কাছে_দূরে ?? #পর্ব___৫৭

0
1379

#কাছে_দূরে ??
#muhtarizah_moumita
#পর্ব___৫৭

—-‘ স্যার! হীরের ফোন ট্রাক করা গেছে।’

বাতাসের গতি ডিঙিয়ে মাহদীর কথাটা সাবাবের কানে আসতেই চকিত নজরে তাকালো সাবাব। মীর একপ্রকার লাফিয়ে পড়লো মাহদীর পাশে। ইভান দু’ধাপ এগিয়ে এসে মাহদীর পেছনে দাঁড়ালো। সাবাব আর বসে না থেকে ঝড়ের বেগে এসে বসলো মাহদীর পাশে। একবার ল্যাপটপের দিকে ব্যস্ত নজর বুলিয়ে ফের মাহদীর দিকে তাকালো সবাই। মীর প্রশ্নবিদ্ধ মুখ করে বলল,

—-‘ লোকেশন। লোকেশন টা দেখো?’

মীরের আদেশে তৎক্ষনাৎ মাহদী মাথা নাড়লো। কি-বোর্ড বাটন প্রেস করে এদিকে-সেদিক দেখে মাহদী চিন্তা মগ্ন কন্ঠে বলল,

—-‘ এখান থেকে ৯০কিলোমিটার দূরে দেখাচ্ছে। স্যার, এখান থেকে ৫০ কিলোমিটারের পরে তো প্রায় ৪০-৫০ কিলোমিটার শুধু জঙ্গলই পড়ে। ভয়ানক জঙ্গল। মনি হীরকে নিয়ে সেখানে রেখেছে?’

সাবাব ল্যাপটপের স্ক্রিনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,

—-‘ আভিক গাড়ি বের করো।’

সাবাবের অর্ডার পেয়ে আভিক দ্রুত উঠে দাঁড়ালো। দ্রুত ভঙ্গিতে উপর নীচ করে মাথা নেড়ে বলল,

—-‘ ওকে স্যার।’

আভিকের যাওয়ার পানে তাকিয়ে মীর বড় করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মলিন মুখে বলে,

—-‘ মনির পেছনে একটা মোক্ষম মাথা আছে রে ভাই। কিন্তু কে সে? মনির হাজবেন্ড নাকি তৃতীয় কেউ?’

মীরের প্রশ্নে কপালে চিন্তার সুক্ষ্ম ভাজ পড়লো সাবাবের। চিন্তাক্লিষ্ট কন্ঠে বলল,

—-‘ রহস্যের পর্দা এখনও উঠছে না! মনি বাবাই কে ভালোবাসার প্রতিশোধ নিতে খুন করেছে। অথচ বাবাইকে খুন করার দুইবছর আগে বিয়ে করে একটা মেয়েও জন্ম দিয়েছে। তাহলে মনি বাবাইকে মারলো কেন? তখন তো সেও বাবাইয়ের মতোই হয়ে গেছিলো তাই না? সেও বিয়ে করে মা হয়েছিল। তাহলে তো সবটা মিটেই গিয়েছিলো। নিজেও একই কাজ করে বাবাইকে খুন করলো। ঠিক এখানটাতেই মিলছে না রে!’

মীর গাল ফুলিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়লো। দু’হাতে পুরো মুখ মালিশ করে ক্লান্ত স্বরে বলল,

—-‘ মনিকে যতক্ষণে ধরা না যাচ্ছে ততক্ষণে কোনো রহস্যই ঠিকঠাক ভাবে সামনে আসবেনা।’

সাবাব চিন্তামগ্ন হয়ে পূনরায় ল্যাপটপের দিকে স্থির দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ল্যাপটপের স্ক্রিন দেখতে দেখতে ভাবল হীরের দেওয়া সেই ধাঁধা টা,

—-‘ মনে রেখো কেউ আমাকে মারতে চায় আবার কেউ আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। কেউ মারতে চায় ভালোবাসা হারানের ক্ষোভে আর কেউ বাঁচিয়ে রাখতে চায় সম্পত্তি পাওয়ার লোভে।____

