তুমি আমার স্নিগ্ধ ফুল পর্ব ৩৭

0
130

#তুমি_আমার_স্নিগ্ধ_ফুল
#নুসাইবা_ইসলাম_হুর
#পর্বঃ৩৭

শাফিন গাড়ি থামালো বিশাল এক রাজবাড়ির সামনে। সবাই আস্তে ধীরে নামলো। রাফি যেহেতু বাইক নিয়ে এসেছে তাই সবার আগে এখানে পৌঁছে ওদের জন্যই ওয়েট করছিলো। সবাই আসতে আস্তে ধীরে সবাই পুরোনো রাজবাড়ির গেট পেরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো।

ভিতরে প্রবেশ করতে ইয়ানা অবাক চোখে চারেদিকে চোখ বুলালো একবার। এই প্রথম এই জায়গায় এসেছে। চারেদিকে সবুজে ঘেরা গাছপালা তার ভিতরে বিশাল আলিশান পুরোনো এক রাজপ্রাসাদ। প্রীতির মুখে যতটুকু শুনেছে তার চেয়েও বেশি সুন্দর জায়গায় টা। চারপাশে অল্প কিছু মানুষজন দেখা যাচ্ছে। হয়তো ওরাও ওদের মতো ঘুরতে এসেছে। ঘোরার জন্য আসলেই খুব সুন্দর একটা জায়গা এটা।

হঠাৎ কারো ঠান্ডা শীতল হাতের স্পর্শ নিজের হাতে পেতে ইয়ানা পাশে তাকালো। দেখলো পারফি ওর হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে। ও তাকাতে পারফি বলে উঠলো,

এখানে দাঁড়িয়েই দেখবে নাকি ভিতরে যাবে? সবাই চলে গেছে সেই খেয়াল আছে?

পারফির কথায় ইয়ানা সামনে তাকিয়ে দেখলো আসলেই প্রীতিরা অনেকটা সামনে এগিয়ে গিয়েছে। এতক্ষণ সবকিছু দেখতে এতোটাই বিভোর ছিলো যে খেয়াল এই করে নাই কখন ওরা চলে গেছে।

পারফি ইয়ানার দৃষ্টি দেখে সামনের দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে বললো, চলো…..।

ইয়ানাও সম্মতি দিয়ে পারফির সাথে পাশাপাশি হেঁটে সামনের দিকে আগাতে লাগলো। নিরিবিলি একটা পরিবেশে পাশাপাশি এভাবে হাত ধরে হাঁটতে বেশ লাগছে ইয়ানার কাছে।

পারফিরা প্রীতিদের কাছে আসতে প্রীতির শুরু হয়ে গেলো ইয়ানাকে নিয়ে ছবি তোলা। রাফি ওদের ছবি তুলে দিচ্ছিলো তখন আচমকা একটা মেয়ে ঝড়ের গতিতে এসে রাফিকে জড়িয়ে ধরলো। মেয়েটার আকস্মিক কাজে উপস্থিত সবাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।

তখন রাফিকে জড়িয়ে ধরা মেয়েটা খুশিতে আপ্লূত হয়ে বলল,

বেবি তুমিও এখানে? কত খুশি হয়েছি তোমাকে এখানে দেখে জানো। বান্ধবীদের সাথে এখানে ঘুরতে এসেছিলাম বাট বোরিং লাগছিলো৷ তোমাকে দেখে এখন কি যে ভালো লাগছে। আজ তো ভার্সিটিতেও যাও নাই, সারাদিন খুব মিস করেছি তোমায় বেবি।

মেয়েটর কথায় রাফির কাশি উঠে গেলো। ভাই বোনদের সামনে কি কেলেঙ্কারি বাঁধিয়ে দিলো মেয়েটা। রাফি অত্যান্ত দুষ্ট প্রকৃতির একটা ছেলে। মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করায় যেনো পিএইচডি করা। সাথে কতগুলো গার্লফ্রেন্ড আছে তা ওর নিজের ও হিসেব নেই।
এখন কথা হলো জড়িয়ে ধরা রাখা মেয়েটা ওর কয় নাম্বার গার্লফ্রেন্ড তা বুঝতে পারছে না কারণ এখনো মেয়েটার মুখ দেখে নি। তার উপরে ভাইবোনদের সামনে এমন চিপকে ধরে আছে তা দেখে দ্রুত মেয়েটাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে দেখলো ওর তিন নাম্বার গার্লফ্রেন্ড রাইসা।
রাফি একবার পারফি, শাফিন, ইয়ানা আর প্রীতির দিকে তাকিয়ে বোকা হেঁসে বলল,

