বিয়ে পর্ব ২৩

1
62

#বিয়ে
#লেখনীতে -ইসরাত জাহান ফারিয়া
#পর্ব-২৩

ধ্রুব’র মুখ শুকিয়ে গেলো একথা শুনে। ও তো জানতো অদ্রি ওকে ডাকতে আসবে, সেজন্যই তো আয়নার সামনে ওভাবে দাঁড়িয়ে ছিলো যাতে অদ্রি ওর বডি দেখে ইম্প্রেস হয়। কিন্তু না, এই মেয়ে উল্টো ওকে তাচ্ছিল্য করে চলে গেলো। অদ্রিকে টলানোর জন্য ও কি করবে ভেবে পাচ্ছিলো না, বন্ধুদের কাছে তো আর এসব শেয়ার করা যায় না। সেজন্য ইউটিউবে বউয়ের ভালোবাসা পাওয়ার টিপস দেখেছিলো সে। ১০০% কার্যকারিতার এই টিপসেও অদ্রির মন না গলাতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউটিউবারকে কে এই টিপস দিলো ধ্রুব রাগ নিয়ে বসে এটাই চিন্তা কর‍তে লাগলো।

এডমিশন এক্সামটা অদ্রির কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেল বা বুয়েটে সে এক্সাম দেবে না। সেজন্য ভার্সিটি এক্সামের প্রতিই ওর সব মনোযোগ। একটা ভ্যালুয়েবল সাবজেক্ট নিয়ে পড়তে না পারলে তার এতদিনের পরিশ্রম বৃথা যাবে। তাই একপ্রকার নাওয়া-খাওয়া ভুলে সে পড়ায় মগ্ন দু’দিন ধরে। এজন্য রাদিফ-ফ্লোরাদের সাথে গল্প করার খুব একটা হয় না ওর। দরকার ছাড়া খুব কমই ঘর থেকে বের হয়। শায়লার বকা-ঝকার কারণে কোনোমতে খাবারটা
খেতে নামে নিচে। এছাড়া পৃথিবীর সবকিছু যেন
ভুলে গেছে এমনভাবেই পড়ায় মগ্ন অদ্রি। মেয়েটা চারপাশের সবকিছু ভুলে গেছে পড়ার চাপে। ধ্রুব অফিসে যাওয়ার সময় দেখে যায় ও টেবিলে বসে পড়ছে আবার ফিরেও দেখে এই এক দৃশ্য।

