কাছে_দূরে #পর্ব___৫৫

0
1415

#কাছে_দূরে ??
#muhtarizah_moumita
#পর্ব___৫৫

হীরের কথা মতোই ক্ষনকাল পেরিয়ে কল এলো একটা প্রাইভেট নাম্বার থেকে। সবাই চুপচাপ একজায়গায় বসেছিলো এই প্রত্যাশিত কলের অপেক্ষায়। কলটা আসতেই চাপা উত্তেজনা তৈরি হলো সবার মাঝে। কিন্তু হীর নীরব। সে নিশ্চুপ সাবাবের ফোনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রইলো। সাবাব আঁড়চোখে একবার তাকিয়ে দেখলো হীরের নীরবতা। অতঃপর কলটা তুলবে কি না এই নিয়ে প্রশ্ন করতে উদ্যোত হলেই হীর শান্ত কন্ঠে বলে,

—-‘ কেউ কোনো আওয়াজ করবে না পাশ থেকে। তুমি কলটা তুলো। মনে রেখো মনি যা বলবে সবটাতে শুধু হ্যাঁ বলবে। মনির বিপরীতে কথা বলার ভুল করবে না। তাহলে ওরা কিন্তু তরী আর কিরনকে বাঁচিয়ে রাখবে না!’

হীরের শান্ত কন্ঠে শরীরে শীতল কিছু অনুভব করলো সবাই। সবাই অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে কেবল হীরকেই দেখে এসেছে এতক্ষণ। মেয়েটা চোখের পলকে কেমন পাল্টে গেলো যেন। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটাই তার আসল রূপ। এটাই আসল হীর। সাবাব চোখ ঝাপটে হীরের কথাগুলো মেনে নিলো। হীরের কথামতোই সবাই নিশ্চুপ রইলো। সাবাব কলটা রিসিভ করতেই কতক্ষণ নীরব থাকল দু’পক্ষই। ক্ষনকাল পেরোতে নীরবতা ভেঙে খ্যাকখ্যাক হাসির শব্দ ভেসে আসলো ওপাশ থেকে। এমন বিকট হাসির শব্দে চমকে উঠলো সবাই। মীর তেজ নিয়ে ফোনের দিকে ঝুকে এলো কিছু কঠিন বাক্য ছুড়বে বলে। একটুর জন্য বিফলে গেলো তার বোকামো। হীর ক্ষপ করে মীরের হাত চেপে ধরে কঠিন দৃষ্টি মেলে তাকালে। ইশারায় বুঝালো ‘এই কাজ ভুলেও করোনা’ বিপদ বাড়বে বৈ কমবে না। হীরের কঠিন দৃষ্টিতে ডেবে গেলো মীর। মাথা নীচু করে দু’হাতে মুখ ঢেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনলো। হীর সাবাবের দিকে ইশারা করে কথা বলতে বলল। সাবাব সহজ কন্ঠে কথা বলতে লাগল,

—-‘ কিরন আর তরীকে ছেড়ে দাও মনি। আমাদের গোটা কেসটাতে ওরা কেবল সাহায্য করেছে মাত্র। কিন্তু ওদের সাহায্যে আমরা তেমন কিছুই উদ্ধার করতে পারিনি। যে রহস্য সামনে এসেছে সবটাই আমার প্রচেষ্টায়। তুলে নিতে হয় তুমি আমাকে নাও। আমি এই কেস নিয়ে বরাবর মাথা ঘামিয়েছি, বাড়াবাড়ি করেছি! এখানে ওদের কোনো ফল্ট নেই। ওরা তো কেবল ওদের ডিউটি পালন করেছে।….মনি? শুনতে পাচ্ছো?’

—-‘ হাহাহা,সাহায্য! আরে সাহায্য করাই তো ওদের অন্যায় হয়েছে। ঘোর অন্যায়। সেই অন্যায়ের শাস্তি না দিয়ে ওদের এতো জলদি কি করে ছেড়ে দেই বলো তো? সেটা কি ঠিক হবে?’

—-‘ মনি,আমি জানি তোমার সম্পুর্ন ক্ষোভ আমার উপরে! তোমার সব রাগ আমার উপর। তুমি আমাকে নিয়ে যাও। আমাকে নিয়ে গিয়ে ওদের প্লীজ ছেড়ে দাও মনি!’

