গোধূলি লগ্নে হলো দেখা পর্ব ৫

0
88

#গোধূলি_লগ্নে_হলো_দেখা
#Part_5
#ইয়াসমিন_খন্দকার

স্টেজে উঠেই নিজের গানের যাদুতে সবাইকে বুদ করে দেয় ভিনচেঞ্জো৷ তার অতুলনীয় কন্ঠে গাওয়া সুন্দর কিছু গান সর্বস্তরের জনগণের মন জয় করে নেয়। ভিনচেঞ্জো এখন ইটালিয়ান একটা গান বলছে। যার মানে হয়তো মান্যতা বুঝতে পারছে না কিন্তু গানের ছন্দ তার মন জয় করে নিচ্ছে। ভিনচেঞ্জোর বলা গানের একটি লাইনে তার কান আটকে যায়। “তি আমো” সেই প্রিয় শব্দটা। মান্যতা তো অপেক্ষায় আছে কবে সে নিজের ভালোবাসার মানুষ, ভিনচেঞ্জোকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলবে, “তি আমো।”

মান্যতার ভাবনার মধ্যেই ভিনচেঞ্জোর গান শেষ হয়ে যায়। ভিনচেঞ্জো তার অনুরাগীদের উদ্দ্যেশ্যে ইটালিয়ান ভাষায় কিছু বলে যা মান্যতার বোধগম্য হয় না। সে শুধু ভিনচেঞ্জোর মোহনীয় কন্ঠেই বুদ হয়ে থাকে। ভিনচেঞ্জোর ভাবনাতে সে এতো বিভোর ছিল যে কিছু বুঝতেই পারে না। এরইমধ্যে ভিনচেঞ্জো সকলের থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়। লক্ষ লক্ষ জনগণের মধ্যে হঠাৎ করে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। মান্যতা হঠাৎ করে তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায়। কিন্তু এত ভিড়ের মধ্যে উড়ে দাঁড়াতে পারে না। মান্যতার খুব ভয় করতে থাকে। তার মনে হতে থাকে এত গুলো মানুষের মধ্যে আবার পদদলিত না হয়। তাহলে তো আর ভিনচেঞ্জোর সাথে তার দেখা হবে না। এরইমধ্যে কেউ মান্যতার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। মান্যতা সেই হাতটা ধরে উঠে দাঁড়িয়ে বলে, “Grazie.” ইতালিয়ান ভাষায় যেই শব্দটির অর্থ ধন্যবাদ। তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। লোকটিকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি ইটালিয়ান। লোকটি ইংরেজিতে মান্যতাকে বলল, “Do you know Italian? i think that you are foreigner.”(তুমি কি ইটালিয়ান ভাষা জানো? আমি ভেবেছিলাম তুমি ভিনদেশী।)

“Yes, a little bit.”(হ্যাঁ, একটু একটু।)

“Are you a big fan of Vincenzo?”(তুমি কি ভিনচেঞ্জোর বড় ভক্ত?)

“Yeah. I’m his big fan.”(হুম। অনেক।)

“Do you want to meet with him?”(তুমি কি তার সাথে দেখা করতে চাও?)

“Yeah. I want.”(হ্যাঁ, আমি চাই।)

“Okay…Let’s go with me. I know vincenzo. I can introduced you with him..”(ঠিক আছে। আমার সাথে চলো। আমি ভিনচেঞ্জোকে চিনি। আমি তার সাথে তোমার পরিচয় করে দিতে পারি।)

“Really?”(সত্যি।)

“Yeah. Come Come.”(হ্যাঁ, এসো আমার সাথে।)

মান্যতা লোকটিকে বিশ্বাস করে নেয় এবং তার সাথে যেতে থাকে। কিছুদূর যাওয়ার পরেই লোকটি কাউকে একটা ফোন করে ইটালিয়ান ভাষায় বলে,”মিশন কমপ্লিট। আমি এখানে একজন ভিনদেশি বোকা মেয়েকে পেয়েছি। মেয়েটা মনে হয় ভিনচেঞ্জোর অনেক বড় ভক্ত। ওকে যেই না বলেছি আমি ভিনচেঞ্জোকে চিনি এবং তার সাথে দেখা করিয়ে দিতে পারব সেই ও নাচতে নাচতে আমার সাথে আসতে রাজি হয়েছে। বোকা মেয়ে।”

বিপরীত দিক থেকে বলে,”এমন বোকা মেয়েদেরই তো আমাদের দরকার। মেয়েটা সুন্দর আছে তো?”

“মেয়েটা মনে হচ্ছে এশিয়ান। হ্যাঁ, সুন্দর আছে।”

“তাহলে নিয়ে এসো ওকে। বস খুব খুশি হবেন। ওনার তো এশিয়ান মেয়ে অনেক বেশি পছন্দ।”

“উনি তো সব কন্টিনেন্টের মেয়েকেই পছন্দ করেন।”

বলেই ফিচেল হেসে ফোন রেখে দেন। অতঃপর মান্যতাকে নিয়ে নিজের সাথে চলতে থাকেন। এদিকে বোকা মান্যতা বুঝতেই পারে না সে কোন বিপদের দিকে পা বাড়াচ্ছে। ১৮ বছর বয়সী মেয়েটা দুনিয়ার প্যাচ তেমন বুঝতে শেখে নি। সে লোকটার কথাকেই সত্য ভেবে নিয়েছে৷ তাছাড়া লোকটা তখন তাকে সাহায্য করায় লোকটির উপর ভরসাও তৈরি হয়েছে। মেয়েটা ভিনচেঞ্জোর জন্য এতটাই পাগল যে ভিনচেঞ্জোর কথা শুনে কোন কিছু বিবেচনা না করেই লোকটার সাথে আসতে রাজি হয়েছে। লোকটি একটি গাড়ির সামনে এসে মান্যতাকে সেটিতে চড়তে বললো৷ মান্যতা জিজ্ঞেস করল,”গাড়িতে করে কোথায় যাব?”

