প্রেয়সী পর্ব:১৬

0
705

#প্রেয়সী
#পর্ব:১৬
#তানিশা সুলতানা

মাহিম বুকেঁর সাথে মিশিয়ে রেখেছে অধরার মাথাটা। মেয়েটা একদম নেতিঁয়ে পড়েছে। মাহিমের হাতে চোট থাকায় ভালো করে ধরতে পারছে না। কি করে অধরাকে গাড়ি ওবদি নিবে সে?
কি করবে?
নিজেই দাঁড়াতে পারছে না। হাতে পায়েঁ গলাঁয় মাথায় প্রচন্ড চোট লেগেছে তার। মাহিম আশেপাশে তাকাতে থাকে। কারো সাহায্য দরকার।
পাশে অধরার ফোনটা দেখতে পেয়ে একটু ভরসা পায়।
বা হাতে ফোনটা তুলে আরিফকে কল করে।
আরিফের ফোন ধরতে দেরি হয় না। যেনো সে ফোনের আশায়ই বসে ছিলো

“মা ঠিক আছিস তুই? কল কেনো ধরছিস না? কি হয়েছে?

মাহিম ঠোঁট দিয়ে জিভ ভিজিয়ে বলে
” চাচ্চু আমি। শিশুপার্কে চলে এসো জলদি।

বলেই কল কেটে দেয়।
অধরার মাথাটা সোজা করে মাটিতেই বসে পড়ে।

শিউলি দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে সব। ছেলেমেয়ে দুটোর জন্য ভীষণ মায়া হচ্ছে তার। একটু কি এগিয়ে যাবে ওদের দিকে? কথা বলবে ওদের সাথে?
তখনই শিউলির বাটন ফোনটা কেঁপে ওঠে। কোমর থেকে ফোনটা বের করে রিসিভ করে বলে
“মাহিম বাবা চলে এসেছে।

মাহমুদা হাতের কাছে থাকা পানির গ্লাস ফেলে দেয়। মাহিম কি করে বের হলো?
” আপনি আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি করিয়েন না। সে অবুঝ।

মাহমুদা আলতো হাসে
“তোর নির্দোষ মেয়েটাকে কুটিকুটি করে কে*টে নদীতে ভা*সি*য়ে না দেওয়া পর্যন্ত আমার শান্তি হবে না।

বলেই মাহমুদা কল কেটে দেয়। শিউলি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। সে জানে মাহমুদা এমনটা কখনোই করবে না। একটু হয়ত রেগে আছে। জীবনের সব থেকে বড় চাওয়াটা না পাওয়ার শোকে মনটা বিষিয়ে গেছে কিন্তু তিনি নিষ্ঠুর নয়। তাকে ভালো করে বোঝালেই সে বুঝতে পারবে। কিন্তু কে বোঝাবে তাকে?

আরিফ দৌড়ে আসে। বিচলিত হয়ে অধরার গালে হাত বুলায়। চোখ দুটো তার টলমল করছে। বাড়ি থেকে ভালো মেয়ে বের হলো। কিন্তু এখন তার কি হলো?
মেয়েকে কোলে নিয়ে দৌড়ে যেতে থাকে সে। মাহিম পেছন পেছন খুড়িয়ে খুড়িয়ে যায়।

সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দুজনকেই। মোটামুটি দুজনই সুস্থ। বাড়ির কাউকে কিছু জানাতে বারণ করে মাহিম। তাই আর আরিফ কাউকে জানায় নি।
অধরার রাতের মধ্যে ঘুম ছুটবে না৷ সকালে সে জাগবে।
মাহিমকে ঔষধ দেওয়া শেষে আবারও অধরাকে আরিফ কোলে তুলে নেয়। তারপর বেরিয়ে যায় হাসপাতাল থেকে।

কড়া রোদের আলো চোখে পড়তেই ঘুম ভেঙে যায় অধরার। আড়মোড়া ভেঙে চোখ খুলে। মাথার ওপরে সাদা রংয়ের দেয়াল দেখে কপাল কুঁচকে ফেলে। তার রুমের দেয়াল তো নীল রংয়ের। সাদা কি করে হলো?
মাথায় কারো হাতের অস্তিত্ব টের পেয়ে দ্রুত পাশ ফিরে তাকায়। বাবার ঘুমন্ত মুখটা দেখে মুখে হাসি ফুটে ওঠে অধরার। তারপর আস্তে আস্তে গতকালকের সব ঘটনা মনে পড়ে যায়। চোখ দুটো টলমল করে ওঠে। মাহিম এইভাবে ঠকালো তাকে?
পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ার আগেই হাতের উল্টো পিঠে মুছে ফেলে অধরা। মাথা থেকে বাবার হাতটা আস্তে করে সরিয়ে দিয়ে উঠে বসে। গায়ে সুতি থ্রি পিছ দেখেই বুঝে ফেলে কেউ পাল্টে দিয়েছে শাড়িটা।
জানালার পর্দা টেনে দিয়ে বাবার শরীরে কাঁথা টেনে দিয়ে বাবার চুলে একটুখানি হাত বুলিয়ে চলে যায় অধরা।

দরজার সামনেই মাহিমকে দাঁড়ানো দেখে কিছু বলতে যায়। তখনই মাহিম বলে ওঠে
“ব্যাগ গুছিয়ে নে

অধরা ভ্রু কুচকে তাকায়। মাহিম আবার গম্ভীর গলায় বলে
” আমার হাতে সময় কম। দ্রুত করতে হবে।

“আপনি এতো আঘাত পেয়েছেন কি করে?

