Friday, April 3, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প" শেষ বিকেলের প্রণয় শেষ বিকেলের প্রণয় পর্ব ১৮

শেষ বিকেলের প্রণয় পর্ব ১৮

0
796
Made with LogoLicious Add Your Logo App

#শেষ_বিকেলের_প্রণয়
#আলো_ইসলাম
১৮

— একটা নাইট ক্লাবে বসে আছে ছায়া আর আসিফ। আসিফ আজ অত্যন্ত খুশি ছায়া তার প্রস্তাবে রাজি হওয়াতে। প্রথমে আসিফের সন্দেহ হয়েছিলো হঠাৎ ছায়ার রাজি হওয়া, তার ব্যাক করা দেখে৷ কিন্তু ছায়া তার অভিনয় এতটা নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যে আসিফ তাতে বাজিমাত হয়ে যায়। ছুটি যখন ছায়াকে তার সমস্ত প্ল্যান জানায় তখন ছায়া ঘাবড়ে গিয়েছিলো। সে পারবে না ভেবে ভয় পাচ্ছিলো। সবাই মিলে ছায়াকে বোঝানোর পর ছায়া রাজি হয় এবং নিজেকে সেভাবে তৈরি করে। তবে ছায়া একা নয়। ওর পাশে সবাই আছে এবং সব সময় থাকবে। তাই ছায়ার কোনো ক্ষতি হবে না,এটা যেনো নিশ্চিত থাকে সে ভরসা সবাই দিয়েছে তাকে। আর মাত্র কয় ঘন্টা, এরপর কোর্ট। তাশরিফের জীবনের শুরু নয়তো শেষ হয়ে যাবে দিনের আলো ফোটার সাথে সাথে।

— আপনাকে আমার প্রথম থেকে অনেক পছন্দ। আপনার গান আমার খুব ভালো লাগে। আর এই ভালো লাগা থেকে একপ্রকার ভালোবাসা আপনার প্রতি বলতে পারেন৷ আমি না কখনো ভাবতেও পারিনি আপনার সাথে দেখা হবে আর আপনি আমাকে বিয়ের, ছায়া লজ্জা পাওয়ার ভান ধরে হেসে মাথা নোয়ায়। আসিফ মুচকি হেসে ছায়ার হাত ধরলে ছায়া ঘাবড়ে যায় কিন্তু আসিফকে বুঝতে দেয়না।

— তুমি এত সুন্দর আর কিউট দেখতে না, তোমাকে দেখে যে কেউ ফিদা হয়ে যাবে। আমিও তাই হয়েছি৷ আচ্ছা তুমি আজ চশমা পড়োনি কেনো। চশমায় তোমাকে বেশি সুন্দর লাগে। আসিফ বলে ছায়ার হাত ধরে।
— এই ক্লাবে চশমা! মানুষ তো হাসাহাসি করবে আমাকে দেখে। আমি লেন্স পড়ে এসেছি প্রবলেম হবেনা। তাছাড়া ওইসব চশমা পড়তে আমার ভালো লাগেনা৷ কেমন জানি ক্ষেত গাইয়া লাগে নিজেকে। আসলে আমি স্মার্ট একটা মেয়ে। কিন্তু কাউকে বুঝতে দিই না৷ সকলের সামনে এমন নম্রভদ্র হয়ে থাকি যে সবাই ভাবে আসল ওইটাই আমি। কিন্তু না! এই আমিটাই আসল আমি।

– সে তোমাকে দেখে বুঝতেই পারছি। নাহলে কেউ প্রথম দেখা ক্লাবে করতে চাই। আমি তো ভীষণ অবাক হয়েছিলাম শুনে। বাট আই লাইক ইট। আমার জীবন সঙ্গী আমার মতো আই মিন আমার স্ট্যাটাসের হবে তবেই না মানাবে আসিফ বলে বিস্ময় নিয়ে। ছায়া হাসে আসিফের কথায়।

– বাই দ্যা ওয়ে, আপনি সত্যি রেগে নেই তো আমার উপর? হঠাৎ ছায়ার এমন কথায় আসিফ বলে কেনো? রাগ কেনো করবো তোমার উপর?

