প্রেম পুকুর পর্ব ১৩

0
91

#প্রেম_পুকুর
[১৩] বোনাস পার্ট❤️
লেখনীতে মারিয়া মুনতারিন

ফুলে ফুলে সাজিয়ে রাখা ঘরে বসে আছে অনিকা। কখনো পরিবারের কথা মনে পরে চোখ
ভেসে যাচ্ছে আবার কখনো অজানা শিহরণে বুক কেপে উঠছে কেমন সব ছন্ন ছাড়া অনুভুতি তাকে আবদ্ধ করে নিচ্ছে।

আমান কক্ষে প্রবেশ করে অনিকাকে সালাম দিলো। অনিকা আমানের কণ্ঠ পেয়ে কিছুটা বিচলিত হলো কিন্তু পর মুহুর্তে সেও সালামের জবাব দিলো।

আমান সপ্তপর্ণে নিজ স্ত্রীর পাশে গিয়ে বসলো।
চিবুক উঁচু করে ধরল নিজের সামনে। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে অনিকা মাথা নিচু করে নিলো।
আমান নিজের স্ত্রীর লজ্জা দেখে খুশি হলো।
নিজ পকেট থেকে একটা ফিঙ্গার রিং বের করে স্ত্রীকে পড়িয়ে দিল। স্ত্রীর হাতে চুমু খেতে ভুললো না। লজ্জায় অনিকা নিজেকে আরো বেশি গুটিয়ে নিলো।

আমান মুচকি হাসি দিয়ে বলল,”জনাবা আপনি আমার জন্য কি উপহার এনেছেন।”

অনিকা নিজের জিভে কামড় বসালো অতিরিক্ত লজ্জার কারনে সে সব ভুলে গেছে।

লেহেঙ্গা গুটিয়ে নিজের লাগেজের দিকে এগুলো।আমান চুপচাপ স্ত্রী কান্ড দেখতে লাগলো।অনিকা নিজের লাগেল খুলে একটা বাক্র বের করে আমানের হাতে দিলো।

“যদিও এটা তোমার উপহারের মতো দামী নয় কিন্তু আমি আমার সাধ্য মত তোমায় এটা দিয়েছি।”

আমান বাক্র খুলে দেখলো একটা ব্রান্ডের ঘড়ি।
“আমি কিন্তু তোমার কে নিজ হাতে পড়িয়ে দিয়ছি তাই তুমিও,,,

অনিকা আমানের হাতে ঘড়ি পড়িয়ে দিলো।

“তোমার নিশ্চই ভারী পোশাকে কষ্ঠ হচ্ছে তুমি এই পোশাক গুলো পরিবর্তন করে এসো। আমার কাছে তুমি না সাজলেও অপরূপা।”

অনিকা স্বামীর কথা শুনের নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে নিলে প্রতিটা স্ত্রী চায় তার প্রিয় পুরুষের থেকে এই বাক্য গুলো শুনতে।
আমান নিজে অনিকার লাগেজ থেকে নিজের পছন্দ মতো ড্রেস অনিকার হাতে তুলে দেয়।অনিকা সেই জামা নিয়ে ওয়াস রুমে চলে চায় দীর্ঘক্ষন শাওয়ার শেষে অনিকা বের হয়ে আসে।

তার ছোট ছোট ঘাড় পর্যন্ত কেশ ছেড়ে দেয় যেগুলো থেকে টপটপ করে পানির ফোটা পড়ছে।
অনিকা ধীর পায়ে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে আসে। তোয়ালে দিয়ে নিজের চুল মুছতে থাকে।আমান অনিকার পাশে গিয়ে অনিকাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়।
“তুমি একজন হার্ট সার্জনের হার্ট কে কোমায় পাঠিয়ে দিয়েছো। এখন একে তোমারই ঠিক করতে হবে।”

আমান হুট করে গভীর আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিলো প্রেয়সীকে।
এই আলিঙ্গন সেই উষ্ণ যে আলিঙ্গনে কোনো পাপ নেই। আছে শুধু আল্লহর সন্তুষ্টি আর সাওয়ার।

__________________

অনিকার বিয়ে কেটে যাওয়ার পরে কেটে গেছে গোটা বিশ দিন। আয়ান বেচারা তার ওয়াদা রক্ষা করার জন্য মড়িয়া হয়ে উঠেছে।
মাকে সে সাফ সাফ জানি দিয়েছে,”আম্মাজান আমি কালো, নুলা, কানা কিচ্ছু নই। আপনি আমাকে দ্রুত দশ দিনের ভিতরে বিবাহ দিবেন। নাহলে আমি সন্ন্যাস নিবো। ”