চারদিন ধরে এই দৃশ্য দেখে ওর বেশ মনক্ষুন্ন হয়।
পড়াটা কমপ্লিট করলেই তো চলে, দিনরাত টেবিলে বসে থাকার কি প্রয়োজন? ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে ও অদ্রির সামনে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করতে থাকে ওর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায়। কিন্তু অদ্রি ক্যালকুলেটর নিয়ে হিসেব কষায় মগ্ন। ঠিক তখুনি টেবিলের ওপর অদ্রির ফোন ভ্রাইবেট করলো। কম্পিত ফোনটাও অদ্রির মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে ব্যর্থ হলো। ধ্রুব এবার বিরক্তি নিয়ে ফোনটা তুলে নিলো। স্ক্রিনে “রাহাত” নামটা দেখে ভ্রু কুঁচকালো, কিন্তু কোনো প্রশ্ন করলো না অদ্রিকে। এরপর শক্ত চেহারা নিয়ে ফোনটা নিয়ে অদ্রির মুখের সামনে তুলে ধরে বলল,
— তোমার ফোন।
হঠাৎ এরকম করায় অদ্রি হা করে চাইলো ওর দিকে। যেন ধ্রুব কি নিয়ে কথা বলছে বুঝতে পারছে না।
এটা দেখে ধ্রুব একপ্রকার ধমকেই ওঠলো,
— এতক্ষণ ধরে বাজছে ফোনটা, শুনতে পাও না?
সব মনোযোগ যখন পড়াশোনায়ই দেবে তাহলে ফোন ব্যবহার করা, মানুষকে খেয়াল করা একেবারে বন্ধ করে দিলেই তো পারো।
অদ্রি এবার বুঝতে পারলো ঘটনা কি! ও তড়িঘড়ি করে ধ্রুব’র হাত থেকে ফোন নিয়ে নিলো। তারপর নমনীয় গলায় বলল,
— স্যরি।
বলে ফোনটা রিসিভ করলো। কানে লাগিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— কে?
ওপাশ থেকে রাহাতের গলা শোনা গেলো। কথা বুঝতে অসুবিধে হওয়ায় অদ্রি ফোনটা নিয়ে ব্যলকনিতে চলে গেলো। নোটস নিয়ে বিস্তর আলোচনা চললো ওদের। কিছুক্ষণ পর ফোনে কথা বলা শেষে অদ্রি যখন ঘরে এলো ধ্রুব অধৈর্য্য গলায় বলল,
— সারাক্ষণ এভাবে পড়লে তো মাথায় জ্যাম লেগে যাবে। কিছুক্ষণ পরপর ব্রেক নাও, তাহলে সব মনে রাখতে সুবিধা হবে।
অদ্রি ব্যস্ত কন্ঠে বলল,
— অনেক পড়া বাকি। ব্রেক নিলে কমপ্লিট হবে না…
বলতে বলতে আবার টেবিলে বসতে গেলে ধ্রুব ওকে আটকে দিলো। অদ্রির হাত ধরে টান দিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,
— পাঁচ মিনিট ব্রেক নিলে তেমন কিছুই হবে না।
এভাবে হাত ধরে টান দেওয়ায় অদ্রি বেশ চমকে গেলো। এরপর নির্লিপ্ত কন্ঠে বলল,
— পরীক্ষা তো আমার, সেজন্য টেনশনটা আমারই। আপনি কি করে বুঝবেন…
ধ্রুব কপালে ভাঁজ ফেললো। ওর ইচ্ছে করছে অদ্রিকে
একটা বোতলে আটকে নিজের বুকপকেটে রেখে দিতে। যাতে সারাক্ষণ পড়া নিয়ে ব্যতিব্যস্ত না থেকে ওর সাথেও সময় কাটায়, গল্প করে। এবার ও একটু কড়া গলায় বলল,
— এই টপিক বাদ…
— তাহলে কোন টপিক চলবে?
ধ্রুব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— আমি কি খুব খারাপ? আমার সাথে সময় কাটালে
কি তুমি বোর হও?
অদ্রি ঠোঁট উল্টালো। মাথা নাড়তে নাড়তে বলল,
— অবশ্যই।
ধ্রুব অধৈর্য্য হয়ে বলল,
— আমার সাথে তো কখনোই গল্প করো না, তাহলে দেখবে আর বোরিং লাগবে না। তুমি তো সবসময়
আমাকে বাদ দিয়ে অন্য সবার সাথে গল্প করো,
জানো আমার কত কষ্ট হয়?
অদ্রি ভাবলেশহীনভাবে বলল,
— আমি কি করে জানবো? আপনিই না সেদিন বললেন আপনার নাকি আমাকে অন্য কারো সাথে দেখলে কষ্ট হয়। আদৌ সত্য কি-না কে জানে! যাইহোক, পাঁচ মিনিট শেষ, এবার আমাকে পড়তে হবে।
অদ্রি ওঠে যেতে নিচ্ছিলো। ধ্রুব নিতে পারলো না এবার অদ্রির উপেক্ষা। আচমকা বিছানায় পা তুলে অদ্রির কোলে মাথা রেখে সে শুয়ে পড়লো। চোখদুটো বন্ধ করে বলল,
— খুব মাথাব্যথা করছে।
অকস্মাৎ ধ্রুবর এমন কার্যে হতবিহ্বল হয়ে পড়লো অদ্রি। চোখদুটোতে নেমে এসেছে একরাশ বিস্ময়। ঠোঁট নড়তে চাইছে না মোটেও। তবুও কুঁচকে থাকা ভ্রু জোড়া স্বাভাবিক করে কঠোরভাবেই বলল,
— আমি কি করতে পারি?
ধ্রুব ধীর গলায় বলল,
— অনেককিছু করতে পারো। একটু চুলগুলো টেনে দিতে পারো, মাথা টিপে দিতে পারো।
অদ্রি বলল,
— আমি? এখন?
ধ্রুব ওর প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলল,
— অফিসের কাজের চাপ থেকেই এই মাথাব্যথার উৎপত্তি, বেশ বুঝতে পারছি! দাও তো…
অদ্রির গা থেকে ভেসে আসছে একটা মিষ্টি গন্ধ। ধ্রুব ডুবে যেতে থাকে সেই ঘ্রাণে। অদ্রি ওকে সরানোর চেষ্টা করে বলে,
— উঠুন, আমি ঔষধ এনে দিচ্ছি। খেলেই কমে যাবে।
ধ্রুব নির্লিপ্ত কন্ঠে বলল,
— কমবে না অদ্রি, খুব বেশি মাথাব্যথা।
অদ্রি ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলে,
— সেজন্যই তো এনে দিচ্ছি, দেখি সরুন। আমাকে যেতে দিন।
ধ্রুব আগের থেকে শক্ত হয়ে নিজের মাথাটা রাখলো অদ্রির কোলে। ও নড়াচড়া করার সুযোগ পেলো না।
এটা যে স্রেফ অযুহাত সেটা অদ্রি ভালোভাবেই বুঝতে পারলো। লোকটা ইদানীং ওর অ্যাটেনশন পেতে এত নাটক করে যে ভেবেই ওর হাসি পায়। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ধ্রুব’র দিকে। ও সেটা টের পায় না। এরপর মৃদু তেজ নিয়ে ধ্রুব বলে ওঠলো,
— তোমার হাতের ছোঁয়া না পেলে কোনো ঔষধেই কমবে না অদ্রি।
বলে নিজেই জোর করে অদ্রির হাত টেনে নিয়ে ওর কপালে রাখে। চোখ বন্ধ করে অনুভব করার চেষ্টা করে ওর ছোঁয়া। বুকের ভেতর ভীষণ শান্তি অনুভব করে। প্রসন্ন কন্ঠে বলে,
— একটু ছুঁলে কিছু হবে না।
ধ্রুব’র ঘোর লাগা কন্ঠস্বর। অদ্রি বিপরীতে বলার মতো কিছু খুঁজে পায় না। ও থমকে যায়। কেমন মুখ গোঁজ করে দ্বিধাবোধ নিয়ে বসে থাকে। হাত নড়তে
চায় না। তবুও নিজেকে স্বাভাবিক করার যথেষ্ট চেষ্টা করতে ও ধ্রুব’র কপালে, চুলে আঙ্গুল চালাতে থাকে। অদ্ভুত এক ভালোলাগায় আটকে যায় ওর নিঃশ্বাস!

