তুমি আমার স্নিগ্ধ ফুল পর্ব ১১

0
91

#তুমি_আমার_স্নিগ্ধ_ফুল
#নুসাইবা_ইসলাম_হুর
#পর্বঃ১১

বদ্ধ রুমে পাশাপাশি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আজ একদিন ধরে পড়ে আছে পারফি আর ইয়ানা। কোথায় আছে, কারা ধরে এনেছে কিছুই জানা নেই। শুধু বুঝলো যে গভীর কোনো জঙ্গলের ভিতরে আছে। কারণ রাতে বেলা স্পষ্ট ভেসে আসছে বিভিন্ন পশুপাখির ডাক যা শুনে ভয়ে কেঁপে উঠছে ইয়ানা। শরীরে বিন্দু পরিমাণ শক্তি অবশিষ্ট নেই।
পুরো একটা দিন রাত কেটে গেলো এভাবে বাঁধা অবস্থায় এখন পর্যন্ত এক ফোটা পানিও খেতে পারে নি। জল তেষ্টায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। ভয়, খুদায় আর পানির তেষ্টা সব মিলিনে চোখ খুলে রাখা দায়। কান্না করতে করতে চোখ গুলো ফুলে উঠেছে। নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে এবার। মুখটাও বাঁধা যার জন্য শ্বাস নিতে আরো বেশি কষ্ট হচ্ছে। পাশের চেয়ারেই অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে পারফি।

কাল রাতে যখন সবার থেকে পালিয়ে পারফি ফুল স্পীডে বাইক চালাচ্ছিলো তখন হঠাৎ সামনে থেকে আরো কিছু গাড়ি এসে ওদের আঁটকে দিলো। পারফি বার বার করে বলছিলো যা বোঝাপড়া ওর সাথে ইয়ানাকে ছেড়ে দিতে কিন্তু ওরা পারফির কোনো কথা শুনলো না। শেষে কোনো উপায় না পেয়ে পারফি নিজের সবটা দিয়ে লড়াই করে ইয়ানাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলো। জানে এতো মানুষের সাথে ওর একার পক্ষে লড়া সম্ভব না তবুও হাল ছাড়ালো না। মা/রা/মা/রি/র এক পর্যায়ে একজন পিছ থেকে পারফির মাথায় আঘাত করলো। চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা হয়ে আসতে লাগলো। ঝাপসা চোখে অস্পষ্ট ভাবে ইয়ানার ভয়ে কান্না ভেজা মুখটা ভেসে উঠলো। মন থেকে আল্লাহর কাছে বার বার বলতে লাগলো স্নিগ্ধ ফুলের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এর পর কি হয়েছে কিছুই মনে নেই।

আচমকা পারফির জ্ঞান ফিরে আসলো। জ্ঞান ফিরতে নিজেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থা পেলো। আস্তে আস্তে সব মনে পড়তে বুকের ভিতর ধক করে উঠলো। স্নিগ্ধ ফুলের কোনো ক্ষতি করে নিতো ওরা ভাবতে কলিজা কেঁপে উঠলো। পরক্ষণে ওর পাশে চোখ পড়তে জীবন ফিরে পেলো যেনো। পাশের চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় ইয়ানা কান্না করে যাচ্ছে। দূর্বল তার চাওনি, ফর্সা মুখ লাল হয়ে আছে,চোখ দুটো ফুলে গেছে। বেঁধে রাখা হাত লাল হয়ে আছে আরেকটু হলেই যেনো রক্ত বেরিয়ে যাবে।
ইয়ানার এমন করুন অবস্থা দেখে পারফির কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। বুঝলো যে এখানে অনেক সময় ধরে আটকা পড়ে আছে। করুন চোখে তাকিয়ে রইলো স্নিগ্ধ মুখটার দিকে।