আমার গার্লফ্রেন্ড রাইসা। আর রাইসা ওরা হলো আমার মামাতো ভাই বোন তারপর এক এক করে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।

রাইসার চোখ আঁটকে গেলো ব্লাক কালার শার্ট পড়া পারফির দিকে। একবার রাফির দিকে তাকালো আরেকবার পারফির দিকে তাকালো। মনে মনে ভাবলো রাফির চেয়েও বেশি সুন্দর পারফি। পারফির পাশের ডার্ক ব্লু কালার শার্ট পড়া ছেলেটা শাফিন ও দেখতে পুরোই ড্যানিশ বয় কিন্তু রাইসার চোখ আপাতত আঁটকে গেলো পারফিতে।

পারফির দিকে এক অমায়িক হাসি দিয়ে তাকিয়ে এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো হেই আমি রাইসা।

রাইসার বাড়িয়ে দেওয়া হাতের দিকে পারফি একবার তাকিয়ে রাইসাকে পুরো অগ্রাহ্য করে হাত না বাড়িয়ে ছোট করে বলল আম পারফি।

পারফি হাত না মেলাতে রাইসা সবার মাঝে একটু অপমানিত বোধ করলো। তবুও এই অপমান গায় না লাগিয়ে সবার সামনে দাঁত কেলিয়ে হেসে সবার সাথে নিজেই পরিচিত হলো।

রাইসা যে গায়ে পড়া টাইপের মেয়ে তা এতক্ষণে সবার বোঝা হয়ে গেছে। সবাই দাঁত কটমট করে রাফির দিকে তাকাতে রাফি মাথা চুলকে তারাতাড়ি বলল,

ব্রো তোমরা তাহলে এদিকটা ঘোরো আমি ওকে নিয়ে যাই এ বলে রাইসার হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগলো। রাইসা অবশ্য যেতে চাইলো না কিন্তু রাফি এক প্রকার জোর করেই নিয়ে গেলো কারণ এখানে আর বেশিক্ষণ থাকলে কে জানে আবার কোন কেলেঙ্কারি বাজিয়ে দেয়।

রাফি রাইসা কে নিয়ে যেতে প্রীতি শব্দ করে হেঁসে ফেলে বলল,

আমায় মনে হয় রাইসা ভাইয়ার উপর ক্রাশ খেয়েছে। রাফি ভাইয়া ওকে নিয়ে গেলো আর নাহলে ছেকা খাইয়ে ব্যাকা করে দিতাম কতবড় সাহস আমার ভাইর দিকে নজর দেয়।

প্রীতির কথায় শাফিন বলল, তোর দাঁত কেলানো হলে সামনে যাওয়া যাক।

শাফিনের কথায় প্রীতি তাকালো শাফিনের দিকে। মহাশয় যে এখনো রাগ করে আছে তা ঢের বুঝতে পারছে।

পুরো বিকেলে মিলে সবাই অনেক ঘোরাঘুরি করলো। রাত হয়ে আসতে সবাইকে নিয়ে বাসায় ফিরে আসলো। বাসায় এসে সবাই ফ্রেশ হতে উপরে চলে গেলো।

বসার ঘরে বসে শাহানা, পিয়াসা আর রিমা বেগম গল্প করছিলো তখন রিমা বেগম পিয়াসা বেগমের উদ্দেশ্যে বলল,

মেয়ে তো বড় হয়ে যাচ্ছে আপা, কি অবস্থা বিয়ে সাদি কি দিবেন না? আপনার মেয়েটাকে আমার রাফির জন্য দিয়ে দেন আপা। কখনো অযত্ন করবো না সবসময় নিজের মেয়ের মতো করে রাখবো।

