তোর নামের রোদ্দুর পর্ব ৮

0
973

#তোর_নামের_রোদ্দুর
পর্বঃ৮

লেখনিতে:মিথিলা মাশরেকা

ক্রসহ্যান্ড করে কান ধরে বাসার গেইটের সামনে দাড়িয়ে আছি।”শুদ্ধর শাস্তি” দারুনভাবে লেখা কাগজটা হাতে বাধা আমার। “শুদ্ধ” নামটা বড়বড় করে লেখা আর খুব ছোট করে “র শাস্তি” কথাটা লেখা ও কাগজে।মান সম্মানটা কোনোদিন এভাবে খোয়া দিতে হবে কল্পনাতেও ছিলো না আমার।সামনের রাস্তা দিয়ে লোকজন যাতায়াত একটু বেশিই।তারা দুর থেকে আমাকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে হাসছে,কাছে আসলেই আতকে উঠে চুপ মেরে কিছু না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছে।হাসি দেখে ফুসছি,থেমে যাচ্ছে জন্য কিছু বলতেও পারছি না।

একদল ব্যাগবাহী মেয়ে কোচিং থেকে আসার সময় আমাকে দেখে জোড়েই হেসে ফেললো।রাগে গা জ্বলছে আমার।মনে মনে ঠিক করলাম কাছে আসলেই বাজাবো সবগুলোর।এক ইয়ার হলেও জুনিয়র হবে,চ্যাঙরামি বার করে দেবো।আমার ভাবনার তার ছিড়ে গেলো।ও মেয়েগুলো এগিয়ে এসে হাত দেখেই হাসি থামিয়ে এমন জোরে পা চালালো,আরে,এই,শোনো,এটুকো বলতে বলতেই সবগুলো উধাও।

বুঝলাম লোকটা ইচ্ছে করেই এইটা বেধেছে।সবটা জানে।বাসায় সবার সামনে কান ধরালে খুব একটা আসবে যাবে না আমার,খানাপিনা হলে দাত কেলিয়ে ওভাবে একঘন্টার জায়গায় ছঘন্টা দাড়িয়ে থাকতেও এতোটুকো লজ্জা করতো না।তাই বাসার বাইরে দাড় করিয়েছে।আর তো আর!এটাও জানে,আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করলে আমিও ছেড়ে কথা বলবো না।তাই নিজের নামও শো করছে যাতে কেউ কিছু না বলে।একদম শেয়ালের ডিএনএ দিয়ে গঠিত মানুষ একটা।মাত্রাতিরিক্ত বুদ্ধি।ইনসু রে!এভাবে আর কতোক্ষন?

বিকেলের বাকা রোদ পাশ দিয়ে একদম মুখে এসে লাগছে।কানের গোজা কিছু চুল তাই ছেড়ে দিলাম রোদ আড়াল করতে।গলার জরজেটের ওড়না,চুলের স্পর্শ ঘামা শরীরে খুচখুচানি শুরু করে দিয়েছে।গেইটের দু পাশে দুইটা ছোট ছোট ফেয়ারি মনুমেন্ট রাখা।ওদের দিকে তাকিয়ে নিজের কষ্টকে ভোলার চেষ্টা করলাম।দাড়োয়ান মামা দুরে দাড়িয়েই ফিসফিসিয়ে বললেন,

-ইনসিয়া মা,তুমি আর কতোক্ষন এমনে থাকবা?চুপচুপ কইরা বাসায় ঢুইকা যাও।আমি শুদ্ধ বাবারে কমুনে।ইনসিয়া মা একঘন্টাই দাড়ায়া আছিলো।তুমি যাও।

আড়চোখে আমার থাকার রুম,না বের করে দেয় যে সেই রুমের বারান্দার দিকে তাকালাম।শুদ্ধ ব্যালকনির রেলিংয়ে দুহাত রেখে কিছুটা ঝুকে ভর ছেড়ে দাড়িয়ে আছেন।একদম ক্ষীনদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।দুর থেকে যা বুঝলাম,তুই একঘন্টার আগে বাসায় ঢুকবি তো তোকে সালাদ বানিয়ে কাচাই খেয়ে নেবো।গাল ফুলিয়ে তাই আবারো ঘাড় ঘুড়িয়ে নিলাম।

এই বয়সে,শশুড়বাড়ি এসে,কান ধরতে হচ্ছে আমাকে।অপরাধ?ইরহাম আজাদ শুদ্ধকে নকল করতে গিয়েছিলাম।আজ এই লোকটার সাথে বিয়ে না হলেই এমনটা হতো না।ফিউচার ডক্টর বউকে সে বর মাথায় তুলে নাচতো।আর এ?আরে ভাই,তুই কোথাকার কোন লাট সাহেব যে তোর নকল করা যাবে না?এখন মানুষ হিরো আলম থেকে শুরু করে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর বাইডেনকেও ছাড় দেয়না,মিমিক্রি করে।আর আমি একটু যেই না গানটার সাথে ক্যারেক্টারটাতে ঢুকে গেছি,এতোবড় শাস্তি?

