অন্যরকম তুমিময় হৃদয়াঙ্গণ পর্ব ১

0
120

“দাদি এই কোন পাগলের সাথে আমার বিয়ে দিল? বউয়ের শাড়ির আঁচলে হাত দিলাম। এতেই ফুলদানি ছু*ড়ে মা’র’ল। যেখানে আজরাফ ফাহিমের সাথে কথা সকলের শরীর কাঁপতে থাকে। সেখানে ঐ পাগল মেয়ের সাহস কত বড় আমার দিকে ফুলদানি ছু*ড়ে দেওয়ার?”

বাসর রাতে সদ্য বউয়ের কাছ থেকে অপমানিত হয়ে মাথা গরম হয়ে গেল হলো আজরাফ ফাহিম এর। ফুলদানির কাঁচের বোতল তার কপালের সাথে বা*রি লাগায় কপালের কিঞ্চিৎ কেটে যায়। দাঁতে দাঁত চেপে ধাক্কা দিয়ে বউ কে বিছানায় ফেলে দেয়। রাগের বশে বেডসাইড টেবিলে রাখা সিগারেটের অর্ধাংশ ছাই ছাই হয়ে যাচ্ছে। শেষটুকু ছাই হওয়ার পূর্বেই সেটি নিয়ে বউয়ের মেহেদী রাঙানো হাতে চেপে ধরে। মেয়েটি চিৎকার করতে নিলেই আজরাফ ধমকে উঠে। ঘোমটার আড়ালে মেয়েটি ঠোঁট চেপে নিভৃতে কান্না করতে লাগল। আফরাজ প্রায় তিন’মিনিট সময় পুরে যেতেই সিগারেটটি চেপে মুচড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিল। মেয়েটির দিকে চেয়ে পাত্তাহীন হেসে রুমের বাহিরে গিয়ে চিৎকার করে তার বন্ধু আকবরকে ডাক দেয়। আকবর তো নিজের বউয়ের সঙ্গে একটু সোহাগ করতে নিচ্ছিল। কিন্তু তা আর হয়ে উঠল না। জ*ল্লা*দ বন্ধুর চিৎকারে ধরফড়িয়ে বউয়ের শরীরের উপর থেকে উঠে পড়ল। আকবরের বউ মিসেস কুসুমা মুখ কুঁচকে বলে,

“উফফ যখনই জামাইয়ের আদর খেতে যাবো। তখনই তোমার বন্ধু নতুন নতুন তালবাহানা শুরু করবে। এসবের মানে কি? দাদী বউ এনে দিল । তাও তোমার বন্ধুর অভিযোগ এর শেষ নেই?”

আকবর চুপটি করে নিজের লুঙ্গি গিট মে*রে বউয়ের কথার জবাব দিল না। তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে গেল। মিসেস কুসুমা নিজের বুকের উপর ব্লা’উ’জ জড়িয়ে নিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেন। মনে মনে দু’বন্ধুকে একদফা বকাঝকা করে চোখ বুজে নেয়। আজরাফ তার বাসর রুম থেকে সোজা স্টাডিরুমে গিয়ে ফাস্ট এট বক্স বের করল। মেয়েটিকে মনে মনে শ’খানেক গা’লি দিতে থেকে কপালের কাঁটা অংশের ব্যান্ডেজ করে নিল । তবে এতেও তার মাথা ঠান্ডা হলো না। রুমের মধ্যে এপ্রান্ত-ওপ্রান্ত পায়চারি করে চলেছে। আকবর কে সামনে জ্যান্ত পেলেই চিবিয়ে খাবে। তখনি স্টাডি রুমে ধরফড়িয়ে চলে এলো তার বন্ধু আকবর। আজরাফ
সিংহের মত গজরিয়ে বলে,

“আকবর সত্যি করে বল ? দাদী যে মেয়েকে আমার জন্য বউ করে আনলেন। সে কি পাগলা গরাদের রোগী ছিল?”

