Thursday, March 26, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প" তোমার আসক্তিতে আমি আসক্ত তোমার আসক্তিতে আমি আসক্ত পর্ব ৬

তোমার আসক্তিতে আমি আসক্ত পর্ব ৬

0
859

#তোমার_আসক্তিতে_আমি_আসক্ত
#নুশা_আহমেদ
#পর্ব_৬

দরজার বাহিরে দাড়িয়ে আছে নুশা সাহস পাচ্ছে না কলিং বেল বাজানোর হাত কাঁপছে কিভাবে দাঁড়াবে তার আম্মু আব্বুর সামনে । তার সাথেই দাঁড়িয়ে মোবাইলে কারো সাথে মেসেজ করছে সায়ান যেনো কিছুই হয়নি সব নরমাল এমন একটা ভাব নিয়ে আছে। হঠাৎ করে মোবাইল থেকে মুখ সরিয়ে নুশার দিকে তাকিয়ে বললো,

-কি হলো এভাবে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছো কেন ? কলিং বেল বাজাও আর কতো দাঁড়িয়ে থাকবো ট্রায়াড লাগছে তো দুই দিন ধরে ভালো করে ঘুমাতে পারিনি তোমার জন্য ।
সায়ানের কথায় নুশা কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে বললো,
-ভাইয়া আমার খুব ভয় করছে। এখন আমাকে সামনে পেলে হয়তো আব্বু আম্মু আমাকে মেরেই ফেলবে ।

সায়ান আবার মোবাইলের দিকে তাকিয়ে বললো,

-সেটা তোমার পালানোর আগে ভাবা উচিত ছিলো, এখন ভয় পেলেও কিছু করার নাই। আর তুমি যা করছো তার জন্য এই কয়েকটা মার তো সামান্য বেপার। এটুকু তুমি পাপ্য তাই তাড়াতাড়ি কলিং বেল চাপো। তোমাকে তাদের হাতে দিয়ে আমাকে আবার বাড়িতে ফিরে যেতে হবে।

-আপনার এতো তাড়া থাকলে আপনি কলিং বেল চাপ দেন না আমাকে বলছেন কেনো আমার তো এতো তাড়া নাই। আমি তো ভয়ে আছি আব্বু আমাকে কিছু না করলেও আম্মু আমাকে খুব মারবে তা আমি জানি। দুই বছর আগে সামান্য পি-টেস্ট পরিক্ষায় এক সাবজেটে ফেল করার জন্য যে মার গুলো খাইছি এখনো ভাবলে গালে আগে থেকেই হাত চলে যায় আমার ।

