তোর পরশে প্রেম পর্ব ৮

0
120

#তোর_পরশে_প্রেম
#নুসাইবা_ইভানা
#পর্ব-৮

বেপারী বাড়িতে বিয়ের ধুম লেগেছে,নিকট আত্মীয় স্বজন দিয়ে বাড়ি পুরো ভরপুর। মিউজিকের আওয়াজ জানান দিচ্ছে নতুন কিছু সূচনার।
‘সুফিয়া বেগম বললেন,আমি কিভাবে আমার ভাইদের বলবো?যদি বলি আজই আসো পুতুলের বিয়ে আজই হবে। তাহলে তারা ভিষন রেগে যাবে।বলবে এতো তাড়াহুড়ো করার কি আছে।
‘পলাশ সাহেব বললেন,তাদের বলতে হবে না৷ আমার মেয়ে আমি বুঝে নেবো।

হলুদ লেহেঙ্গা সাথে আর্টিফিশিয়াল ফুলের গহনা পরে, পুতুলকে পরি লাগছে। পুতুল বসে, বসে চকলেট খাচ্ছে।
পিওলি পুতুলের পাশেই বসা।
পুতুল বলে,শোন আমার বিয়েটা আরো তিনদিন পর হতো, যদি তুমি আমাদের বাসায় না আসতে। তোমাকে কেন আসতে হলো?তুমি পরশ ভাইয়াকে ভালোবাসো, বিয়ে করো যা খুশি করো৷ আমার বিয়ের পর আসতে পারতে না।
‘তুমি কি পরশকে পছন্দ করো?
‘বয়েই গেছে আমার তারমত রসকষহীন ছেলেকে পছন্দ করতে। যেই না চেহারা নাম রাখেছে পেয়ারা।
একদম উল্টোপাল্টা কথা বলে,আমার মুড খারাপ করবে না। একটু পর আমি নাচবো কি গানে জানো?
‘তুমি নাচতে পারো?
‘আমি সব পারি৷
পরশ সহ বাকি আত্মীয় স্বজনরা সবাই একে একে পুতুলকে আর পরাণকে হলুদ দিয়ে যাচ্ছে। পরাণের পরাণ ছটফট করছে,চোখেমুখে আতংক।
পিওলি পরাণকে হলুদ লাগানোর সময় কানে কানে বলেছে,খেলা মাত্র শুরু। এতেই পরাণের অবস্থা খারাপ।
‘পুতুলকে এতো আনন্দিত দেখে পরশ বেশ টেনশনে পরে গেলো। মনে, মনে বলে নিশ্চিত এই মেয়ের মাথায় কোন খুরাফাতি বুদ্ধি ঘুরছে! নয়তো এমন স্বান্ত থাকার মেয়ে তো পুতুল না।
পুতুল নিজের লেহেঙ্গা দু’হাতে উঁচু করে ধরে রুমে চলে আসলো।
রুমে এসে কোনমতে দরজা চাপিয়ে রেখে ওড়না বেডে ফেলে রাখলো।ফুল স্পিডে গান ছাড়লো। ভিডিও অন করে গানের তালে নাচা শুরু করলো….
তোমরা দেখ গো আসিয়া…
কমলায় নিত্য করে থমকিয়া থমকিয়া
এগো কমলায় নিত্য করে থমকিয়া থমকিয়া
এগো কমলায় নিত্য করে থমকিয়া থমকিয়া রে
কমলায় নিত্য করে থমকিয়া থমকিয়া৷
পরা পড়শী যত নারী
আইলা সবে সারি সারি,
এগো সোহাগ ও চন্দন ও দিলাম
ছিটাইয়া ছিটাইয়া….
এমন সময় পরশ পুতুলের রুমে চলে আসে পুতুল তবুও নাচ থামায় না৷
এগো সোহাগ ও চন্দন ও দিলাম
ছিটাইয়া ছিটাইয়া,
কমলায় নিত্য করে থমকিয়া থমকিয়া রে
এগো কিভাবে নাচে বলো,সরমে মরিয়রে
নাচ শেষ হওয়ার আগেই পরশ পুতুলকে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে,শান্ত কন্ঠে বলে,কিসের এতো তেজ তোর?এভাবে নাচছিস কেন?