জ*ল্লাদ বন্ধুর কথা শুনে আমতা আমতা করতে লাগল আকবর। আজরাফ দাঁতে দাঁত চেপে কিছু বলার পূর্বেই তার পিঠে ধরাম করে কে যেন মে*রে দিল। দু’জনে চমকে তাকায়। আজরাফ এর দাদী খাদিজা বেগম লাঠি ধরে দাঁড়িয়ে নাতির কর্মকাণ্ড পরখ করছিলেন। দাদীকে দেখে চোখ-মুখ কালো করে অভিমান মিশ্রিত গলায় বলে,

“এই তুমি ঠিক করলে না। নিজের জন্য পাগলী সতীন নিয়ে এলে। এটা কোনো কথা? জানো বাসর ঘরে ঢুকতেই ফুলদানি দিয়ে আঘাত করল। ভাবো ভবিষ্যতে তো আমার জীবন তেজপাতা বানিয়ে ছাড়বে ঐ মেয়ে।”

“একদম ভালো হবে। ইচ্ছেকৃত তোর জন্য আমি ঐ মেয়েকে ধরে বেঁধে এনেছি। সারাদিন ব্যবসা সামলে বাসায় ফিরে কখনো নিজের দিকে খেয়াল করেছো ? একজন সঙ্গী না থাকলে জীবনটা আধমরা লাগলে-রে নাতি।”

“ব্যস দাদী প্লিজ ! তোমার ঐ সামান্য টাকার নাতবউকে আমার চোখের সামনে থেকে সরাও। আই সোয়্যার আই উইল কিল হার উয়েন আই সি হার এগেইন।”

আজরাফ এর কাঠিন্য মুখশ্রী দেখে দাদী আর আকবর চমকে গেল । আজরাফ এর কপালে ব্যান্ডেজ দেখে দু’জনে অবাক হয়েছে। ব্যাপার কি না বুঝতে পারলেও। এটুকু আন্দাজ করতে পারল রুমের ভেতরে নিশ্চিয় বড় কিছু ঘটেছে । দাদী বিনা বাক্য ব্যয় করে নাতির রুমের দিকে পা বাড়ায়। আকবর কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই রাগে ধুপধাপ পা ফেলে বাহিরে চলে যায় সে। তার পেছনে গার্ড যেতে নিলেই আজরাফ তাদের কে হাতের ইশারায় থামিয়ে দেয়। এ দেখে আকবর বিরক্ত চোখে তার পরিচিত গার্ডকে ঠিক দেয়। তার দিকে চেয়ে বলে,

“শোন ভাইয়া এখন রেগে বাহিরে যাচ্ছে। তার পেছনে গার্ড পাঠাও রাইট নাউ।”

“ইয়েস স্যার।”

দাদী খাদিজা বেগম নাতির রুমে এসে নাতবউ কে কোথাও না পেয়ে ভ্রু নেড়ে বারান্দায় গেলেন। দেখতে পেলেন , ছোট বাচ্চার মত নিজেকে চেপে ধরে বির বির করে কি যেনো প্রলেপ করে চলেছে নাতবউ। খানিক চিন্তিত হয়ে তিনি নাতবউ কে আদুরে কণ্ঠে ডাক দিয়ে উঠলেন।
“নাতবু শোনছো?”

দাদীর মোলায়েম কণ্ঠে মেয়েটি ছলছল চোখে তাকায়। নাতবউয়ের চোখে পানি দেখে তিনি ঠান্ডায় এগোতেই “আহহহ” করে মৃদু শব্দ করে উঠলেন। মেয়েটি দেখে কিছু একটা বুঝতে পেরে সে নিজেই উঠে দাঁড়িয়ে, দাদীকে ধরে বিছানায় বসে নিজেও বসল। দাদী নাতবউয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,

“কি গো নাতবু সোয়ামীর কপাল ফাটিয়ে দিলা কেন? কেউ তার সোহাগকে ওমনে মা*রে নাকি?”

মেয়েটি চিন্তিত ভঙ্গিতে দাদীর কথাগুলো মনে আওড়ায়। পরক্ষণে দু’হাতে মুখ চেপে ধরে মৃদু চিৎকার করে উঠল। দাদীর গলা জড়িয়ে ধরে বলে,

“দাদী ঐ খচ্চরটা কি আমার সোয়ামী? কিন্তু সোয়ামী হলে এসেই কেন লাজলজ্জা ছাড়া শাড়ির আঁচল ধরে টানছিল? ছিঃ কেমন নাতি আপনার? আবার বলে আমাকে নাকি বউ বলে মানতে পারবে না। তার নাকি কোন না কোন প্রেমিকা
আছে তাই আমাকে ধরেই বিছানার নিচে এই …এই ঠান্ডা টাইলার্সের উপর ঘুমাতে বলছিল। আমি তাও মেনে নিতাম দাদী। কিন্তু পরে দেখি তিনি কোনো কথা ছাড়া আমার আঁচল জোরে টান দিচ্ছিল। তাই রাগে আমি ফুলদানি ছু*ড়ে দেয়। আমাকে মাফ করে দিও দাদী প্লিজ।”