– ওই যে বাসা থেকে ফিরায় দিলাম আপনাকে তাই। আসলে কি বলুন তো, বাসায় না কেউ আমাদের সম্পর্ক মেনে নিতো না৷ বিশেষ করে আপাই। আমি যদি সেদিন রাজি হতাম আপনাকে বিয়ে করতে, তাহলে আপাই কিছু একটা করে সেটা ভেস্তে দিতো। তাই আমি সেদিন মিথ্যা বলি, আমি অন্য কাউকে না, আপনাকে ভালোবাসি আপনার গানকে ভালোবাসি। আবারও লাজুক ভাব এনে বলে ছায়া। আসিফ যেনো আকাশের চাঁদ পেয়ে গেছে আকাশে৷ তার কাছে সব কিছু স্বপ্ন লাগছে আজ।

— আসলে যখন যার সময় ঘনিয়ে আসে তখন সে হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তার জন্য কতবড় বিপদ অপেক্ষা করছে সে নিজেও বুঝতে পারেনা একটা মোহে আবৃত হয়ে। আসিফের ব্যাপারটাও তাই। সে ছায়ার প্রেমের মোহে অন্ধ এখন৷ তাই ছায়া তাকে যা বলছে যা বোঝাচ্ছে তাই সাদরে গ্রহণ করছে। আর এটাই চেয়েছিলো ওরা।

— একটা সিক্রেট কথা বলি! বেশ আগ্রহ নিয়ে বলে ছায়া। আসিফ ভ্রু কুচকে বলে কি বলো?

– জানিনা কথাটা কিভাবে নিবেন, তারপরও আপনি যখন আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ হতে যাচ্ছেন তখন সবটা জানিয়ে রাখা ভালো। তাশরিফ ভাইয়া আপনার বন্ধু তাই আমার কথাটা আপনার ভালো নাও লাগতে পারে৷

— ছায়ার হেয়ালিপণা দেখে আসিফ বলে কোনো সংকোচ ছাড়াই বলতে পারো তুমি। এখন তো তুমি আমার সব আর আমি তোমার তাই না?

— আসলে তাশরিফ ভাইয়াকে আমার একদমই পছন্দ না৷ আমি চাই ওর ফাঁসি হোক। সারাজীবনের মতো শেষ হয়ে যাক দাঁতে দাঁত চেপে বলে ছায়া।

এদিকে আসিফ ভীষণ তাজ্জব হয়ে তাকিয়ে আছে ছায়ার দিকে। এ যেনো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি তার জন্য।
– কেনো পছন্দ নয় জানতে চাইবেন না? আসিফকে ছায়ার দিকে সন্দিহান ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে ছায়া।

– কেনো? আসিফ বলে কৌতুহল নিয়ে।

– কারণ, ওই তাশরিফ খান আমার আপাইকে রিজেক্ট করেছে। আমার আপাইকে ছেড়ে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে আনে। ছোট থেকে একসাথে বেড়ে উঠেছে আপাই তাশরিফ ভাইয়ার সাথে। তাকে অজান্তে ভালোবেসেও ফেলে আপাই কিন্তু কখনো বলতে পারেনি। আপাইয়েরও মনে হতো তাশরিফ ভাইয়া আপাইকে পছন্দ করে ভালোবাসে। কিন্তু যেদিন ইলহাম কে নিয়ে আসে বাড়িতে। সেদিন আপাই অনেক কষ্ট পেয়েছিলো। খুব কান্না করেছিলো সেদিন। কেউ না দেখলে আমি দেখেছিলাম সে কান্না। আর সেদিনের পর থেকে তাশরিফ খানকে ঘৃণা করি আমি। যতই তার শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়ার অভিনয় করিনা কেনো আসলে আড়ালে আমি তার ক্ষতি চাই। জানেন আমি কতটা খুশি হয়েছি ইলহাম খু’ন হওয়ার পর। আর তারই খু’নের দায় তাশরিফ খানের উপর। আমি তো মহাখুশি, এবার উনার ফাঁসির রায় হলে আমি নিশ্চিত। আমার ইচ্ছে, আমার আপাইয়ের কষ্টের কিছুটা লাঘব হবে।

— আর তো কয়েক ঘন্টা, এরপর তোমার এই ইচ্ছেটাও পূরণ হয়ে যাবে ছায়া। তুমি যখন চেয়েছো তখন তো হতেই হবে। আসিফ বলে হেসে।

– আচ্ছা আমরা কি এইভাবে গল্প করবো। ড্রিংক করবো না? ছায়ার কথায় আসিফ অবাক হয়ে বলে তুমি ড্রিংকও করো?

