আমি অর্ষা পর্ব ৪

0
89

#আমি_অর্ষা
#মেঘাদ্রিতা_মেঘা
#পর্ব_৪
আ আ আপনার বাসা টা কোথায় বলা যাবে?
_ওহ হো,আপনাকে তো আমার বাসা কোথায় সেটাই বলা হয়নি।
আমার বাসা হচ্ছে, মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে।
তার কথা শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।

আমি স্তব্ধ হয়ে আছি।ভাবছি আর ভাবছি।

_কি হলো ধরবেন না হাত?

আমি ওকে বল্লাম,
_আপনি যা বলছেন,ভেবে বলছেন তো?
_আমি ভেবেই বলেছি।
_আপনি কত টুকু জানেন আমার সম্পর্কে?
_আমার কিছু জানার দরকার নেই।আমি তোমাকে দেখে ভালবেসেছি আর কিছু জানার দরকার নেই।
_আপনি আমার পরিবার সম্পর্কে জানেন না,আপনি আমার বাবা কি করেন তা জনেন না।
আমি ধনী না গরীব তা জানেন না।
কিছু না জেনেই আমাকে পছন্দ করে ফেললেন?
_আজব তো,আমি বিয়ে করবো তোমাকে।
তোমার বাবা কি করে,তোমরা ধনী না গরীব তা দিয়ে আমার কি কাজ।আমার ওসব জানতে হবেনা।
সরি তুমি বলে ফেললাম।
আমি কি তোমাকে তুমি করে বলতে পারি?
_জ্বী বলুন সমস্যা নেই।
_শোনো,আমি তোমাকে ভালবাসি।
আর কিছুই জানতে হবেনা আমার।
_শুনুন আমি কিন্তু গরীব ঘরের মেয়ে।এখনো কি আপনি অটল আপনার কথায়?
_হ্যাঁ।
_তাহলে আমার কথাও আপনি শুনুন।
আমি প্রেম ভালবাসায় বিশ্বাসী না।
তাই আমি যদি করি,একবারে বিয়ে করবো।
আপনি কি পারবেন তা করতে?
_অবশ্যই পারবো।
_তাহলে আপনি আপনার মত চলতে থাকুন।
আমি আমার মত চলতে থাকি।
যা হবার আমার পরীক্ষার পর হবে।

_আচ্ছা আমি রাজি।
_তাহলে আসছি।
আর একটা কথা,আপনি যে আমাকে ভালবাসেন।
বা আমাদের মধ্যে যে কথা হয়েছে।
এই কথা যেন শুধু আমাদের দুজনের মধ্যেই থাকে।
আমি চাইনা বিয়ের আগে কেউ কিছু জানুক কেমন?
কথা টা মাথায় রাখবেন।

_মনে থাকবে।
আর একটা কথা,আমি কিন্তু অপেক্ষায় থাকবো।

আমি একটা অদ্ভুত হাসি দিয়ে বললাম।
কখনো কখনো অপেক্ষার ফল কিন্তু তিতাও হয়।
_আমার টা মিষ্টিই হবে।
_দেখা যাক।

এর মধ্যে অরণ্য আর শিলা আপু বাইরে চলে যায়।
শিলা আপু আমার সাথে দেখা করে গেলেও।
অরণ্য যাবার সময় দেখা করা তো দূর আমার ত্রিসীমানায় ও আসেনি।
বুঝলাম না সে কেন এমন করলো।

স্বাভাবিক ভাবেই চলছে আমার জীবন।
দেখতে দেখতে অনেক গুলো দিন চলে যায় সামনে আমার পরীক্ষা।

রুনা আমি প্রেমা মন দিয়ে পড়াশোনা করছি।
যাতে আমাদের পরীক্ষা টা ভালো হয়।
অনেক স্বপ্ন আমার পড়াশোনা নিয়ে।
আমার যে অনেক বড় হতে হবে।

একদিন হঠাৎ আন্টি এসে আমাকে বলেন,
জানো মা মন টা কেমন যেন করছে।
অরণ্য এবার বাইরে যাবার পর থেকে ঠিক মত কথাই বলেনা আমাদের সাথে।
কথা বল্লেও কেমন যেন মন মরা হয়ে থাকে।
কিছুই ভালো লাগছেনা মা।

আমি আন্টিকে স্বান্তনা দিয়ে বললাম,
আপনাদের জন্য খারাপ লাগেতো।
সেই জন্য মন মরা হয়ে থাকে।
আর কথা বললে হয়তো কান্না চলে আসে,তাই হয়তো কথা বলছেনা ঠিক মত।
কিছু দিন যাক।
ঠিক হয়ে যাবে।
_তাই হবে হয়তো।
আচ্ছা মা পড়ো তুমি।
আমি আসি।মন দিয়ে পড়বে।

_জ্বী আচ্ছা আন্টি।
আসবেন কিন্তু আবার।
_তুমিও যেও।

আন্টি চলে যান।
আমি মনে মনে ভাবতে থাকি,আসলেই কি অরণ্য এই জন্য এমন করছে?
নাকি অন্য কোন কারণ আছে?

