বামনের ঘরে চাঁদ পর্ব ১৬

0
570

বামনের ঘরে চাঁদ

সাজিয়ানা মুনির

১৬

( কার্টেসি ছাড়া কপি নিষেধ )

গতকাল সারারাত ক্লান্তিহীন বর্ষণ হয়েছে। কালো মেঘ গুলো সরেছে সবে। অন্ধকারের দেয়াল মাড়িয়ে একটু একটু করে দিনের আলো ফুটছে। দূরে কোথাও আজান ভাসছে। আষাঢ় চাঁদের হাত চেপে পাশে বসে। তার নির্ঘুম চোখজোড়া চাঁদের মুখপানে অপলক চেয়ে। টলমল দৃষ্টি, বুকের দহন বিন্দুমাত্র কমেনি। চাঁদের নিস্তেজ, নিষ্প্রভ চেহারাটায় যতবার তাকাচ্ছে হৃদপিণ্ড ছ্যাঁত করে উঠছে। ভেতরটা কাঁপছে, গলা কা/টা মুরগির মত ছটফট করছে। এই চঞ্চল মুখখানা হাস্যোজ্জ্বল দেখে অভ্যস্ত সে। অথচ এখন নিস্তেজ, নিথর শরীর নিয়ে বিছানায় পড়ে। গলায় সাদা ব্যান্ডেজ পেঁচানো। হাতে সেলাইন চলছে।
চাঁদের এমন নিশ্চুপ থাকাটা আষাঢ়ের সহ্য হচ্ছে না। অনুতপ্ততা রিরি করে পো/ড়াচ্ছে। কেন সেদিন চাঁদের কথা শুনলো না! কেন রুবেলকে বিশ্বাস করল? নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হলো। অস্থিরতা বাড়লো। এই অনুতপ্ততার আগুন বুকের দহনকে হাজার গুণ বাড়াচ্ছে। হৃদয়ের যন্ত্রণা খাঁখাঁ করে পোড়াচ্ছে তাকে। ঘনঘন ফোঁসফোঁস নিশ্বাস ফেলছে। আচমকা মাথাটা এলোমেলো হয়ে গেল। উৎকণ্ঠা হয়ে পড়লো। মানুষ যখন অনুতপ্ততার সাগরে ডুবে, প্রত্যেক নিশ্বাস তখন বি/ষাক্ত লাগে। চারিপাশ তখন মরীচিকার শহরের মতন। অস্থির আষাঢ় চারিদিকে চোখ বুলালো। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। কেউ যেন জোরালো হাতে গলা টিপে ধরেছে তার। মনমস্তিস্ক যখন বিভ্রান্তি, সন্তপ্ত! সারা পৃথিবী তখন জেলখানার মত। অদৃশ্য কোন শেকল যেন হাতপা আটকে রেখেছে। কোনো কিছুতে শান্তি খুঁজে পাচ্ছেনা সে। অস্থির, উৎকণ্ঠা হয়ে চারিপাশে চোখ বুলাচ্ছে। আচমকাই চেতনাহীন চাঁদের দিক চোখ আটকালো। চোখজোড়া থমকে রইল। ধীরেধীরে কিছুটা স্বাভাবিক হলো, বুক চিড়ে শীতল শ্বাস ফেলল। কথায় আছে, বিষে বিষ কা/টে। তেমনি যার কারণে এই অস্থির, ব্যাকুলতা! তার কাছেই প্রশান্তির রাস্তা।’
মন্ত্রমুগ্ধের মত চাঁদের অতি নিকটে চলে গেল। রাস্তায় চোট লাগা হাতটা উঁচিয়ে চাঁদের কপালের পড়ন্ত চুল গুছিয়ে দিলো। খুব শক্ত করে চুমু এঁকে দিলো। মুঠিবন্ধ হাতটায় অসংখ্যবার ঠোঁট ছোঁয়ালো। চাঁদের নিথর হাতটায় মুখ ঠেকিয়ে নিমিষ সুরে বলল,
‘ আমার চিত্তস্থৈর্য, হৃদয়ের প্রশান্তি। তোমার দেওয়া সব শা/স্তি মাথা পেতে নিবো। শুধু তুমি আমার পুরানো সেই হরিণী চঞ্চলা হও!’

