ঘর বাঁধিব তোমার শনে সিজন ২(পর্ব ৬)

0
607

#ঘর_বাঁধিব_তোমার_শনে_২
#নুসাইবা_ইভানা
পর্ব-৬

মিহা উপরে, উপরে ভালো থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরে সে একটুও ভালো নেই। একরাশ মন খারাপ ঘিরে রেখেছে তার ছোট হৃদয়টাকে। আজকে সারাদিনে তার লেখক মহাশয়ের সাথে কথা হয়নি।

হলরুমেই বসে ছিলো ফারিন আর মিহা। কলিং বেলের শব্দ আসতেই। দৌড়ে দরজা খুলতে যেয়ে চেয়ারের সাথে বা’ড়ি খেয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে দরজটা খুলে দেয়। সদ্য ব্যথা পাওয়ায় কপাল কুঁচকে গেছে। মিহা সামনে তাকাতেই দেখে কেউ অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মিহা ভ্রু কুঁচকে বলে, কাকে চাই?

‘যুবকের ভাবলেশহীন উত্তর, তোমাকে।

মিহা বিরক্ত নিয়ে বলে, লিমিটের একটা ফাজলামো আছে?

– শুনেছি সুন্দরী মেয়েরা রেগে গেলে উল্টো পাল্টা কথা বলে!আজ প্রমাণ পেলাম। আসলে কথাটা হবে,ফাজলামো করার একটা লিমিট আছে।

মিহা দরজাটা বন্ধ করবে তার আগেই শাফিন বলে,ইশরাক বাবা কেমন আছো,দরজায় দাঁড়িয়ে কেন ভেতরে আসো।

ইশরাক পাশ কাটিয়ে ভেতরে এসে সোফায় বসলো।

মিহা পা টেনে টেনে হাঁটছে।সেটা দেখে শাফিন বলে,কিরে তোর পায়ে কি হলো দিব্বি তো ভালো ছিলি।

মিহা বলল,ওই সামান্য একটু ব্যথা পেয়েছি ঠিক হয়ে যাবে।

ফারিন আর মিহা রুমে চলে আসলো,।ফারিন মিহাকে বলল,এই ছেলেটা কে রে?

-তোর জামাই যা কোলে উঠে দুম তানানা নাচ।

– আমার জামাই নীলু। মানে নীল আমার নীল। আহা কত কিউট আর সুইট ছেলেটা।

– আমার প্রেমের তেরোটা বাজিয়ে তুই শান্তিতে প্রেম করতে পারবি না। আমি তোর প্রেমের দু’টো বাজিয়ে দেবো।

ফারিন মিহার গলা ধরে বলে,এসব কথা সাইডে রাখ আর শোন আমি এখন একটু বাহিরে যাবো নীলের সাথে দেখা করতে। বলেই রেডি হয়ে বের হয়ে গেলো। মিহা রুমে একা। মোবাইলটা হাতে নিলো। অন করবে নাকি করবে না। সেটা নিয়ে ভাবতে লাগলো।

হুট করেই মিহার রুমের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ সামনে তাকিয়ে কিছুটা ঘাবড়ে যায়। সামনে তাকিয়ে। বলে কি হলে আপু তুমি! দরজা বন্ধ করলে কেন।

– আমাকে লুকিয়ে ফেলো তো মিহা। তোমার ভাই আমাকে খুঁজে পেলে আর আস্ত রাখবে না।

– আরে ভাইয়া বাসায় তোমাকে কিছু বলবে না। আগে বলো তুমি কি করেছো।

– সে আমাকে একটা কাজ দিয়েছিল আমি কাজটা করার সাথে সাথে ভুলও করে এসেছি।

– রিলাক্স এক কাজ করো ফ্রেশ হয়ে আসো। তারপর দেখা যাবে। কিন্তু ড্রেস!