যাকগে,এখন পড়াশোনায় মন দিতে হবে আমার।
অন্য কোথাও মন দিলে চলবেনা।

অবশেষে একে একে আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়।

এরপর একদিন আমি ছাদে কাপড় আনতে গেলে তুর্জ এসে আমাকে বলে,পরীক্ষাতো শেষ।
এবার কি আমাদের প্রেম টা হবে?

_আগেইতো বলেছি,প্রেম ভালবাসায় বিশ্বাসী না আমি।
_তাহলে চলো এবার বিয়ে করে ফেলি।
_ভেবে বলছেন?
_হুম বলছি।
কারণ আমার বউ পালার ক্ষমতা আমার আছে।
একটা জব করছি।
বাবা মায়ের এক মাত্র সন্তান।
আমার বাবার ও কম নেই।
তাই কি দরকার দেরি করার।
চলো তাহলে করে ফেলি বিয়ে।

_আচ্ছা বাসায় গিয়ে আয়োজন করুন তাহলে।
আপনার তো আমার পরিবার নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই।
আপনি তো আমাকে ভালবাসেন, তো বিয়েতে আমি আসলেই তো হয় শুধু তাইনা?

_বিয়ের কথা সত্যি বলছো?নাকি ফান করছো?
_ফান কেন করবো?
_দেখো,আমি মানছি তুমিই আমার প্রথম প্রায়োরিটি।
তবুও,বিয়ের মত বড় একটা বিষয় তোমার পরিবারের সাথে কথা বলা তো উচিৎ।
তারা আমাকে দেখবে।
আমার বাবা মায়ের সাথে কথা বলবে।

_আমি যেখানে পছন্দ করবো তারা সেখানেই রাজি।
আমি বাসায় আপনার কথা বলবো।
আপনি বিয়ের আয়োজন করুন যদি চান।
আমি বিয়ের দিনই একবারে আপনার বাসায় উপস্থিত হবো,আমার বাবা মাকে নিয়ে।
আপনি রাজি?

_একদম রাজি।
তোমাকে এ কয়দিনে যতটুকু আমি চিনেছি বুঝেছি।
তুমি প্রতারণা করার মত মেয়ে না।
তুমি আমাকে ঠকাবা না এই বিশ্বাস আমার আছে।

_দেখুন,বিশ্বাস করা ভালো।
তবে অতিরিক্ত বিশ্বাস নয়।
তাহলে কিন্তু পস্তাতে হয়।

_হা হা হা।
এই মেয়ে দেখছি ভয় দেখায় আমায়।
_ভয় না।
সত্যি বললাম।
_আসলে কি জানো,তোমাকে দেখার পর থেকে আমি না পারি ঠিক মত খেতে,না পারি ঘুমাতে।
আমার মন শুধু তোমার কাছেই পড়ে থাকে।
তোমার সৌন্দর্য আমায় পাগল করে দিয়েছে।

তাই আমি চাই তোমার মন টাকেও বন্দি করতে।
আর সাথে তোমাকেও চিরদিনের মত বন্দি কর‍তে আমার জীবনে।
আমি তোমার জন্য পাগল ই হয়ে গেছি।
তোমার প্রেমে পাগল হয়ে গেছি।

আমি আমার বাবা মাকে বলে সামনের শুক্রবারই আমাদের বিয়ের আয়োজন করতেছি।

আমি মুচকি হাসলাম।
তুর্জ চলে যায়।

তুর্জ একদিনের জন্য বাসায় গিয়ে ওর বাবা মাকে বলে,ও একটা মেয়েকে ভালবাসে।
তারা যেন শুক্রবার বিয়ের আয়োজন করেন।
শুক্রবার দিন ও কনে কে নিয়ে বাসায় আসবে।
তারপর ই বিয়ে।

তার বাবা মা তাতে রাজি হননা।
কারণ কোন বাবা মা ই এমন করে রাজি হবার কথা না।

চেনা নেই জানা নেই,পরিচয় কি,বাড়ী কোথায়।
এসব না জেনে কোন অবিভাবকেরই রাজি হবার কথা না তার সন্তানের বিয়ের জন্য।

