তোর পরশে প্রেম পর্ব ১৬

0
97

#তোর_পরশে_প্রেম
#নুসাইবা_ইভানা
#পর্ব-১৬

জানালার পর্দা মৃদু বাতাসে উড়ছে, বাহিরের হালকা বাতাস সাথে মিষ্টি রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে পুতুলের চোখে মুখে পরছে। পিটপিট করে চোখ খুলতেই, কারো মিষ্টি সুরে গানের আওয়াজ ভেসে আসছিলো মুচকি হেসে পুতুল বলে,আজকের সকালটা-তো দারুণ! কিন্তু গানটা গাইছে কে? পুতুল গানের সুর ধরে বারান্দায় আসলো গানের আওয়াজ এখন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে………
বসন্ত বাতাসে ও সই গো বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে
সই গো বসন্ত বাতাসে ॥

বন্ধুর বাড়ি ফুল বাগানে নানা বর্ণের ফুল
ফুলের গন্ধে মনানন্দে ভ্রমরা আকুল
সই গো বসন্ত বাতাসে ॥

বন্ধুর বাড়ি ফুলের টঙ্গি বাড়ির পূর্বধারে
সেথায় বসে বাজায় বাঁশি মন নিল তার সুরে
সই গো বসন্ত বাতাসে ॥

পুতুল বারান্দায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ওই পাশের বারান্দায় পরশের গাওয়া গান শুনছে৷ কতক্ষণ পর বলে,তা গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে গায়ক হলেন কবে?
‘তোকে কেন বলবো? তুই কি আমার বিয়ে করা বউ?
‘বউ ছাড়া আর কারো সাথে কথা বলেন না?
‘উঁহু বলি না।আামার সুন্দরী, রূপবতী কচি বউ থাকতে অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলবো কেন?
‘আপনার বউ কি জানে আপনি একনাম্বার অসভ্য?
‘তুই তো জানিস তাতেই চলবে।
‘এই তোমার লজ্জা করে না!এভাবে একটা মেয়েকে..
‘এভাবে একটা মেয়েকে কি বাবু?
‘যেটা বুঝেছো সেটাই।
‘কই আমি তো কিছু বুঝিনি!
‘তুমি যে কাল রাতে আমাকে..
‘হু বল কাল রাতে তোর স্বপ্নে এসেছিলাম নিশ্চিত। কি যে করি হ্যান্ডসাম হয়ে এই এক জ্বালা বুঝলি! সব মেয়েরা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে।
‘পুতুল ফিক করে হেসে দিয়ে বলে,তোমাকে নিয়ে তো আমি দুঃস্বপ্ন ও দেখতে চাইবো না, আবার নাকি স্বপ্ন দেখবো! আর হ্যান্ডসাম তুমি কোন এঙ্গেল থেকে হ্যান্ডসাম? চেহারায় বয়সের চাপ পরে যাচ্ছে এখনো কোন মেয়ে নিশ্চয়ই জোটেনি তাই যাকে তাকে কিস করো অসভ্যের মত।
” আমি হলাম সো অসভ্য, সো লুচ্চা যাস্ট লুকিং লাইক আ পুতুলের বর।
“সো ইরিটিটিং, সো ফালতু যাস্ট লুক লাইক-আ অভদ্র।
‘বুঝেছি তোর আরো একটা কিসমিস খেতে ইচ্ছে করছে তাই সকাল, সকাল পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করছিস। অনেক টেস্টি ছিলো,বুঝি?
” ছিহহহহ তোমার লজ্জা করে না বোনের সাথে এমন টাইপ কথা বলতে?
“কে বোন? ছোট বেলা থেকে তোকে আমি বউয়ের নজরে দেখি।
‘ভাইয়া……… য়া
‘কবি বলিয়াছেন যদি কোন বালিকা সুর তুলিয়া ডাকে ভাইয়া, তাহলে বুঝে নিও সে চায় তুমি হয়ে যাও তার ছ্যাইয়া।
“তা কোন কবি এসব ফালতু কথা বলে গেছে।
” তোর সামনে দাঁড়িয়ে আছে কবি রেজওয়ান আহসান পরশ।
‘দেখো সব সাইডে রাখো, আমি তোমার সাথে ইম্পর্ট্যান্ট কথা বলতে চাই।
“বল শুনছি।
‘আমি এখন আর ছোট নেই যে তুমি আমাকে টাচ করবে! এরপর বারাবাড়ি করলে আমি ফ্যামিলির সাবাইকে জানাতে বাধ্য হবো।আমি সারাজীবন অবিবাহিত থাকতে রাজি তবুও তোমার হতে রাজি না।
‘কে জেনো বলেছি,আমার পরশে প্রেম সে সবাইকে উঁচু আওয়াজে বলবে।
‘সে মরে গেছে। আমার যা বলার আমি বলে দিয়েছি।
‘ ❝ প্রকাশের আড়ালে কত অপ্রকাশিত কথা জমা আছে,
যা শুনেছো তারচেয়ে ঢেরবেশি শোনানো বাকি আছে❞