রিমা বেগমের কথায় শাহানা বেগম আর পিয়াসা বেগম একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করলো। রিমা বেগম যে এমন একটা প্রস্তাব রাখবে কেউ ভাবে নি।

পিয়াসা বেগম একটু হাসার চেষ্টা করে বলল,

এখনো এসব নিয়ে ভাবছি না। মেয়ে পড়াশোনা করছে করুক এসব নিয়ে পড়ে ভাববো।

এই প্রসঙ্গ পাল্টানো জন্য শাহানা বেগম অন্য কথা বলতে লাগলো।
————
দেখতে দেখতে কেটে গেলো একটি বছর। প্রীতি আর ইয়ানার আজ এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলো। পরীক্ষা শেষ হতে শুরু হয়ে গেলো বিয়ের তোরজোর। বিয়েটা আরো করো না শাফিন আর প্রীতির।

এই এক বছরে বদলে গেছে অনেক কিছু সেই সাথে বদলেছে কিছু সম্পর্ক।

শাফিন প্রীতর মাঝে তৈরি হয়েছে এক ভালোবাসাময় সম্পর্ক। লুকিয়ে চুকিয়ে দুজন ঝাকানাকা প্রেম চালিয়ে গিয়েছিলো। একদিন হুট করে পারফির হাতে সরাসরি দুজন ধরা খায়। সেদিন প্রীতি কি ভয় টাই না পেয়েছিলো। প্রথমে এভাবে লুকিয়ে প্রেম করার জন্য পারফি একটু বকাঝকা করেছিলো। পরে আবার নিজেই নিজ দায়িত্ব দুজনের বিয়ে ঠিক করেছে ফ্যামিলির সবাইকে বলে। ঠিক করা হয়েছিলো প্রীতি আর ইয়ানার এইচএসসি এক্সামের পর ধুমধাম করে দুজনের বিয়ে দিবে। আর সেই দিন দেখতে দেখতে চলেও আসলো।

এই এক বছরের ভিতরে পুলিশরা খুঁজে পেয়েছে রফিক খানকে। রফিক খান আর এনামুল খান দুই ভাইকে যাবত জীবন কারাদন্ড দেওয়া হলো। এলিজাও বাবা চাচাদের সাথে এই কালোবাজারি কারবারে কম বেশি লিপ্ত ছিলো তাই এলিজাকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

সব শেষে পারফি আর ইয়ানার সম্পর্কে আসলো পূর্নতা। এখন দুজন দুজনার পরিপূরক। একে অপরকে যেনো চোখে হারায় এখন। খুব সুন্দর ভালোবাসাময় সংসার গড়ে তুললো ইয়ানা। যেখনে চারপাশে সুখ আর সুখ। সবার ভালোবাসায় সুখময় একটা জীবন পার করছে।

শাফিন আর প্রীতির বিয়ের বাকি আছে আর এক সপ্তাহ। চৌধুরী আর শিকদার বাড়ি জুড়ে রমরমা এক পরিবেশ তৈরি হয়ে গেলো। সারা বাড়ি সাজানো শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই বিয়েতে পারফি আর ইয়ানা হয়ে গেলো দুই পক্ষের। ইয়ানা শাফিনের পক্ষ থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকবে আর পারফি থাকবে আদরের বোনের পক্ষ থেকে। ইয়ানা শাফিনদের পক্ষ থেকে সব কিছু করবে দেখে পারফির সেই কি রাগ ইয়ানার উপরে। পারফি কিছুতেই ইয়ানাকে নিজের পক্ষ থেকে ওই পক্ষে যেতে দিবে না আর ইয়ানা ও নিজের ভাইর পক্ষ থেকে এই পক্ষে আসবে না।

বোনের বিয়ে বলে কথা পারফি যেনো সব কিছু সামলাতে নিঃশ্বাস নেওয়ার ও সময় পাচ্ছে না আর এদিকে শাফিন নাকে তেল দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তা দেখে পারফি শাফিনের উদ্দেশ্যে বলল,

শালা তুই আমার বন্ধ নাকি শত্রু? দেখতে পারছিস নিঃশ্বাস নেওয়ার ও সময় পাচ্ছি না। কোথায় আমাকে সাহায্য করবি তা না করে নাকে তেল দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিস।