গানটা শেষে তাকে দরজায় দাড়িয়ে দেখেই কেদে উঠেছিলাম ভয়ে।সে লোকটা তখন দাতে দাত চেপে,রাগ নিয়ে তাকিয়ে ছিলো আমার দিকে।রুমের বাকিরা সবও হাসা ছেড়ে আটকে গিয়েছিলো।অবশ্য সেগুলোও একেকটা চিজ।আস্ত,জলজ্যান্ত
,জ্বলন্ত মানুষটা দরজায় দাড়িয়ে,ক্যালাতে গিয়ে সেটা একটারও চোখে পরলো না?পিনড্রপ সাইলেন্সে গা ছম ছম করছিলো আমার।কাপতে কাপতে তার হাতের দিকে তাকালাম।এই স্টেজে তার হাত মুঠো হয়ে থাকার কথা,দেখতে তো হবে তাই হয়েছে কি না।

শুদ্ধর হাতের দিকে তাকিয়েই রক্ত মাথায় চড়ে গেলো।ফনাধারী সাপের মতো রাগে ফোস ফোস করতে লাগলাম।তার মুঠো করা হাতে আমার ফোন।ফোনটা ভাঙবে এ নিয়ে চিন্তা না,ফোনটা বাজছে।আর কলদাতা আমার বেস্টু মৌনতা।খাচ্চারনিটা নামে মৌনতা হলে কি,কাজে আর কথায় ঠিক তুফানি।আর ওর কাজে সবসময় আমি ফাসবো,এটাই চিরন্তন সত্য।আজও ব্যতিক্রম হয়নি।নিশ্চিত ও কল করেছে বলে শুদ্ধ ফোন দিতে এ রুমে এসেছিলেন,আর এসেই এই এইসব কার্যকলাপ দেখে ফেললেন।মনু রে!হুট তুই মনু শোনার যোগ্য নস!মৌনতার বাচ্চি রে!তরে পাইলে তর চল্লিশার বন্দোবস্ত করে তবেই ছাড়বো তোকে আমি।কিন্তু কথা হলো,এই ঘটনার পর কার চল্লিশা আগে হবে?ওর?না আমার?

কলটা বাজতে বাজতেই কেটে গেলো।রুমে ফ্যান চলছে,তবুও ঘামছি।ওড়নায় ঘামা হাত খামচে ধরে নিচদিক তাকিয়ে আছি।তাপসী আপুর পাঁচ বছরের ছেলে দৌড়ে এসে জামা টান মেরে বললো,

-এই ইনসু মাম্মাম!কাদছো কেনো তুমি?ও বাসায় তো গান গাইতে কাদতে না তুমি!

অসহায়ভাবে ওর দিকে তাকালাম।শুদ্ধ বিস্ময় দেখিয়ে বললেন,

-তোর ইনসু মাম্মাম ও বাসাতেও গলা ছেড়ে এভাবে গান গাইতো?

হাদার মতো তাকিয়ে রইলাম।বাকি সবাইও ফ্যালফ্যাল করে ওনার দিকে তাকিয়ে আছে।মনে হলো রেগে নেই উনি।মনে একটু খুশির ঝলকানি উকি দিতেই উনি বললেন,

-গাওয়ার এক্সপেরেয়েন্স আছে তারমানে।আহারে!তাতেও কি লাভটা হলো?লিরিক্সটা তো ভুল গাইলো তোর মাম্মাম।নেভার মাইন্ড।চল সিয়া,তোর লিরিক্স ঠিক করে দিচ্ছি।

উনি হাত ধরলেন আমার।কেপে উঠলাম একদফা।এইতো!নিজের ফর্মে এসেছেন।এবার আমি শেষ।ইনসিয়া,গেট রেডি।গান গাওয়ার জন্য তোকে আজ হিরো আলমের গান ফুল সাউন্ডে শুনিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করবে এই লোক।যীনাত আপু বললো,