চাঁদের জ্ঞান ফিরলো দুইদিন পর। দুপুর পেরিয়ে তখন বিকাল নামছে। এই দুইদিন মাঝেমধ্যে পিটপিট চোখ মেললেও পুরোপুরিভাবে জ্ঞান ফিরেনি। যতবার চোখ মেলেছে শক্তিশালী ঔষধের তেজি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় বেঘোরে উল্টোপাল্টা বলেছে। তার মধ্যে একটা কথা বারবার প্রচন্ডরকম কষ্ট, আক্ষেপ নিয়ে ব্যথাতুর গোঙানোর সুরে বলেছে,
‘ আমাকে কেন ভালোবাসলেন না আষাঢ় ভাই? আমাকে কেন ঠকালেন! সত্যি কি এত বিরক্তির কারণ ছিলাম আপনার।’
এই দুইদিন পুরোটা সময় আষাঢ় চাঁদের হাত চেপে পাশে বসে ছিল। সিসিইউ’তে একজনের বেশি মানুষ থাকার অনুমতি নেই। সেই শব্দশূণ্য নীরব ঘরটায় চাঁদের ব্যথাতুর সুর যতবার শুনেছে, ততবার মৃ/ত্যুতুল্য য/ন্ত্রণা ভোগ করেছে। চাঁদের বেঘোরে গোঙানো কান্না আষাঢ়ের বুক চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। অনুতপ্ততার আগুনে যেন বাতাস পড়েছে।

রুমে কেবল পৃথা আর মালা বেগম বসে। শিকদার সাহেব আর তার ছেলেদের সাথে সেদিন আষাঢ়ের বড়সড় ঝামেলার পর, চাঁদের পাশ ঘেঁষতে দেয়নি তাদের। বাড়ির লোকেদের পৃথা স্পষ্ট কঠোর স্বরে জানিয়ে দিয়েছে, এতকিছুর পর চাঁদের উপর তাদের কোনো অধিকার নেই। উনাদের দেখলে চাঁদের আরও কষ্ট বাড়বে। এরচেয়ে বরং তাদের এখান থেকে চলে যাওয়াটাই ভালো। পিঠের পেছনে বালিশ ঠেকিয়ে চাঁদ বসে। এখন মোটামুটি সুস্থ। শরীর খানিক দুর্বল। কড়া ইনস্ট্রাকশন দিয়েছে ডাক্তার। গলার আঘা/ত তেমন না দাবলেও চোট লেগেছে প্রচন্ড। কিছুদিন নরম তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। কথাবার্তা কম বললে ভালো। এতে গলায় চাপ কম পড়বে। মালা বেগম বাড়ি থেকে চিকেন স্যুপ করে নিয়ে এসেছে। চাঁদের মুখে স্যুপ তুলে দিতে দিতে মালা বেগম জিজ্ঞেস করল,
‘ এখন কেমন লাগছে?’
চাঁদ স্যুপ মুখে নিয়ে, চোখ বুজে বেশ কষ্ট করে গিলল। ঢোক গিলতে গিয়ে মৃদু ব্যথা অনুভব হচ্ছে। কিছুটা সময় নিয়ে ‘হ্যাঁ’ সূচক মাথা নাড়ালো। যার অর্থ কিছুটা ভালো।
মেয়েটির এমন দশা দেখে কঠোর মালা বেগমের চোখজোড়া অশ্রুতে ভরে এলো।কোথাও নিজের উপর রাগ হলো। সেদিন ছেলের কথা না শুনে, যদি মেয়েটার কথাটা মানতো তবে আজ এমন দশা হতো না মেয়েটার। সবচেয়ে বেশি রাগ হচ্ছে শিকদার সাহেব আর তার ছেলেদের উপর। ছি, এতটা জঘন্য হতে পারে আপনজন?
শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের কোণ মুছে নিলো। অভিযোগ, অধিকার জুড়ে বলল,
‘ এমন ছেলেমানুষী কেউ করে? তুই না বুঝদার! আত্মহ/ত্যার মতো ভয়ানক বোকামিটা কি করে করলি চাঁদ। মানছি ভুল হয়েছে আমার। সেদিন তোর কথা মেনে নেওয়ার দরকার ছিল। এবার বাড়ি চল আর কোনোদিন ওই বাড়ির কারো ছায়াও ভিড়তে দিবো না তোর আশেপাশে।’

