প্রেয়সী পর্ব ৪১

0
622

#প্রেয়সী
#নন্দিনী_নীলা
৪১(প্রথম অংশ)

মধু চোখ পিটপিট করে তাকালো। কোথায় আছে সেটাই বুঝার চেষ্টা করছে। ও চোখ মেলতেই মুখের সামনে ফুয়াদ কে বসে থাকতে দেখল। ফুয়াদ কে দেখতেই ওর ভয় কেটে গেল ও ফুয়াদের দিকে তাকিয়ে বলল,,” আমি কোথায়?”
ফুয়াদ ওর হাত ধরে টেনে তুলে বসালো। মধু ফুয়াদের হাত ধরে আবার উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করল,,” বাপি ভাইয়া কোথায়?”
ফুয়াদ ওর হাত ধরে ওকে আস্বস্ত করে বলল,,” ওরা চলে গেছে। তুমি শান্ত হ‌ও।”
মধু ফুয়াদের হাত শক্ত করে ধরে ছিল। ওরা চলে গেছে শুনে মধু অবিশ্বাস্য চোখে তাকাল ফুয়াদের দিকে।
” আমাকে রেখেই চলে গেল?”
পাশ থেকে তিন্নি বলে উঠল,,” এমনি এমনি কি রেখে গেছে নাকি! তোকে রাখার জন্য ভাইয়ার কচ যুদ্ধ করতে হয়েছে। তোর ভাই, বাপি শত চেষ্টা করেও আমার ভাইয়ের কাছ থেকে তোকে নিতে পারে নাই। আর পারবেও না।”
মধু তিন্নির দিকে এক পলক তাকিয়ে ফুয়াদের দিকে তাকাল। ফুয়াদ এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। মধুর কি হলো কে জানে ও আচমকাই ফুয়াদের বুকে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিল। আর বলতে লাগল,,” থ্যাংকিউ।”
ফুয়াদ মধু কে দুহাতে জড়িয়ে ধরে তিন্নি কে উদ্দেশ্য করে বলল,,” তিন্নি তোর বান্ধবী মনে হয় আমার প্রেমে পরেই গেল।”
তিন্নি মধু কে ফুয়াদের বুকে মাথা রাখতে দেখেই রুম ত্যাগ করেছে। তাই তিন্নির উত্তর এল না।
মধু শার্টের উপর দিয়েই ফুয়াদের বুকে কামড়ে ধরল।
ফুয়াদ ওর কাঁধ ধরে টেনে বুক থেকে সরিয়ে বলল,,” রাক্ষু’সী র মতো কাম’ড়াকা’মড়ি করছো কেন? খিদে পেলে বলো খাবার দিচ্ছি আমি তো খাবার নয় আমাকে খেতে চাচ্ছ কেন?”
মধু নাক ফুলিয়ে বলল,,” আমি আপনার প্রেমে পরি নাই আর না পরব।”
” আমার প্রেমে তো তুমি হাবুডুবু খাচ্ছ সুইটহার্ট। যাইহোক খাবে চলো।”
মধু রুমে চোখ বুলিয়ে বলল,,” আমি আপনার রুমে কীভাবে এলাম?”
” ভাইয়ের এক ধমক খেয়েই তো অজ্ঞান হয়ে গেলে। কি আর করব গার্লফ্রেন্ড বলে কথা তাই কোলে করেই অজ্ঞান গার্লফ্রেন্ড কে রুমে আশ্রয় দিলাম।”
” আপনি তাদের কীভাবে তাড়ালেন?”
” শশুর মশাইয়ের কাছে তো বিয়ের প্রস্তাব ও দিয়ে দিয়েছি। তাকে বলেছি বিয়েতে সম্মতি দিন তাহলেই মেয়ে ফেরত পাবেন তাও অনলি তিন দুইদিনের জন্য। তারপর আবার আমার ব‌উ আমি আমার কাছে নিয়ে আসব।”
” আপনাকে বিয়ে করবে কে?”
” তুমি!”
” আমাকে পাগলে ধরেছে নাকি আমি আপনাকে বিয়ে করব না যান তো।” বলেই মধু বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল। বাইরে পা বাড়াবে পেছনে থেকে ফুয়াদ ওর হাত ধরে আটকে বলল,,” বিয়ে তো করতেই হবে জান। এখন বলো তো তখন জ্ঞান কেন হারালে?”
মধু থতমত খেয়ে আমতা আমতা করতে লাগল। ফুয়াদ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। মধু বলল,” ভয়ে আমি ভাইয়াকে অনেক ভয় পাই তো।”
ফুয়াদ ওর হাত ধরে হেঁচকা টান দিয়ে নিজের কোলের উপর ফেলে বলল,,” সুইটহার্ট তুমি মিথ্যা টাও ঠিকমতো বলতে পারো না। আর অভিনয়ে ও কাঁচা। তুমি অজ্ঞান হ‌ও নি। তখন সবটাই অভিনয় করেছ। জ্ঞান হারানোর অভিনয়। যাতে তোমায় আমার কাছ থেকে কেউ দূরে নিয়ে যেতে না পারে। তুমি নিজ ইচ্ছায় আমার কাছে থেকে গেলে। তুমি জানতে ভাইয়ের সাথে চলে যাওয়া মানে আমার থেকে দূরে যাওয়া। যেটা তুমি চাও না। তাই এতো সুন্দর অভিনয় করলে তাই না সুইটহার্ট? কিন্তু মানতেই হয় তুমি ভালো অভিনয় করো কেউ বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেনি তুমি নাটক করছিলে।”
মধু চুরি করতে গিয়ে ধরা খাওয়ার মতো আঁতকে উঠল। এভাবে ফুয়াদের কাছে ধরা খাবে স্বপ্নেও ভাবেনি। ও ঢোক গিলে যথেষ্ট রাগী চোখ মুখ করে বলল,,” দেখুন মনগড়া কাহিনী বানাবেন না।আমি যেতে চাই না ঠিক আছে কিন্তু সেটা শুধুমাত্র ভয় থেকে। আপনার জন্য নয়। আপনার থেকে দূরে থাকাই আমার জন্য আনন্দের। আমি চলে যেতে পারলেই শান্তি পেতাম আপনার জ্বালাতন সহ্য করতে হতো না কিন্তু আমি এখন বাড়ি ফিরে গেলে বাপি আর ভাই আমাকে শুধু বকবে না মারবে ও। আমি চাই খালামনির সাথে বাসায় ফিরতে তিনি তাদের‌ কন্ট্রোল করতে পারবে।”
” সুইটহার্ট তুমি ধরা পরে গেছ। তুমি নিজেও জানো তুমি আমাকে ভালোবাসো। আমার সঙ্গতা তোমার পছন্দ তুমি আমার কাছাকাছি থাকার জন্য এতো বাহানা করছো। কিন্তু তুমি অনেক জেদি স্বীকার করবে না সহজে।”
মধু ঝামটা মেরে ফুয়াদের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে,,” নো আমি আপনাকে ভালোবাসি না।”
বলেই রুম থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।

