প্রিয়তার প্রহর (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ) শেষ পর্ব

0
102

#প্রিয়তার_প্রহর (২য় পরিচ্ছেদ)
( সমাপ্তি পর্ব )
লেখনীতেঃ #বৃষ্টি_শেখ

“আব্বু যে মারা গিয়েছে আপনি তা জানেন?

ছোট্ট একটি প্রশ্ন। জানা – না জানার প্রশ্ন। উত্তর হ্যাঁ কিংবা না তেই দেওয়া যায়। তবুও এই ছোট্ট প্রশ্নটি শুনে নিষ্প্রাণ দেখাল প্রীতিকে। মুখটা মলিন হলো ভিষণ। সংকোচ দেখা দিল চোখমুখে। নতজানু হলো ততক্ষণাৎ। সময় নিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলল,

” জানি।

প্রিয়তা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। বলে,

” আব্বু কিভাবে মারা গেছে জানেন?

চোখ তুলে প্রীতি। স্বাভাবিক কণ্ঠে বলে,

” স্ট্রোক..

বাকি কথা কেড়ে নিল প্রিয়তা। উচ্চস্বরে বলল,

” আব্বুকে মেরে ফেলা হয়েছে। কে মেরেছে জানেন? দীপা খন্দকার। যার আসল নাম মিথিলা দেওয়ান। ওই মহিলা ধনী পুরুষদের পটিয়ে বিয়ে করেন এবং ব্ল্যাকমেইল করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়। আব্বু মারা যাবার আগে আরহামকে কিছু সম্পত্তি লিখে দিয়েছিল। ওই মহিলার তা সহ্য হয়নি। আরহামের পরিবর্তে সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব আমায় দিয়েছিল বলে দুদিন আগে আমাকে মেরে ফেলার জন্য লোক পাঠিয়েছিল ওই মহিলা। আরহামের ক্ষতি করার ও চেষ্টা করেছে। সব আপনার জন্য। সব দোষ আপনার। আপনি যদি পরকিয়ায় জড়িয়ে আব্বুকে দূরে ঠেলে না দিতেন তবে আব্বু একাকীত্বে ভুগে দীপার মতো মহিলার দিকে ঝুঁকে পড়তো না। এত সুন্দর একটা সংসার ও ভেঙে যেত না। সর্বোপরি আমরা সবাই সুখে থাকতাম। এক হয়ে থাকতাম।।

ঢুকরে কাঁদে প্রীতি। কষ্ট হয় খুব। পেটে যন্ত্রণা হয়। কোমর ভারী লাগে। কাঁদতে কাঁদতে বলে,

” আমার ভুল হয়ে গেছে রে। খুব বড় ভুল করে ফেলেছি।

” ভুল নয়। এটাকে ভুল বলে না। আপনি অন্যায় করেছেন।

” আমাকে ক্ষমা করে দে প্রিয়তা।

প্রিয়তা হাসে। তাচ্ছিল্যপূর্ণ হাসি। প্রিয়তার চোখ জোড়া আরহামকে খুঁজে। এদিক ওদিক তাকিয়ে আরহামকে দেখতে পায় সে। ছেলেটা দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে। উঁকি দিয়ে দেখছে সবটা। প্রিয়তাকে তাকাতে দেখে আরহাম ও তাকাল বোনের দিকে। প্রিয়তা ডাকল ছেলেটাকে। ছুটে এসে আরহাম দাঁড়াল প্রিয়তার কাছে। গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রইল বোনের সাথে। প্রিয়তা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে আরহামের উদ্দেশ্যে বলল,

” চিনতে পারছো?

মাথা নাড়ায় আরহাম। নিষ্পাপ দেখায় ছেলেটাকে। ফর্সা গাল দুটোকে টেনে দিতে ইচ্ছে হয় প্রিয়তার। আরহাম উত্তর দেয়। বলে,

” আম্মু।

” যাবে উনার কাছে?