ছেলের করা থ্রেটে লায়লা বেগম হতভম্ব। তিনি জানেন তার ছোট ছেলে ভীষণ ঠোঁঠ কাটা কিন্তু তার পাশাপাশি নাক কাটাও।
খুব শিঘ্রই আয়ানকে ফিরতেও হবে। দেশে এসেছে গোটা ছয়মাস হলো। আর দু একমাস হয়তো ও আছে। ছেলে তাকে এও জানিয়ে দিয়েছে মেয়েকে সে দেখতেও চায়না। লায়লা বেগম যেমন পাত্রী পাক না কেন হোক সে সমস্যাময়ী তবুও সে বিয়ে করবেই।
অতঃপর সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগে তিনি এই ব্যপারে আলতাফকে জানালেন।
আলতাফ চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন আগামী দশ দিনের মাঝেই ছেলেকে সে বিয়ে দিবেন। তাই আর দেড়ি না করে তার ছোট বোনকে ফোন দিলেন। ছেলের এ পাগলামো থামাতে তার ছোট বোনের সাথে কথা বলাটা ভীষণ প্রয়োজন।
___________

শিমুকে সাফোয়ান একটি লাল শাড়ি উপহার দিয়ে বলেছে এটা পড়ে আজ রাতে তার জন্য তৌরি থাকতে।সাফোয়ানের ইশারা শিমু ঠিকই বুজতে পেরেছে।

শাড়িটা একদম ফিনফিনে পাতলা। পরলে শরীরে অনেক অংশ দৃশ্যমান হবে।যদি ও শিমুর কাছে সাফোয়ানের এটা দ্বীতিয় আবদার।আজও প্রথম দিনের কথা মনে পরলে তার শরীর ক্ষনে ক্ষনে শিউরে ওঠে।লজ্জায় আড়ষ্ঠ হয় যায় ওর সমস্ত শরীর। সাফোয়ান ওর লজ্জা দেখে নাকের মাথায় কামড় দিয়ে বলে,”বলোতো বউ তোমার লজ্জা আমি কবে ভাঙতে পারব”।সেই কথা শুনে শিমু আরো বেশি লজ্জায় নুইয়ে যায়।

রাজিয়া বেগমের সাথে তার সম্পর্কটা এখন স্বাভাবিক। সাধারন দাদী শাশুড়িরদের সাথে নাতী বউয়ের সম্পর্ক যেমন হয়। মাঝে মধ্যই সে জিগ্যেস করে নতুন অতিথি আসবে কবে।

দুঃখ গুলো শিমুর এখোন কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে প্রত্যাকের ভালোবাসা পেয়ে এখন তার নিজেকে ভীষণ সুখি মনে হয়।
শিমু একটা জিনিস গভীর ভাবে অনুভব করছে। পৃথিবীতে একটি মেয়েকে তার স্বামী যদি তাকে প্রকৃত ভালো বাসে তাহলে কোন দুঃখই সেই মেয়েটাকে স্পর্শ করতে পারেনা।

_______
রাত নেমে গেছে আকাশ জুড়ে। সাফোয়ানের পছন্দ মতো শিমু নিজেকে সাজিয়েছে। চুল গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে পুরো পিঠ জুড়ে।

সাফোয়ান আর শিমু দাড়িয়ে আছে বেলকোনিতে । সাফোয়ান অতি সপ্তপর্ণে নিজ স্ত্রীর কোমড়ে হাত রাখলো। শিমুর কাছে যদিও এটা প্রথম বার নয় কিন্তু তবুও তার শরীর শিউরে উঠল।

সাফোয়ান আর শিমু চাদের আলোয়া দাড়িয়ে কিছুক্ষন চন্দ্র বিলাস করল।

সাফোয়ান অবশেষে পেরেছে তার প্রেয়সীকে প্রেম পুকুরে ডুবিয়ে মাতাল করে দিতে। অভিমানী প্রেয়সীর অভিমান ভেঙে দিয়ে আপন করে নিতে আজ শিমুর মনে সাফোয়ানের জন্য কোন অভিযোগ নেই আছে শুধু এক বুক ভালোবাসা।
শিমুকে কোলে নিয়ে সাফোয়ান নিজের কক্ষের উদ্দেশ্য রওনা হলো। নিজের অর্ধভাগ কে আবার ও পবিত্র ছোয়ায় রাঙিয়ে দেবার জন্য।

ভালোবাসাময় এই রাতের সাক্ষী হলো আকাশের রঙিন তারারা।চারিদিকে মৃদু হাওয়া এক জোড়া চুড়ুই পাখিকে আরো মাতাল করে দিলো।

এই পবিত্র ভালোবাসা সত্যি সুন্দর।

চলবে,,
[আমার যদিও ইচ্ছা ছিলো গল্পটা আরো বড় করে লেখার কিন্তু আমার পারিবারিক সমস্যা কারনে আমি সেটা পারলামনা।আমারো ভালো লাগেনা রোজ রোজ আপনাদের গল্পের জন্য অপেক্ষা কড়িয়ে রাখতে তাই অতি দ্রুতই গল্পটার ইতি টানবো।]

সারপ্রাইজ পর্বটা কেমন লাগলো জানাবেন। এত কষ্ঠ করে গল্প লেখার পর হয়তো আপনাদের ভালো ভালো মন্তব্য শুনে আরেকটু ভালো লাগবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here