দাদী অভিজ্ঞের ন্যায় মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। তবুও মনে মনে নাতির রাগ নিয়ে হতাশাবোধ করলেন। খুব কষ্টে বিয়েটা করিয়ে ছিলেন। কেননা নাতবউয়ের কথামত নাতি তার অন্য মেয়ের ফাঁদে পা ফেলেছে। নাহলে তার নাতি কখনো বাসর রাতে নিজ বউকে অপমান করতো না। নাজীবা দাদীকে নির্জীব ভাবে বসে থাকতে দেখে মনে মনে ভাবে।
“দাদীন কে জ্বলসানো হাত দেখানো যাবে না। নাহলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার কথা নিয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলবে । তখন মানুষটা আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে।”
মনের ভাবনা মনে রেখে জ্বলসানো হাতটা গুটিয়ে মলিন কণ্ঠে বলে,

“আইম সরি দাদী সোয়ামী আসলে তার কাছে মাফ চেয়ে নেব।”

“নারে নাতবু আমার নাতিটা সরল মনেরই। তবে….।”

বাকি কথা বলার পূর্বেই কারো উচ্চশব্দে দু’জনে চমকে যায়। নাতির গলার শব্দ শুনে বুঝতে পারে। সে রুমের দিকে আসছে। এতে তিনি নাতবউ কে কিছু বলার সুযোগ পেলেন না। অন্যথায় স্বামীর রাগান্বিত মুখশ্রী দেখে যদি নাজীবা জ্ঞান হারায়। সেই ভয়ে তাড়াতাড়ি মুখের উপর ঘোমটা আঁটসাঁট ভাবে টেনে নেয়। তার এই ভয়ের কারণ স্বামী যদি এসে তাকে তার রুমের মধ্যে দেখে রেগে যায়। লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)
তখন তো তার দাদী শ্বাশুড়ির সামনে চ*ড় খেতে হবে। এই ভেবে ভয়ে ঘোমটার আড়ালে ঠোঁট চেপে ধরল।
আজরাফ কে তার গার্লফ্রেন্ড তাবাসসুম কল করে তার কান্নাকাটি শুনাচ্ছে। এতে বেশ বিরক্ত বোধ করলেও শান্ত মনে প্রেয়সীকে সামলানোর প্রচেষ্টা করছে সে। সেসময় দাদী আর তার বন্ধুর সাথে কথা শেষ করেই সে প্রেয়সীর নিকট ছুটে গিয়ে ছিল। কেননা কোনো এক মাধ্যমে তাবাসসুম তার বিয়ের খবর জেনে যায়‌। আর ঐ মাধ্যম কিসের? সেটা পরিপূর্ণ ভাবে বের করার সবোর্চ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আজরাফ। সে চেয়েছিল তার কাগজ-কলমের বউকে তার ভালোবাসার মানুষটির ব্যাপারে জানিয়ে সেপারেশনের ডিল করবে। কিন্তু মেজাজটাই গরম করে দিল পুরো কথা না শুনেই। টাইলার্সের উপর ঘুমাতে বলে মেয়েটার শাড়ির আঁচল বিছানার কোণা লেগে থাকতে দেখেছিল। তাই তো শুধু উপকার করতে আঁচল টান দেওয়ার পরই এই আজরাফ এর দিকে ফুলদানি ছু*ড়ে দিল। এর মজা সে হারে হারে বুঝাবে ঐ পাবনার পাগল মেয়ে-রে । মনের মধ্যে উত্তম পরিকল্পনা নিয়ে শয়তানি হাসল। রুমে ফিরে কাউকে না দেখে শান্তির শ্বাস ছেড়ে ওয়াশরুমের দিকে যেতেই ‘ঠাস’ করে নাকে বারি খেল। ‘উহহ উফ’ করে উঠল সে। নাক ডলেমলে দরজা খুলতে নিয়ে বুঝল, দরজা ভেতর থেকেই অফ করা। সেই সাথে ভেতর কোন মানবী থাকতে পারে তা নিয়ে নিশ্চিত সে। ধরাম করে দরজায় বিকট শব্দে লা*থি দিয়ে সে আলমারি খুলে তার পরণের ট্রাউজার আর টিশার্ট বের করল। দরজায় শব্দ হওয়ার ভয়ে চুপসে গেল নাজীবা। ঢোক গিলে তার পরণের উড়না দিয়ে ঘোমটা সমান মুখ থেকে নেয়। দরজা খুলে বের হতেই আজরাফ আক্রোশ ভরা গলায় বলে,