বাইরে আসতেই দেখতে পেল মিতুল দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে রাগে‌। মধু কে বের হতে দেখতেই ওর হাত মুচড়ে ধরে টেনে নিচে নিয়ে এল।
” আন্টি মধুকে এই মুহূর্তে বাসা থেকে বের করে দিন। ওর জন্য ফুয়াদ আমাকে বিয়ে করতে চায় না। ও ফুয়াদ কে বশ করেছে। ওর জন্য ফুয়াদ আপনার কথার বাইরে গিয়েছে। সব এই মেয়েটা করেছে। আপনাদের বাসায় আশ্রয় নিয়ে আপনাদের ই সর্বনাশ করছে। ওকে আর এক সেকেন্ড ও এই বাসায় রাখবেন না প্লিজ।”
নাফিসা বেগম সত্যি মধু কে টেনে বাসার বাইরে বের করে দিল। মধু কে উনি একটুও সহ্য করতে পারছেন না। ফুয়াদ মধুর জন্য মধুর ভাই আর বাবার সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করেছে।যে মেয়ের জন্য আমার বড়ো ছেলেকে পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল সেই মেয়েকে উনি কীভাবে সহ্য করবে। এই মেয়ের জন্য ফুয়াদ সবাইকে ভুলে বাইরে থেকেছে। এই মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব ও দিয়ে দিয়েছে। গার্জেন হিসেবে উনাকে ও তোয়াক্কা করেনি ছেলে এখনি এই দশা এই মেয়ে বাড়ির ব‌উ হয়ে এলে সব শেষ হয়ে যাবে। উনার সোনার ছেলে এখনি মাকে গোনায় ধরে না আর কি ধরবে?
মধু শান্ত নরম মনের নাফিসা বেগমকে চিনেছে এতো দিন। তার হঠাৎ এমন আচরণ হজম করতে পারছে না। এই বাসায় আসার পর তার আদর ভালোবাসা পেয়েছে সব সময় তার এতো কঠোর আচরণ ওকে আঘাতে জর্জরিত করে তুলল ও পাথরের ন্যায় সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওকে বাইরে বের করে নাফিসা বেগম দরজা আটকে দিয়েছে। মধু হতবাক হয়ে বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এসব দেখে ফাহাদ মায়ের সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করে দৌড়ে ফুয়াদ কে খবর দিতে গেল। ফুয়াদ বিছানায় কেবল গা এলিয়ে দিয়েছিল ফাহাদের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে দৌড়ে নিচে নামল। মা এতোটা কঠোর হতে পারে ও কল্পনা করতে পারছে না।
মায়ের পাশে পৈশাচিক হাসি দিতে মিতুল কে দেখে ওর মাথায় রক্ত চড়ে গেল। ও দাঁতে দাঁত চেপে মিতুল কে বলল,,” আমার মায়ের সুন্দর মাথাটা নষ্ট করতে তুমি হাজির তাহলে?”
মিতুল নাফিসা বেগম কে আটকাতে বলল ফুয়াদ কে যাতে মধুর কাছে যেতে না পারে।
নাফিসা বেগম এগিয়ে এসে ফুয়াদকে কসম দিয়ে আটকাতে চাইল ফুয়াদ রাগী গলায় বলল,,
” উফফ মা সব সিকোয়েন্সে তোমার কসম না দিলে চলে না? আমার জীবনের অর্ধেক সুখ তুমি কসম দিয়ে কেড়ে নিতে চাও? তুমি কি চাও না তোমার ছেলে খুশি থাকুন নাকি চাও সারাজীবন জ্বলে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাক।”
নাফিসা বেগম বললেন,,” আমি তোর জন্মদাত্রী। আমি তোর সুখ কেন কেড়ে নেব?”
” মধু কে আমি ভালোবাসি মা। ওকে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মেনে নাও।”
বলেই মিতুলের দিকে তাকিয়ে বলল,,” আমি এমন কোন মেয়েকে চাইনা যে সব সময় কুট কাচালি নিয়ে থাকে।”