ক্যাবিনে একপাশে নার্সের সাথে কথা বলছিল পৃথা। মালা বেগমের কথা কানে আসতে চোখ তুলে তাকালো। এক পলক চেয়ে বুক চিড়ে হতাশ শ্বাস ফেলল। মালা বেগম ভুল কিছু বলেনি। শিকদার সাহেবের পরিবার নিজেদের মেয়ের সাথে যেই কাজটা করেছে এরপর আর যাইহোক তাদের মানুষের কাতারে ফেলা যায়না। পৃথার দৃষ্টিতে সারাজীবনের জন্য ছোট হয়ে গেছে। বোধহয় না আর কোনো দিন মন থেকে তাদের সম্মান করতে পারবে। একটা আঞ্চলিক প্রবাদ আছে, ‘ মা ম/রলে বাপ তালুই’ চাঁদের ক্ষেত্রে যেন সেই প্রবাদটা ফলে গেল। আজ চাঁদের মা বেঁচে থাকলে শিকদার সাহেব চাঁদের সাথে এত অ/ন্যায় করতে পারত না। আগলে, রাখতো মেয়েকে। পৃথা চেয়েছিল আগলে রাখতে পারিনি। ওই নি/ষ্ঠুর, হৃদয়হীনা মানুষ গুলোর জন্য পারেনি।