“এই মেয়ে শোনে রাখ। তুই আজকের রাতটুকু এখানেই থাকবি। কিন্তু পরেরদিন থেকে তোর জায়গা হবে উপর তলার বদ্ধ রুমে। তোর জন্য ঐ রুম খুলে , পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দিতে বলব। তোর লাগেজের একটা কাপড়ও যেন আমার আলমারিতে না দেখি।”

নাজীবা মাথা নুইয়ে নিবিড় কণ্ঠে বলে,
“কেনো? এটা তো আমাদেরই রুম।”

“আমাদের রুম” শব্দ দুটির কারণে শান্ত দৃষ্টিতে আফরাজ ঘোমটা টানা রমণীর দিকে তাকিয়ে বলে,

“হাতের ক্ষত কি বাড়াতে চাও? চাইলে বলো বাড়িয়ে দেয়।”

নাজীবা নুইয়ে গেল। আফরাজ তাচ্ছিল্যের হেসে বিছানায় টান টান হয়ে শুয়ে পড়ে। শুয়ার পাঁচ ছয়েক মিনিট পরই ক্লান্তির রেশে ঘুমিয়ে পড়ল। অথচ এক কোণায় অবহেলায় চোখের অশ্রু ফেলতে লাগল নাজীবা। জীবনটা বুঝি এরূপই বিভীষিকাময়। বিয়ের পর স্বামীর সোহাগের বিনিময়ে পেল অবহেলা, বোঝার উপাধি। কথাহীন স্বামী যে সাইডে ঘুমিয়ে আছে। তার দিকে ধীরস্থির পায়ে হেঁটে স্বামীর মুখশ্রীর উপর ঝুঁকল। নাজীবা নিজের ঘোমটা সরিয়ে স্বামীর মুখশ্রীর দিকে অপলক চেয়ে রইল। ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি টেনে মনে মনে বলে,

“কি ভেবেছেন আপনি আমার শরীরে আঘাত করলে আমি বুঝি দূরে সরে যাবো? না-গো বহু সাধনার পর আপনার বউ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কেমনে তা ব্যর্থ হতে দেয়? কিশোর বয়সের পাগলামীপনা প্রেম আমার। এমনেই কি তুড়ি বাজালে আপনার সো কলড গার্লফ্রেন্ড আমার থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে? হাহ্ আমিও নাজীবা মুসাররাত। পাগলামীপনা শুরু হবে । সেই পাগলামীপনায় অতিষ্ঠ হয়ে আপনি নিজেই ভালোবেসে ফেলবেন আমায়। আই প্রমিজ ইট টু মাই স্লেফ।”

নাজীবা নিজের ভাবনায় নিজেই সন্তুষ্ট হয়ে আফরাজ এর নাকের উপর লাল রঙে রাঙানো ঠোঁট দিয়ে চুমু খেল। কিন্তু এতে যে তার ভেতরে লোভ জাগবে কে জানত? এক চুমু দিয়ে মন না ভরায় স্বামীর পুরো মুখশ্রীতে চুমু মেখে লেপ্টে দিল। পরক্ষণে কি ভেবে যেন সে চট জলদি হ্যান্ডব্যাগ হতে ফোন বের করে তার সুশ্রী স্বামীর লাল রাঙানো চুমুর ছবি নিয়ে রাখল। মোক্ষম সময়ে ছবিটিকে কাজে লাগাবে বলে ভেবে রাখল সে। গুনগুন করে আফরাজ এর রুম হতে বের হয়ে গেল। রুমের বাহিরে এসে দরজা ভিড়িয়ে এদিক ওদিক চেয়ে চটজলদি তার জন্যে বরাদ্দকৃত রুমে ঢুকে পড়ল। রুমটি আফরাজ এর রুমের বিপরীত দিকে মুখোমুখি রেডি করে রেখেছে তার দাদী শ্বাশুড়ি। সেসময় রুমে দাদীকে সেই অনুরোধ করে ছিল। যেন তার রুমটি স্বামীর রুমের মুখোমুখি রেডি করে রাখা হয়। খাদিজা বেগম মাথা নেড়ে আকবরকে খবরটি দিল।
সেও মনে মনে ভাবীর বুদ্ধিমত্তার তারিফ করল। রুমটি সজ্জিত করতে সাভেন্ট’স পাঠিয়ে দেয়। লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)
নাজীবার অন্তর পুড়ছে ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে পেয়েও দূরে সরে থাকার যন্ত্রণায়। তবুও গন্তব্যের দিকে লক্ষ রেখে নিজেকে ধাতস্থ করে বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে যায়।