সায়ান নুশার কথায় অবাক হয়ে নুশার দিকে তাকিয়ে বললো,
-ফুপি তোমাকে মারে,,,! আমি তো জানি ফুলের টুকাও দেয় না শুধু আদর করতে করতে বাদর বানিছেয়ে ।
-এই আপনি একদম আমাকে বাদর বলবেন না, আমি কি বাদরের মতো লাফালাফি করি যে আপনি আমাকে বাদর বলছেন।
-তুমি কি লাফালাফি কম করেছো নাকি বাদরের থেকে বেশিই করেছো তা না হলে কি এখান থেকে হাসনাবাদ হাসনাবাদ থেকে নরসিংদী আবার নরসিংদী থেকে তোমার বান্ধবীর বাসা বাগহাটা আবার ঐখান থেকে সিলেট, বাবা যায় এতো এতো জায়গা লাফালাফি করছো এখানে বাদর থেকে কম কিসের। এখন নাটক না করে কলিং বেল চাপ দেও।
-আপনার এমন তাড়া থাকলে আপনি দেন না আমাকে বলছেন কেনো,,।
কিছুটা রেগেই বললো নুশা সায়ান কে, তার জন্যই তো এতো কিছু তার জন্যই তার বাড়িতে থেকে পালাতে হয়েছে এখন আবার বলছে নাটক না করে কলিং বেল চাপ দিতে । নুশার এমন কথা বলায় আবার রাগ দেখানোতে মজা নিচ্ছে সায়ান। সায়ান কিছু বলবে তার আগেই পিছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো,
-নুশু বুড়ি।
পিছনে খুব চিনা কন্ঠ শুনে তাড়াতাড়ি পিছনে তাকিয়ে দেখে নিশাত দাঁড়িয়ে আছে তা দেখে নুশা দৌড়ে গিয়ে ভাইকে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
-ভাইয়া,,।
নিশাতও নিজের বোন কে কাছে পেয়ে বললো,
-বনু তুই কান্না করছিস কেনো।
-ভাইয়া আমি ভিতরে গেলে আম্মু আমাকে মারবে।
– আমি থাকতে আম্মু তোকে মারবে কিভাবে
নুশা কিছু বলতে যাবে তার আগেই সায়ান বলে উঠে, বোন কে এতটাও আশ্বাস দিও না কারন তুমি থাকলেও তোমার বোন ফুপির কাছে পিটোনি খাবে যেটা ওর পাপ্য । এমনিতেই সাহস বেশি হয়ে গেছে এটুকু না খেলে সাহস আরো বেড়ে যাবে । এটুকু বলে সায়ান নিজেই কলিং বেল বাজালো, কলিং বেল এর শব্দ শুনে নিশি এসে দরজাটা খুললো সে ড্রইং রুমেই বসে ছিলো। ভাবলো আব্বু না হয় নিশাত এসেছে কিন্তু দরজা খুলে দরজার সামনে সায়ান আর তার পিছনে নিশাত আর নুশাকে দেখে অনেকটাই অবাক হয়ে যায়। সায়ান কে আগে অনেক সম্মান করলেও ঐ দিনের পর থেকে সে আর দেখতে পারে না । কি দরকার ছিলো এসবের, তার পছন্দের কথা বলার পরও বিয়ে করবে বলেছে নিশি বাবা মাকে প্রচুর ভয় পাই তাদের একদম অবাধ্য সন্তান নয় নিশি তাই বহু কষ্ট হলেও তার ভালোবাসা কে ভুলে রাজি হয় সায়ান কে বিয়ে করতে কিন্তু সায়ান সে যে সবার সাথে নাটক করছে বিয়ের দিন বলে সে নিশি কে বিয়ে করবে না এতো অবশ্য নিশি কিছুটা মনে মনে খুশি হলেও যখন বললো সে নুশা কে বিয়ে করবে তখন তো নিশির সত্যিই খুব রাগ লেগেছিল এই লোকটা কি,,! দুই বোনের সাথে এমন খেলছে কেনো । তারপরও চুপচাপ সব সয্য করছিলো কিন্তু যখন নুশা পালালো আর সায়ান চিৎকার করে বললো নিশির পছন্দের মানুষ আছে নুশা অনেক গুলো প্রেম করে তখন তো নিশির রাগ মাথার উপরে তার পরও বড়দের সামনে সে কিছুই বলতে পারেনি কিন্তু মনে মনে খুব রেগে আছে সায়ানের উপর।

দরজা খোলে এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে আমাদের ভিতরে আসতে দিবে কি,,?
সায়ানের এমন কথা শুনে দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো নিশি। নিশি সরে দাড়াতে সায়ান ভেতরে গিয়ে সোফায় বসলো আর বসে মোবাইল দেখতে লাগলো তার ভাব দেখে নিশির নুশার কারোই সয্য হচ্ছে না যেনো কিছুই হয়নি। নিশি তাড়াতাড়ি নুশার কাছে গিয়ে বললো,
-নুশা তুই ঠিক আছিস তো।
-আপু আম্মু আব্বু কই?
-আব্বু অফিসে আর আম্মু রুমে শুয়ে আছে ।
নুশা কান্না করতে করতে বললো,
-আপু আম্মু কি খুব রেগে আছে..?
-তা তো থাকবেই । আয় ভিতরে আয় আম্মু তোর আসার খবর পাওয়ার আগে তুই তোর রুমে চলে যা।
নুশাও নিশির কথা শুনে তাড়াতাড়ি ভেতরে এসে সায়ানের সামনে দিয়ে নিজের রুমে দিকে যেতে লাগলো আর সায়ান নুশার দিকে তাকিয়ে রইলো ঠিক তখনই নুশার মা রুম থেকে বের হয়ে নুশার গালে সজোরে একটা থাপ্পড় বসালো আর ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো,
– তোর সাহস হলো কিভাবে বাড়ির ভিতর ঢোকার লজ্জা করলো না তোর। তখন তো খুব সহজেই বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলি এখন আবার ফিরে আসলি কেনো। জানিস আমার কপাল টাই খারাপ দুই দুইটা মেয়ের জন্ম দিয়েছি কিন্তু একটা মেয়েকেও মানুষ করতে পারিনি। তুই তো বাড়ি থেকে গেলি সাথে তোর বাবার যতো টুকু মান সম্মান ছিলো সব টুকু সাথে নিয়ে গেলি তোর বাবা আর আমি তো বাহিরের মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারি না। তা তুই কোন নাগরের সাথে গেলি আবার ফিরে এলি যে দুই দিনেই। জবাব দে,,,