তুর্জর একই কথা।
আমি মেয়েকে চিনি।
তোমাদের তো চিনতে হবেনা।
আর যদি তোমরা এ বিয়েতে রাজি না হও তাহলে আমি আর জীবনে বিয়েই করবোনা।
আর না এ বাড়ীতে আসবো।

শেষমেস তার বাবা মা ছেলের কথায় রাজি হন।
কারণ এক মাত্র ছেলে।
যদিই সত্যি সত্যি বাড়ী ছেড়ে এক বারে চলে যায়।

এই জন্য তারা রাজি হন।

আর শুক্রবারে বিয়ের প্রস্তুতি নেন।
তাদের আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত করেন শুক্রবার তাদের বাসায় আসার জন্য।
তাদের ছেলের বিয়ে উপলক্ষে।
মেয়ে সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন,বিয়ের দিন ই দেখতে পারবে।
অপেক্ষা করো।

তুর্জ আমার কাছে জানতে চায় আমার কেমন শাড়ি পছন্দ।
তাহলে ও সেরকম শাড়ি কিনবে।
আমি তাকে বলি,আমার কোন পছন্দ নেই।
তার যেমন ইচ্ছে সে যেন কিনে।

তুর্জ আমাকে বলে,

_আম্মু আব্বু কিন্তু আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত করে ফেলেছেন।
শুক্রবার আমাদের বিয়ে।
এবার বলো আমি কি তোমার সাথে তোমাদের বাসায় গিয়ে তারপর তোমার বাবা মাকে আর তোমাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাবো?

_নাহ।
_তাহলে?
_আমি বৃহষ্পতি বার রুনা আর প্রেমাকে নিয়ে আমাদের বাসায় চলে যাবো।
আর শুক্রবার সকালে ওদের তিন জন আর বাবা মাকে নিয়ে আপনার বাসায় চলে আসবো।
আপনি শুধু ঠিকানা টা দিয়ে রাখুন আমায়।

_তুমি কি বাসায় জানিয়েছো আমার কথা?
আমাদের বিয়ের কথা?
_নাহ।
এখনো বলিনি।
বাসায় গিয়ে সামনাসামনি বলবো।
তারা আমার কথা ফেলতে পারবেন না।
_এতটা কনফিডেন্স?
_আমি আমার বাবা মাকে চিনি।
_দেখো কিন্তু,
কোন রকম কিছু হলে, আমি আমার আত্মীয় স্বজনদের সামনে বাবা মায়ের সামনে মুখ দেখাতে পারবোনা কিন্তু।

আমি তোমাতে এতটাই মুগ্ধ হয়ে গেছি,এতটাই পাগল হয়ে গেছি যে তুমি যা বলছো তাই করতেছি।
আমার সাথে প্রতারণা করোনা কিন্তু।

_হুম।
আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
_করো।
_আপনি আমার কি দেখে ভালবেসেছেন?
_বোকা মেয়ে।
আয়নায় নিজেকে কখনো দেখোনি?
তোমার মত এত সুন্দরী মেয়েকে কে না ভালবাসতে চাইবে?
_তাহলে আমি সুন্দর বলে আপনি আমাকে ভালবেসেছেন?
আমি যদি অসুন্দর হতাম?
ভালবাসতেন না তাইনা?
জানেন,সৌন্দর্য দেখে যারা ভালবাসে,তাদের ভালবাসা কিন্তু বেশি দিন থাকেনা।
মোহ কেটে গেলেই সব শেষ।

_যাও তো।কি সব বকবক করছো।
বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নাও।

চলে আসে বৃহষ্পতি বার।

আমি রুনা আর প্রেমাকে নিয়ে বাসায় চলে যাই।
কিন্তু ওদের আসল কারণ বলিনা কেন যাচ্ছি।
বলি যে,বাবা মায়ের জন্য মন টা কেমন করছে তাই যাচ্ছি।

ওদিকে তুর্জও বাসায় চলে যায়।

বৃহষ্পতিবার বাসায় পৌঁছানোর পর তুর্জ আমাকে ফোন দিয়ে বলে,

সব কিছু কত দ্রুত হয়ে যাচ্ছে তাইনা?
ভালো মত পৌঁছেছো?
রাস্তায় কোন সমস্যা হয়নিতো?

_না কোন সমস্যা হয়নি।
_বাবা মাকে জানিয়েছো?
_না।
_তাহলে?
_কাল একবারে বলবো।
_যদি না মানেন?
_একবারে আপনার বাসায় নিয়ে এসে সব বলবোতো।
তখন না মেনে কই যাবে?