-শুদ্ধ,ও তোকে কিছু…

-আই নো,আই নো!তোমরা এন্জয় করো।ওকে ঠিকমতো গানটা শিখিয়ে আনছি আমি।

-শুদ্ধ ও তো…

এতোক্ষন খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও এবার কটমটে চোখে তাকালেন উনি সবার দিকে।মেয়েগুলো সব চুপসে গেছে।আমি তো সেই তখন থেকেই চুপ।কতোবড় শকে আছি তা আমিই জানি।ইশান ভাইয়া মেকি হেসে বললেন,

-আ্ আরে শালাবাবু,এমনি মজা করছিলো ওরা।এখানে তো আমরাই জোর করে ইনসিয়াকে…

উনি আমার দিকে তাকিয়ে দাতে দাত চেপে বললেন,

-শুদ্ধ ইজ নট আ জোক!

জোঁক?সেইটাই আপনি।ভয়ের কারন আমার।ভয়ে চেহারা আরো চুপসে এলো আমার।ইশান ভাইয়াও চুপ।কোনোদিক না তাকিয়ে উনি টানতে টানতে নিচে নিয়ে আসলেন আমাকে। দাড় করিয়ে পাশের এক টেবিল থেকে কাগজ নিয়ে কিছু একটা লিখে হাতে বেধে দিলেন।তারপর আবারো হাটা লাগালেন আমাকে নিয়ে।নির্বাক পুতুল আমি।কথা বললেই খবর আছে।সেজোমা বললো,

-কি করছিস তুই শুদ্ধ?কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস ওকে?

উনি উত্তর না দিয়েই বেরিয়ে এলেন আমাকে নিয়ে।পেছনে মামীও ডাক লাগিয়েছে।আমাদের পেছন পেছন সবাই আসছে আমি জানি।শুদ্ধ আমাকে গেইটের সামনে দাড় করিয়ে দিয়ে বললেন,

-খুব শখ তাইনা?আমাকে নিয়ে গান করার?চল!এবার গান গা!

কাদোকাদোভাবে তাকালাম তার দিকে।

-এই লুক দিয়ে লাভ নাই।এখন কান্না বেরোবে না তোর তা আমি জানি।এখনো তো কিছু করিইনি।শুরু কর।গান গা।

-কি গান গাইবো?

-আমাকে নিয়ে‌ যেটা গাইলি।লিরিক্স ঠিকঠাক মতো রেখে।

একবার গাইতে গিয়ে ফেসেছি।পরেরবার গানের গ উচ্চারন করলেও আমার কিয়ামত দর্শন হয়ে যাবে বুঝতে পারছি।চুপ করে রইলাম।উনি বললেন,

-কান ধর!

বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে বললাম,

-কিহ্?

উনিও চেচিয়ে উঠে বললেন,

-ক্রসহ্যান্ড করে কান ধরে একঘন্টা এখানে দাড়িয়ে থাকবি তুই সিয়া!একটা কথা না আর!নইলে খুব খারাপ হয়ে যাবে!

এতো জোরে চেচিয়েছেন উনি যে চমকে উঠলাম।ভয় পেয়ে সাথেসাথে কানে হাত চলে গেলো আমার।বাসার সবাই দরজার কাছে দাড়িয়ে সমবেদনার চেহারা বানিয়ে দাড়িয়ে।একপা এগোলো না কেউ।শুদ্ধের চিল্লানিতে সবাই চুপ।উনি আমাকে দাড় করিয়ে একনজর দাড়োয়ান মামার দিকে রাগী চোখে তাকালেন।লোকটা কাধ ছেড়ে দিয়ে সবটা দেখে অবাক হচ্ছিলো এতোক্ষন।শুদ্ধের চাওনিতে ভয় পেয়ে সোজা হয়ে দাড়ালেন।শুদ্ধ আমাকে ওখানে দাড় করিয়ে চোখ পাকিয়ে সবাইকে ভেতরে যেতে বললেন।সবাই চলে গেলো,কিচ্ছু বললো না।শেহনাজ মন্জিলের শেরনীর আজ এই দশা!আমার দিকে আরেকনজর অগ্নিদৃষ্টি ছুড়ে শুদ্ধও ভেতরে চলে গেলেন।

-মামা,আর কয় মিনিট?