—-‘ না না না। তুমি ভুল করছো বেটা। আমার সমস্ত রাগ,ক্ষোভ তোমার উপরে নয়। উঁহু। একদম না। আমার সমস্ত রাগ, ক্ষোভ যার উপরে সে তুমি নও। সে আরেকজন। শুনলাম, তুমি তাকে সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছো? তা কোথায় সে হুম? তাকে একটু ডাকো? কথা বলি?’

সাবাব শূন্য চোখে হীরের দিকে তাকালো। মনি হীরকে উদ্দেশ্য করে বলছে। ভাবতেই বুকের ভেতর কেঁপে উঠছে বারবার। সাবাব না বোঝার ভান করে বলল,

—-‘ তুমি কার কথা বলছো বলো তো?’

—-‘ কার কথা আবার? আমার আদরের বোনঝির কথা বলছি সাবাব। সব জেনেও নাটক করছো? হাহাহা। আমি এক কথা দু’বার বলবো না সাবাব। যদি তরী আর কিরনকে ফেরত পেতে চাও,অবশ্যই জীবিত! তাহলে হীরকে আমাদের হাতে তুলে দাও।’

—-‘ কিন্তু-

হীর সাবাবের হাত চেপে ধরলো। চোখ দিয়ে ইশারা করে বুঝালো, ‘খবরদার,না করবেনা।’ সাবাব অসহায় চোখে তাকালো হীরের মুখপানে। বাধ্য হয়ে মনের বিরুদ্ধে বলল,

—-‘ ওকে। আমাদের কোথায় আসতে হবে?’

—-‘ ঠিকানা টেক্সট করে দিচ্ছি। আগামীকাল ভোর ঠিক ৬টা নাগাদ হীরকে নিয়ে সেখানে থাকবে। মনে রেখো ঠিক ভোর ৬টা!’

কথা গুলো ভেসে আসতে আসতে কলের লাইন কেটে গেল। সাবাবের মুখ চোখ শুঁকিয়ে এসেছে। সে হীরকে হারানোর ভয় পাচ্ছে। কি হতে যাচ্ছে রাত আড়াই টায়!

মীর হুড়মুড় করে উঠে এলো সাবাবের কাছে। সাবাবের হাত দুটো ধরে করুনসুরে বলল,

—-‘ এবার কি হবে ভাই?’

সাবাব মীরের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বলল,

—-‘ ভয় পাসনা। সব ঠিক হবে। তরী আর কিরনকে আমরা ঠিকই উদ্ধার করে নিয়ে আসবো।’

—-‘ আর হীর?’

মীরের প্রশ্নে সবাই শূন্য দৃষ্টিতে তাকালো। সাবাব অসহায় চোখে হীরের দিকে তাকাতে হীর মুচকি হেসে বলল,

—-‘ আমাকে নিয়ে ভেবো না ভাইয়া। মৃত্যু আমায় এত জলদি আপন করবে না। যখন সেদিনই মরিনি তখন হয়তো এখনও মরবো না। কে জানে মনির শেষ দম আমার হাতেই ফুরোবে কি না।’

হীরের কথায় কেমন কেঁপে উঠলো সবাই। হীর এমন অদ্ভুত ভাবে কথা বলছে সেটা সবার হজম করতেই কষ্ট হচ্ছে। মেনে নিতে পারছেনা কেউ।

হীর উঠে দাঁড়ালো। পাশের রুমে যেতে যেতে বলল,

—-‘ তোমরা রেডি হয়ে নাও সবাই। আমাদের মিশনটা সাকসেসফুল করতেই হবে।’

হীরের যাওয়ার পানে তাকিয়ে মীর থমথমে গলায় বলল,

—-‘ ভাই! হীর হঠাৎ এতটা বদলে গেলো কি করে?’