সাবাব ফট করে চোখ বুঁজে নিলো। মন দিয়ে ভাবতো চেষ্টা করলো,

—-‘ কে মারতে চায় আর কে বাঁচিয়ে রাখতে চায়?__মারতে চায় কে? কে? কে? মনি! হ্যাঁ। মনি মারতে চায়। কারন মনি খুব সহজে তার ভালোবাসার মানুষ টার সন্তানকে মেনে নিতে চাইবে না। সে যদি ভালোবাসা হারানোর ক্ষোভে তার নিজের বোনকেও মেরে ফেলতে পারে তবে হীর তার তার কাছে কিছুই না! তাই মনি খুব সহজেই চাইবে হীরকে মেরে ফেলতে। তাহলে এতদিন হীরের উপর সরাসরি মার্ডার হওয়ার যতগুলো এট্যাক হয়েছে সেগুলো সব ছিলো মনির প্ল্যান। আর বাকি যে এট্যাক গুলো হয়েছে মানে, একজন ছিলো যিনি হীরকে বেঁধে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো,আর একজন ছিলো নার্স যে হীরকে বাঁধতে চেষ্টা করেছিলো! তারা ছিলো দ্বিতীয় ব্যাক্তির লোক। কিন্তু তৃতীয় ব্যাক্তি কোনো এট্যাক করেনি। তবে কি তরী আর কিরনকে তুলে নেওয়ার প্ল্যান তৃতীয় ব্যাক্তির? ওদের কিডন্যাপ করিয়ে মনিকে দিয়ে আমাকে আর হীরকে ফাঁদে ফেলে মালয়েশিয়া নিয়ে আসার প্ল্যান তার? আর এখন যে হীরকে কিডন্যাপ করা হয়েছে সেটাও কি তার প্ল্যান? হ্যাঁ। হতেই পারে। কেননা, মনি হীরকে তুলে নিয়ে গেলে বেশিক্ষণ বাঁচিয়ে রাখবে না। আর তৃতীয় ব্যাক্তি হীরকে তুলে নিয়ে গেলে তার কাজ হাসিল না হওয়া অব্দি হীরকে মারবে না। রাইট। তবে এই সব কিছুর পেছনে সেই তৃতীয় ব্যাক্তিই আছে। যার মূখ্য উদ্দেশ্য হীরের থেকে সেই চাবির গুচ্ছের ছোট বক্সটা নেওয়া। আর বাবাইয়ের সমস্ত সম্পত্তির দলিল গুলো নিজের নামে করে নেওয়া। কিন্তু এসব যদি উনার একারই উদ্দেশ্য হয় তবে দ্বিতীয় ব্যাক্তি কোথায়? উনিও তো সম্পত্তির জন্যই মেরেছে বাবাইকে। তবে উনি কেন এসব কিছুর মাঝে নেই? আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে আমাদের বংশীয় এত খবর এরা তিনজন কি করে জানলো? ছোট মা কি মনিকে বলেছিলো? মনে হয়না। কারন ছোট মার বিয়ের পরে মনি কেবল দু’বার এদেশে এসেছিলো। এই দু’বার কি ছোট মা সবটা মনিকে জানিয়ে দিয়েছিলো। জানিয়ে দিলেও এতো ছোট ছোট ব্যাপার গুলো মনি জানলো কি করে? আর বাকি দু’জন? তারাও বা কি করে জানলো? ওদের মার্ডারের প্ল্যান এমন ভাবে হয়েছিল যেন তারা তিনজনই যুগযুগ ধরে ছোটমা আর বাবাইকে জানতো। আমাদের বংশের ইতিহাস সম্মন্ধে জানতো। যেন সবটা তাদের ঠোঁটের গোঁড়ায় মুখস্থ ছিলো। তাতে হতে পারে এক. ছোটমা মনিকে বোন হিসেবে সবটা বলেছিলো আর মনি সেটারই সুযোগ নিয়ে বাকি দু’জনকে জানিয়েছিলো। আর দুই. হতে পারে তারা দু’জনই বাবাইয়ের খুন ঘনিষ্ঠ ছিলো। যার কারনে খুব সহজেই তারা পেছন থেকে বাবাইকে ছুরিকাহত করতে পেরেছিলো।’

—-‘ কি রে কি ভাবছিস এতো? চল?’

পেছন থেকে মীর সাবাবের কাঁধ চাপড়ে বলল কথাটা। হঠাৎ ভাবনার সুতো ছিঁড়তে ক্ষনিকের জন্য চমকে উঠলো সাবাব। তাড়াহুড়ো ভঙ্গিতে আশেপাশে দেখতে মীর কপাল কুঁচকে বলল,

—-‘ কি হলো চমকালি কেন? কি ভাবছিস?’