এবারেও হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ে আরহাম। প্রীতি ছেলের পানে একধ্যানে তাকিয়ে থাকে। হু হু করে উঠে তার বক্ষস্থল। আরহাম বোনের অনুমতির অপেক্ষায় থাকে। প্রিয়তা বাঁধা দেয় না। নিষ্প্রাণ, নির্জীব চোখে বলে,

” যাও।

সময় ব্যয় করে না আরহাম। ছুটে যায় মায়ের কোলে। প্রীতি জড়িয়ে ধরে আরহামকে। চুমু খায় এলোপাথাড়ি ভাবে। শক্ত করে জড়িয়ে রাখে আরহামকে। বলে,

” কেমন আছিস আরহাম।

প্রিয়তা ধীর পায়ে শাশুড়ির দিকে এগিয়ে আসে। মিসেস নাবিলার পাশে দাঁড়িয়ে নতজানু হয়ে বলে,

” আম্মুকে এই ফ্ল্যাটে রাখি আন্টি? আপনার কি অসুবিধে হবে? আমি থাকতে পারবো না উনার সাথে। মাস শেষে আম্মুর জন্য আমি খরচ পাঠাবো।

মিসেস নাবিলা হাসেন। প্রিয়তার হাত ধরে বলেন ,

” এমন করে বলছো কেন প্রিয়তা? এত বড় ফ্ল্যাটটায় কেবল আমি আর নিধি থাকি। নিধি তো সেইভাবে বাড়িতে থাকেই না। সারাক্ষণ একা লাগে নিজেকে। তোমার আম্মু থাকলে আমার ভালোই লাগবে। গল্প করার একটা সঙ্গী পাবো। তোমায় এভাবে বলতে হবে না। উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন এখানে থাকতে পারেন। কোনো সমস্যা হবে না আমার।

প্রিয়তার ভালো লাগে কথাগুলো। অশ্রু জমে চোখে। বিদায় নিতে চায় সবার থেকে। লাগেজ টেনে দরজার সম্মুখে রাখে। অতঃপর প্রীতির দিকে তাকায় প্রিয়তা। প্রীতি ছেলেকে পেয়ে এখন হাসছে। প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে তাকে। প্রিয়তা আরহামকে জিজ্ঞেস করে,

” তুমি যাবে আমার আর প্রহরের সাথে? নাকি তোমার আম্মুর সাথে থাকবে।

আরহাম বোনের দিকে তাকায়। উত্তর কি দিবে বুঝতে পারে না। প্রীতির মুখটা শুকনো হয়ে আসে। বলে,

” কোথায় যাবি তুই?

” উনি ঢাকায় চাকরি করেন। ওখানেই থাকবো আমরা। আপনি এখানে থাকবেন আন্টির সাথে। আর আরহাম যেখানে থাকতে চায় সেখানেই থাকবে। আমি এখানে আপনার সাথে থাকবো না।

আরহাম বসেই থাকে। কি বলবে ভেবে পায় না। প্রীতি পুনরায় অজস্রবার চুমু আঁকে আরহামের মুখে। আরহামকে কোল থেকে নামিয়ে বলে,

” আরহামকে তুই যতটা ভালোবাসিস তার এক রত্তি ও বোধহয় আমি বাসতে পারিনি। আমার অনুপস্থিতিতে তুই ওর সব দায়িত্ব পালন করেছিস। বাবার মতো শাসন করেছিস, মায়ের মতো আগলে রেখেছিস, বোনের মতো পাশে থেকেছিস। আমার চেয়ে ওর উপর তোর অধিকার অনেক বেশি। আমি ওকে রাখবো না। ওকে তুই নিয়ে যা। তোর কাছেই আরহাম সবচে খুশি থাকবে।

আরহাম চলে আসে বোনের নিকট। প্রিয়তা চলে যেতে উদ্যত হয়। এক মুহুর্ত এখানে থাকলে দম আটকে মরে যাবে সে। নয়তো ভেঙে চুড়মার হয়ে যাবে। দরজা ছেড়ে বাইরে পা দিতেই পেছন থেকে প্রীতি প্রিয়তার উদ্দেশ্যে বলে,

” তোর আব্বু মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছে প্রিয়তা। তুই ওর প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছিস। আর আমি? আমি চিরকাল বেঁচে থাকবো তোর ঘৃণা নিয়ে। তোর চোখে আমি আমার প্রতি সারাজীবন রাগ আর ক্ষোভই দেখে যাবো। তুই আমার চোখের সামনে থাকবি না, আমায় এড়িয়ে চলবে, আমাকে অপরাধী ভেবে যাবি সারাজীবন। এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কি হতে পারে বল? আমি উন্মাদের মতো ছটফট করবো তোদের দেখার জন্য, তোর ক্ষমা পাওয়ার জন্য, তোর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য, আম্মু ডাকটৃ শোনার জন্য। কিন্তু তুই আমাকে ক্ষমা করবি না, ডাকবি না আম্মু বলে। এর চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আমার জন্য আর কি হতে পারে?