______

“স্যার একটা ভুল হয়ে গিয়েছে।”

কাঁপা গলায় মেন্টাল হসপিটালের ডা.সিফাত হাসান বলেন। কথাটি শুনে রকিং চেয়ার হেলানো লোকটির মুখশ্রী হতে শান্তির রেশ কেটে গেল। সে রকিং চেয়ার থামিয়ে দিয়ে ধীরস্থির হয়ে বসে। গাম্ভীর্য কণ্ঠে বলে,

“ভনিতা আমি মোটেও পছন্দ করিনা। যা বলার সরাসরি বলুন।”

ডা.সিফাত হাসান ঢোক গিলে বলেন,

“স্যার বিগত এক সপ্তাহ ধরে মেয়েটিকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা ভেবেছিলাম হাসপাতালের ভেতরেই বোধহয় কোথাও লুকিয়ে ছিল মেয়েটি। কিন্তু পু…পু..পুরো হাসপাতাল খোঁজেও যখন পেলাম না। তখন আমি গোপনে লোক লাগিয়ে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু নিখোঁজই রইল সে।”

রকিং চেয়ারের হ্যান্ডেল শক্ত ধরে রাগে কাঁপতে লাগল লোকটি। হংকার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যায়। ফোন কানে চেপে বি’শ্রী গালি দিয়ে বলে,

“শু*য়োরের বাচ্চা তোকে কত বার বলে ছিলাম মেয়েটিকে দেখে রাখতে। শা*লার নুনভাত খেয়ে এখন খবরটা শুনাচ্ছিস? ফোন রাখ কু*ত্তা*র বাচ্চা।”

ফোন রেখে তৎক্ষণাৎ লোকটি তার পিএ কে কল দিয়ে বলে,

“রিমন মেয়েটি পালিয়ে গেছে। এর শোধ তুল। শুন এত বছর যাবত যে ডা. তার জন্যে নিয়োজিত ছিল। তাকে ধরে পথের কাঁটা হিসেবে সরিয়ে দেয়। আশা করি কি করতে হবে ভালোই জানিস!”

“ইয়েস স্যার কাজটি আজকেই হয়ে যাবে।”

“আর শোন নিউজেও যেন খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। হেডলাইন আমি যা বলছি তাই যেন চাপানো হয়।
‘ডা.সিফাত হাসান যিনি কিনা মেন্টাল হাসপাতালের জনমান্য মানব তার দ্বারা এক পাগল মেয়ের রে*প হওয়ায় । অনুশোচনা বোধে তিনি নিজেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন।’
বুঝছিস?”

“অনেক ভালো ভাবেই স্যার।”

লোকটি ফোন রেখে পুনরায় শান্তি মনে রকিং চেয়ারে হেলান দিল। চোখ-মুখে গাম্ভীর্যতা রেখে বলতে লাগে,

“কি মনে করো মেয়ে? পালিয়ে কতদূর যাবে? তোমাকে ত্যাজ্য, কলঙ্কিত কেমনে বানানোর যায়? সেটা ভালোভাবেই আয়ত্তে আছে।”