অদ্রির মনে সুপ্ত একটা ভয় ছিলো এক্সাম নিয়ে। প্রিপারেশন যদিও ভালো ছিলো তবুও পরীক্ষার
আগের রাত থেকে বেশ নার্ভাসনেস কাজ করছিলো ওর মধ্যে। চিন্তায় চিন্তায় পড়ায় মন দিতে ব্যর্থ হচ্ছিলো। শায়লা ওর মনোভাব বুঝতে পারলো। বিভিন্ন কিছু বলে ওর মন ঘুরানোর চেষ্টা করছিলো। কিন্তু তবুও অদ্রির কিচ্ছু ভালো লাগছিলো না। কিছু একটার অভাববোধ করছিলো সে। এরপর ধ্রুব যখন প্রতিদিনের মতো অদ্রির পড়াশোনা নিয়ে ওর সাথে বিতর্কে জড়ালো তখন অদ্রি নিজের মনে একটু শান্ত অনুভব করলো। দিনদিন ধ্রব’র এই আচরণগুলোতে কেমন অভ্যস্ত
হয়ে যাচ্ছিলো সে। অদ্রি নিজেকে সামলালো।
নিজেকে ব্যস্ত রাখতে ধ্রুব’র কফিটা নিয়ে এসে ওকে দিলো। তবুও মনে ভয় ছিলো ঢাকা ভার্সিটির এক্সামটা হয়তো ভালো হবে না। কিন্তু অদ্রিকে ভুল প্রমাণ করে ওর ভার্সিটি এক্সাম খুব ভালো হলো। হল থেকে বেরিয়ে শতশত মানুষের ভিড়ে অদ্রি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলো। ওকে নিয়ে এসেছে ধ্রুব, ফ্লোরাও
এসেছে। যদিও শায়লা আসতে চাচ্ছিলো তবে ধ্রুব রাজি হয়নি। নিজের ফোনটা কাছে না থাকায় ফ্লোরা আর ধ্রুবকে কি করে ওর অবস্থান জানাবে বুঝে ওঠতে পারছিলো না অদ্রি। আচমকা প্রচন্ড ভিড় ঠেলে একটা বলিষ্ঠ হাতের ছোঁয়া পেলো ওর কাঁধে। অদ্রি চমকে ঘুরে তাকিয়ে দেখতে পেলো কালো শার্ট পরিহিত লম্বা মানুষটিকে। ধ্রুব, সাথে ফ্লোরাও আছে। ও শান্তির নিঃশ্বাস ফেললো।