_____

জানালার পাশে বসেছে প্রিয়তা। কোলে বসেছে আরহাম। আরহামের জন্য আরো একটি সিট বুক করেছিল প্রহর। কিন্তু প্রিয়তা ভাইকে নিজের কোলেই রেখেছে। ছেড়ে দিলেই মনে হচ্ছে হারিয়ে যায় আরহাম। প্রিয়তা তো সইতে পারবে না ভাইয়ের নিখোঁজ সংবাদ।

প্রহর চিপস ধরিয়ে দিয়েছে আরহামকে। মন খারাপ ভুলে আরহাম চিপস চিবুচ্ছে। প্রিয়তা ঘর থেকে বের হবার মুহুর্তের সব কথাই বলেছে প্রহরকে। প্রহর সান্ত্বনা দেয় নি। একজন মানুষকে আর কত সান্ত্বনা দেওয়া যায়? প্রিয়তা পরিপক্ক। পরিস্থিতি বোঝার মতো জ্ঞানবুদ্ধি আছে মেয়েটার। প্রিয়তার জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি প্রিয়তা কারো পরামর্শ ছাড়াই নিয়েছিল। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপটি প্রিয়তা নিয়েছিল কারো সাহায্য ছাড়াই। নিজের জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত গুলো যে সবসময় নিজেকেই নিতে হবে তা বুঝিয়ে দিচ্ছে প্রহর। মেয়েটা এভাবেই একা সিদ্ধান্ত নিক।

বাস ছেড়ে দেয়। চলতে থাকে বাসটি। পিছনের সব গাছপালা ফেলে ছুটতে থাকে। প্রিয়তা জানালা দিয়ে মাথা বের করে। পিছু তাকায়। শহর ছেড়ে যেতে কষ্ট হয় খুব। মনে মনে বুলি আওড়ায় প্রিয়তা। বলে,

” আমি প্রিয়তা। জন্মেছি সিলেটে। সিলেট শহরটার নাম শুনলেই একটা আলাদা প্রশান্তি অনুভূত হয়। সিলেট শহরটার নাম শুনলেই মানসপটে ভেসে ওঠে টিয়ে আর সবুজের মিশেলে সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা চা পাতা। অদ্ভুত , উদ্ভট সুন্দর ভাষা। প্রকৃতির সব সৌন্দর্যই যেন সিলেটকে ঘিরে। অথচ আমার নির্মম ভাগ্য। এই শহরটাই আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। একরাশ দুঃখ দিয়েছে। কাছের মানুষ কেড়ে নিয়েছে। প্রতি পদে পদে মানুষের অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আচ্ছা এই শহরটা তার সবই কি কেড়েই নিয়েছে? কিচ্ছু দেয়নি? প্রিয়তার বিবেক করে ওঠে প্রশ্নটি। পুনরায় নিজেই উত্তর দেয়, প্রহরের মতো মানুষটাকে তুই এই সিলেট শহরটাতেই পেয়েছিলি প্রিয়তা। প্রহরের পরিবারটাকে পেয়েছিলি এই সিলেটেই। পরিক্ষায় সবসময় ভালো নম্বর পেয়েছিস সিলেটে থেকেই। ষোলটি বছর আনন্দে, খুশিতে কাটিয়েছিস। এই শহর যেমন নিয়েছে, তেমনি তোকে দিয়েছেও।

প্রিয়তা বুঝতে পারে। চোখের কার্নিশে জমে অশ্রুকণা। বিড়বিড়িয়ে প্রিয়তা বলে ওঠে,

” শোনো শহর, তোমাকে আমি ঘৃণা করতে পারি না। আবার জাঁকজমক ভাবে ভালোও বাসতে পারি না।

____

ঢাকায় আসার পর ছয়টা দিন কেটে গেল খুব দ্রুত। এই ছ’দিনে প্রিয়তা নিজেকে গুছিয়েছে। প্রহরের বাড়িতে গিয়েই উঠেছে তারা। ছ’টা দিন প্রিয়তা ঘর সাজাতেই ব্যয় করেছে। আগে এ বাড়িতে শুধু প্রহর থাকতো। এখন দুজন মানুষ এড হয়েছে। মেয়েলি জিনিসপত্র কিনতে কিনতেই প্রিয়তার বেহাল দশা। আগে প্রহরের ঘরে ছোট একটা সুকেস ছিল। এখন সেটা রেখে আরো বড় একটি সুকেস কেনা হয়েছে। আয়নাটাও ছিল মাঝারি আকারের। প্রিয়তা আসার পর খুব সুন্দর আর ডিজাইন করা ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে। আরহাম আবার এখানকার স্কুলে যাচ্ছে। সব চলছে নিয়ম মাফিক। শুক্রবারের দিনটায় ছুটি পেল প্রহর। সকালের নাস্তা সেরে প্রিয়তা বলে উঠল,