ইয়ানার হঠাৎ মনে হলো পাশে থাকা মানুষটা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। দূর্বল চোখে সেদিকে তাকাতে যেনো জীবন ফিরে পেলো ইয়ানা। পুরো একটা রাত আর দিন পারফি অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিলো। পারফির অবস্থা দেখে ইয়ানা শুধু কান্না করে গেলো এ ছাড়া যে আর কিছুই করার নেই। লোকটা আজ ওকে বাঁচাতে যেয়ে এই অবস্থা হয়ে পড়ে আছে ভাবতে কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। ভয়ে বারংবার কুঁকড়ে গেলো ইয়ানা, ভাবলো এই বন্দী জীবন থেকে আর মুক্তি নেই এখানেই হয়তো জীবন টা শেষ ভাবতেই শিউরে ওঠতো। পারফির জ্ঞান ফিরতে দেখে একটু আশার আলো খুঁজে পেলো। কান্নার রেশ এবার বেরে গেলো ইচ্ছে করলো বলতে আপনি ঠিক আছেন নীলমনি? আমরা কি এখান থেকে আর বের হতে পারবো না? আমি যে আর পারছি না কিন্তু কিছুই বলতে পারলো না শুধু কান্না করে গেলো।

ইয়ানার কান্না দেখে পারফির খুব কষ্ট হচ্ছে আশেপাশে তাকিয়ে বুঝতে লাগলো কোথায় আছে। কিভাবে এখান থেকে যেতে পারবে। তখন কারো পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলো। বুঝলো যে কেউ এখানেই আসছে তখন হঠাৎ রুমের লাইট বন্ধ হয়ে গেলো। ভয়ে ইয়ানা শিউরে উঠলো।

তখন কেউ দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করলো। ঘুটঘুটে অন্ধকার রুম দরজা খোলার পর অন্য রুম থেলে মৃদু আলো আসলো। সেই মৃদু আলোতে একটা অবয় দেখা গেলো। যেহেতু রুম অন্ধকার সেহেতু লোকটা কে তা দেখা গেলো না।

তখন লোকটি বলে উঠলো তো আবরার পারফি চৌধুরী অবশেষে আপনার জ্ঞান ফিরলো।

পারফির রাগে শরীর পুড়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না মুখ বাঁধা থাকার জন্য।

পারফির অবস্থা দেখে লোকটা একজন গার্ডকে ইশারা করলো মুখ খুলে দিতে। মুখ খুলে দিতে পারফি হুংকার দিয়ে বললো কে তুই? এভাবে ধরে কেনো নিয়ে এসেছিস? সাহস থাকলে বাঁধন খুলে দে। কাপুরুষের মতো আঁটকে কেনো রেখেছিস?

পারফির কথায় লোকটা ঘর কাঁপিয়ে হেসে বললো আরে রিলাক্স আবরার পারফি চৌধুরী রিলাক্স। এখনো দেখি তেজ কমে নি। ডোজটা হয়তো কম হয়ে গেছে।

পারফি ফের হুংকার দিয়ে বললো আমি কাউকে পরোয়া করি না কাপুরুষের মতো লুকিয়ে না থেকে নিজের পরিচয় দে শা*।

পরিচয়? তাতো জানবে বটে পুরোনো শত্রু বলে কথা এ বলে আবার বিশ্রীভাবে হাসতে লাগলো।

পুরোনো শত্রু মানে? কে তুই আর কোন উদ্দেশ্যেই বা এখানে এনেছিস?