নুশা হঠাৎ থাপ্পড়ে অনেকটাই ভয় পেয়ে গেছে প্রচন্ড জোরে থাপ্পড় টা মেরেছে তার মা। গালটা গরম হয়ে জ্বালা করছে খুব । আম্মুর কথা সব মানা যায় কিন্তু সে তো কারো সাথে ভেগে যায়নি একাই সায়ানের থেকে পালানোর জন্য বাড়ি ছেড়েছে কিন্তু তার মা এসব কি বলছে।

নুশা কে মাথা নিচু করে ফুফিয়ে কান্না করতে দেখে নিশাত এসে নুশাকে ধরলো আর মার দিকে তাকিয়ে বললো,
-আম্মু নুশু ছোট মানুষ বুঝতে পারে নি এবারের মতো মাফ করে দেও। আর নুশুতো কোনো ছেলের সাথে যায় নি তোমাকে এটা আর কতো বলবো,,,।

-একটা কথা বলবি না তুই নিশাত তোরা তিনজনই আদরে আদরে বাদর হয়েছিস। আমাকে জ্ঞান দিতে আছিস না আমি সব বুঝি তোরা আমাকে জন্ম দেস নাই আমি তোদের জন্ম দিছি কথা টা মাথায় রাখিস। আমার তো বড় ভুল হইছে মোবাইল কিনে দেওয়া তার জন্যই তো এমন করতে পারছে আমি কি বুঝি না। সারাদিন রাত মোবাইলে যে কথা বলছে আমি কি দেখি না। সায়ান না বললে তো বুঝতেই পারতাম না আমার চোখের আরালেই আমার দুই মেয়ে যে খারাপ হয়ে গেছে। একজন প্রেম করেও বিয়ে করতে রাজী হয়েছে আরেকজন দশ বারোটা প্রেম করে বিয়ের কথা শুনতেই আরের ছেলের হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো।

নিশি নুশা দুইজনই অবাক তার মার কথা শুনে কি সুন্দর তার ভাইয়ের ছেলের কথা বিশ্বাস করে দুই মেয়ে কে অবিশ্বাস করছে মনে হচ্ছে উনার ভাইয়ের ছেলেই উনার সব আর উনার মেয়েরা উনার কিছুই না। কিন্তু তাদের মা তো এমন ছিলো না। নুশা সব থেকে বেশি অবাক কারন সে আজ জানতে পারলো সে দশ বারোটা প্রেম করেছে। সে মানে সে একজন কে পছন্দ করে কিন্তু এখনও রিলেশন যায় নি তার পরও তার মা বলছে সে দশটা না বারোটা প্রেম করে ফেলছে। সায়ানের প্রতি খুব রাগ হচ্ছে সকালে সায়ানের কথায় বিশ্বাস করেছিলো যে তার সব ধারনা ভুল যে সায়ান কোনো মাফিয়া না তার বান্ধবী হয়তো কোনো কারনে তার সাথে চালাকি করছে তাই সে চিন্তা করলো বাড়ি এসেই জিজ্ঞেস করবে এর কারন । কিন্তু এখন সায়ানের প্রতি আরো রাগ লাগছে আরো বেশি করে ঘৃণা হচ্ছে ।

#চলবে..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here