” বাড়িওয়ালা আন্টিকে ঘর ভাড়া দেওয়া হয়নি। চলুন না ও বাড়ি যাই। আসবাবপত্র সব আনতে হবে এখানে। ওখানে রেখে কি লাভ বলুন তো।

আলসেমি লাগে প্রহরের। আলস্য ভঙিতে বলে,

” ওই আসবাবপত্র দিয়ে কি করবেন? এইযে এত আসবাব পত্র কিনলেন। ওগুলোই তো রাখার জায়গা হচ্ছে না ঘরে।

নাক ফুলায় প্রিয়তা। কিল বসায় প্রহরের পেশিতে। বলে,

” কষ্ট করে কিনেছি ওগুলো। ফেলে দিবো নাকি। এনে রাখি। তারপর যা হবে দেখা যাবে। চলুন প্লিজ।

প্রহর ফোন ট্রাউজারের পকেটে রাখে। প্রিয়তা তৈরী হয়ে নেয়। আরহামকে রেখে রওনা দেয় তারা।

______

প্রহরকে বাইরে রেখে প্রিয়তা বাড়িওয়ালার ফ্ল্যাটে ওঠে। কলিংবেল চাপে। দু’বারের মাথায় মনোয়ারা খানমের পরিবর্তে দরজা খুলে মনোয়ারা খানমের ছেলের বউ আলিয়া। আলিয়ার কোলে ছোট্ট একটি বাচ্চা। প্রিয়তাকে দেখে হাসল আলিয়া। বলল,

” এসেছো বাড়ি থেকে? কখন ফিরলে?

প্রিয়তা বাচ্চার গাল টানে। হাসিমুখেই বলে,
” ঢাকায় এসেছি ছ দিন হলো আপা। এখানে এলাম মাত্র। আন্টি কোথায়? ভাড়া দিতে এলাম।

আলিয়ার মুখটা মলিন হলো। হাসি মিলিয়ে গেল মুখ থেকে। বলল,

” আম্মা গেছে তিহাদের বাড়ি। তিহার লা”শ দেখতে।

প্রিয়তা অবাক। তিহা নামটা তার চেনা। খুবই চেনা। মেয়েটাকে প্রিয়তা যথেষ্ট ভালবাসে। আরহামের মুখে কয়েকদিন আগে শুনেছিল তিহাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে প্রিয়তা পূর্বে ভেবেছিল। কিন্তু সিলেট যাওয়ার পর আর তিহার বিষয়টা মাথায় আসেনি প্রিয়তার। অবিশ্বাসী কণ্ঠে প্রিয়তা বলল,

” লা’শ?

” হ্যাঁ। তিহা তো মারা গেছে। ওর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়িতে এনে দিয়েছে। আম্মা ছুটলেন লা”শ দেখতে।

তিহার মাথা ঘুড়ে। প্রচণ্ড চমকায় সে। কণ্ঠরোধ হয় প্রিয়তার। ঘর ভাড়াটা দিয়ে বেরিয়ে আসে বাড়ি থেকে। হন্তদন্ত হয়ে প্রহরের নিকট এসে থামে প্রিয়তা। প্রিয়তাকে বিচলিত দেখে চিন্তিত হয় প্রহর। বলে,

” কি হয়েছে? আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?

প্রিয়তার কান্না পায়। কণ্ঠ কেঁপে উঠে। জড়তা কাজ করে কণ্ঠে। তবুও কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে প্রিয়তা বলে,
” আমার চেনা এক ছোট আপু আছে এখানে। ও নাকি মারা গিয়েছে। আমাকে যেতে হবে।