– আমার কাভার্ড থেকে যেটা পছন্দ নিয়ে নাও।

মিহা মোবাইল নিয়ে চলে আসল ছাদে। মোবাইল হাতে নিয়ে অন করবে তার আগেই কেউ ছোঁ মেরে মোবাইলটা মিহার হাত থেকে কেঁড়ে নিলো।
মিহা কিছু বলার আগেই কেউ তাকে নিজের প্রশস্ত বুকে আগলে নিয়ে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে।

মিহা পাথরে মূর্তির মতো নির্বিকার ভাবে দাঁড়িয়ে রইলো।ইশরকার মিহার কানের কাছে মুখ নিয়ে শীতল কন্ঠে বলল,তোমার শাস্তি হবে কঠিন শাস্তি হবে হৃদয়হীনা।

মিহা আশ্চর্য হয়ে বলল,লেখক মহাশয়!

-একদম আমার সাথে কথা বলবা না। জানো প্রকৃতির নিয়ম হচ্ছে দু’জন মানুষ সমান তালে ভালোবাসতে পারে না। একজন বেশি ভালোবেসে দহনে পুড়তে থাকে। অপরজন ভালোবাসি বলে, পোড়াতে থাকে।

মিহা কিছু বলবে তার আগেই ইশরাক মিহার ঠোঁঠের উপর আঙ্গুল রেখে বলে,একদম কিছু বলবে না।এই যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুধু একটা টেক্সটের জন্য চাতক পাখির মত অপেক্ষায় ছিলাম।প্রতি মূহুর্তে যে কষ্ট পেয়েছি। তার শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে বাসন্তী পরি!

ইশরাক মিহার কপালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে বলে,এবার তোমার পালা। যে জ্বালাতে জানে তাকে জ্বলতেও হয়। বলেই চলে গেলো।

মিহা যেনো ঘোরের মাঝে আছে কি হলো এটা! এই চোখের সামনে থাকা মানুষটাকে এতোদিন খুঁজেছিলো! মিহা দ্রুত নিচে চলে আসলো,।ততক্ষণে ইশরাক চলে গেছে।

মিহা রুমে এসে বোকার মতো বসে রইলো।

শেহনাজ মিহাকে বলে তোমার ভাই কখন আসবে?
মিহা যেন শুনতেই পেলো না।

শেহনাজ মিহার সামনে এসে বলে,তোমার কি হলো?

মিহা শেহনাজকে বলে,এই আমাকে একটু চিমটি কাটো তো।

শেহনাজ চিমটি কাটলো। মিহা বলল,তারমানে সত্যি আমার লেখক মহাশয় আর ওই খাম্বা একজনই আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।

– আরে কি বলছো বুঝিয়ে বলো।

প্রেমে পরেছে মন প্রেমে পরেছে,কাছের একজন মানুষ আমায় পাগল করেছে।

শেহনাজ বলে,আমি নিজে এক পা’গ’ল আমার ভবিষ্যত ননদ তারচেয়ে বড় পা’গ’ল।

মিহা বলে, ভবিষ্যত ননদ মানে!

ওই কিছু না। ওদের কথার মাঝেই শেহরোজ রুমে ঢুকে শেহনাজের দুই বাহু শক্ত করে ধরে বলে,তোমার সাহস কি করে হয় নিজেকে আমার ওয়াইফ পরিচয় দেয়ার!তোমাকে ছোট একটা কাজ দিয়েছিলাম আর তুমি আরো বিগড়ে দিলে!এতো সাহস তোমাকে কে দিয়েছে?