– যে মেয়ে ক্লাবে আসতে পারে সে কেনো ড্রিংক করতে পারবে না? শুনুন, ভবিষ্যতে যেহেতু আমরা একসাথে থাকবো তাই আমি চাই আপনি আমার সব অভ্যাস আমার আচরণ, চলাফেরা সবকিছু জেনে রাখুন। সব জেনে আমাকে এক্সেপ্ট করুন,যাতে পরে গিয়ে আমাদের কোনো প্রবলেম না হয়।

–তুমি ঠিকই বলেছো। রিলেশনে বোঝাপড়াটা জরুরি। তাছাড়া তোমার আর আমার সবদিকে মিলে যাচ্ছে তাই আমাদের সম্পর্কটা কেউ ভাঙতে পারবে না। আসিফের কথায় ছায়া হেসে বলে তাহলে ড্রিংক অর্ডার করা যাক। অনেক দিন হলো ড্রিংক করিনা আপাইয়ের ভয়ে। আজ নিশ্চিন্তে ড্রিংক করবো মাস্তি করবো। আপাই তো এখন নেই, আপাতত তাশরিফ খানকে নিয়ে ব্যস্ত। কেনো যে করছে এইসব বেকার বেকার বুঝিনা৷ নাক ছিটকিয়ে বলে ছায়া। এদিকে আসিফের মনে লাড্ডু ফুটে। ছায়া যে এমন প্রকৃতির মেয়ে জানা ছিলো না।

ক্লাবে আসার বুদ্ধিটা তাশরিফের ছিলো। কারণ তাশরিফ জানে আসিফের ক্লাবে আসার অভ্যাস আছে। প্রায় সে ড্রিংক করে নেশা করে বেরিয়ে যায়। আর এটারই ফায়দা নিতে চাই সবাই।

” বলছিলাম কি আমরা একটা রুমে গেলে ভালো হতো না। ছায়ার কথায় আসিফ গদগদ কন্ঠে বলে সত্যি রুমে যাবে তুমি?
– কয়দিন পর তো আমাদের বিয়ে হবে, তো আজ যদি রুমে যায় সমস্যা কি? তাছাড়া এই হট্টগোলের মধ্যে ভালো লাগছে না। আমি নিরালায় বসে শান্তিতে ড্রিংক করতে চাই আর আপনার সাথে টাইম স্পেন করতে লাজুক হেসে বলে ছায়া।

আমি এখুনি ব্যবস্থা করছি। এরপর আসিফ একজনকে ডেকে একটা রুমের ব্যবস্থা করতে বলে
। রুম তো আগে থেকেই রেডি। আবির সব ঠিক করে রেখেছে টাকা দিয়ে। শুধু আসিফের যাওয়ার অপেক্ষা।
আচ্ছা তুমি আমাকে আপনি আপনি কেনো করছো? নিজেকে বড় বড় লাগছে তাতে। মনে হচ্ছে আমি তোমার কেউ না। দূর সম্পর্কের কেউ একজন আমরা । প্লিজ তুমি করে বলো আসিফের কথায় ছায়া মৃদু হেসে বলে ওকে তুমি, এবার ঠিক আছে।

একটু পর ওয়েটার ফিরে এসে বলে স্যার আপনার রুম রেডি। আপনারা যেতে পারেন।
ওকে, এরপর আসিফ কিছু টাকা বের করে ওয়েটারের হাতে দিয়ে বলে দেখো কেউ যেনো না যায় রুমে। সারারাতের জন্য রুমটা আমার লাগবে।

জ্বি স্যার কেউ যাবে না সেখানে। আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। এরপর ওয়েটার চলে যায়। আসিফ উঠে ছায়াকে নিয়ে রুমে যায়। ছায়ার মধ্যে ভয় দেখা দেয় একটু। সব না ভেস্তে যায় শেষে এসে। ছায়া ভয়ার্ত চোখে ছুটিদের দিকে তাকালে ছুটি চোখ দিয়ে ইশারা করে আশ্বস্ত করে ছায়াকে। ওরা সবাই ছদ্দবেশে দূরে বসে ছিলো।

প্রথম প্ল্যান ডান। এবার শেষটা প্ল্যানমতন হলে আসিফ শেষ আজ। আমরা কি এখানে ওয়েট করবো নাকি উপরে যাবো? ছুটির কথায় রোহান বলে ওয়েটারকে ডাকি থামো।

– ওয়েটার এসে বলে সব ঠিকঠাক আছে সমস্যা নেই। এরপর ওয়েটার চলে যায়। ছুটিরা আলাদা একটা রুম নিয়েছে। যেখানে থেকে ল্যাপটপে সব কিছু দেখবে তারা। আসিফরা যে রুমে গেছে সেখানে আগে থেকেই ক্যামেরা লাগানো ছিলো।