প্রহর বলে,
” আমিও যাচ্ছি চলুন।

প্রিয়তা জোর কদমে হাঁটে। মাথা ঘুরে তার। সবকিছু এলোমেলো লাগে। তিহার মৃত্যু মানতে পারবে না প্রিয়তা। প্রিয়তার মনে পরে চার মাস আগের কথা। তখন প্রথম এ এলাকায় প্রবেশ করেছিল প্রিয়তা। কি করবে না করবে ভেবে পাচ্ছিল না। এলাকায় নতুন একটি মেয়েকে উঠতে দেখে তিহা একদিন আসে প্রিয়তার কাছে। এসে গল্প করে, আরহামের সাথে খেলে, আড্ডা দেয়। প্রিয়তা তিহাকে ছোট বোনের মতো ভালোবাসতে আরম্ভ করেছিল। ওরা একসাথে যাতায়াত করতো, একে অপরের বাড়ি গিয়ে খোঁজ-খবর নিতো। মেয়েটা প্রিয়তার দুরবস্থা দেখে দু তিনটে টিউশনি খুঁজে দিয়েছিল। সেই টিউশনির টাকা দিয়েই প্রিয়তা ঘর ভাড়া দিয়েছে, ভালো মতো খেয়েছে। কিন্তু এ দু-তিনটে টিউশনিতে চলছিল না প্রিয়তার। তিহা দায়িত্ব নিয়ে দোকানে সেলসম্যানের চাকরি খুঁজে দেয় প্রিয়তাকে। তিহার বাবা ধনী লোক ছিলেন। সিঙ্গাপুরে থাকেন উনি। মাকে নিয়ে এখানে থাকতো তিহা। তিহা তার বাবাকে বলে প্রিয়তাকে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। সবসময় প্রিয়তার সাদে সাথে থাকতো মেয়েটা। আরহামের দেখভাল করতো আপন বোনের মতো। এই তিহা মেয়েটা না থাকলে কি হতো প্রিয়তার? ভেবেই চোখে পানি জমে প্রিয়তার। দুমড়েমুচড়ে ওঠে শরীর। তিহার মিষ্টি, হাসিখুশি মুখটা ভেসে ওঠে চোখের সামনে। এত ভালো মেয়েটা কিভাবে চলে যেতে পারে?

প্রিয়তা পৌঁছায় তিহাদের বাড়িতে। বাড়ির বারান্দায় মানুষজনের ভীড়। সকলেই তিহার মৃ”ত লাশ দেখতে এসেছে। প্রিয়তা এগুতে পারে না। বরফের ন্যায় জমে যায় পা। তাল হারিয়ে ফেলে। সবাইকে ঠেলেঠুলে কোনোমতে এগিয়ে আসে বারান্দায়। সাদা কাপড়ে মোড়ানো তিহার শরীরটা দেখে মুখে হাত দিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে প্রিয়তা। শেষবারের মতো মেয়েটার মুখ দেখতে ইচ্ছে হয়। তিহার মা মাটিতে গড়িয়ে কাঁদছেন। উনাকে জড়িয়ে রেখেছে পাড়ার মহিলারা। মনোয়ারা খানম ও সেখানে আছেন। প্রিয়তা এগিয়ে আসে তিহার মায়ের কাছে। ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলে,

” কিভাবে হলো আন্টি? কিভাবে?

তিহার মা প্রিয়তাকে দেখে আরো কাঁদলেন। মেয়ের বান্ধবী হিসেবে প্রিয়তাকে তিনি বেশ পছন্দ করতেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন,

” তুমি তো জানো আমার মেয়ে কত ভালো ছিল। সবার সাথেই ভাব ছিল। কে করল এই রকম কাজ? কে করল? আল্লাহ্ গো।

মনোয়ারা খানম বললেন,
” একদম ঠিক দিনে আইছো। শেষবারের মতো বান্ধবীরে দেইখা নাও প্রিয়তা। মাইয়াডা তোমারি খুব ভালোবাসতো।

আরেকজন মহিলা বলে ওঠল,
” মুখ তো দেখার মতো অবস্থায় নাই। পুরা শরীরটারে টুকরা টুকরা করছে। দেখলেই ভয় পাইবো প্রিয়তা।

প্রিয়তা শিউরে উঠল মহিলার কথা শুনে। চোখে ফুটে উঠল ভয়। বলল,

” টুকরো টুকরো করেছে? কি বলছেন? কিভাবে কি হলো আল্লাহ্? কে করল এমন?

প্রিয়তা বসে পড়ল মাটিতে। কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে তার। মেয়েটা এভাবে চলে যাবে ভাবেনি সে। একটু এগিয়ে সাদা কাপড় তুলে প্রিয়তা। মুহুর্তেই বাকশক্তি হারায়। দ্রুত কাপড়টা নামিয়ে সরে আসে সেখান থেকে। ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে প্রিয়তা। গা গুলিয়ে আসে লা’শের বি’শ্রী গন্ধে। তিহার লা’শটা দেখতে বিভ’ৎস লাগছে। মাথার মাঝখানটা দু ভাগ হয়ে আছে। মুখে কা’মড় আর খা’মচির দাগ। কান কেটে ফেলে হয়েছে। চোখজোড়া উপড়ে ফেলা হয়েছে। লা’শের দুর্গন্ধে বমি পায় প্রিয়তার। মাটিতে বসে রইল সে। দিকদশা যেন হারিয়ে গেল প্রিয়তার। অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগল। প্রহর এগিয়ে আসে প্রিয়তার কাছে। প্রিয়তার বাহু ধরে ঠেনে উঠায়। প্রিয়তা দুর্বল হয়ে পড়েছে। শরীরে বল নেই মেয়েটার। প্রিয়তার গাল মুছিয়ে দিয়ে প্রহর বলে,