শেহনাজ স্থীর কন্ঠে বলল,আমি আপনাকে ভালোবাসি আর আপনাকেই বিয়ে করবো। ভবিষ্যতে যেহেতু আমি আপনার ওয়াইফ হবো সেটা আগে বললে সমস্যা কি? তাই তারা যখন জিজ্ঞেস করলো শেহরোজ মাহমুদ তোমার কি হয়? প্রথমে আমি বলিনি কিন্তু তারা আমার মাথায় পি’স্ত’ল তাক করে বলে,না বললে এখনি শেষ করে দেবো।
তো আমি ভাবলাম যদি আমি বলি আমি তোমার বউ! তাহলে আমাকে ছেড়ে দেবে।আর দেখো আমি একদম ঠিক আছি।

শেহরোজ শেহনাজকে ধাক্কা দিয়ে বলে,সিরিয়াসলি তুমি অনার্সে পড়ো!তোমার চেয়ে এইট,নাইনের মেয়ে বেশি বুঝে।শুনে রাখো মেয়ে এই বাসার বাহিরে এক পা’ও ফেলবে না। বলেই গটগট করে বের হয়ে গেলো।

শেহনাজ ভাবলেশহীন ভাবে বলে,আই লাইক ইট।

মিহা বলে,এই তোমার মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে?

-ননদী, আমি প্রেমে ডুবে গেছি আমাকে আর কেউ বাঁচাতে পারবে না।

মিহা কিছুই বুঝলোনা কি হলো এসব। এই সত্যি করে বলো-তো তোমার আর ভাইয়ার মধ্যে কিছু চলছে?

-ননদী গো ভালোবাসা চলছে ভালোবাসা।তবে সেটা শুধু মাত্র আমার হৃদয়ে।
– তুমি ভাইয়াকে কি ভাবে চিনো?

______________________________________________
শেহরোজ নিজের রুমে এসে থম মেরে বসে আছে।মেজাজ খারাপ প্রচুর। মেয়েটা নিজের সাথে সাথে তারও বিপদ বাড়িয়ে দিলো।এটাই প্রথম কেস এটার তদন্ত ঠিক মতো না করতে পারলে, হয়তো চাকরিটা স্থীয়ী হবে না।আরো জটিল হলো কাজটা।

শাফিন শেহরোজের রুমে এসে শেহরোজের পাশে বসলো। শেহরজের কাঁধে হাত রেখে বলে,তোমার মা কোনদিন তোমার এই প্রফেশন মানবে না।আমি তোমাকে ফোর্স করবো না শুধু এতোটুকু বলতে চাই, নিজের মায়ের জন্য হলেও পড়ালেখায় ফোকাস করো। আমি যেই প্রফেশনে আছি সেটায় তোমার আসতে হবেনা। বাকিটা তোমার ইচ্ছে। এখন কিছু বলতে হবে না। ঠান্ডা মাথায় ভেবে বলো আমাকে। আমি তোমাকে জোড় করবো না।

শেহরোজ শাফিনের হাত ধরে বলে,বাবা এখন তো আর ফিরে আসতে পারবো না। আমি অলরেডি সিআইডি হিসেবে কাজ করছি। রিসেন্ট যে স্টুডেন্ট জ’ঙ্গি সংস্থা আছে তাদের মূল হোতা খুঁজে বের করার দ্বায়িত্বে আছি।

– এতো বড় একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একবারও আমাকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করোনি!

– সরি বাবা কিন্তু আমি সিআইডি অফিসার হতে চাই।

– এখন কেন বলছো? তুমি তো নিজের ইচ্ছে পূরণ করেই ফেলেছো। তোমার যা ইচ্ছে কর।

– বাবা।

– তোমাকে জন্ম দেয়া থেকে এই পর্যন্ত আনতে আমাদের কোন কষ্ট হয়নি। তোমাকে নিয়ে আমাদের কোন স্বপ্ন নেই। কিছু বললেই তোমরা বলবে, বাবা মা নিজেদের ইচ্ছে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়। কখনো এটা ভেবে দেখেছো! যেদিন তোমার মা জানতে পেরেছিল তুমি পৃথিবীতে আসবে, সেদিন থেকে সে তোমাকে নিয়ে কতশত স্বপ্ন দেখেছে! সে-সব তো মূল্যহীন এসব ইচ্ছের কোন মানে আছে নাকি? আর আমি নিজের স্বপ্ন নিজের ইচ্ছের কথা না হয় বাদ দিলাম।

শাফিন শেহরোজের হাত ছাড়িয়ে চলে গেলো।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here