— আসিফ আর ছায়া রুমে এসে দেখে সাজানো গোছানো সুন্দর রুম। এই ক্লাবে আসিফ প্রথম এসেছে৷ ছায়ায় বলেছিলো এখানে আসতে। তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ক্লাব তাই সমস্যা হবেনা। আর আসিফ তাই মেনে এখানে চলে আসে।
— সামনে টেবিলে অনেকগুলো ড্রিংকসের বোতল রাখা। ছায়া মনে মনে ভাবে এই সময়টা কিভাবে সামলাবে। সে তো ম’দ খাইনা আর না কখনো ছুঁয়ে দেখেছে। তাছাড়া ম’দের গন্ধই সহ্য হয়না ছায়ার।

— কি হলো ছায়া বসো! আসিফ বসে বলে।
– এহ, হ্যাঁ বসছি আমি ওয়াশরুম থেকে আসছি ওয়ান মিনিট।
– ওকে তুমি যাও আমি ড্রিংকস রেডি করি। আসিফের কথায় ছায়া হাসার চেষ্টা করে বলে ওকে।

– ওয়াশরুমে এসে ছায়া কান্না করবে এমন ভাব। হাত-পা রীতিমতো কাঁপছে তার। এদিকে ছুটিরা সবটাই দেখতে পাচ্ছে ল্যাপটপে।
— আবির, ছায়াকে ফোন দাও।
– ছুটির কথায় আবির বলে এখন ফোন দেওয়া কি ঠিক হবে?

– দেখছো না কেমন ঘাবড়ে গেছে গা’ধিটা। শেষে এসে সব না ডুবে যায়। তাহলে আর কিছু করার থাকবে না আমাদের।

– তুমি শান্ত হও ছুটি। ছায়া পারবে, আমার বিশ্বাস ও ঠিক পারবে। ওকে একটু সময় দাও। রোহানের কথায় ছুটি ওর দিকে একবার তাকিয়ে চুপ হয়ে যায়। এদিকে ছায়া জোরে জোরে নিশ্বাস ছেড়ে নিজেকে শান্ত করে চোখ মুখে পানি দিয়ে বেরিয়ে আসে৷

— ছায়া আসিফের বিপরীতে বসে।
– আচ্ছা এই ড্রিংক গুলোতে নেশা কেমন হবে? ছায়ার কথায় আসিফ ভ্রু কুচকে বলে মানে?

-ছায়া ঘাবড়ে যায়। হাসার চেষ্টা করে বলে না মানে অনেক দিন পর ড্রিংক করছি তো তাই নেশাটা বেশি চাই। আমি না কখনো ঠিক ভাবে এনজয় করতে পারিনি ড্রিংকটা। বাবা-মা আর আপাইয়ের ভয়ে সব সময় অল্প খেয়েছি আর নরমাল গুলো। আজ তো বাড়ি ফিরছি না, বাসায় বলে এসেছি ফ্রেন্ডের বার্থডে আছে সেখানে থাকব৷ তাই আজ প্রাণ ভরে নেশা করবো। নেশার জোয়ারে ভাসবো।

– বাহ,অনেক বুদ্ধি তো তোমার। তুমি দেখছি প্রস্তুত হয়ে এসেছো আজ। আচ্ছা নেশা করে যদি আমি নিজেকে সামলাতে না পারি৷ কোনো ভুল হয়ে যায় তখন? এইগুলা কিন্তু অনেক পাওয়ারফুল ড্রিংক খেলে অবশ্য বুঝবে।

– আসিফের কথায় ছায়া লাজুক হাসার ভান করে বলে আমি তো চাই ভুল হোক আমাদের। আমার সমস্যা নেই।
– আসিফের লালসার যে তৃপ্তি সেটা আস্তে আস্তে প্রকাশ পাই ছায়ার কথায়৷ ছায়ার সম্মতি পেয়ে আসিফ যেনো সা’পের পাঁচ পা দেখে।

— দুইটা গ্লাস নিয়ে একটা ছায়াকে দেয় আর একটা নিজে রাখে আসিফ। বিশ্রি গন্ধে মাথা ঘুরিয়ে আসছে ছায়ার। ইচ্ছে করছে এক ছুটে পালিয়ে যায় সেখানে থেকে…

চলবে..

❌কপি করা নিষেধ ❌ভুলক্রুটি মাফ করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here