আরে মিস্টার চৌধুরী এতো তারা কিসের? আস্তে আস্তে সবি জানতে পারবে এখনো অনেক হিসেব নেওয়া বাকি তো। সবেতো মাত্র শুরু আস্তে আস্তে সব জানতে পারবে। এবার আসি কেমন? দেখতে আসলাম মিস্টার চৌধুরীর জ্ঞান ফিরলো কিনা। যেহেতু জ্ঞান ফিরেছে এবার হবে আসল খেলা। দেখা হচ্ছে সকালে এ বলে হাসতে হাসতে চলে গেলো আর গার্ডরা ফের দরজা লাগিয়ে দিলো।

পারফি আর কোনো কথা না বলে নীরব হয়ে গেলো। এখন মাথা গরম করলে চলবে না। আগে এখান থেকে বের হতে হবে। কিন্তু রুম ঘুটঘুটে অন্ধকার কিভাবে কি করবে বুঝতে পারলো না। কিছুক্ষণ চোখ বুঁজে ভাবতে লাগলো কি করবে তখন রুমের লাইট ফের জ্বলে উঠলো।

অনেক সময় রুম অন্ধকার থাকায় হঠাৎ লাইন জ্বলে ওঠায় চোখমুখ কুঁচকে ফেললো ইয়ানা। পারফি সেদিকে তাকিয়ে ইয়ানার উদ্দেশ্যে বললো ঠিক আছো তুমি? চিন্তা করো না আমি যেভাবে পারি এখান থেকে বের হবো। তোমাকে সেফলি পৌঁছে দিবো। একদম ভয় পেও না বিড়াল ছানা আমি আছিতো। কিছু হতে দিবো না তোমার।

ইয়ানা ছলছল চোখে পারফির দিকে তাকিয়ে রইলো। এই অবস্থায় এসেও লোকটা নিজের কথা না ভেবে ওর কথা ভেবে যাচ্ছে। কিন্তু আদো কি এখান থেকে ওরা বের হতে পারবে? সেই চেনা পরিচিত মুখ গুলো কি আর দেখা হবে? ভাবতে ডুকরে কেঁদে উঠলো ইয়ানা।

পারফি কি বলে ইয়ানাকে সান্ত্বনা দিবে বুঝতে পারলো না। কিছু একটা করতে হবে যেভাবে হোক এখান থেকে ছাড়া পেতে হবে। আশেপাশে খুঁজতে লাগলো কিছু পায় কিনা কিন্তু কোনো কিছু চোখে পরলো না। আশাহত হয়ে চোখ বুঁজে নিলো পারফি।
কিছুক্ষণ পর কিছু একটা মনে পড়তে চোখ খুললো পারফি। ইয়ানার দিকে তাকি আস্তে করে ডাক দিলো বিড়াল ছানা…

ডাকটা শুনে ইয়ানা দূর্বল চোখে তাকালো পারফির দিকে কিন্তু কিছু বলার শক্তি পেলো না।
——————————
চৌধুরী পরিবারে শোকের ছায়া নেমে গেলো। রাত বাজে প্রায় ১২ টা কিন্তু কারো চোখে ঘুম নেই। সিঁড়ির কাছে বসে প্রীতি ফুপিয়ে কান্না করে যাচ্ছে। ভাই আর প্রিয় বান্ধবীকে এভাবে খুঁজে না পেয়ে কাল রাত থেকে কান্না করে যাচ্ছে। পাশে বসে শাহানা বেগম মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে তার চোখেও পানি।

পিয়াসা বেগম প্রায় অবচেতন অবস্থায় সোফায় বসে কান্না করছে। কয়েকবার জ্ঞান ও হারিয়েছে। কলিজার টুকরো ছেলে আজ পুরো একটা দিন থেকে নিখোঁজ এটা কোনো মা কিভাবে মানবে। বার বার মন কু ডাকছে ছেলের কিছু হয়ে যায় নিতো।

আরেকটা ছোফায় পাভেল চৌধুরী আর শরীফ শিকদার বসে আছে চুপচাপ। কারো মুখে কোনো কথা নেই। কাল রাত থেকে তন্য তন্য করে খুঁজে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে ইনফর্ম করেছে কিন্তু কেউ কোনো খোঁজ পায় নি।