” সে সব তোকে ভাবতে হবে না। যা বলেছি তাই কর।

বলেই মাহিম চলে যায়। অধরা হা করে তাকিয়ে থাকে। ব্যাগ কেনো গোছাবে? কোথায় যাবে? কার সাথে?
কিন্তু এই প্রশ্নের উওর কে দেবে?
তখনই মনিকে খেয়াল করে।

“অধরা মাহিম তোকে ট্যুরে নিয়ে যাচ্ছে।
” আমাকে?
অধরা অবাক হয়ে বলে।
“শুধু তোকে না। মিথি যাবে সাথে মাহিমের কিছু কলিগ৷
” আচ্ছা
“দ্রুত তৈরি হয়ে নে।

অধরা মুচকি হেসে রুমে ঢুকে পড়ে। মনি কালকের কথা কিছুই জিজ্ঞেস করলো না তার মানে মাহিম সবটা ম্যানেজ করে নিয়েছে। ভালোই হয়েছে।
তবে লোকটার শরীরে এতো চোট কেনো? এই প্রশ্ন টা মাথায় ঘুরছে শুধু। কি করে পেলো? আর কাল কেনোই বা আসলো না?
সব প্রশ্নের উওর পাওয়া যাবে ট্যুরে গেলে। মাহিমকে হাতের নাগালে পাওয়া যাবে।

অধরা ছোট্ট একটা লাগেজে নিজের প্রয়োজন জিনিস ভরে নেয়। গোলাপি রংয়ের একটা থ্রি পিছ পড়ে তৈরি হয়ে নেয়।
সাজতে গিয়ে সাজে না।
আয়নায় শেষবার নিজেকে দেখে রুম থেকে বের হয়।

সবাই খেতে বসেছে। আরিফও সবে বসেছে। অধরা গিয়ে আরিফের পাশে বসতে যাবে তার আগেই মাহিম বলে ওঠে
” এখন খেতে গেলে দেরি হয়ে যাবে।
আরিফ বলে
“এতোটা জার্নি করবে। না খেয়ে কি করে?

” চাচ্চু বাসে সবাই একসাথে খাবো। অধরা চল

মনি অধরার লাগেজ নিয়ে চলে এসেছে। অধরা সবার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে যায়। আরিফ খাওয়া রেখে মেয়েকে এগিয়ে দিতে আসে।
অধরা ঘুরতে প্রচুর ভালোবাসে। সময়ের অভাবে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া হয় না। মাহিমের ওপর তার অগাধ বিশ্বাস আছে। তাই মেয়েকে ছাড়লো। সে জানে মাহিম ঘুরিয়ে আবার সেফলি তার মেয়েকে বাড়িতে দিয়ে যাবে।
অধরা হাসি মুখে বাবাকে বাই বলে গাড়িতে বসে পড়ে।

মাহিম গাড়ি চালানো শুরু করে।
খানিকটা রাস্তা যেতেই অধরা বলে
“ম্যানেজ করলে কি করে?
মাহিম জবাব দেয় না। চুপচাপ ড্রাইভিং করছে। অধরা মুখ বাঁকায়। এতো ভাব দেখাচ্ছে কেনো লোকটা?
অধরাও রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে।

হঠাৎ গাড়ি থামতেই অধরা তাকায় মাহিমের দিকে। মাহিম সিট বেল্ট খুলছে
” থামালেন কেনো? আপনার ভাঙা গাড়ি কি নষ্ট হয়ে গেলো?

মাহিম তাকায় অধরার দিকে
“নাহহ তোকে ভাঙতে গাড়ি থামালাম।

অধরার কপালে তিনটে ভাজ পড়ে। সে আবার কি করলো?
ততক্ষনে মাহিম নেমে গেছে। অধরা মাহিমকে কিছু বলার জন্য আবারও পাশ ফিরতে দেখতে পায় বড়বড় করে লেখা ” কাজী অফিস”
তার মানে আজকে তাদের বিয়ে হবে? মাহিম বিয়ে করবে বলে এখানে আনলো?
বিয়ের পরে ট্যুরে যাবে? ট্যুর না হানিমুন হবে সেটা।
খুশিতে অধরার মনটা নেচে উঠে
“ফাইনালি তার বিয়েটা হচ্ছে। সে হানিমুনে যাচ্ছে।

সব কেমন স্বপ্নের মতো লাগছে।
” মানুষটা সঠিক বলেই দিনটা এতোটা সুন্দর হতে যাচ্ছে ”

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here