-বারো মিনিটে আঠারো বার কথাটা জিগাইলা তুমি ইনসিয়া মা।সেই আঠারো বার জিগাইনার সময়ের হিসাবসহ আর মাত্র আটচল্লিশ মিনিট।

মনে মনে সময়,আপেক্ষিকতার জনক আইনস্টাইন,টাইম মেশিন আবিস্কার না করার জন্য সকল বিজ্ঞানী,শুদ্ধর হাতের ঘড়ির দোকানদার,আর আমার পরানের সখী মৌনতাকে গালি দিতে লাগলাম।বিরবির করতে করতে আবারো বারান্দার দিকে তাকালাম।শুদ্ধ ওভাবেই দাড়িয়ে।সামনে তাকাতেই কাধে ব্যাগ নিয়ে আসা একটা রোগা করে চশমাধারী ছেলে কিছুটা টেনশন দেখিয়ে বলে উঠলো,

-হোয়াট হ্যাপেন্ড?এভাবে কেনো দাড়িয়ে আছো তুমি?

ভ্রুকুচকে তাকালাম।এ আবার কোন আপদ?শুদ্ধকে চেনে না নাকি?আবার প্রথম দেখাতেই তুমি করে বলছে?ছেলেটা আবারো বললো,

-কি হলো?এনি প্রবলেম?

-থাকলেও তোর সে চিন্তা করতে হবে না।

পাশে তাকিয়ে দেখলাম শুদ্ধ মাটিতে পায়ের গোড়ালি দিয়ে কিছু একটা পিষছেন এভাবে পা নাড়াচ্ছেন।নিচে নেমে এসেছেন উনি?দু সেকেন্ড আগে ওনাকে বারান্দায় দেখলাম না?উড়ে আসলেন নাকি উনি?একটু হেসে কান ছাড়তে যাচ্ছিলাম।উনি শক্ত গলায় বললেন,

-খবরদার কান ছাড়বি না তুই!

আবারো গাল ফুলিয়ে কান ধরেই দাড়ালাম।উনি ছেলেটার দিকে এগিয়ে চশমাটা খুলে নিয়ে ফু দিয়ে পরিস্কার করতে করতে বললেন,

-হ্যাঁ বল?এনি প্রবলেম?

ছেলেটা একধ্যানে তাকিয়ে ছিলো শুদ্ধের দিকে।ধ্যান ছেড়ে বললো,

-শ্ শুদ্ধ ভাই?আপনি?

-এই বাসার সামনে তো আমারই থাকার কথা তাইনা?তা তুই কি মনে করে?প্রবলেম সল্ভার এ্যাপরুপী ভাইরাস?এখানেই ইনস্টল হবি নাকি?

-ন্ না,মানে ভ্ ভাই…

-কোন ফোল্ডারে এসেছিস হয়তো দেখিসই নি।এন্টিভাইরাস এ্যাপস্ আছে এখানে তাও দেখিসনি হয়তো?যাই হোক,দেখে নে ভালো করে।

ছেলেটার চশমা ওর চোখে এটে দিয়ে উনি আমার হাত উচিয়ে লেখাটা দেখালেন।ছেলেটা বড়বড় করে তাকিয়ে সেটা দেখেই দৌড় লাগালো।রোগাটাইপ দেহ নিয়ে হাওয়ার বিপরীতে দৌড়াচ্ছিলো ছেলেটা।মনে হচ্ছিলো এই বুঝি উড়ে যায়,নয় পরে যায়।ফিক করে হেসে দিলাম আমি।পরে শুদ্ধের কথা মনে পরতেই জিভ কামড়ে পাশে তাকালাম।উনি মাথা নেড়ে বিরক্তি নিয়ে বললেন,

-নির্লজ্জ মেয়ে একটা!

চোখ সরিয়ে কিছু না শোনার ভান করে রাস্তার দিকে তাকালাম।শুদ্ধ বললেন,

-অপশন আছে কান ছাড়ার।

চকচকে চোখে তাকালাম তার দিকে।বললাম,

-প্লিজ বলুন না।পা লেগে গেছে আমার।

-লজ্জা হচ্ছে না?

থতমত খেয়ে মেকি হেসে বললাম,

-হ্ হ্যাঁ,হ্যাঁ ওইটা।লজ্জায়ই বলছি না যে লজ্জা করছে।

উনি জোরে শ্বাস ছাড়লেন একটা।পকেটে হাত গুজে আরামে দাড়িয়ে বললেন,

-এবার তোকে নিজেকে নিয়ে গান গাইতে হবে।

কান ছেড়ে দিয়ে তুড়ি বাজিয়ে বললাম,

-আরেহ্!এটাতো আমার বায় হাত কা খেল!এখনি আমি….