সাবাব পেছন মুড়ে মীরের মুখের দিকে একবার তাকালো। উদাসীন চাহনি নিভিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে বলল,

—-‘ কিছু না রে। চল আমরা এবার বেরোই। মাহদী,ল্যাপটপ টা সঙ্গে করে নিয়ে এসো।’

মাহদী অর্ডার পেয়ে ‘জি স্যার’ সম্মোধনে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো। মীর আর সাবাব একসাথে বেরিয়ে গেলে ইভান আর মাহদী তাদের পেছন পেছন চলে যায়।

_________________

বাইরে থেকে দরজার খোলার শব্দ হচ্ছে। শব্দ পেয়ে হীর মনেমনে প্রস্তুত হয়ে নিলো। হাতে চকচকে একটা নতুন তালা নিয়ে ঘরে ঢুকলো রোজ। মাথার ঝাঁকড়া চুলগুলো এলোমেলো হয়ে চোখ-মুখ প্রায় ঢেকে রেখেছে। রোজ হাতের তালাটা পাশের ছোট্ট বেডটার উপর ফেললো। ডান হাতে মাথার চুল গুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে হীরের দিকে তাকালো। হীর ক্লান্ত চোখে রোজকে দেখছে। পাতলা শরীরে টাইট হয়ে এঁটে আছে ছোট্ট টপস টা। টপসের লেন্থ হাঁটুর প্রায় ১০-১২ ইঞ্চি উপরে গিয়ে আঁটকে আছে। আবার পেটের কাছে বেশির ভাগ জায়গা উদাম। পায়ে হাই হিলস। কাঁধে লম্বা শিকল বিশিষ্ট পার্স। কাঁধ থেকে ঝুলে কোমর অবধি এসে ঠেকেছে। পাতলা সরু ভ্রুর নীচে রংবেরঙের আইস্যাডোর বাহার। ঘন আইলেস,মোটা আইলাইনার,গাঢ়ো লিপস্টিক সবটাই দক্ষ হাতে আঁকা। রোজ হীরের চাহনিকে উপেক্ষা করে হেলতেদুলতে এসে তার সামনে দাঁড়ালো। রোজের এগিয়ে আসায় হীরের মনোযোগ ভঙ্গ হলো। রোজ পাশের বেডের উপর আধুনিক ভঙ্গিতে বসতে বসতে হীরের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়লো,

—-‘ নাম কি তোমার?’

হীর নিঃসংকোচে উত্তর দিলো,

—-‘ হীর।’

নামটা শুনতে রোজের কপাল কুঁচকে এলো। হীর সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বলল,

—-‘ তুমি?’

—-‘ রোজ।’

হীর মৃদু হাসলো। রোজের পা থেকে মাথা অব্দি পুনরায় একবার দেখে নিয়ে বলল,

—-‘ ফরহাদ রেজার একমাত্র কন্যা।’

রোজ চকিত নয়নে তাকালো। বিস্ময় নিয়ে বলল,

—-‘ ড্যাডকে তুমি চিনো?’

—-‘ হু চিনিতো। তোমাকেও চিনি আর তোমার মমকে তো আরও ভালো করে চিনি।’

রোজের বিস্ময় কাটলো না। সে আগের মতোই বলল,

—-‘ হাউ? তুমি কি মম ড্যাডের পূর্ব-পরিচিত?’

—-‘ হু।’

—-‘ তুমি আমাকেও চিনো?’

—-‘ হু।’

—-‘ আমার না তোমাকে প্রথমবার দেখাতেই ভীষণ চেনাচেনা লাগছিলো। মনে হচ্ছিল আমি তোমাকে চিনি। কোথাও যেন দেখেছি। আচ্ছা তুমি কি বলতে পারবে আমি তোমাকে কোথায় দেখেছি?’

হীর স্মিত হাসলো। বলল,

—-‘ বলবো। তার আগে তুমি আমায় এটা বলো তুমি এঘরে কেন এলে? তোমার মম যদি জানতে পারে-

—-‘ মম ড্যাড কেউ বাসায় নেই। তোমাকে এখানে নিয়ে আসার পর তারা দু’জনেই কোথাও বের হয়েছে-

রোজের বলার মাঝেই হীর প্রশ্ন করে উঠলো,

—-‘ কোথায়?’

রোজ থেমে গেলো। হীরের দিকে একবার তাকিয়ে ভাবুক কন্ঠে বলল,

—-‘ মে বি কোনো মিটিংয়ে। আমি জানিনা। মম ড্যাড বের হওয়ার পরে আমিও বেরিয়ে গেছিলাম। বাট ফর দ্যা ফার্স্ট টাইম মম ড্যাডের কিডন্যাপ করা কোনো মেয়েকে নিয়ে আমি ভাবছি। আমি ক্লাবে গিয়ে এক মুহুর্তের জন্যেও সেখানে কনসেনট্রেট করতে পারিনি। আমি শুধু ছটফট করেছি কখন আমি বাসায় ফিরবো কখন আমি তোমার সঙ্গে কথা বলবো। আচ্ছা বলবে আমায় কে তুমি?’