শাফিন টিপ্পনী কেটে পারফির কথার প্রতিত্তোরে বলল,

আমি হলাম এই সাম্রাজ্যের রাজা। রাজারা কাজ করে না। রাজাদের কাজ হলো নাকে তেল দিয়ে ঘুরে বেরানো। এসব কাজ রাজাদের না প্রজাদের হা হা।

শাফিনের কথায় পারফি শাফিনের কলার টেনে ধরে বললো কি বললি? আমি প্রজা? এতোবড় সাহস তোর আমাকে প্রজা বলছিস।

শাফিন ও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলবি। কজ আমি এখন তোর বোনের হবু হাসবেন্ড। কতোবড় সাহস বোনের হবু বরের কলার টেনে ধরেছিস।

পারফি বাঁকা হেসে বলল, তাই নাকি? কেউ একজন মনে হয় ভুলে গেছে আমি কারো মতো কারো বোনের শুধু হবু বর না একেবারে পার্মানেন্ট বর। এখন কেউ একজন বলে দেউক কার সম্মানটা উপরে।

শাফিন মাফ চাওয়ার ভঙ্গিমা করে বলল, মাফ চাই আমার বোনের পার্মানেন্ট জামাই। আপনাকে সম্মান করে মাথায় তুললাম এবার বলেন আপনাকে কি সাহায্য করতে পারি?

শাফিনের কথায় পারফি হেঁসে দিয়ে শাফিনের কাধ জড়িয়ে ধরে কিছু বলতে যাবে তখন দেখতে পেলো ইয়ানা ছুটে এদিক আসছে। ওদের কাছাকাছি আসতে পারফি ইয়ানাকে থামিয়ে দিয়ে বললো এভাবে ছুটছো কেনো? আস্তে ধীরে ওতো হাঁটা যায়।

ইয়ানার পারফির পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে বলল,

আমার মাম্মা আসছে আর আমি ছুটে যাবো না তা হয় নাকি?এ বলে আবার এক ছুটে গেটের কাছে চলে গেলো।

পারফি ভ্রু কুঁচকে ইয়ানার যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকলো। কিছুক্ষণ পর দেখতে পেলো ইয়ানার কোলে ছোট একটা বেবি। যাকে পরম যত্নে নিজের সাথে মিশিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে বাসায় প্রবেশ করছে। এতক্ষণে বুঝলো মহারানীর ওভাবে ছুটে যাওয়ার মানে।
ইয়ানার কোনো ইমার ২ মাসের বাচ্চা। দুইমাস হলো ইমা ফুটফুটে একটা মেয়ের জন্ম দিয়েছে। সদ্য জন্ম নেওয়া ছোট বাচ্চা পেয়ে সেই কি খুশি ইয়ানা। সুযোগ পেলেই ইমার কাছে ছুটে চলে যায় ইয়ানা ওর কলিজার মাম্মাকে কোলে নেওয়ার জন্য।

পারফি মুগ্ধ হয়ে ইয়ানাকে দেখতে লাগলো। এই মেয়ে যে এতো বেবি পাগল তা ইমার বেবি না হলে জানতেই পারতো না। ইয়ানার দিকে একবার তাকিয়ে কল্পনা করলো বোনের বেবি পেয়েই যে মেয়ে এতো খুশি সেখানে নিজের বেবি হলে কি করবে? কথাটা ভাবতেই শরীরে সব লোম দাঁড়িয়ে গেলো পারফির। নিজের বেবির কথা ভাবতেই ঝংকার দিয়ে উঠলো পুরো শরীর। এক অন্যরকম কিছু অনুভব করলো পারফি নিজের বেবির কথা ভাবতেই। এই অনুভূতি সাথে আজ প্রথম পরিচিত হলো পারফি। কেমন যেনো এক অন্যরকম অনুভূতি অনুভব হচ্ছে এই মুহূর্তে।

এই ভাইয়া…….

প্রীতির ডাকে হুঁশ আসলো পারফির। নিজেকে ধাতস্থ করে দেখলো ইয়ানা নেই। ভাবনায় এতো বিভোর ছিলো যে কখন ইয়ানা পাশ কাটিয়ে চলে গেছে খেয়াল এই করে নি। হঠাৎ প্রীতির ডাকে হুঁশ আসলো। প্রীতি দিকে তাকিয়ে বলল,

হ..হ্যা? কিছু বলছিস?