‘আর ঘন্টা খানিক পরে যে, আপনার বড় ভাইয়ের বউ হবে তাকে এভাবে ধরতে লজ্জা করছে না।
‘না করছে না কারণ সে আমার….
‘কে সে আপনার বলুন?
‘কারণ সে আমার কাজিন।
‘তা এভাবে কোন কাজিনকে টাচ করা যায়?
‘পুতুল তুই কিন্তু বেশি কথা বলছিস।
‘রাখেন আপনার কম আর বেশি কথা ছাড়ুন আমাকে। আমি আপনার বিয়ে করা বউ না। সো আমাকে ছাড়ুন।
‘ছেড়ে দেবো তবে বলতে হবে এভাবে নাচছিস কেন?
‘বাহহহ কি কথা এভাবে নাচছিস কেন? নাচবো না! বিয়ে তো একবারই হয়। তাই মনের সুখে নেচে নিচ্ছি। কার সাথে বিয়ে হলো সেসব পরের বিষয়। এখন তো ইন্জয় করতেই হবে। বউ সাজবো হায় তখন নাচবো মেরা সাইয়্যা সুপারস্টার মেরা সাইয়্যা সুপার স্টার। ম্যা ফ্যান হুয়ি উনকি মেরি স্যাইয়া সুপার স্টার৷
‘তোর কোন মন খারাপ নেই?
‘মন খারাপ একটু আছে, তবে টাকা দিয়ে অতটুকু ম্যানেজ করে নেবো। আচ্ছা বড় আব্বুকে কি বলবে?
বড় আব্বু আমাকে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,পরশ তোকে খুব ভালো রাখবে। তাকে তোমরা কি বলবে?
‘পুতুল তুই কি চাস বিয়েটা ভেঙে যাক?তোর বিয়েটা আমার সাথে হোক৷
‘আমি যা চাই তা আমি হাসিল করে নেই। তুমি তোমার আধ বুড়ো গফের কাছে যাও। এখন আফসোস হচ্ছে আমার মতে সুন্দরী রেখে বুড়ির প্রেমে পরেছো তাই। বলেই, হা-হা করে হাসা শুরু করলো।
পরশ আর কিছু না বলে চলে আসলো রুম থেকে।
পুতুল আয়নায় নিজেকে দেখে বলে,হায় আমি এতো সুন্দর কেন? নিজেই না জানি নিজেকে নজর দিয়ে বসি। ইশশ আর একটু কম সুন্দরী হতে পারতাম।
পুতুল লেহেঙ্গা খুলে ফ্রেশ হয়ে একটা কুর্তি পরেছে,তারপর গান ধরেছে,বিয়ের ধুম আজ বেপারী বাড়িতে, পুতুল যাবে স্বপ্ন পূরণ করিতে,কেউ পারবে না পুতুল কে আটকাতে।
‘কিসের স্বপ্ন পূরণ পুতুল?
‘আম্মু তুমি!
‘বল কিসের স্বপ্ন পূরণ? আমাকে বল তোর মাথায় কি চলছে? কোন উল্টোপাল্টা কিছু করিস না পুতুল।
‘আরেহহ স্বপ্ন পূরণ মানে তোমাদের স্বপ্ন পূরণ।
‘সত্যি তো?
‘আরেহহহ মিথ্যে হবে কেন?
‘শোন জুলিয়া তোকে সাজিয়ে দিবে। পার্লারের মেয়েরা সাতটার আগে আসতে পারবে না৷ আর আমরা সাতটার মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন করবো।
‘আচ্ছা কোন সমস্যা নেই। পাঠিয়ে দাও আমি তো বউ সাজার জন্য রেডি।
সুফিয়া বেগম চলে যেতেই পুতুল নিজের ফোন থেকে কাউকে একটা কল করলো, রিসিভ হতেই পুতুল বলে,আপনি রেডি তো? একদম ভুল করলে চলবে না।
জুলিয়া রুমে ঢুকতে, ঢুকতে বলে কার সাথে কথা বলছিস?
‘আর কার সাথে বলবো, আমার ফ্রেন্ড ছাড়া।
‘আয় তোকে সুন্দর করে বালিকা বঁধু সাজিয়ে দেই