‘ যে খুনটা করেছে সে হয়তো সাইকো, নয়তো মাতাল ছিল। কিংবা প্রতিশোধ আর ঘৃণার কারণে করেছে খু’নটা।

প্রিয়তার প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয় বুকে। হাহাকার করে উঠে হৃদয়। মেয়েটার এমন করুণ পরিণতি মানতে পারছে না সে। আচ্ছা যে বা যারা তিহাকে মেরেছে তাদের কি তিহার প্রতি মায়া হয়নি? এত সুন্দর, ভালো একটা মেয়েকে নৃ’শংস ভাবে হত্যা করতে বিবেকে বাঁধেনি? হাত কাঁপেনি? কিভাবে এত যন্ত্রণা দিয়ে মেয়েটাকে মারল? বুঝে উঠতে পারে না প্রিয়তা। বুক জ্বলে ওঠে। মনোয়ারা খানম প্রহরকে দেখে উঠে আসে। বলে,

” এই যে এত বড় মাপের পুলিশ থাকতে আমরা ভাবতাছি কেডা এই কেস নিবো। পুলিশ তো এইহানেই আছে।

প্রিয়তা অবাক পানে তাকায়। জিজ্ঞেস করে,
” মানে?

” তিহা হারাই গেছিল এক মাস হইয়া গেছে। কুনু পুলিশ তিহার খোঁজ দিতে পারে নাই। মরা লাশ এইখানে আইনা দিয়াই হ্যারা দায় কমাইছে। এই পুলিশ তো তোমার ভালো বন্ধু। এত বড় পুলিশ। তুমি কইলে এই পুলিশই খু’নিরে খুঁইজা বাইর কইরা দিবো। কি পারবো না?

তিহার মা এগিয়ে আসে। প্রিয়তার হাত জড়িয়ে ধরে। বলে,

” তোমার বন্ধুকে একটু বলো না আমার মেয়ের খু’নিকে বের করে দিতে। উনাকে আমি প্রথমে দেখেই চিনেছি। উনার মতো পুলিশই পারবে আমার মেয়ের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে। দয়া করো প্রিয়তা। একমাস ধরে মেয়ের খোঁজ জানতে থানায় থানায় ঘুরেছি, টাকা খাইয়েছি, ঘন্টার পর ঘন্টা মেয়ের ছবি ডিটেইলস নিয়ে বসে থেকেছি। কেউ মেয়েটার খোঁজ দিতে পারেনি। একের পর এক ডেট দিয়ে বলেছে আমরা দেখছি। অথচ তদন্ত করার প্রমাণ ও দিতে পারেনি

তিহার মা প্রহরের নিকট এগিয়ে আসে। প্রহরের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে। থতমত খায় প্রহর। মহিলাকে টেনে তোলে। তিহার মা অত্যাধিক ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলে,

” স্যার দয়া করে আমার মেয়ের খুনীকে খুঁজে বের করুন। আপনার অনেক প্রশংসা শুনেছি। জানতাম না আপনি এখানে আছেন। নইলে আপনার কাছেই যেতাম। প্লিজ এই কেসটা নিয়ে আপনি একটু তদন্ত করুন।

অসহায় চোখে প্রহর তাকায় প্রিয়তার পানে। অতঃপর মহিলার দিকে তাকিয়ে বলে,

” এক মাস ধরে উনি নিখোঁজ ছিলেন? কোন থানায় গিয়েছিলেন আপনি? আমি তো সাভারের থানাতেই ছিলাম।

” আশুলিয়া থানায় গিয়েছিলাম। যদি জানতাম সাভার থানায় আপনি থাকবেন তবে এতদিন ঘুরতে হতো না এখানে ওখানে। আপনি বের করবেন তো খু’নিকে? প্লিজ স্যার। আপনার পায়ে পড়ি।