সাবাব ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

—-‘ হীর বদলায়নি। বরং বরাবর ও এমনই ছিলো। আর ওর সেই কোমল আচরনটাই ছিলো ওর সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র। মনিকে ওর হাতেই মরতে হবে। কেবল মনি না, বাকি দুই গোপন শত্রুদেরকেও ওর হাতেই মরতে হবে। আমি আগাম আভাস পাচ্ছিরে।’

—-‘ আমিও পাচ্ছি।’

ফিসফিসিয়ে বলল মীর। সাবাব মীরের কাঁধে হাত রেখে খানিক বাদে সেও উঠে গেলো পাশের রুমে। হীরের সাথে কথা বলতে হবে তাকে।

________________

মনির দেওয়া লোকেশনে রওয়া দিলো তারা। যাওয়ার প্রথম রাস্তাটাই শুরু হয় পাহাড়ের পাশ থেকে। গাড়ি নিয়ে মোটামুটি ভাবে ঢোকা যায় সেরকম একটা রাস্তা। জানা নেই পরবর্তী রাস্তা কেমন হবে? আর মনির কাছে পৌঁছানোর পরে কি কি হবে! হীর বেশ স্বাভাবিক ভাবে বসে আছে সাবাবের পাশে। সাবাব ড্রাইভ করছে। পেছনের সীটে মীর,ইভান আর আভিক বসে আছে। মাহদীকে নেওয়া হয়নি। মনি সারাজীবন ধরে ঠিক সে-সব মানুষদের উপরই এট্যাক করেছে যাদের সামনে একটা সুন্দর ভবিষ্যত আছে। মাহদীর সদ্য বিয়ে করা বউ বাড়িতে রয়েছে। মনি জানেনা এমন কিছুই নেই। বলা যায় না, বেছে বেছে মাহদীর উপরই তার আক্রমণ শুরু হলো! কোনো একজনকে রেখে আসতে হতোই। তাই সাবাব মাহদীকেই রেখে এলো।

পেছন থেকে মীর চিন্তিত স্বরে বলল,

—-‘ ভাই? পাহাড়ি রাস্তা কিন্তু খুব ডেঞ্জারাস হয়! দেখা যাবে মনির হাতের মরার আগেই পাহাড়ি রাস্তাতেই এক্সিডেন্ট হয়ে গেলো। আর এখানে একবার এক্সিডেন্ট হলে আর বাঁচব বলে তো মনে হয়না!’

সাবাব হাতে স্টিয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে মীরের কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলো। অতঃপর সামনে স্থীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মীরের উদ্দেশ্যে বলল,

—-‘ রাস্তা পাহাড়ের দিকে যাচ্ছে না। রাস্তা যাচ্ছে জঙ্গলের দিকে। দেখছিস না ক্রমশই অন্ধকার হচ্ছে সামনের দিকে।’

সাবাবের কথার রেশ টেনে আভিক বলে উঠলো,

—-‘ স্যার, মীর স্যারের মতো আমারও সবটা মাথার উপর থেকে যাচ্ছে। এতো এতো জায়গা থাকতে মনি আমাদের জঙ্গলের ভেতর কেন লোকেশন দিলো? মনির উদ্দেশ্য কি?’

সাবাব তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

—-‘ মনির উদ্দেশ্য কি জানি না। তবে মনির উদ্দেশ্য কোনো কালেই সৎ ছিলো না। আর আজও যে হবে সেটা ভাবাও বোকামি। দেখা যাক কি হয়। তবে সবাই কিন্তু এলার্ট থেকো। আমার মনে হয়না মনি এতো সহজে কিরন আর তরীকে ছেড়ে দিবে। আমার মনে হচ্ছে-

সাবাব তার কথাটা শেষ করার আগেই গাড়িটা অটোমেটিক বন্ধ হয়ে গেলো! মনে হলো যেন গাড়ির টায়ার পাঞ্চার হয়েছে। গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ায় সবাই আকস্মিক সামনের দিকে খানিকটা ঝুঁকে গেলো। সাবাব গাড়ির সামনে এবং পেছনে একবার তাকিয়ে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলল,

—-‘ ড্যাম! গাড়ির টায়ারটা এখনই পাঞ্চার হতে হলো!’

সাবাবের কথা শুনে মীরের কান থেকে যেন ধোঁয়া বেরিয়ে গেলো। সাবাবের থেকে দীগুন ক্ষিপ্ত হয়ে বলল,

—-‘ ভাগ্য কেন আমাদের নিয়ে এমন পরিহাস শুরু করলো বলতো?’