চাঁদ খানিক চুপ থাকলো। তার নিষ্প্রাণ ব্যথাতুর চোখজোড়ায় জল টলমল করছে। ভাঙা ফ্যাচফ্যাচে স্বরে বলল সে,
‘ কোন বাড়ির কথা বলছেন মা? যেখান থেকে আপনার ছেলে প্রতা/রণা করে বের করলো! যেই মানুষটা আমার না, তার বাড়ি কি করে আমার হয়?’
মালা বেগম আ/হত দৃষ্টি তাকালো। বোঝানোর স্বরে বলল,
‘ তোর কোথাও ভুল হচ্ছে চাঁদ। আষাঢ় তোকে প্রচন্ডরকম চায়। ও ইচ্ছে…
কথা কাটলো চাঁদ। কান্নাভেজা তাচ্ছিল্য সুরে বলল,
‘ যেই মানুষটা জেনেশুনে নিজের স্ত্রীকে অন্যমানুষের সাথে বিয়ে দিতে বাপের বাড়ি পাঠাতে পারে। সেই মানুষটা আর যাইহোক ভালোবাসতে পারে না। মা! আমি জানি আমি অসুস্থ, কিন্তু দুর্বল নই। আমার মনোবল এখনো প্রখর আগের মত। সকল আ/ঘাত সইতে সক্ষম। কেন মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন? আমার আশার প্রদীপ সেইদিনই নিভে গেছে। আর কোনো আলো জ্বলবেনা ওই প্রদীপে। আমার বোঝার উচিত ছিল, জেদ করে আর যাইহোক ভালোবাসা পাওয়া যায়না। রাগ করে জেদের বসে হুট করে আপনাদের বাড়ি এসে উঠেছি। ভেবেছিলাম উনিও বোধহয় আমাকে পছন্দ করে। অকস্মাৎ বিয়ে! বিয়ের পর তার গোছানো, দায়িত্বশীল স্বভাবকে আমি ভালোবাসা ভেবে ভুল করে ফেলেছিলাম। আমার বোঝা উচিত ছিল। এই সম্পর্ক শুধু আমার দিক থেকেই ছিল বাকিসব ঠুনকো। সে তো শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করছিল। ভেতরে ভেতরে আমার উপর প্রচন্ডরকম বিরক্ত ছিল। হবে নাই বা কেন? উটকো ঝা/মেলা কেন সামলাবে? তাইতো পিছু ছাড়াতে আমার হাজারো আহাজারি কানে না তুলে, অন্যকারো সাথে বিয়ে দিতে বাড়ি পাঠালো। আমার উনার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। সবার ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার আছে। উনার আমাকে পছন্দ না। এই সম্পর্ক থেকে মুক্তি নিতে পারে। আমিও আর সম্পর্কটা চাইনা। উনি চাইলে যেকোনো সময় লিগ্যাল ভাবে সেপারেশন নিতে পারে। আমার কোনো দায় দাবি নেই।’
চাঁদের কথায় মালা বেগম স্তব্ধ। মেয়েটা মারাত্মকরকম শক্ত। কঠিন যন্ত্রণাদায়ক কথা গুলো কি নিদারুণ স্বাভাবিক ভাবে বলছে। চোখের সামনে কয়েক মাস আগের স্মৃতি ভেসে উঠলো, এক বর্ষণমুখর দিনে এই মেয়েটাই আষাঢ়ের জন্য পাগলামো করে বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিলো। আজ সেই মেয়েটাই কি নিদারুণ সাহস নিয়ে মুভঅন করে নিচ্ছে। টলমল ভারী আঁখিপল্লবে কতশত ব্যথা লুকিয়ে আছে। অথচ স্বাভাবিক কন্ঠে হৃদয় চেঁড়া কঠিন কথা গুলো বলছে।
ছেলের উপর প্রচন্ডরকম রাগ হলো মালা বেগমের। কোথাও সন্দেহ জাগলো, আষাঢ় অতীত আর দারিদ্রতার কারণে বিয়ের কথা জেনেশুনে চাঁদকে ওদের কাছে ফিরিয়ে দেয়নি তো আবার? আষাঢ়ের সাথে কথা বলার আগ অবধি, না জেনে জোর দিয়ে কিছু বলতে পারছে না মালা বেগম। তবুও পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলো। চাঁদকে বোঝাতে চাইলো। কোনো কিছু শুনতে নারাজ চাঁদ। গুরুতর আঘা/তে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে মেয়েটা। একটা সময় নিজের কথা গুলো বলতে যেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো চাঁদ। পরিবার, প্রিয় মানুষ থেকে আঘা/ত পেয়ে আর কত সইবে মেয়েটা? কান্নায় অস্থির হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত নাড়াচাড়ায় কাঁচা ঘাঁ থেকে র/ক্ত বেরিয়ে ব্যান্ডেজ ভিজে গেছে। মালা বেগম আর কথা বাড়ালো না। চাঁদকে শান্ত করে জোরপূর্বক একটা আবদার ঠুসে দিলো। বলল,
‘ তোর সব কথা আমি মানবো। আষাঢ় আমার ছেলে বলে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় পাবে না আমার থেকে। কিন্তু আমার একটা আবদার আছে। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরবি আমাদের সাথে, সুস্থ হবার পর তোর যেই সিদ্ধান্ত হবে, মেনে নিবো। কথা দিলাম। মা বলিস, মায়ের এইটুকু কথা রাখবি তো?’
চাঁদ নিরুত্তর, হতাশ বসে রইল।