কোন জগতে আছো তুমি ভাইয়া? কখন থেকে ডাকছি। এখন এসব কাজ সব রাখো। যেয়ে রেডি হয়ে নেও এখন শপিং এ যাবো, আমাদের নিয়ে যাবে।

পারফি কেমন জানি ঘোরের মাঝে বার বার হারিয়ে যাচ্ছে তখন এর কথা ভাবতে। ঘোরের মাঝে পারফি আচ্ছা বলে রেডি হওয়ার জন্য উপরে চলে গেলো।

প্রীতিও যেতে নিবে তখন হঠাৎ হাতে টান পড়লো। পিছু ঘুরতে দেখতে পেলো শাফিন শয়তানি হাসি দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

শাফিনের এমন শয়তানি হাসি দেখে প্রীতি বুঝে গেলো এর মনে কিছু একটা চলছে। কিন্তু কি চলছে তা মাথায় আসলো না। অনেক ভাবনা চিন্তা করে শাফিনকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই শাফিন প্রীতিকে টান দিয়ে নিজের কাছে টেনে নিয়ে কোমর আঁকড়ে ধরলো।

শাফিনের স্পর্শে কেঁপে উঠল প্রীতি। চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,

ক..কি করছো সবাই আ..আছে ছাড়ো।

প্রীতির কথায় শাফিন ছাড়লো তো না এই উল্টো বাঁকা হেসে আরে কাছে টেনে নিয়ে আসলো।

প্রীতি কি করবে, না করবে বুঝে উঠতে পারলো না। এতো মানুষ জনের সামনে মান ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে দিচ্ছে ভাবতে প্রীতি পালানোর ফন্দি আঁটতে লাগলো।

প্রীতিকে এমন পালানোর ফন্দি আঁটত দেখে শাফিন প্রীতির মুখে ফু দিয়ে সামনে আসা চুল গুলো পিছে সরিয়ে বলল,

পালানোর ফন্দি এটে লাভ নেই। আমি যতক্ষণ না ছাড়ছি ততক্ষণ যতই চেষ্টা করিস ছাড়া পাবি না। কোথায় একটু লজ্জা পেয়ে লজ্জা মাখা হাসবি তানা উল্টো পালানোর ফন্দি খুজছিস। এটা ভারী অন্যয় ইনোসেন্ট বান্দর।

একসপ্তাহ পর যার সাথে বিয়ে তার মুখে এখনো ইনোসেন্ট বান্দর ডাক শুনে প্রীতির মুখ হা হয়ে গেলো। এর সাথে ভালো করে কথা বলাটাই ভুল হয়েছে। প্রীতি এবার ক্ষেপে বলল,

তোমার সাথে ভালো করে কথা বলতে আসাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। ছাড়ো বলছি আমায় আর নাহলে…..

প্রীতিকে ক্ষেপতে দেখে যেনো মজা পেলো শাফিন। প্রীতিকে আরো ক্ষেপানোর জন্য বলল,

আর নাহলে কি? তোর সেই বিখ্যাত কুকুর রুপে ফিরে এসে কামড় দিয়ে পালাবি?

দরকার হলে তাই করবো এ বলে প্রীতি আচমকা শাফিনের হাতে কামড় বসিয়ে দিলো।

প্রীতি যে সত্যি কামড় বসিয়ে দিবে তা শাফিন ভুলেও ভাবে নাই। আচমকা প্রীতির কামড়ে ভড়কে গিয়ে হাত আলগা হতে প্রীতি এক ছুটে পালিয়ে গেলো।

শাফিন প্রীতির যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে ঠোঁট উল্টে ভাবলো এটা বউ নাকি ডাইনি। এ জীবন শেষ হয়ে যাবে এর রাক্ষসের মতো কামড় খেতে খেতেই।

#চলবে?

ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
হ্যাপি রিডিং….🥰

আর মাত্র এক পর্বে বাকি আছে গল্পেটা শেষ হওয়ার। কেমন লাগলো আজকের পর্ব সবাই মন্তব্য করে জানাতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here