতে গিয়ে আরও গভীরে ফেলে দিলাম। কখনোই নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না আমি!
আশফাক সাহেব বললেন,
— এই ছেলে আমার মাথা হেঁট করে দিবে।
ধ্রুব অসহায় চোখে বাবা-মায়ের দিকে তাকালো। ওদেরকে এভাবে দেখতে ও অভ্যস্ত নয়। মায়ের কষ্ট ও নিতে পারে না। কি করা উচিৎ ওর? ধ্রুব সময় নিয়ে ভাবলো। নিজেকে শান্ত করে তারপর বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে গেলো। গম্ভীর গলায় বলল,
— ওকে। তোমরা যখন চাইছো তখন আমি রাজি আছি রুম শেয়ার করতে।
শায়লার মুখ থেকে মেঘ সরে গেলো। তিনি কতক্ষণ ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। আশফাক সাহেব ছোট্ট করে শুধু বললেন,
— ধন্যবাদ।
অদ্রি যখন শুনলো আজ থেকে ও ধ্রুব’র ঘরে থাকবে ও মনে মনে আঁৎকে ওঠলো। লোকটার সাথে কিভাবে একঘরে থাকবে ও? সারাক্ষণ খোঁচা দিয়ে কথা বলা
লোকটা এবার ওকে আরো অপমান করার সুযোগ পেয়ে যাবে। কিন্তু ওরই বা কি করার আছে?
এখন থেকে ওরা যা বলবে তা-ই করতে হবে। আর অদ্রি চায় না ধ্রুব’র জন্য আশফাক সাহেব বা শায়লার অবাধ্য হতে। নিজের মেয়ের মতো রেখেছে অদ্রিকে, এরচেয়ে বেশিকিছু ও চায় না। চুপচাপ ওদের কথা মেনে নিলো। শায়লা আর জরিনা ওকে ধ্রুব’র ঘরে নিয়ে এলো। ঘরে ধ্রুব নেই। জরিনা জানালো ও ছাদে আছে। অদ্রি শান্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। শায়লা বললেন,
— ধ্রুব কিছু বললে একদম মন খারাপ করবি না ওকে? আমার কাছে বলবি, আমি বিচার করবো।
অদ্রি শুধু বলল,
— আচ্ছা।
জরিনা ওর কানে কানে বলল,
— ভাইয়ে কিছু কইলে আবার গইলা যাইয়েন না গো ভাবিজান। পুরুষ মানুষ যখন বুইঝা যায় মাইয়া মানুষ ওগো সম্পদ, তখন নিজেদের গোলাম বানায়ে রাখতে চায়।

অদ্রির কান গরম হয়ে গেলো। জরিনা দাঁত বের করে হাসতে হাসতে শায়লাকে নিয়ে চলে গেলো।
ওরা যাওয়ার পর অদ্রি অস্বস্তি নিয়ে ঘরটা ঘুরেফিরে দেখলো। সুন্দর গোছানো সবকিছু। ধ্রুব এলো একটু পর। অদ্রিকে দেখেই ওর রাগ হলো। গলা উঁচু করে
বলল,
— আমার কোনো জিনিসে হাত দেবে না। মায়ের
কথায় এখানে থাকতে দিয়েছি বলে ঘরটা নিজের বলে ভেবো না।
অদ্রি এতক্ষণ ওকে খেয়াল করেনি। খুব সুন্দর একটা
অ্যান্টিক হাতির শো’পিস হাতে নিয়ে দেখছিলো। ধ্রুবর কথা শুনে ও আশ্চর্য হয়ে গেলো। শো’পিসটা কর্ণারে রেখে বলল,
— স্যরি, না বলে হাত দেওয়ার জন্য।
ধ্রুব বলল,
— ইট’স ওকে।
অদ্রি কোনো কথা না বলে বিছানায় শুতে গেলে ধ্রুব অষ্টম আশ্চর্য দেখার মতো করে বলে ওঠলো,
— একি? তুমি আমার বিছানায় যাচ্ছো কেন?
অদ্রি এবার বিরক্ত হলো,
— তাহলে কি আমি মেঝেতে শুবো? নাকি ঘর
থেকেই বেরিয়ে যাবো? আপনি কোনটায় খুশি
হবেন?
ধ্রুব ত্যক্তবিরক্ত। অদ্রির কাঁটা কাটা কথা ও নিতে পারছে না। প্রচন্ড রেগে বললো,
— আমার জীবন থেকে চলে গেলে। এই কাজটা করতে পারবে? তাহলে কিচ্ছু বলবো না আমি। প্লিজ
আমাকে এরকম দায়বদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি দাও।
তোমার যা লাগবে তার সবকিছু পাবে। বলো এই অফারে রাজি?
অদ্রি বিস্ময় নিয়ে তাকালো ধ্রুব’র দিকে। লোকটা কি ওকে লোভী ভাবছে? সম্পর্ক থেকে মুক্তি পেতে এরকম জঘন্য অফার ধ্রুব করতে পারে অদ্রি ভাবেনি। ও তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল,
— কিচ্ছু লাগবে না আমার। কিচ্ছু না।
শুধুমাত্র আর কিছুদিন সময় দিন, কোথাও একটা এডমিশন হয়ে গেলে আমি ঠিক আপনার জীবন থেকে চলে যাবো। অদ্রি তার বাবার কাছেই বোঝা হয়ে থাকতে চায় নি, সেখানে আপনি কে? কথিত স্বামীমাত্র! যে নিজের স্ত্রী’কে সম্মান দেয় না। জানেন, আপনাদের মতো মানুষগুলোকে আমি প্রচন্ড ঘৃণা করি, প্রচন্ড।

বলেই অদ্রি বিছানার একপাশে গুটিশুটি মেরে শুয়ে পড়লো। আর ধ্রুব ওর কথা শুনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।

[আজ অনেক বড় পর্ব দিয়েছি, তেমনি সবাই মন্তব্য জানাবেন বড় বড়। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।]

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here