হীর রোজের আচরন ও কথায় হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইলো। রোজের মম ড্যাডের নিকৃষ্টতার কোনো ছাপ নেই তার মাঝে। পোশাকে অতিরিক্ত অত্যাধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও মনের দিকটা ভীষণ কোমল তার। হীর মুগ্ধ হয়ে গেলো তার বোনের স্নিগ্ধ কোমল আচরনে। মনেমনে তৃপ্তিদায়ক শান্তি নিয়ে ভাবলো,’যদি এক বোন অন্য বোনের মৃত্যুর কারন হতে পারে তবে ইতিহাস ঘুরে সেই এক বোন অন্য বোনের বাঁচার কারন কেন হতে পারে না?’

হীরকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে রোজ অধৈর্য্য হয়ে হীরের চেয়ারের কাছে নেমে এলো। হাঁটু ভেঙে বসে হীরের হাতের উপর হাত রেখে অস্থির কন্ঠে বলল,

—-‘ বলো না আমি তোমায় চিনি কি না?’

হীর ঘোর কাটিয়ে মুগ্ধ চোখে তাকালো রোজের দিকে। রোজ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে উত্তরের আশায়। হীর মায়া জড়ানো কন্ঠে বলল,

—-‘ আমি তোমার বোন। বড় বোন।’

হীরের জবাবে যেন হোঁচট খেয়ে পড়লো রোজ। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলল,

—-‘ মানে? তুমি আমার বোন! কিভাবে? আমার তো মনে পড়েনা আমার পরে আমার আর কোনো ভাই বোন ছিলো কি না। বা আমার আগে থাকলেও মম কখনও বলেনি সেটা। তাহলে তুমি আমার বোন কি করে হলে?’

—-‘ আমি তোমার মমের বোনের মেয়ে। মানে তোমার মনির মেয়ে। তুমি যেমন আমার মনির মেয়ে ঠিক তেমনই আমিও তোমার মনির মেয়ে। আমি কনিকা এবং রিয়াদ আহমেদের মেয়ে হীর।’

হীরের কথা শুনে ছিটকে পড়লো রোজ। কেমন অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে আছে হীরের দিকে। যেন এক্ষনি হীর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিয়েছে এখানে। রোজের ছিটকে পড়া দেখে হীর অবাক চোখে তাকালো। কিছু বলতে নিলেই রোজ এগিয়ে এসে হীরের গালে হাত রাখলো। হীর বিস্মিত চোখে দেখে চলেছে রোজকে। রোজের চোখ জোড়া হঠাৎ টলমলিয়ে উঠলো। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,

—-‘ তুমি আমার বোন। তুমি রিয়াদ স্যারের মেয়ে হীর। ইয়েস আই গট ইট। তুমিই হীর। হীর। আমার বোন।’

হীর অবাক কন্ঠে বলল,

—-‘ তুমি আমার বাবাকে চিনো? রিয়াদ আহমেদকে-

হীর কথাটা সম্পূর্ণ শেষ করার আগেই রোজ তাকে থামিয়ে দিলো। কারোর পায়ের শব্দ ভেসে আসছে। রোজ কান খাঁড়া করে শোনার চেষ্টা করলো। যখন নিশ্চিত হলো সত্যি কেউ আসছে এদিকে তৎক্ষনাৎ বেড থেকে তালাটা উঠিয়ে বেরিয়ে গেলো। বাইরে থেকে ঠিক আগের মতো তালাবন্ধ করে হারিয়ে গেলো সে। হীর এক আকাশ বিস্ময় নিয়ে রোজের যাওয়া দেখলো। রোজ বেরিয়ে যেতে যেতে হীরও শুনতে পেলো কারোর পায়ের শব্দ। তাই রোজকে ডাকতে নিয়েও আর ডাকতে পারলো না। থম মেরে গেলো। পূনরায় কান সজাগ করে বসলো। এবার কে আসবে এ ঘরে? ঝনঝন শব্দ করে তালা খুলে এবার ভেতর প্রবেশ করলো স্বয়ং মনিকা। মনিকে দেখতেই হীর মুখের ভঙ্গিমা বিস্ময়কর করে তুললো। পূরনায় নাটক করতে হবে বলে মনে মনে পস্তুত হয়ে নিলো। কন্ঠে করুন সুর তুলে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে ডেকে উঠলো হীর,

—-‘ ম..ম মনি। মনি তুমি এখানে? তুমি এখানে কি করে এলে মনি? মনি দেখো না কারা যেন আমাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে এসেছে! আমি চিনি না ওদের। মনি তুমি প্লিজ আমাকে এখান থেকে বের করে নাও। আমাকে এখান থেকে বের করো মনি! মনি?’