সাবাব মীরের মনের অবস্থা আন্দাজ করে তাকে স্বান্তনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলল,

—-‘ রিলাক্স ইয়ার। এই মুহুর্তে এতো রেগে গেলে চলবে না। আমাদের অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।’

এই বলে গাড়ি থেকে নামলো সাবাব। বাকিরাও নেমে এলো। আভিক গাড়ির টায়ারটা দেখে বলল,

—-‘ স্যার, টায়ারটা পাল্টাতে হবে। আমি এখনই এটা পাল্টানোর ব্যবস্থা করছি।’

আভিকের কথায় মীর যেন একটু স্বস্তি পেলো। সাবাব মৃদুহেসে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো। আভিক টায়ারের কাছে যেতে যেতে ইভানকে সাথে নিয়ে গেলো। মীর গাড়ি থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো। চোখে মুখে চিন্তার ছাপ। কপালের মাঝে সেই চিন্তাদেরই সুক্ষ্ম ভাজ পড়েছে। সাবাব মীরের অবস্থা দেখে তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। ভালোমন্দ মিলিয়ে তাকে বোঝাতে লাগলো। হীর তাদের থেকে বেশ খানিক দূরত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে ভরাট জঙ্গল। বিশাল বিশাল জঙ্গলি গাছ। একেকটার উচ্চতা মাপকাঠিতে তোলা সম্ভব না। হীর চোখ ঘুরিয়ে দেখছে সবকিছু। গাছগুলোর বুকে আঁকিবুঁকির অভাব নেই। দেখে মনে হচ্ছে কেউ খুব যত্নে এসব আঁকিবুঁকি করেছে। হীর কয়েক পা এগিয়ে গেলো সেদিকে। গাছের বুকে হাত রাখতেই শিরশির করে উঠল তার শরীর। এ যেন এক অদ্ভুত শিহরন। হীরের কি মনে হতে পেছন মুড়ে একবার তাকালো সাবাবের দিকে। সাবাব পুরো মনোযোগ নিয়ে মীরকে বোঝাচ্ছে। মীর মাথা নীচু করে বুঝতে চেষ্টা করছে সাবাবের কথা গুলো। হীর সাবাবদের পাশেই আভিকদের দিকে তাকালো। তারাও সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে গাড়ির টায়ার ঠিক করছে।

আকস্মিক হীর অনুভব করলো কেউ তার মুখে কিছু একটা চেপে ধরলো! আর সঙ্গে সঙ্গে সে শরীরের ভার ছেড়ে ঢলে পড়লো আগন্তুকের বুকে। লোকগুলো সতর্কতার সাথে হীরকে নিয়ে গায়েব হয়ে গেলো জঙ্গলের মাঝে। এদিকে বাকিরা টেরও পেলোনা সেই খবর। ঘটনার প্রায় দশমিনিট বাদে সাবাব হীরের অনুপস্থিতি টের পেলো। হঠাৎ মনে হলো হীর নেই। তার বুক কেঁপে উঠলো। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো হীরের দাঁড়িয়ে থাকা জায়গাটা শূন্য পড়ে আছে। সাবাব মীরকে ছেড়ে লাফিয়ে পড়লো এপাশে। হীরের দাঁড়িয়ে থাকা জায়গাটায় এসে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠে বলল,

—-‘ হীর কোথায় গেলো?’

সাবাবের প্রশ্নে বাকিরা চমকে উঠলো। চাতক পাখির মতো চারপাশে দেখলো লাগলো। এত বড় জঙ্গলে হীরকে কোথায় খুঁজবে তারা?কে নিয়ে গেলো হীরকে?

সাবাব গলা ফাটিয়ে চেঁচাতে লাগলো হীরের নাম নিয়ে। মীর একপ্রকার দৌড়ে এসে সাবাবের পাশে দাঁড়ালো। ভীত কন্ঠে বলল,

—-‘ মনি তুলে নেয়নি তো হীরকে?’