” না আপনি আর না আপনার কোন কথা শোনার আমার ইচ্ছে আছে।যা হারিয়েছি তা ফিরে পাওয়া যাবে না৷ অতীত টেনে আমি বর্তমান নষ্ট করবো না।
‘ শোন ওড়না ছাড়া তোকে একদম…….
‘পুতুল নিজের দিকে তাকিয়ে দ্রুত রুমে চলে আসলো। ওড়না বেডের উপর। দ্রুত ওড়না গায়ে জড়িয়ে বলে,বিশ্বাস করতে পারছি না এই লোকটা এতো অসভ্য হয়েছে।

“দরজার বাহির থেকে আওয়াজ আসলো পুতুল উঠেছিস? দরজা খোল মা।
” পুতুল দরজা খুলে বলে হ্যা মা উঠেছি। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় তোর বাবা তোর সাথে কথা বলবে।

পরশ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলে,কি রে পরশ তোর কি একটুও শরম নেই! বারবার কেন মেয়েটার কাছে যাস? ভুলে গেছিস ও কি করেছে? আবার নিজেই বলে,এতোদিন পর নিজের বউ, নিজের ভালোবাসার মানুষকে চোখের সামনে দেখলে কি আর খারাপ ব্যাবহার করা যায়?ভুল করুক সঠিক করুক। সে-সব তো ভালোবাসার উর্ধ্বে নয়। আর আমি তো ওকে দেখলে হাওয়াই মিঠার মত গলে যাই। দেখলে শুধু কিস করতে ইচ্ছে করে ঝগড়া বা অভিমান করবো কখন? দূর ভাল্লাগে না, কে বলেছে এই মেয়েকে এতো কিউট আর সুন্দরী হতে! তবে একটু তো তোকে নাচাবোই ডিয়ার পরশের পুতুল।