✨ সত্যি টা সবার সামনে প্রকাশ না করার জন্য কত টাকা চাও পিওলি?
‘মিস্টার পরাণ আমাকে আমার পরিবার আমার সম্মান ফিরিয়ে দিন। টাকা আমার দরকার নেই।
‘পরাণ পিওলির গাল চেপে ধরে বলে,তোর সাথে ভালো ব্যাবহার করছি, তাই ভাবিস না আমি পাল্টে গেছি! জানিস তো আমি সামনে থেকে ডাক্তার আর পেছন থেকে রাক্ষস।
‘তোর মত রাক্ষসকে কি করে দমন করতে হয় তা আমার জানা আছে৷ আমার জীবন নষ্ট হয়েছে, হয়েছে আর একটা মেয়ের জীবনও তোকে নষ্ট করতে দেবো না৷ দেখি তুই কি করতে পারিস?
‘ওয়েট তবে দেখ…
‘আমার মেয়েটাকে ছেড়ে দে, ও তোর কোন ক্ষতি করে নি৷
‘ধরা ছাড়া সব তোর উপর ডিপেন্ডেবল।আমি যদি পুতুলকে বিয়েটা করে ফেলি তাহলে একটা বিগ ডিল আমার হাতে আসবে। তুই বিয়েতে কোন বাঁধা দিবি না আমি তোর মেয়ের কোন ক্ষতি করবো না৷ ইয়েস ওর নো?
‘ইয়েসসস।
‘ওকে সুইটহার্ট লেটস ইন্জয়৷
পরাণ শেরওয়ানি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো৷
‘পিওলি স্তব্ধ হয়ে ফ্লোরে বসে পরলো, কি করবে এখন সে?
কি করা উচিৎ? একজনের জীবনের বিনিময়ে অনেকগুলো জীবন বাঁচানো?নাকি স্বার্থপরের মত নিজের মেয়ের জীবন বাঁচাবে।

নিলুফা বেগম পরশের কাছে এসে বলে,আমি জানিনা তোর মাথায় কি চলছে!শুধু একটা কথা মনে রাখিস মৃত্যুর পথে থাকা লোকটাকে মৃত্যুর দিকে আর ঠেলে দিস না।তোর বাবা আমাকে বলেছিল তোর সাথেই যেনো পুতুলের বিয়ে হয়।কোনভাবে যেনো পরাণের সাথে আমাদের কোন যোগাযোগ না থাকে।
‘কিন্তু কারণটা কি ছিলো?
‘বলেছিলো সময় হলে কারণ বলবে। বাবা আমি তোকে অনুরোধ করছি এমন কিছু করিস না, যাতে আমাদের পুতুলের ভবিষ্যত হুমকির মুখে পরে যায়।
‘আমার উপর ভরসা রাখো আম্মু’কথা দিচ্ছি এমন কিছু হবে না৷
‘সময় তো বেশি নেই, কাজি সাহেব চলে এসেছে, আমাদের কাছের সব আত্মীয় স্বজনরা ও রেডি। এখন শুধু কবুল বলা বাকি।
‘আম্মু আর একটু,অপেক্ষা কর আর দেখো কি হয়৷ তবে কথা দাও যাহোক ভেঙে পরবে না। আমাদের আড়ালে অনেক মানুষ এমন থাকে, যারা মানুষের মুখোশ পরে নিকৃষ্ট কোন হিংস্র প্রানী।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here