সাবাব অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো মীরের দিকে। রাগে তার শরীর থরথর করে কাঁপছে। পুরো মুখমন্ডল রক্তিম আভায় ঘিরে ধরেছে। সাবাব চটজলদি ফোন বের করে মনির কল দেওয়া নাম্বারে ডায়াল করলো। যদি সত্যি মনি এ-কাজ করে থাকে তবে মনির কপালে সীমাহীন দুঃখ লেখা আছে। নাম্বারে কল যাচ্ছে না। তার মানে এই কাজ মনিই করেছে। সাবাব রাগে ফুঁসে উঠে চেঁচিয়ে উঠে ছুঁড়ে মারলো ফোনটা। মীর সাবাবকে শক্ত করে ধরে রেখে বলল,

—-” কি করছিস টা কি? শান্ত হ! মনি এমন কিছু করতে পারে সেটা আমাদের আগেই ভাবা উচিৎ ছিলো!’

সাবাব দাঁতে দাঁত চেপে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,

—-‘ খুব বড় ভুল করেছে মনি! এর মাশুল মনিকে গুনে গুনে দিতে হবে।’
________________

হীরকে তুলে আনার দুই ঘন্টা পেরিয়ে গেলো। একটা ডুপ্লেক্স বাড়িতে রাখা হয়েছে হীরকে। এখানে মনিকা তার পরিবার নিয়ে থাকে। তার হাজবেন্ড ফরহাদ রেজা এবং মেয়ে রোজ। রোজ হীরের চেয়ে বয়সে দুই বছরের ছোট। দেখতে বেশ। মাথায় ঝাঁকড়ানো চুল। মুখের আদোল বাবা-মায়ের সাথে মিলেনা। সবার থেকে আলাদা দেখতে। চিকন পাতলা ভ্রুর রেখা। প্রতিনিয়ত ভ্রুর কাটছাঁট করতে ভুল হয়না। চোখ দুটো বেশ ছোট। লম্বায় বেশ। সরু পাতলা শারীরিক গঠন। চলাফেরা সর্বোচ্চ অশ্লীলতার উর্ধে। তার পোশাকআশাক শরীরের বেশির ভাগ জায়গা ঢাকতে অক্ষম। এসবটাই মনিকা এবং রেজার অতিরিক্ত ভালোবাসার পরিনাম। এতে অবশ্য তাদের কিছু যায় আসেনা। আধুনিক জীবন এমনই হবে বলে ভাবেন তারা।

হীরকে অচেতন অবস্থায় বাসার ভেতর নিয়ে আসার সময় ব্যাপারটা রোজ লক্ষ্য করেছে নিজের ঘর থেকে। তার মম ড্যাডের রুমের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে একটা অচেনা মেয়েকে। অবশ্য তাদের ঘরে প্রবেশ করানো হয়নি। বরং কিছুদিন আগে দুটো মেয়েকে এনে যেখানে রাখা হয়েছে সেখানেই এই মেয়েটাকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মেয়ে পাচার তাদের পারিবারিক ব্যাবসা। এটা রোজ গত একবছর ধরে জানে। কিন্তু এসব বিষয়ে কখনও সে মাথা ঘামায় না। সময় মতো তার হাতে মোটা অংকের একটা টাকা এলেই সে খুশি। কিছুদিন আগে তার মম বাংলাদেশে থাকাকালীন তার একটা এক্সিডেন্ট হয়। ড্রাংক অবস্থায় ড্রাইভ করতে গিয়ে গাড়ি এক্সিডেন্ট করে। একদম মরার দশা হয়েছিলো। তাই তার মমকে অতিদ্রুত ফিরে আসতে হয় এখানে। তারপর বেশ অনেকদিন তাকে নিয়েই পড়ে থাকে তার মম ড্যাড। বেশ অনেকদিক মেয়ে তুলে আনার কাজটা তারা বন্ধ রাখে। অবশেষে সে সুস্থ হবার পরে আবারও তারা শুরু করে এই কাজ। সবটা ভেবে রোজ আনমনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুম থেকে চলে যায়। তার আজ লেট নাইট পার্টি আছে। এসব ভেবে সময় নষ্ট করার মতো সময় তার নেই।

#চলব_

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here