বিকাল পেড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে প্রায়। ব্যস্ত শহরের ফুটপাতে হাঁটছে আষাঢ়। আগামীকাল চাঁদকে হাসপাতাল থেকে ছাড়বে। দামী হাসপাতাল প্রতিদিনের ক্যাবিন ভাড়া, আনুষঙ্গিক খরচ, চিকিৎসা, ঔষধ সব মিলিয়ে আটচল্লিশ হাজার টাকা প্রায় পঞ্চম হাজার ছুঁইছুই। সেই টাকার ব্যবস্থা করতে দুপুরের পরে বাড়িতে এসেছে। হাসপাতালের বিলের পুরো টাকাটা পৃথা দিবে বলে জোর করছিল। আষাঢ় নেয়নি। ব্যপারটা তার আত্মসম্মানে জোড়ালো ভাবে লাগে। নিজের স্ত্রী’র হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে পারবে না। এতটাও অধম নয় আষাঢ়। তাছাড়া ম/রে গেলেও ওই বাড়ির কানাকড়ি নিবেনা সে।
বিকালে হাসপাতালে আরশিকে ফোন করে জেনেছে, চাঁদের জ্ঞান ফিরেছে। শোনার পর থেকে কিছুটা নিস্তার লাগছে।ফুটপাতের রাস্তা ধরে, মার্কেটে ঢুকল সে। স্বর্ণের দোকানে যেতেই দোকানী মতিম মিয়া চট করে আষাঢ়কে চিনে ফেলল। সপ্তাহ খানেক আগেই আট আনা ওজনের একটা ছোট হার নিয়ে গিয়েছিলো। বিশেষ করে চেনার কারণ হলো, ছেলেটার বোধহয় বিয়ে ছিলো। দোকানের বড় ভারী দামী হার গুলো নেড়েচেড়ে, ছোট কম ওজনের আট আনা হারটা নিয়ে গেছিলো। হয়তো টাকা সংকট ছিলো। যাওয়ার সময় কাঁচের দেয়ালে বন্ধি হারটার দিকে চেয়ে বলেছিল,
‘ একদিন এই দোকানের সবচেয়ে দামী হারটা আমার চাঁদের গলায় থাকবে।’

মতিম মিয়া আষাঢ়কে দেখে বেশ চওড়া হাসি হাসলো। হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠে বলল,
‘ কি খবর বাজান? বড় হারটা নিতে আইসো নাকি?’
আষাঢ় চুপ। ব্যবসার খাতিরে কিছু টাকা আলাদা করে রেখেছিলো। বিয়েতে চাঁদকে দিবে বলে সেই টাকা দিয়ে ছোট একটা হার কিনেছিলো। আজ সেই হারটা বিক্রি করতে এসেছে। চাপা নিশ্বাস লুকালো। ব্যাগ থেকে হারের বাক্সটা বের করে মতিম মিয়ার সামনে রাখলো। বলল,
‘ না চাচা বিক্রি করবো।’
মতিম মিয়ার হাস্যোজ্জ্বল মুখটা বুজে গেল। একজন মানুষ ঠিক কতটা বিপ/দে পড়লে এক সপ্তাহ আগে নতুন বউয়ের জন্য কেনা হারটা বিক্রি করতে আসে। তিনি আর কথা বাড়ালো না। হারটা রেখে প্রাপ্য অর্থ দিয়ে দিলো। টাকার বাণ্ডিলটা পকেটে ঢুকিয়ে। রিকশা নিয়ে রওনা হলো হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। দুনিয়ায় সবচেয়ে অসহায় মানুষ মধ্যবিত্তরা। ধনীদের স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না। দারিদ্ররা স্বপ্নই দেখে না। কিন্তু মধ্যবিত্তদের স্বপ্ন হয় আকাশ ছোঁয়া, হাজার পরিশ্রম করে মিলে শুধুই হতাশা। দুই কদম এগিয়ে গেলে, টেনে চার কদম পিছিয়ে আনে বাস্তবতা।
আষাঢ় আকাশ পানে চাইলো। আক্ষেপ, হতাশা জুড়ে নিমিষ সুরে বলল,
‘ একদিন পৃথিবীর সকল সুখ তোমার পদতলে বিলিয়ে দিবো চাঁদ। কথা রইল আমার।’

চলবে………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here