উনি চোখ রাঙিয়ে কান ধরতে বললেন আবারো।কান ধরে ধীর গলায় বললাম,

-বেশ।তাই গাবো।

শুদ্ধ রাস্তার দিকে তাকালেন।দুরে একটা টংয়ের দোকানে কিছু ছেলে সাইকেল দাড় করিয়ে,চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলো।অবশ্য আড়চোখে আমাকেও দেখছিলো তা আমি জানি।শুদ্ধ হাক ছাড়লেন,

-ওয় নিশাত?

ছেলেগুলো পিছন ফিরলো।উনি হাত দিয়ে আঙুল ঘুরিয়ে সবগুলোকে আসার জন্য ইশারা করলেন।দুইটা তো ভুত দেখার মতো করে ভো দৌড় দিয়ে ছুটে পালালো।বাকিগুলোর এক্সপ্রেশন বোঝা যাচ্ছে না।শুদ্ধ একটু চেচিয়ে বললেন,

-এইদিক আয়!

ওরা তুরতুর করে এদিকে আসতে লাগলো।আমি বুঝলাম ওদের সামনে গান গাওয়াবে আমাকে।তাতে কি?আমি বাসায় ইরু,আর কলেজে মৌনতা ছাড়া সবার কাছেই দৃষ্টি আনাম লাইট।পাব্লিসিটিটা বাড়বে ভেবে খুশিই হলাম।ছেলেগুলো এসে একসুরে সালাম দিলো ওনাকে।আমি তখনো কানধরে দাড়িয়ে।উনি উত্তর নিয়ে আমাকে দেখিয়ে বললেন,

-এইটা আজ তোদের গান শোনাবে।তোদের কাজ হলো,এখন যে গানটা ও গাইবে,ওকে দেখলেই সে গানটা বারবার গেয়ে ওকে মনে করিয়ে দিবি ও কি।গট ইট?

ছেলেগুলো মাথা নাড়লো।আমিতো খুশি।ভেবে নিয়েছি,আমি মিস রাজশাহী চাইনা দিতে টিপস্..লা লা!শুদ্ধ আমার কান থেকে একহাত ছাড়িয়ে সে হাতেরই এক আঙুল আমার কপালের পাশ বরাবর তাক করে বললেন,

-চল,এবার গা।বাদশার ” পাগাল হ্যায় ” গান!

বিনা কোনো ঝড়বৃষ্টিতে বজ্রপাত হলো যেনো কানে আমার।ভাবলাম কি,আর উনি করলেন কি?স্পর্ধিত ভঙিমায় শ্বাস আটকে নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকালাম তার দিকে।এভাবেও অপমান করা যায়?এতোটা ভেবে রেখেছেন উনি?আমি তো বাসা মধ্যে একটু মজার ছলেই..আর উনি এভাবে বাসার বাইরে সবার সামনে ইজ্জতের মামা হালিম বানাচ্ছেন?আড়চোখে বাসার দরজার দিকে তাকালাম।একটাও নেই দৃষ্টিসীমার মধ্যে।ছেলেগুলো ঠোট টিপে হাসা শুরু করে দিয়েছে দেখলাম।একটু ঝাড়া মেরেই বললাম,

-পারবো না।

-কান ধরে একঘন্টা দাড়ায় থাক।এবার সবাইকে বলে যাবো কিছু কিছু বানী ছুড়ে দিতে যেতে এই কান ধরা পাগলের জন্য।

বলে কি?তাহলে আরো বিপদ।কয়জনকে শোনাবো?কান্নার চেহারা করতে গিয়েও হলো না।উনি ধমকে উঠলেন,

-ধর কান!

আমি চোখ বন্ধ করে আঙুল নিজের দিকে ধরলাম।ঠোট উল্ঠে ন্যাকাকান্নার মতো করে গাইতে লাগলাম,

-ইয়ে লাড়কি পাগাল হ্যায়,পাগাল হ্যায়,পাগাল হ্যায়,পাগাল হ্যায়

হায়,ইয়ে লাড়কি
পাগাল হ্যায়,পাগাল হ্যায়,পাগাল হ্যায় পাগাল হ্যায়….’

#চলবে…

(আসসালামু আলাইকুম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here