🌿বাবা আমাকে পুতুল এনে দাও বাবা।
‘তুমি দু’বছরের বাচ্চা ছেলে নও আর পুতুল কোন কাঠের তৈরি পুতুল নয়! তাই অন আবদার করবে না৷ মেয়টা তিনটা বছর সুখে, দুঃখে আমাদের সাথে ছিলো আমাদের মেয়ে হয়ে। কিন্তু ঘরের মেয়ে ঘরে তো ফেরারই ছিলো। আমি মেয়েটা কষ্ট লুকিয়ে হাসতে দেখেছি,না জানি কত ইচ্ছে কত শখ লুকিয়ে রেখেছে আমাদের কাছে প্রকাশ করেনি। কখনো আমাদের বুঝতে দেইনি মেয়েটার প্রয়োজন। সব সময় নিজেকে হাসোজ্জল রেখে আমাদের সাথে এক পরিবার হয়ে থেকেছে। আমি আমার মেয়েটার সুখ দেখতে পাচ্ছি আর আমি বাবা হয়ে সেই সুখে নজর দিতে পারবো না।
‘তা পারবে কেন? নিজের ছেলের চেয়ে পরের মেয়ে এখন তোমার কাছে আপন হয়ে গেছে! তবে সে কারণ ও আমার অজানা নয় মিস্টার মাহমুদ। সব সময় শুনেছি প্রেম পুরোনো হয় না৷ আপনাকে দেখে বুঝেছি আসলেই তা সত্য।
‘রাবেয়া এমন কোন কথা বলো না যার কারণে নিজের অস্তিত্ব নড়বড়ে মনে হয়। তুমি যেটা বলবে সেটা আমি জানতাম না। যখন জেনেছি তখন আমি পুতুলের বাবা। আর বাবা হয়ে কিভাবে মেয়েকে তাড়িয়ে দিতাম বলো?
‘ভুল বলছেন মিস্টার মাহমুদ!বলুন যার বাবা হওয়ার অধিকার আমার ছিলো তার বাবা হওয়ার সুযোগ কিভাবে মিস করি বলো?
‘রাবেয়া!
‘আওয়াজ উঁচু করে কথা বললেই সত্য পাল্টে যাবে না।আচ্ছা যতবার পুতুলকে দেখেছেন ততবারই আপনার প্রাক্তন প্রেমিকার কথা স্বরণ হয়েছে তাই না?
‘কি বলছো এসব! সেই পঁচিশ বছর আগের কথা কেনো টেনে আনছো?
” ভালোবাসা তো সেই আগের মতই আছে। জানো আমার এখনো মনে আছে তুমি বিয়ের তিনদিন পরে বলেছিলে,আমার কাছ থেকে সব পাবে শুধু ভালোবাসা ছাড়া। সেটা আমার সাফুর জন্য সেটার ভাগ কাউকে দিতে পারবো না। তোমার কথা শুনে আমি সে কি কান্না ভেবেছি এ কেমন কথা ভালোবাসা দিবে না! তখন দাদি শ্বাশুড়ি বোঝালেন, আরে রাবেয়া বেডা মানুষের ভালোবাসা হাসিল করা সোজা এক্কেরে। সুন্দর কইরা সাজবি আর মিষ্টি মিষ্টি হাসবি দেখবি কত ভালোবাসা দেয়। কই যাইবো কি তহন তোর আঁচলের তলা খুঁজবো। আমি কি বোকা সেদিনের পর থেকে তোমার ভালোবাসা অর্জন করা বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছি! অথচ তোমার সাফু অন্যের সংসারে কত সুখে আছে! সবই কপাল কি কও?
‘দেখো রাবেয়া সুফিয়াকে ভোলা অসম্ভব। কিন্ত তারমানে এটা নয় যে, তোমাকে ভালোবাসি না! জীবনে সব ভুলা গেলেও প্রথম ভালোবাসা ভুলা যায় না। আমি কখনো চেষ্টাও করিনি সুফিয়াকে ভুলে যাওয়ার, কারণ কি জানো? যে জিনিস ভুলার জন্য চেষ্টা করবা তা আরো বেশি মনে গেঁথে যাবে। তবে তোমার আগলে রাখা, তোমার হাসি, তোমার মান অভিমান সব মিলিয়ে তোমাকে ছাড়া আমি অচল।
রাবেয়া বেগম নিজের রুমে চলে গেলেন৷ মাহমুদ সাহেব ডাকতে যেয়েও থেমে গেলেন।
নীরব ও উঠে চলে গেলো। মাহমুদ সাহেব জীবনে দ্বিতীয় ধ্বাক্কা খেলো। নিজের স্ত্রী আর ছেলের কাছে ছোট হলো। ভালোবাসা কি ভুল ছিলো? যে ভালোবাসার জন্য নিজের শহর ছেড়ে এই শহরে চলে আসলো সেই ভালোবাসা তাকে আবার ছোট করলো।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here