” হ্যালো ওই ফুয়াদ কে আমি ছাড়ব না। আমার বোন কে আমার সামনে জোর করে রেখে দিল যেন আমার থেকে ওর অধিকার বেশি। আমার বোনের উপর যেন আমার কোন অধিকার নাই।”
রাগে ফেটে পরে বলল মামুন।
ফোনের অপরপাশে লোকটা কুটিল হেসে বলল,” জার্নালিস্ট আবরার ফুয়াদ দেখি দিন দিন শত্রু বাড়িয়ে তুলেছে। দেখো মিস্টার মামুন তোমার বোনের অধিকার তুমি না পেলেও আমি চাই। তাই সেই ব্যবস্থা তোমাকেই করতে হবে।”
” ফুয়াদ কে রাস্তা থেকে সরাতেই হবে ওর জন্য আমাদের অর্ধেক কাজ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। রমেশচন্দ্র কে ধরিয়ে দিল ওর জন্য এখন কাজ করা যাচ্ছে না। ও কাজের দিকেও আমাদের জীবনে এন্টি নিয়েছে এখন আমার বোনকেও হাতিয়ে নিতে চাইছে। তুমি ওর পেছনে গোয়েন্দা রেখেছ কিন্তু কিছুই তো করতে পারছ না।”
” তোমার বোনকে নিয়ে হেডলাইন হলে তোমার কোন সমস্যা আছে?”
” গোপনে খারাপ কাজ করলেও সমাজে একটা সম্মান আছে আমাদের। তাই বোনকে নিয়ে এসব করে ফুয়াদ কে ফাঁসাতে চাই না। আমার বোনের সম্মান মানে আমাদের সম্মান। ওকে বাদ দিয়ে ওই ফুয়াদ কে একা যা করার করো।”
ওপাশ থেকে কল কেটে গেল। মামুন অকথ্য ভাষায় গালি দিল ফোনের লোকটাকে। মুখের উপর ফোন কেটে দিল ওকে বিন্দুমাত্র সম্মান দেয় না।

#চলবে…..