হাহা করে রুম কাঁপিয়ে হাসতে লাগল লোকটি।

_____

সূর্যের আলো রুমে পড়তেই আফরাজ এর ঘুম ফুরিয়ে গেল। আড়মোড়া হয়ে উঠে বসল। তার ফোনের বাটন চেপে দেখে তাবাসসুম পাঁচ-ছয়েক মেসেজ দিয়ে মেসেঞ্জার ভরিয়ে ফেলেছে। সে চিন্তিত মনে মেসেঞ্জারে চাপ দিয়ে দেখতে পেল। তাবাসসুম অহেতুক বিষয় টেনে তার নামে অবাঞ্চিত কথা লিখেছে। দাঁতে দাঁত চেপে তাবাসসুম এর ফোনে কল লাগায়।
অন্যথায় তাবাসসুম তার ধনাঢ্য ক্লাইন্ট এর রুমে বস্ত্রহীন হওয়ার জন্য শাড়ির আঁচল ফেলে দিল। ব্লা’উ’জ এর বোতামে হাত দেওয়ার পূর্বেই তার ফোনে অসময়ে কল চলে আসায় বিরক্ত হলো। ক্লাইন্ট ভ্রু কুঁচকে তাকায়। এতে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে তাবাসসুম। জোরপূর্বক হেসে বলে,

“জাস্ট গিভ মি এ্যা ফাইভ মিনিট’স।”

ক্লাইন্ট মাথা নেড়ে বিরক্তসূচক তাবাসসুম কে ছেড়ে দিল। হাতে ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে চুমুক দিতে ব্যস্ত হলো। তাবাসসুম তড়িঘড়ি ফোন হাতে নিয়ে দেখে আফরাজ এর কল। ভয় পেয়ে গেল সে। যথারীতি নিজেকে সামলে সে ন্যাকা গলায় কান্নার ভান ধরে বলে,

“বাহ! জান বউয়ের জামরস খেয়ে বুঝি আমাকে মনে পড়ল? সারারাত তো ভালোই মজা লুটেছো। এখন কেন কল দিলে হ্যা? বলো কি হলো মুখে কথা নেই না এখন?”

“তাবাসসুম তুমি নিজেও জানো ! তুমি রাগ করায় তোমার রাগ ভাঙাতে হাফ টাইম তোমাকে দিয়ে ছিলাম। বাহিরে খাওয়ে, গিফ্ট কিনে দিয়েছি। তার পর যেয়ে তুমি খুশি হওয়ার পর তোমাকে তোমার বাসায় দিয়ে আমি বাসায় ফিরলাম। বাসর রাতের হাফ টাইম আমি বউকেও দেয়নি । তোমাকেই দিয়ে ছিলাম। সেখানে তুমি বলছো আমি আমার ওয়াদা ভেঙ্গে বাসর করে কল দিলাম? সেইম অন ইউ তাবাসসুম। ইন লাভ হেয়ার মাস্ট বি নিডেড বিলিভনেস। দ্যাট আই কান্ট ফাউন্ড অন ইউ।”
টুট টুট টুট।”

ফোন কেটে আফরাজ দাঁড়িয়ে যায়। রাগে ফোন বেডের উপর ছু*ড়ে মে*রে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। তার যে একটা বউ আছে। এই নিয়ে তার কোনোরুপ ভ্রুক্ষেপ নেই যেন। ব্রাশ করার সময় আয়নায় নিজের চেহারা দেখেই রাগ বেড়ে গেল তার। কেননা তার মুখশ্রীতে কোনো মেয়ের ঠোঁট বসানোর চিহ্ন স্পষ্ট লক্ষিত হচ্ছে। অসময়ে রাগ করে লাভ নেই ভেবে গোসলের জন্য ঝর্নার নিচে দাঁড়িয়ে যায়।
গোসল সেরে ট্রাউজার পরে তোয়ালে গা মুছতে মুছতে আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়। বেডসাইড টেবিলে কফির মগ রাখা দেখে কফির মগটি হাতে নিল। এক হাতে মাথা মুছে আরেক হাতে যেই না কফির মুখে চুমুক দিল। সাথে সাথে রুম কাঁপিয়ে এক চিৎকার দিল আফরাজ।

চলবে……..

#অন্যরকম_তুমিময়_হৃদয়াঙ্গণ
#লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)
#সূচনা_পর্ব

(বিঃদ্রঃ- নতুন গল্প অনেক পর শুরু করলাম। ভুলত্রুটি হতে পারে দেখে ক্ষমা করবেন। ভালো রেসপন্স পেলে ইন শা আল্লাহ গল্পটি কন্টিনিউ করব। এতে সবার রেসপন্স করার অনুরোধ রইল।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here