এত মানুষের ভিড়ে কোনোভাবে যাতে কেউ ব্যাড টাচ করতে না পারে সেজন্য দু’হাতে আগলে রাখলো ধ্রুব অদ্রিকে, সামলালো ফ্লোরাকেও। তবুও পেছন থেকে দুটো ছেলে টিজ করছিলো ওদেরকে নিয়ে। এমনকি দু’বার হাতও বাড়িয়ে দিয়েছিলো টাচ করতে। একপর্যায়ে ধ্রুব’র মেজাজ সপ্তমে পৌঁঁছালো। ভিড় থেকে বেরিয়ে ফ্লোরা আর অদ্রিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দাঁড় করিয়ে রাস্তার ওপাশে চলে গেলো। কিছু বোঝে ওঠার আগেই ওরা দুজন দেখলো ধ্রুব দুটো ছেলের সঙ্গে বাকবিতন্ডতায় জড়িয়েছে। এরপর হঠাৎই একটা ছেলের কলার ধরে ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দিলো গালে। অদ্রি এতোটাই হতভম্ব হয়ে গেলো যে ওর হাত থেকে ব্যাগ পড়ে গেলো। ফ্লোরাকে নিয়ে একপ্রকার ছুটেই গেলো সে ধ্রুব’র দিকে। বিবাদ থামানোর চেষ্টা করলো। ধ্রুব মোটেও ছাড়লো না ছেলে দুটোকে। ইতোমধ্যে আশেপাশে মানুষ জড়ো হয়ে গেছে। ফ্লোরা আর অদ্রি বহুকষ্টে ধ্রুবকে সরিয়ে নিয়ে এলো সেখান থেকে। গাড়িতে বসেও রাগে কাঁপছিলো ধ্রুব, ফর্সা মুখে নেমে এসেছিলো আঁধার! অদ্রি একটু সময় নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— এভাবে রাস্তায় মারামারি করলেন কেন? কি যে উদ্ভট স্বভাব আপনার…
ধ্রুব’র কপালে ভাঁজ পড়লো। ইচ্ছে করছে নিজের গালেই চড় দিতে। যার জন্য করে চুরি সেই বলে চোর। ও জোরে ধমকে ওঠলো,
— ছেলেগুলো তোমাদেরকে নিয়ে বাজে কথা বলছিলো,
ব্যাড টাচ করতে চাচ্ছিলো। অথচ তুমি আমাকেই দোষারোপ করছো? তুমি বুঝি ওদের টাচ উপভোগ করতে তাইনা? নিজের ওপর এখন আমার রাগ হচ্ছে!
অদ্রির মুখে অন্ধকার নেমে এলো। ধ্রুব ক্রুদ্ধ গলায় বলল,
— রিডিকুলাস অদ্রি।
প্রচন্ড এক ধমক খেয়ে অদ্রির মুখ শুকনো হয়ে গেলো। ফ্লোরা চুপচাপ বসে দু’জনকে দেখছিলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও বলল,
— এই ব্যাপার নিয়ে ডিসকাস না করে, বাড়ি চলো।
এরপর অদ্রিকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলো,
— আচ্ছা, তোমার এক্সাম কেমন হলো বললে না তো?
অদ্রি হাসার চেষ্টা করে বলল,
— ভালো।