#প্রেয়সী
#নন্দিনী_নীলা
৪১.( বর্ধিতাংশ )

সকাল থেকে না খেয়ে আছে মধু তার উপর যা সব ফেইস করছে তাতে ওর অবস্থা নাজেহাল। ও থমকানো মুখভঙ্গি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সদর দরজার সামনে। সমুদ্র বাইরে থেকে তখনি বাসায় ঢুকে। দরজার সামনে এসে মধুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওর কপাল কুঁচকে আসে। মধু একা এখানে দাঁড়িয়ে কি করছে? ও তো ফুয়াদের সাথে ছিল! হতবুদ্ধি গলায় মধুকে ডেকে এগিয়ে আসতে লাগে। এদিকে মধু সমুদ্রের আওয়াজ পেয়ে চমকে উঠে। ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখে সমুদ্র বিস্মিত নয়নে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
কাছে এসে দাঁড়িয়েই জিজ্ঞেস করল,,,” তুমি এখানে কীভাবে? ছোটো কোথায়? একা এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।”
এক দমে এত্ত গুলো প্রশ্ন করে থামল সমুদ্র। মধু কাঁচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। ওর চোখ টলমল করছে নোনা জলে। পলক পরতেই তা গাল গড়িয়ে পড়ল। সমুদ্র হতভম্ব হয়ে মধুর দিকে তাকিয়ে আছে‌। ওর চোখে জল দেখে ও পুরাই থমকে গেল।
” কি হলো কাঁদছ কেন?”
মধু হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে গাল মুছে নিল। তারপর ধীরে সুস্থে কিছু বলতে মুখ খুলবে তখনি দরজা খুলে বেরিয়ে আসে ফুয়াদ। ফুয়াদ কে নাফিসা বেগম কোন ভাবেই বাইরে আসতে দিচ্ছিল না। ফুয়াদ মাকে জোর করে রুমে নিয়ে যায় তারপর অনেক বলে তিন্নি আর ফাহাদ কে দরজার বাইরে পাহারা রেখে বাইরে আসে। ওর বুক কাঁপছিল মধু আবার অভিমান করে কোন দিকে চলে না যায়। ফুয়াদ দরজা খোলে মধুকে দরজার সম্মুখে দাঁড়ানো দেখতেই ওর ভয় কাটে। ও সমুদ্রকে খেয়াল করেই না। ও পিঠ করে দাঁড়ানো মধুর বাহু ধরে এক টানে ওকে নিজের দিকে ফিরিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে। মধু আচমকা টানে চমকে আছড়ে পড়ে ফুয়াদের বক্ষস্থলে। ফুয়াদের বুকে মাথা রাখতেই ওর হৃদস্পন্দন এর অস্বাভাবিক গতিবেগ খেয়াল করে। ফুয়াদ হার্টবিট অস্থির হয়ে বিট করছে।
ফুয়াদ ওকে বুকে জড়িয়ে অস্থির কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,” তুমি ঠিক আছো?”
মধু মূর্তির মতো চুপ করে ওর বুকে মিশে আছে। সমুদ্র গলা খাঁকারি বলল,,” ছোটো তোর বড়ো ভাই এখানে আছে। একটু আশেপাশে দেখে শুনে কাজ কর। তোর না হয় লজ্জা নাই কিন্তু আমার তো লজ্জা করে রে।”
ফুয়াদ সমুদ্রের কথা শুনে অবাক হয়ে বলল,,” তুমি কোথা থেকে আসলে?”
” বাইরে গেছিলাম এসে দেখি মধু এখানে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাপারটা কি বলত? কিছু ই তো আমি বুঝতে পারছি না।”

ফুয়াদ মধু কে নিয়ে বাসার ভেতরে ঢুকল। সমুদ্র কে বলল পরে বলবে সব। সমুদ্র আচ্ছা বলে চলে গেছে। ফুয়াদ তিন্নিকে খাবার নিয়ে ওর রুমে আসতে বলে মধু কে নিয়ে চলে গেল রুমে। এদিকে মিতুল সবটাই দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করল। ওর মাথা রাগে ধপাধপ করছে।
ফুয়াদ মধুকে হাত ধরে টেনে নিজের রুমে নিয়ে গেল ওর চোখের সামনে। ও চেয়ে চেয়ে দেখল শুধু। এতো কষ্ট করে আন্টিকে ম্যানেজ করে আপদ বাসা থেকে বের করল কিন্তু তাও সফল হতে পারল না। রাগে ও ফ্লোরে লাথি মেরে নাফিসার কাছে গেল আরো কান বিষ দিতে।