হীরের করুন সুরে মনিকা পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছে। যেন কত যুগ পরিয়ে গেলো এই দিনটার আশায়। আজ অবশেষে সেই দিন এসে হাজির হলো। যেন এক প্রশান্তি। মনিকা চোখ বুঁজে টেনে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। মনিকার আচরন হীর মন দিয়ে দেখছে। দক্ষ অভিনয়ে পূনরায় কাঁদো কাঁদো গলায় বলতে লাগল,

—-‘ মনি? ওরা কি তোমাকেও কিডন্যাপ করে নিয়ে এলো? এবার কি হবে? মনি! মনি তুমি কথা বলছো না কেন? তোমার তো হাত পা বাঁধা নেই মনি! আমাকে খুলে দাও না তুমি? আমার এভাবে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে মনি!’

মনিকা আচমকা হীরের খুব কাছে চলে এলো। দাঁত কেলিয়ে হেসে ফিসফিসিয়ে বলল,

—-‘ খুব কষ্ট হচ্ছে হীরপরি? খুব কষ্ট হচ্ছে?’

মনির আকস্মিক আচরনে ভড়কে গেলো হীর। বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

—-‘ খুব কষ্ট হচ্ছে গো। প্লিজ আমায় খুলে দাও।’

মনিকা দূরে ছিটকে পড়লো। বিকট শব্দ তুলে হাসতে লাগলো। হীর ঢোক গিলে কুটিল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মনির দিকে। মনি হাসতে হাসতে হীরের দিকে তাকাতেই হীর চোখ নামিয়ে নিলো। দৃষ্টিতে ঢেলে দিলে একরাশ অসহায়ত্বতা। মনি আবারও ছুটে এলো হীরের সম্মুখে। হীরের খুব কাছে এসে বলল,

—-‘ কি যে শান্তি হচ্ছে হীরপরি তোমায় বলে বুঝাতে পারছিনা। তোমার কষ্ট হচ্ছে শুনে বুকের আগুন নিভে যাচ্ছে। কত বছরের দাউদাউ করা আগুন একটু একটু করে নিভে যাচ্ছে।’

হীর কান্না জড়িত কন্ঠে বলল,

—-‘ মনি তুমি এসব কি বলছো? পাগল হয়ে গেলে নাকি? আমাকে খুলে দাওনা মনি? আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে!’

মনিকা ফট করে হীরের মুখ চেপে ধরলো। হীর ব্যাথায় কুকিয়ে উঠলেই মনিকা রাগে কটমট করে বলে,

—-‘ তোর সাহস কি হলো আমাকে পাগল বলার? তুই জানিস এই মুহুর্তে আমি তোর সাথে কি করতে পারি? আমি তোকে মেরে ফেলতে পারি! মারবো? হু বল? বল বল বল? হাহাহাহা। বল মারবো?’

হীর জ্বলে উঠলো ভেতর ভেতর। আক্রোশে তার শরীর থরথর করে কেঁপে উঠলো। মনি যে পুরোপুরি সাইকো হয়ে গেছে সেটা তার বুঝতে বাকি রইলো না। কিন্তু এক্ষনি তা প্রকাশ করলো না। মুখ বুঝে সহ্য করতে লাগলো।

মনিকা পাগলে মতো করতে করতে রিভলবার তাক করলো হীরের মাথায়। হীর চমকে উঠে কিছু বলতে নিলেই বাজখাঁই গলায় চেঁচিয়ে উঠলো কেউ। পেছন থেকে মনিকাকে হেঁচকা টান দিয়ে ফেলে দিলো নীচে। অগ্নি দৃষ্টিতে মনিকার দিকে তাকিয়ে থেকে টান মেরে তার থেকে রিভলবার টা কেঁড়ে নিলো। রিভলবার হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়াতেই তার মুখটা স্পষ্ট হয়ে ধরা দিলো হীরের চোখে। হীর মনে মনে বলে উঠলো, ‘ফরহাদ রেজা।’

#চলব___

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here