_আচ্ছা তোমার বাবা কি খুব রাগী?
_কেন?
_না,এই যে এত লুকোচুরি করছো তাই মনে হচ্ছে।
মনে হচ্ছে তুমি তাকে খুব ভয় পাও।
_তেমন কিছুনা।
_তাহলে আমাকেও যে একটু পরিচয় করালে না।
_কাল তো করাচ্ছি ই।
_সকাল সকাল চলে এসো কিন্তু।
নাকি আমি নিতে আসবো?
_আমিই চলে আসবো।

পরের দিন শুক্রবার।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবা মাকে বলি,
আজ তোমাদের আমার সাথে এক জায়গায় যেতে হবে।
তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেন,কোথায়?

আমি তাদের বলি,গেলেই বুঝতে পারবে।
তোমরা রেডি হয়ে নাও।
আমি রুনা আর প্রেমাকে বলে আসছি।

এরপর রুনা প্রেমা রেডি হয়ে আসে,আব্বু আম্মুও রেডি হয়ে যায়।
আমিও কোন রকম রেডি হয়ে নেই।

আর সবাইকে বলে নেই,আমি তোমাদের যেখানে নিয়ে যাচ্ছি চুপচাপ সেখানে যাবে।
কোন রকম কোন প্রশ্ন করবেনা।

আমার বাবা মা খুব সহজ সরল তাই তারা আমার কথাতেই আচ্ছা বলেন।

আমি সবাইকে নিয়ে চলে যাই তুর্জদের বাসায়।

বাবা মা আমার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবেন,তখনই আমি তাদের বলি,

আগেই বলেছিলাম কোন প্রশ্ন না।আমার উপর তোমাদের বিশ্বাস আছে না?
_আছেতো মা,কিন্তু এখানে..
_কোন কথা না।
তোমরা দুজন আগে ভেতরে যাও।
আমি রুনা প্রেমা তোমাদের পেছনে আছি।

তুর্জদের বাসার সামনে তুর্জ আর ওর বাবা দাঁড়িয়ে আছেন।
বাসায় অনেক মেহমান।

আমি রুনা প্রেমা মেইন গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি একটা গাছের আড়ালে।

_অর্ষা,তুই আমাদের এখানে নিয়ে এলি কেন?
বলেছিনা কোন প্রশ্ন করবিনা।

চল আমার সাথে,

বাবা মা ধীরেধীরে তুর্জদের বাসার দিকে প্রবেশ করছেন।

বাবাকে দেখেই তুর্জর বাবা একটা হাসি দিয়ে বলেন,

_আপনারা এখানে?যাইহোক এসেছেন খুব ভালো করেছেন।
আসুন ভেতরে এসে বসুন।
_বাবা,উনারা কারা?
_কি আর বলবো,উনারা আমাদের পাশের এলাকার।ওই যে তোর যে বিয়ে ঠিক করেছিলাম।ওই মেয়ের বাবা আর মা।
তাদের মেয়ের সাথেই তোর বিয়ে ঠিক করেছিলাম।
কিন্তু তুই তো…
_ওহ ওই যে ওই জেলে পরিবার।
তোমার কি আমার বিয়েতে দাওয়াত দেয়ার জন্য মানুষ কম পড়ে গিয়েছিলো?
যে তোমার ওই জেলে পরিবারকে আমার বিয়েতে দাওয়াত দিতে হয়েছে?
(রাগের সাথে)

আমার বউ এর বাড়ীর লোকজন এসে যখন বলবে এরা কারা,
তখন কি পরিচয় দিবে তুমি?
আমার মান সম্মান কই থাকবে তখন?

দেখুন, আপনারা কিছু মনে করবেন না।
আজ আমার বিয়ে।
আমি চাইনা আমার বিয়েতে আপনারা এখানে উপস্থিত থাকেন।
তাই প্লিজ এখান থেকে চলে যান।

আর আপনারাও কেন বুঝেন না,
যে তেলে জলে কখনোই মিশ খায়না।
তবুও কেন চলে আসেন?
আপনারা যাবেন জেলে পরিবারের সাথে আত্মীয়তা করতে।আমাদের সাথে নয়।

সেই মুহূর্তে আমি গিয়ে তুর্যর গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেই।

আর তুর্য আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

চলবে..

(আমি একটু অসুস্থ তাই লেইট হচ্ছে,আশা করি বুঝবেন।
আর গল্প তো গল্পই. কেউ বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে কোন বাজে মন্তব্য করবেন না প্লিজ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here