ফুয়াদ মধু কে রুমে নিয়ে আসার পর থেকে মধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেই চলেছে। থামার নাম‌ই নিচ্ছে না। মধু নরম বিছানায় বসে আছে পা ভাঁজ করে। আর নাকের জল চোখের জল এক করে কাঁদছে। ফুয়াদ প্রথমে ওর হাত ধরে শান্ত করতে চাইল। তারপর কান্না থামাতে বলেছে কিন্তু মধু ওর কোন কথাই কানে নিচ্ছে না। ও এক নাগাড়ে কেঁদেই যাচ্ছে। ওর কান্না থামছেই না। নাফিসা আন্টি ওকে এতো ভালোবাসা দিয়েছিল সে এখন ওকে সহ্য‌ই করতে পারছে না। ওকে এতো ঘৃণা করে এখন ওকে বাসা থেকেই ওই ভাবে বের করে দিল ও কিছুইতে এই কষ্ট টা মানতে পারছে না।
তিন্নি কে খাবার বাড়তে দেখে ওর মা আনিতা বেগম ওর হাত থেকে থালা কেড়ে নিয়ে বলল,,” কার জন্য খাবার বাড়ছিস?”
” মা প্লেট দাও প্লিজ। ফুয়াদ ভাইয়া নিতে বলেছে।”
” না যার জন্য আমাদের সংসারে এতো সমস্যা হচ্ছে তার জন্য কোন খাবার যাবে না। ফুয়াদ কে বল ওই মেয়েকে বাসা থেকে বের করতে।”
তিন্নি মায়ের কঠিন চেহারা দেখেই নিজেই চমকে গেছে। মুখ বেজার করে ফুয়াদের রুমে আসলো। ফুয়াদ মধু কে থামাতে না পেরে রুমে পায়চারি করছিল। তখনি তিন্নি রুমে এসে ঢুকে বিরস মুখে। ফুয়াদ ওকে দেখতেই বলে,,” তিন্নি তোকে না খাবার নিয়ে আসতে বললাম। খাবার ক‌ই?”
তিন্নি ওর কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,,” ভাইয়া আম্মু তো খাবার দেয়নি। বলেছে মধু কে কোন খাবার দিবে না।”
রাগে ফুয়াদের মুখ লাল হয়ে উঠল। ওর পরিবারের মানুষ জন এতোটা কঠিন আর নির্দয় হয়ে গেছে যে একজন ক্ষুধার্ত মানুষ কেও খেতে দিতে চাইছে না।
ও বিলিভ করতে পারছে না পরিবারের সবাই ওর বিরুদ্ধে চলে গেছে। ফুয়াদ অনলাইনে পিজ্জা অর্ডার করে আনল তারপর মধু কে দিল। অনেক ক্ষুধার্ত দিল মধু তাই খাবার পেতেই কোন কিছু না ভেবে গপাগপ গেল। খাবার খেয়ে ওর মন বলল বাসায় থাকার পর ও কেন ওকে বাইরের পিজ্জা খেতে হলো? ও ভাবনা টা মনে আসতেই ও ফুয়াদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,,” খাবার বাইরে থেকে আনছেন কেন?”
ফুয়াদ বলল,,” বাসার মানুষেরা খাবার না দিলে তে বাইরে থেকেই আনতে হবে।”
” মানে?” অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করল মধু।
ফুয়াদ বলল,,” খেয়েছ ক্লান্তি লাগলে ঘুমাও। এতো প্রশ্ন করো না।”
” আমি আপনার রুমে ঘুমাব না।”
” তো কোথায় ঘুমাবে?”
” আগে যেখানে থাকতাম। তিন্নির রুমে।” বলেই মধু রুমের বাইরে যেতে পা বাড়াল। ফুয়াদ পেছন থেকে ওর হাত টেনে ধরে বলল,,” আগের আর এখন কার মধ্যে অনেক তফাৎ। তোমাকে ওখানে রাখার রিস্ক নিতে পারব না।”
মধু কপাল কুঁচকে বলল,,” কিসের রিস্ক?”
ফুয়াদ ওকে টেনে বিছানার বসিয়ে বলল,,”তোমার এতো সব জানতে হবে না। তুমি এখানে ঘুমাও। রাতেও এখানেই থাকবে। আমি ভাইয়ের রুমে থাকব।”
মধু বলল,,” আমাকে আবার তাড়িয়ে না দেয় সেই ভয়ে এসব করছেন তাই না?”
ফুয়াদ উত্তর দিল না।
মধু বলল,” এসব করলেও আমি আপনাকে ভালোবাসবো না। কখনোই না।”
ফুয়াদ ওর কথা শুনে ঠোঁট কামড়ে ব্যঙ্গ করে হাসল। মধু ওর হাসি দেখে ছোট ছোটো ছোটো করে বলল,,” হাসির কি বললাম?”
ফুয়াদ মধুর দুগালে‌ হাত রেখে চট করেই কপালে চুমু খেয়ে বসল। মধু চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে স্তব্ধ নির্বাক দৃষ্টি ফেলে।
” আচ্ছা রেস্ট করো। আম্মুকে নিয়ে ভেবো না তিনি এখন রেগে আছে রাগ কমলেই আবার কাছে টেনে নিবে।”
বলেই ফুয়াদ বাইরে থেকে দরজা আটকে চলে গেল।