প্রহর কি বলবে বুঝতে পারে না। চাকরিটা সে ছেড়ে দিয়েছে এটা বলতেও কেমন সংকোচ হচ্ছে তার। কি করে বলবে সে আর পুলিশে নেই। সাধারণ জনগণ সে। কিছুই করার নেই প্রহরের। প্রিয়তাকে নিজের বাহুবন্ধনে আটকে বলে,

” আমি অফিসারদের সাথে কথা বলবো।

প্রিয়তা দম আটকে দাঁড়িয়ে থাকে। কোথাও এক শূন্যতা অনুভব করে। বুঝতে পারে কোথাও ভুল হচ্ছে। বড় একটা ভুল হচ্ছে তার। প্রহর প্রিয়তাকে টেনে বাইকে বসায়। লুকিং গ্লাসে চেয়ে মেয়েটাকে পর্যবেক্ষণ করে প্রহর। নিরব নির্জন জায়গা খুঁজে সে। প্রিয়তাকে নিয়ে একটি পুকুরের সামনে আসে। প্রিয়তার হাত ধরে পুকুরের পাড়ে বসে। প্রিয়তা নিশ্চুপ। নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে টলমলে পানির দিকে। প্রহর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে আরম্ভ করল,

” আমি ছোটবেলায় কোনোদিন পুলিশ হতে চাইনি। পুলিশের পেশাটাকে আমি ঘৃণা করতাম জানেন প্রিয়? পুলিশ মানেই আমার কাছে ছিল আতংঙ্ক। এলাকায় কোনো পুলিশ দেখলে আমি ভয়ে দৌড় দিতাম। মনে হতো ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যাবে, সবাইকে মারবে। কিন্তু বড় হতে হতে আমি বুঝতে শিখলাম এই পেশাটায় কতটা মর্যাদা রয়েছে, কতটা দায়িত্ব, কতটা নীতি জড়িয়ে আছে। দিনের পর দিন এই দেশে অন্যায়-অবিচার বেড়ে চলেছে। খু’ন, চু’রি-ছিন’তাই, ডাকা’তি, ধ’র্ষণ, শ্লী’লতাহানির চেষ্টা এসব যেন খুবই কমন একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউজ চ্যানেলে চোখ পড়তেই দেখতে পাই অন্যায়ের অসংখ্য উদাহরণ। খবরের কাগজে চোখ পড়তেই অপমৃ’ত্যুর ঘটনা দেখতে পাই। এসব কেন হয়? প্রশ্ন আসতো আমার মনে। এগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে আমি জানতে পারি লোভ, প্রতিহিংসা, স্বার্থ, আত্মসাৎ করার মনোভাব, কামনা, অধিক প্রত্যাশা এসব কারণই হলো অন্যায়-অপরাধের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ভাবলাম সমাজ থেকে এসব দূর করবো আমি। কিন্তু আমি একা কতজনকে আটকাবো? কত মানুষকে ভালো করতে পারবো? খুব ভেবেছি আমি। পরবর্তীতে ভাবলাম আমি এমন পুলিশ হবো যে আমাকে দেখে মানুষ অন্যায় করতে ভুলে যাবে, ভয় পাবে অন্যায় করতে। সবার মনে হবে অন্যায়-অপরাধ করা যাবে না। অন্যায় করলেই ধরা পড়তে হবে প্রহরের কাছে। যেই এলাকায় পা রাখবো সেই এলাকার মানুষ সব খারাপ পরিস্থিতিতে আমাকে চাইবে, আমার খোঁজ করবে। এখন দেখুন প্রিয়, সিলেট শহরটায় আমার যশ-খ্যাতি হয়েছে। সকলেই জানে প্রহরের কাছে গেলে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবেই। প্রহর মানেই সঠিক তদন্ত, ন্যায় মনোভাব।

প্রিয়তার মুখটা মলিন দেখায়। চোখের পাপড়ি এখনো ভেজা মেয়েটার। প্রহরের সব কথা প্রিয়তা মন দিয়ে শোনে। তাকিয়ে থাকে স্বামীর পানে পলকহীন চোখে। প্রিয়তাকে দেখে আদুরে বাচ্চার মতো লাগে। প্রহর হাসে। প্রিয়তার কপোলে মুখ ডুবিয়ে চুমু আঁকে শব্দ করে। প্রিয়তা নির্লিপ্ত ভঙিতে প্রহরের কথা শোনার অপেক্ষায় থাকে। প্রহর প্রিয়তাকে কাছে টানে। জড়িয়ে নেয় আদুরে দেহটাকে। পুনরায় বলে,