লোকটি বলল,”ভিনচেঞ্জো দূরে একটা রিসোর্টে আছেন৷ তুমি গাড়িতে উঠে বসো। আমি তোমাকে সেখানে নিয়ে যাচ্ছি।”

“আচ্ছা।”

~~~~~
অনুরাগ যথাস্থানে ফিরে এসে মান্যতাকে দেখতে না পেয়ে বলতে থাকে,”মান্যতা গেলো টা কোথায়? ওকে তো এখানেই থাকতে বলেছিলাম। ভিড়ের মধ্যে আবার কোথাও হারিয়ে গেল না তো?”

অনুরাগ এদিক ওদিক খুঁজে মান্যতাকে। খুঁজে না পেয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তাকে ফোন লাগায়। অন্যদিকে, মান্যতা তখন গাড়িতে করে যাচ্ছিল। অনুরাগের কল দেখে সে বিড়বিড় করে বলে,”ফোনটা রিসিভ না করাটাই ভালো হবে। এখন ফোন রিসিভ করলে উনি হাজারটা প্রশ্ন করবেন। আমি তখন কি উত্তর দেব? আগে ভিনচেঞ্জোর সাথে দেখা করি। তারপর ওনার সাথে কথা বলে নিবো।”

এদিকে মান্যতা ফোন রিসিভ না করায় অনুরাগের চিন্তা বাড়ে। সে নিজেকেই দোষ দিয়ে বলতে থাকে,”আমারই ভুল হয়েছে। মান্যতাকে এভাবে একা ছেড়ে যাওয়াই আমার উচিৎ হয়নি। কিন্তু আমার তো এছাড়া আর কোন উপায় ছিলই না। কি করব এখন? না, আমায় হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। কিছু করতে হবে। মান্যতার কোন বিপদ হয়ে গেলে আমি কখনো নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।”

~~~~~~“
মান্যতাকে একটি রিসোর্টে নিয়ে এসে নামায় মধ্যবয়সী লোকটা। তারপর মান্যতাকে গাড়ি থেকে নামতে বলে৷ মান্যতা গাড়ি থেকে নেমে তাকে জিজ্ঞেস করে, “আমাকে এখানে নিয়ে এলেন কেন আপনি? ভিনচেঞ্জো কি এখানেই আছে?”

লোকটি সম্মতি জানায়। মান্যতা খুশি হয়ে যায়। আর কিছুক্ষণ পরেই সে নিজের স্বপ্নের পুরুষের দেখা পেতে চলেছে। লোকটি অন্য একটি লোকের হাতে মান্যতাকে তুলে দিয়ে বলে,”ইনি তোমায় ভিনচেঞ্জো অব্দি নিয়ে যাবে।”

মান্যতা খুশি মনে লোকটির সাথে যেতে রাজি হয়। মান্যতা যেতে নিতেই লোকটি বাকা হেসে বলে,”বোকা মেয়ে। এবার তুমি আমাদের বসের শিকার হবে।”

~~~~
কুচকুচে কালো অন্ধকার একটি রুম। সেই রুমেই বসে রয়েছে সাদা ধবধবে ভেনাস। তার হাতে শোভা পাচ্ছে সুরা(মদ)। তার চারিপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কয়েকজন রমণী৷ যাদের পড়নে খুবই অশোভন বস্ত্র। কয়েকজন নারী ভেনাসের চারিপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে তো কেউ আবার তার মুখে সুরা(মদ) তুলে দিচ্ছে।

ভেনাস সেই মেয়েদের স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত বুলাচ্ছে এবং বলছে,”এজন্যই গুরুজনরা বলে টাকা থাকলে জীবনে কোন কিছুর অবাক হয়না। যখন আমার টাকা ছিলনা তখন আমি সব হারিয়েছি। নিজের পরিবার, নিজের প্রেমিকা সব। আর আজ যখন আমার কাছে টাকা রয়েছে তখন আমার কাছে আমার প্রেমিকার থেকেও সুন্দরী হাজার হাজার রমণী রয়েছে।”

বলেই সে একটা মেয়েকে কাছে টেনে তাকে চুম্বন করতে শুরু করে দেয়।

ইতিমধ্যে মান্যতাকে নিয়ে ভেনাসের রুমে আসে ঐ লোকটি। মান্যতা এখানকার পরিস্থিতি দেখে ঘাবড়ে যায়৷ দৌড়ে পালানোর বৃথা চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। লোকটি মান্যতার হাত শক্ত করে চেপে ধরে। তাকে নিয়ে এসে ছু’ড়ে মা*রে ভেনাসের দিকে। তারপর বলতে থাকে,”এই নিন বস। আপনার নতুন শিকার।”

মান্যতা ভয়ার্ত কন্ঠে আর্তনাদ করে ওঠে। ভেনাস উঠে দাঁড়িয়ে মান্যতার কাছে আসে। মান্যতার সামনে এসে বলে,”What’s your name.”

মান্যতা ভয়ার্ত কন্ঠে বলে,”মান্যতা।”

“Your name is so beautiful. And you are more beautiful.”

মান্যতা কেদে উঠল। তাকে কাঁদতে দেখে ভেনাস বলে,
“Why you are crying?”

মান্যতা কিছু না বলে কাঁদতে থাকে। সে বুঝতে পারে অনেক বড় বিপদে পড়ে গেছে।

To be continue

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here