পাভেল চৌধুরীর ভিতরটাও দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। আজ তার এই পেশার জন্য ছেলেকে হারাতে বসেছে। এতদিন পিয়াসার এই পেশা ছেড়ে দিতে বলার কারণটা বুঝতে পারছে পিয়াসা কেনো এমন করতো। প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা কতোটা তিব্র তা তার থেকে ভালো কে বোঝে?সেই ছোট বেলা বাবা-মা কে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলো আর আজ ছেলেকে হারাতে বসেছে। নিজেকে আজ খুব অপরাধী লাগছে কেনো এই পেশায় জড়াতে গেলো কিন্তু এই পেশায় না জড়ালে নিজেকেও নিজে কখনো ক্ষমা করতে পারতেন না। নিজের মা-বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পারতেন না। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারতেন না। কিন্তু আজ যে উনি বড্ড অসহায় হয়ে পড়লেন।

শাফিন মাথার চুল খামছে ধরে বসে আছে। প্রাণ প্রিয় বন্ধু বিপদে আছে আর ও কিছু করতে পারছে না। নিজের বোনের মতো মেয়েটার জন্য কিছু করতে পারছে না ভাবতে ভিতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে।

শাফিন চোখ তুলে তাকালো সিঁড়ির কাছে বসে কান্নারত প্রীতির দিকে। সবসময় চঞ্চলতার মাঝে ডুবে থাকা মেয়েটাকে আজ দেখতে কতটা বিধ্বস্ত লাগছে। এগুলো আর সহ্য করতে না পেরে শাফিন বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে। সবার এই অসহায় মুখ বসে বসে দেখার আর সাধ্য হলো না। নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হচ্ছে আজ বন্ধু এতো বড় বিপদে এদিকে ও কিছুই করতে পারলো না। হাজারো খুজে কোনো খোঁজ মিললো না। এখনো গার্ডরা, পুলিশরা তন্য তন্য করে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

চৌধুরী পরিবারের মতো শোকের ছায়া আহমেদ পরিবারে ও মনেমেছে। ইসহাক আহমেদ মেয়েকে এভাবে হারিয়ে পাগলপ্রায় অবস্থা। প্রেশার বেড়ে যেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ইমা বোনের নিখোঁজ হওয়ার খবর আর বাবার এমন অসুস্থতার খবর শুনে ছুটে এসেছে। বাবার পাশে বসে ইমা কান্না করে যাচ্ছে প্রিয় ছোট বোনকে খুঁজে না পেয়ে।

এসবের মাঝে শুধু মাত্র ইতি বেগমকে দেখা গেলো না কষ্ট পেতে। তিনি তার মতো চুপচাপ বসে আছে কিন্তু কিছু বলছে না এখন কিছু বলা মানে নিজের কাপালে শনি ডেকে আনা তাই চুপচাপ বসে রইলেন।
————————————-
ইয়ানা অনেক কষ্টে বাঁধা হাত দিয়ে পারফির পকেট থেকে ছোট একটা ছু/রি বের করলো। পাশাপাশি চেয়ারে বেঁধে রাখা হয়েছে যার জন্য অনেক কষ্টে এক হাত পারফির পকেট পর্যন্ত নিতে সক্ষম হলো।

পারফির পকেটে সবসময় ছোট খাটো একটা ছু/রি রেখে দেয় যেটার কথা মনেই ছিলো না এতো সময়। হঠাৎ তখন মনে পড়তে ইয়ানাকে ফিসফিস করে বললো ছু/রি টা বের করতে।

ইয়ানা পারফির কথায় সম্মতি দিয়ে অনেক চেষ্টার পর ছু/রি টা বের করতে সক্ষম হলো।

ছুরিটা বের করতে পারফি ফের ইয়ানাকে ফিসফিস করে বললো এবার আস্তে আস্তে আমার হাতের বাঁধনটা কাঁটার ট্রাই করো।

ইয়ানা দুর্বল শরীর নিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো আ…আপনার হাতে ল..লাগবে।