” আপনাকে পাওয়ার জন্য আমি চাকরি ছেড়েছি। ইহান যখন জেনেছে আমি চাকরি ছেড়েছি ছেলেটা কতটা কষ্ট পেয়েছে তা আমি আঁচ করতে পেরেছি। তানিয়া তো কেঁদেই দিয়েছে। আপনি জানেন না প্রিয়তা, চাকরি ছাড়ার পর যখন সিলেটের থানায় গেলাম সবাই ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। সেই আগের মতো সম্মান জানিয়েছে, আগের মতো ভালোবাসা দিয়েছে। এই সম্মানটা আমি এমনি এমনি পাইনি প্রিয়। অর্জন করেছি। আপনার ভয় ছিল আমার চাকরির কারণে আরহামের ক্ষতি হতে পারে। কারণ আমার চাকরিটাই এমন। যখন তখন বড়, গণ্যমান্য ব্যক্তির যশ-খ্যাতি আমি নিচে নামিয়ে দিতে পারি, অনেকের স্বার্থে আঘাত করতে পারি। সবকিছুর প্রভাব আমার আপনজনদের উপর পড়তে পারে। আপনার এই ভাবনা ভুল নয়। কিন্তু একবার ভাবুন প্রিয়, আমি আরহামের ক্ষতি হতে দিবো? এত সহজ? আপনাদের সবার দায়িত্ব আমার। আমি আপনাদের ক্ষতি হতে দিবো না। সবসময় আপনাদের আগলে রাখার চেষ্টা করবো। ঢাকায় এসেছিলাম এখানকার পুলিশদের জ্ঞান দিতে, উপদেশ দিতে, পরামর্শ দিতে। এখানকার মানুষগুলোকে আপন করে নিতে। আপনি আপন হলেন ঠিকই। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে এসেছিলাম সে উদ্দেশ্য পূরণ হলো না। আজ তিহা মা’রা গিয়েছে। সামনে আরো মানুষ মারা যাবে, নিখোঁজ হবে। এদের অনেকের দেহটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেন জানেন? পুলিশের কাজের প্রতি অলসতা, অপারগতা, দায়িত্ববোধের অভাবে। আমি হয়তো অপরাধ করা আটকাতে পারবো না, কিন্তু অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে অপরাধ করতে উদ্যত হওয়া ব্যক্তিদের মনে ভয় ঢুকাতে পারবো।

প্রিয়তা হুট করে উঠে দাঁড়ায়। গম্ভীর হয়ে পেছনে থাকা প্রহরের বাইকে গিয়ে বসে। প্রহর প্রশ্ন করে না। বাইক স্টার্ট দেয়। বাড়িতে আসে দুজন। আরহাম তখন টিভি দেখছিল। প্রিয়তা দ্রুত নিজের ঘরে আসে। ওয়ারড্রবে থাকা প্রহরের ইউনিফর্ম বের করে। সেগুলোকে যত্নের সাথে হাতে নেয় প্রিয়তা। বুকে জড়িয়ে ধরে পোশাকটাকে। অতঃপর প্রহরের নিকট এসে বাড়িয়ে দেয় পোশাকটি। অবাক হয় প্রহর। তাকিয়ে থাকে নির্নিমেষ। প্রিয়তা হাসে। প্যান্টটা প্রহরের হাতে দিয়ে বলে,

” পড়ে আসুন।

প্রহর কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ওয়াশরুমে ঢুকে। প্যান্ট আর স্যান্ডো গেঞ্জি পড়ে বেরিয়ে আসে ঘরে। প্রিয়তা নিজ হাতে শার্টটা পড়িয়ে দেয় প্রহরকে। শার্টের বোতাম গুলো যত্নের সাথে লাগিয়ে রিভলবার গুঁজে দেয় প্যান্টের পকেটে। লাঠি তুলে দেয় হাতে। অবশেষে প্রহরের চুলগুলোকে আঁচড়ে পুলিশের ক্যাপটি পড়িয়ে দেয়। স্বামীর স্নিগ্ধ, সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে প্রিয়তা। মুগ্ধ হয়। ভালো লাগায় ছেয়ে থায় হৃদয়। গর্বে ফুলে উঠে বুক। মুচকি হেসে বলে,

” আমার পুলিশ স্বামী। আমার পুলিশম্যান।

~ সমাপ্ত।

[ অবশেষে গল্পটি শেষ হলো। আজ অন্তত সবাই বড়সড় মন্তব্য করবেন। এভাবে আমার পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। ইহান-তানিয়া আর প্রিয়তা_প্রহরের খুনশুটিময় পর্ব নিয়ে অণুগল্প পোস্ট করবো। বিদায় ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here