ধ্রুব শুধু মুখ কালো করে বসে রইলো। ওর মেজাজ আগের চেয়ে আরও বেশি খারাপ হচ্ছে। বাড়ি ফিরে পুরো ঘটনা ফ্লোরা খুলে বললো সকলের কাছে, আর ধ্রুব গটগটিয়ে হেঁটে নিজের ঘরে চলে গেলো। ধ্রুব যে বেশ রেগে গেছে সেটা বেশ বুঝতে পারলো অদ্রি। নিজের বোকামির জন্য হতাশ হলো। মাফ চাইতে হবে ধ্রুব’র কাছে। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে অদ্রি ঘরে এলো। দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে দেখলো কাউচে বসে আছে, কপালে হাত রেখে দু-চোখ বন্ধ করে। এখনো চেঞ্জ করেনি। অদ্রি ধীরপায়ে এগিয়ে গেলো ওর কাছে। হালকা কেশে ধ্রুব’র দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলো। ওর কন্ঠ শুনেই ধ্রুব অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে পড়লো। অদ্রি মুখ গোঁজ করে বলল,
— সত্যিই সরি আমি। আমি বুঝতে পারিনি যে ছেলেগুলো খারাপ ছিলো। আপনি প্লিজ আমাকে ভুল বুঝে রেগে থাকবেন না।
ধ্রুব একটু সময় নিলো। এরপর সটান দাঁড়িয়ে পড়লো। জিজ্ঞেস করলো,
— তো? কি ঠিক করলে?
ধ্রুব’র কথা বুঝতে পারলো না অদ্রি। প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকাতেই ও বলল,
— এক্সাম তো শেষ, এবার কি সত্যি চলে যাবে তুমি?
আমার কথা ভাবলে না একবারও?
অদ্রি অবাক হলো। ধ্রুবর বিধস্ত চেহারা, ওর তীব্র অনুভূতি নিয়ে বলা বাক্য শূঁলের মতো বিঁধলো অদ্রির মনে। ওর মাথায় হাজারো কথা ঘুরপাক খেতে লাগলো। ধ্রুব উত্তরের আশায় চেয়ে রইলো ওর মুখপানে। অদ্রি কিছু বলতেই মুখ খুলবে তখনই ধ্রুব ওর মুখ চেপে
ধরে দাপুটে গলায় বলল,
— উহু! কোত্থাও যেতে পারবে না, আমি যেতে দেবো না তোমায়। তাই না বলার চেষ্টাও করো না, হয়তো আমি রেগে তোমাকে এই ঘরেই আটকে রেখে দিতে পারি!

অদ্রি ভ্রু কুঁচকে একদৃষ্টে শুধু তাকিয়ে রইলো। ধ্রুব’র চোখে নিজের জন্য ভালোবাসা মিশে থাকতে দেখলো সে!

[দেরি হওয়ার জন্য দুঃখিত। ]

চলবে….

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here