তা তুমি ভেবো না আগে আমাদের এখান থেকে বের হতে হবে। যা বলছি সেটা করো কুইক।

ইয়ানা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে ছু/রি দিয়ে দড়ি কাটার চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু শরীরে বিন্দু পরিমাণ শক্তি নেই হাত প্রচন্ড কাঁপছে। কাঁপতে কাঁপতে হাত থেকে ছু/রিটা পড়ে যেতে নিলো কিন্তু পড়ার আগে ধরতে সক্ষম হলো।

পারফি ইয়ানার অবস্থা দেখে বললো বিড়াল ছানা একটু মনে সাহস জোগাও প্লিজ। আর একটু কষ্ট করো এর পর তোমাকে কোনো কষ্ট পেতে দিবো না। একটু চেষ্টা করো দড়িটা কাটার।

পারফির কথায় ইয়ানা নিজের সবটা দিয়ে দড়িটা কাটার চেষ্টা করতে লাগলো। ছু/রির আঘাতে পারফির হাত কয়েক জায়গায় কেটে যেয়ে রক্ত বের হতে লাগলো তা দেখে ইয়ানা ঘাবড়ে গেলো। কাঁপা কাঁপা হাত আরো কাঁপতে লাগলো।

ইয়ানার অবস্থা বুঝে পারফি বললো বিড়াল ছানা আমার দিকে তাকাও। ওইটুকু আঘাতে আমার কিছু হবে না সত্যি। দেখো আমার কিছু হয় নি তুমি একটু সাহস নিয়ে কাজটা করো।

ইয়ানা তাকালো পারফির দিকে। চোখ পড়লো সেই নীলমনির দিকে। যে চোখে তাকিয়ে ইয়ানা ভরসা খুঁজে পাচ্ছে। এই প্রথম ওই নীলমনির দিকে এতো সময় তাকাতে সক্ষম হলো। যেই চোখে ইয়ানাকে আস্বস্ত করছে আমি আছিতো পাশে।

ইয়ানা ফের কাঁপা কাঁপা হাতে দড়ি কাঁটার চেষ্টা করতে লাগলো। ছু/রির আঘাত যেয়ে লাগছে পারফির হাতে তা দেখে চোখে খিচে বন্ধ করে নিচ্ছে। এভাবে লোকটাকে আঘাত করতে খুব কষ্ট হচ্ছে কিন্তু এ ছাড়া যে আর কোনো উপায় নেই।
ওই ক্ষত বিক্ষত হাতে দিকে ইয়ানার তাকাতে আর সাহস হলো না। তাই চোখ খিচে বন্ধ করে বাঁধন কাটতে লাগলো। তাকালে হয়তো ওই হাত এভাবে ক্ষত বিক্ষত করে সাহস হতো না দড়ি কাঁটার।

আরো অনেক সময় পর এভাবে কাঁপা কাঁপা হাতে দড়ি কাটতে সক্ষম হলো। দড়ি কেটে গেছে বুঝতে পেরে ইয়ানা চোখ খুললো। চোখ খুলতে চোখে পড়লো সেই নীলমনি চোখজোড়া যা ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলো।

পারফি দ্রুত এবার হাত ছুটিয়ে আরেক হাতের রশি খুললো তারপর পায়ের বাঁধন খুলে ইয়ানার হাতে পায়ের বাঁধন খুলে দিলো। ছাড়া পেতে ইয়ানার দূর্বল শরীর ধরে দাঁড় করালো। ইয়ানা সব ভুলে পারফিকে জড়িয়ে ধরলো।

পারফি একটু অবাক হলেও পরক্ষণে বুকে আগলে নিলো ইয়ানাকে। মেয়েটা প্রচন্ড ভয় পেয়ে আছে আর শরীর খুব দূর্বল বুঝতে পারলো। এখন এখান থেকে ওকে নিয়ে কোনো রকম যেতে পারলেই হবে আর কিছু লাগবে না।

#চলবে?

ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
হ্যাপি রিডিং….🥰

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here