ফুয়াদ চলে যেতেই মিতুল দরজার সামনে এসে দাঁড়াল আর লক খোলার চেষ্টা করতে লাগল। খুলতে না পেরে রাগে গজগজ করতে লাগল। ফুয়াদ মিতুলের হাত মুচড়ে ধরে দরজার সামনে থেকে টেনে সরিয়ে এনে ফেলল।
মিতুল হাত ছাড়ানোর জন্য ধস্তাধস্তি করে বলল,,”ফুয়াদ হাত ছাড়ো ভেঙে যাবে তো।”
ফুয়াদ মিতুলের হাত ছেড়ে ওর গলা চেপে ধরল। মিতুল চোখ উল্টে হাঁসফাঁস করতে লাগল।
” তুমি যে মধুর ভাইয়ের সাথে হাত মিলিয়ে এসব করছো? আমি সবটাই জেনে গেছি। আমি জানব না ভেবেছিলে?”
মিতুল চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে ফুয়াদের দিকে এভাবে ফুয়াদের কাছে ধরা খাবে কল্পনাতে ও ভাবেনি। ফুয়াদ এসব জানল কি করে?
লাস্ট মুহুর্তে এসে ফুয়াদ ওর গলা ছেড়ে দিল। মিতুল গলা ধরে কাঁশতে লাগল।
ফুয়াদ বলল,,” মধুর ভাইয়ের সাথে হাত মিলিয়ে কি ভেবেছ আমাকে পাবে?”
মিতুল ঢোক গিলে অস্বীকার করে বলল,,” এসব কি বলছ ফুয়াদ? আমি এসব কেন করব? আমি তো তাদের চিনতাম‌ই না। না‌ জেনে আমার উপর ব্লেম দিতে পারো না তুমি।”
ফুয়াদ ওর হাত মুচড়ে ধরল আবার আর বলল,,”তুমি মধুর ভাইকে মধুর ঠিকানা দাও নি?”
মিতুল ফুয়াদের লাল চোখের চাহনি ও রাগী কন্ঠস্বর শুনে ভয়ে গুটিয়ে গেল। ও তোতলানো গলায় বলল,,” বিশ্বাস করো আমি শুধু বলেছিলাম এখানে মধু আছে। কিন্তু ওরা আমার জানার আগেই এখানে মধু আছে জেনে গিয়েছিল। আমিতো তাদের খোঁজ বিয়ে বাড়িতে পেয়েছি। তাও ওই আন্টির মাধ্যমে। তিনিই বলেছে সব। আমি শুধু তাকে নিশ্চিত করেছিলাম।”
নাফিসা বেগম কে দেখতেই ফুয়াদ মিতুলের হাত ছেড়ে সমুদ্রের রুমে চলে গেল।
নাফিসা বেগম এসে মিতুল কে চোখ মুখ লাল করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন,,” ফুয়াদ কি বলছিল?”
মিতুল ঢোক গিলে বলল,,” ক‌ই কিছু না তো।”
” দেখে মনে হলো।”
” আসলে আন্টি আমাকে এখন সহ্য করতে পারেনা তো তাই চলে যেতে বলছিল।” মাথা নিচু করে অসহায় মুখ করে বলল মিতুল।
নাফিসা বেগম বললেন,,” ও বললেই হলো নাকি তুমি এখন থেকে এখানেই থাকবে। দেখি ও কি করে!”
নাফিসা বেগম এর কথা শুনে মিতুল শয়তানি হাসি দিল। ও তো এটাই চাইছিল এখানে থাকতে চাইছিল। ওর চাওয়া পূর্ণ হয়েছে। আন্টি বলেছেন মানে ও এখানেই থাকতে পারবে।

#চলবে…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here